ভর্তি

ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করতে কি কি লাগে: তথ্য, ছবির মাপ, ফি আর প্রবেশপত্র

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬gstadmission.ac.bd
ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করতে কি কি লাগে: তথ্য, ছবির মাপ, ফি আর প্রবেশপত্র

সংক্ষেপে

ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করতে কি কি লাগে, তার মূল তালিকা প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক: এসএসসি ও এইচএসসির রোল, রেজিস্ট্রেশন, বোর্ড আর পাসের সাল, নিজের বা অভিভাবকের সচল মোবাইল নম্বর, নির্দিষ্ট মাপের ছবি আর ফি দেওয়ার ব্যবস্থা। পার্থক্য হয় ছবির মাপ, সেলফির নিয়ম আর ফির অঙ্কে।

গুচ্ছে সাদা পটভূমির ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেলের, ১০০ কিলোবাইটের কম জেপিজি ছবি লাগে, সঙ্গে পরিচয় যাচাইয়ের সেলফি। প্রবেশপত্র নামাতে হয় আবেদনের একই ওয়েবসাইট থেকে, তাই আবেদনের পর লগইনের তথ্য হারাবেন না।

গুচ্ছের ভর্তি ওয়েবসাইট

গুচ্ছের আবেদন, ছবির নির্দেশনা আর প্রবেশপত্র এই সাইটে আসে।

সাইটে যান
এই লেখায়
  1. আবেদনের আগে যে তথ্য হাতে রাখবেন
  2. admission photo size: কোথায় কত পিক্সেল
  3. গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি কত, অন্যগুলোতে কত
  4. ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড
  5. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ধরন আলাদা
  6. যেসব কারণে আবেদন আটকে যায়
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. আবেদনের আগে যে তথ্য হাতে রাখবেন

যা লাগবে

ফরমে সব তথ্য বোর্ডের ডেটাবেজ থেকে আসে, আপনি শুধু রোল, বোর্ড আর সাল দেন। তাই নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নামের বানান ফলের পাতার সঙ্গে মিলে কি না দেখে নিন। অমিল থাকলে ভর্তির সময় ঝামেলা হতে পারে।

২. admission photo size: কোথায় কত পিক্সেল

আবেদনছবির মাপঅন্য শর্ত
জিএসটি গুচ্ছ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল, জেপিজি, ১০০ কিলোবাইটের বেশি নয়সাদা পটভূমি, স্টুডিও মানের, ইউনিফর্ম চলবে না, দুই কান খোলা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি ও মাস্টার্স১২০ বাই ১৫০ পিক্সেল, জেপিজি, সর্বোচ্চ ৫০ কিলোবাইটসম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি
অন্য বিশ্ববিদ্যালয়নিজ নিজ বিজ্ঞপ্তিতেসেলফি বা স্বাক্ষর চাইতে পারে

গুচ্ছের নির্দেশনায় ছবির উচ্চতার দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে মুখমণ্ডল রাখতে বলা হয়েছে। আবেদনের সেলফি আলোকোজ্জ্বল জায়গায় তুলতে হয়, পরে এটি দিয়েই বায়োমেট্রিক যাচাই হয়। অন্যের ছবি বা ভুল ছবি দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কারণে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের নিয়ম আছে।

৩. গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি কত, অন্যগুলোতে কত

২০২৬-২৭ সেশনের বেশির ভাগ ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। গত সেশনের অঙ্কগুলো বাজেট করতে সাহায্য করবে:

বিশ্ববিদ্যালয়আগের সেশনের আবেদন ফি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬)১,০৫০ টাকা
জিএসটি গুচ্ছ (২০২৪-২৫)১,৫০০ টাকা, স্থাপত্যের আঁকার পরীক্ষায় আরও ৫০০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬)এ ও সি ইউনিট ১,৩২০, বি ইউনিট ১,১০০ টাকা, সার্ভিস চার্জসহ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬)এ থেকে ডি ইউনিট ৮০০, ই ইউনিট ৭০০ টাকা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬)এ থেকে ডি ইউনিট ১,০০০, চারুকলা ১,২০০ টাকা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬)১,০০০ টাকা

ঢাবির ২০২৫-২৬ সেশনে ফি দেওয়া গেছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী বা রূপালী ব্যাংকের শাখায়, কিংবা অনলাইনে কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। ফি দেওয়ার পর আবেদন সম্পন্ন দেখাচ্ছে কি না, লগইন করে নিশ্চিত হোন।

৪. ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড

  • ১
    লগইনের তথ্য সংরক্ষণ করুনআবেদনের শেষে যে আইডি, রোল বা পিন দেখায়, সেটির স্ক্রিনশট রাখুন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে Application ID আর পিন দিয়েই পরে সব কাজ হয়।
  • ২
    ঘোষিত দিনের অপেক্ষা করুনপ্রবেশপত্র সাধারণত পরীক্ষার কয়েক দিন আগে দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তিতে পরীক্ষার সাত দিন আগে Applicant Login থেকে নামাতে বলা হয়েছিল।
  • ৩
    একই সাইট থেকে নামানযে ওয়েবসাইটে আবেদন করেছেন, সেখানেই লগইন করে Admit Card অংশ থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করুন। গুচ্ছ এডমিট কার্ড কিভাবে ডাউনলোড করবো, এর উত্তরও এটাই।
  • ৪
    রঙিন প্রিন্ট নিন, তথ্য দেখুননাম, ছবি, রোল, কেন্দ্র আর সময় মিলিয়ে নিন। ভুল থাকলে পরীক্ষার আগেই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন।

৫. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ধরন আলাদা

অনার্স, ডিগ্রি বা মাস্টার্সের আবেদনে অনলাইন ফরম পূরণের পর ফি দিতে হয় কলেজে, কলেজের নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বা সরাসরি। ২০২৫-২৬ সেশনে অনার্স ও ডিগ্রির প্রাথমিক আবেদন ফি ছিল ১,০০০ টাকা।

  • কলেজ অনলাইনে আপনার ফরম নিশ্চয়ন করলে মোবাইলে এসএমএস আসে। এসএমএস না এলে বুঝবেন ফরম এখনো নিশ্চয়ন হয়নি, তখন কলেজে যোগাযোগ করুন।
  • কলেজ নিশ্চয়নের আগে Applicant Login থেকে ওটিপি দিয়ে একবারই ফরম বাতিল করে নতুন করে পূরণ বা ছবি বদলানো যায়।
  • কলেজ নিশ্চয়ন না করলে মেধাতালিকায় নাম ওঠে না, রিলিজ স্লিপেও আবেদন করা যায় না।

৬. যেসব কারণে আবেদন আটকে যায়

  • ছবির মাপ বা কিলোবাইট বেশি, কিংবা পটভূমি সাদা নয়।
  • ফি দেওয়ার পর পোর্টালে ফিরে চূড়ান্ত জমা দেওয়া হয়নি।
  • অন্যের মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন, পরে সেই নম্বরে আসা ওটিপি বা এসএমএস পাওয়া যায়নি।
  • যোগ্যতা না দেখে ইউনিট বেছে ফি দেওয়া, পরে জিপিএ বা পাসের সাল না মেলায় আবেদন টেকে না।
  • শেষ দিনে আবেদন, সার্ভারের চাপে সময় পেরিয়ে যাওয়া।
দোকানে আবেদন করালে নিজে দেখে নিন

কম্পিউটারের দোকানে আবেদন করালে জমার পর প্রিন্ট আর লগইনের তথ্য নিজের হাতে নিন। ভুল তথ্য বা ছবির দায় শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীর।

৭. অনেকে যা জানতে চান

ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করতে কি কি লাগে?
এসএসসি ও এইচএসসির রোল, রেজিস্ট্রেশন, বোর্ড ও পাসের সাল, সচল মোবাইল নম্বর, নির্দিষ্ট মাপের ছবি আর অনলাইনে ফি দেওয়ার ব্যবস্থা। কোটায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট সনদ লাগে।
গুচ্ছের ছবির মাপ কত?
৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেল, জেপিজি, ১০০ কিলোবাইটের বেশি নয়। সাদা পটভূমি আর দুই কান খোলা রাখতে হয়, ইউনিফর্ম পরা ছবি চলে না।
প্রবেশপত্র কোথা থেকে নামাব?
যে ভর্তি ওয়েবসাইটে আবেদন করেছেন, সেখানেই লগইন করে প্রবেশপত্র নামাতে হয়। কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা নোটিশে জানায়।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ভর্তি

সেকেন্ড টাইম কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়: ২০২৬-২৭ সেশনের হিসাব

ঢাবিতে এবার সুযোগ নেই। গত সেশনে কোথায় দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া গেছে, মেডিকেলে কত নম্বর কাটে, বিজ্ঞপ্তিতে কী দেখবেন।
ভর্তি

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে হবে: এইচএসসির পর আবেদন আর পরীক্ষার সূচি

এইচএসসির ফলের পর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন কবে, পরীক্ষা কবে, কোথায় তারিখ মিলে যাচ্ছে: ২০২৬-২৭ সেশনের সূচি।
ভর্তি

নার্সিং ভর্তি: বিএসসি ও ডিপ্লোমার যোগ্যতা, আবেদন ফি, ধাপ আর পরীক্ষার মানবণ্টন

বিএসসিতে মোট জিপিএ ৬.৫০, ডিপ্লোমায় ৬.০০। আবেদন ফি ৭০০ ও ৫০০ টাকা, ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা।

অনেকে খোঁজেন