সংক্ষেপে
e-Verify পোর্টালে "No Record Found" (তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি) দেখানোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ, আপনার পুরোনো নিবন্ধনটি এখনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে তোলা হয়নি। সমাধান করতে পুরোনো মূল সনদটি নিয়ে নিজে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যান, আর রেকর্ডটি অনলাইনে তোলার (ডিজিটাইজেশন) আবেদন করুন।
নম্বর আর জন্ম তারিখ ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, আগে মিলিয়ে নিন।
এই লেখায়
১. কেন No Record Found দেখায়
এই বার্তা সাধারণত নিচের কোনো একটি কারণে আসে।
- নম্বরটি ১৭ সংখ্যার নয়: সনদে ১৬ বা ১০ সংখ্যার নম্বর থাকলে সেটি হুবহু বসালে সার্ভার চিনতে পারে না।
- হাতে লেখা পুরোনো নিবন্ধন: ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের দিকে, বা তারও আগে, বেশির ভাগ নিবন্ধন হয়েছিল হাতে লেখা খাতায়। এগুলোর অনেকগুলোই তখন কেন্দ্রীয় BDRIS ডাটাবেজে তোলা হয়নি।
- তারিখ ভুল আকারে লেখা: জন্ম তারিখ দিতে হয় YYYY-MM-DD আকারে (যেমন 1998-12-25)। দিন, মাস, সাল অন্য ক্রমে লিখলে তথ্য আসবে না।
- সার্ভারে ওঠেনি এমন কপি: প্রিন্ট করা বা এডিট করা কোনো কপির তথ্য যদি ডাটাবেজে কখনো এন্ট্রি না হয়ে থাকে, সেটি দিয়ে খুঁজলেও No Record Found দেখাতে পারে।
২. পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে তোলার ধাপ
নিবন্ধনটি আসল হলেও যদি পুরোনো হাতে লেখা পদ্ধতিতে হয়ে থাকে, তাহলে এভাবে সেটি অনলাইনে তুলতে পারবেন।
-
১মূল সনদ আর কাগজপত্র গুছিয়ে নিন হাতে লেখা বা লেমিনেট করা পুরোনো সনদটি বের করুন। সঙ্গে রাখুন বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আর NID-র ফটোকপি।
-
২যেখানে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখানে যান যে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে সনদটি নিয়েছিলেন, সেই কার্যালয়েই যেতে হবে। সেখানকার কম্পিউটার অপারেটর বা উদ্যোক্তাকে জানান যে যাচাইয়ে No Record Found আসছে।
-
৩অপারেটর তথ্য সার্ভারে তুলবেন অপারেটর মূল রেজিস্টার বইয়ের সঙ্গে পুরোনো নম্বরটি মিলিয়ে দেখবেন। তারপর আপনার নাম, বাংলা ও ইংরেজি তথ্য আর বাবা-মায়ের বিবরণ কেন্দ্রীয় সার্ভারে এন্ট্রি (Data Entry) করবেন। এরপর থেকে সনদটি অনলাইনেই পাওয়া যাবে। তবে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, হাতে লেখা নিবন্ধন এখন আর হুবহু আগের নম্বরে অনলাইনে তোলা যায় না, অনলাইন সনদে নতুন ১৭ ডিজিটের নম্বর আসে। পরে স্কুল, পাসপোর্ট বা NID-র কাজে নতুন নম্বরটিই দিন।
৩. অফিসে যাওয়ার আগে যে কাগজ গুছিয়ে নেবেন
বারবার অফিসে ঘোরা এড়াতে নিচের কাগজগুলোর এক সেট ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।
যা যা নিয়ে যাবেন
৪. যাচাই করুন শুধু সরকারি সাইটে
যাচাইয়ের আগে ব্রাউজারের ঠিকানাটা দেখে নিন, সেটি everify.bdris.gov.bd বা bdris.gov.bd কি না। অন্য কোনো সাইটে দেখানো তথ্য সরকারি যাচাই হিসেবে গ্রহণ না-ও হতে পারে।
৫. পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন
ডেটা এন্ট্রির পর কত দিনে সনদ অনলাইনে দেখা যায়?
নিবন্ধন হয়েছিল অন্য জেলায়, এখনকার জেলা থেকে কি অনলাইন করা যাবে?
জেনে রাখুন: লেখাটি নাগরিক সেবা নিজ উদ্যোগে লিখেছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS)-এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কোন তথ্য এন্ট্রি হবে আর যাচাইয়ে কী দেখাবে, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের।