
সংক্ষেপে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জন্ম হলে বা স্থায়ী ঠিকানা সেখানে হলে এখন আবেদন করতে হয় রেজিস্ট্রার জেনারেলের কেন্দ্রীয় পোর্টাল bdris.gov.bd-তে, তারপর প্রিন্ট আর কাগজ নিয়ে নিজের অঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দিতে হয়। ডিএসসিসি ১০টি অঞ্চলের মাধ্যমে ৭৫টি ওয়ার্ডে এই সেবা দেয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ডিএসসিসি নিজস্ব সার্ভারে নিবন্ধন করেছিল। সেই সময়ের সনদ কেন্দ্রীয় যাচাইয়ে না এলে পাসপোর্ট, NID বা ভর্তিতে আটকে যায়। এমন হলে নিজের অঞ্চলের নিবন্ধন কার্যালয়ে সনদ নিয়ে যান।
ডিএসসিসি এলাকার নতুন আবেদন, সংশোধন আর পুনর্মুদ্রণ এখান থেকেই শুরু হয়।
এই লেখায়
১. নিজস্ব সার্ভার থেকে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ফেরা
ফি কার তহবিলে যাবে, এ নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালে ডিএসসিসি কয়েক মাস জন্ম নিবন্ধন বন্ধ রাখে। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর তারা নিজস্ব সার্ভারে আবার নিবন্ধন শুরু করে, আলাদা ওয়েবসাইট bdris.dscc.gov.bd দিয়ে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এই ব্যবস্থাকে বেআইনি বলেছিল।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ অফিস আদেশ দেয়, ডিএসসিসিকে কেন্দ্রীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সার্ভারেই কাজ করতে হবে, আর আলাদা সার্ভারে করা সব নিবন্ধন কেন্দ্রীয় সার্ভারে নিতে হবে। পরদিন থেকে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো নতুন আদেশে কাজ শুরু করে। ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী নিয়ম এখন এটাই: আবেদন রেজিস্ট্রার জেনারেলের ওয়েবসাইটে, জমা আঞ্চলিক কার্যালয়ে।
ওয়েব আর্কাইভে সংরক্ষিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কপিতে bdris.dscc.gov.bd-এর আবেদন পাতায় লেখা ছিল, সাময়িকভাবে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ। কেউ ওই সাইটে আবেদন করতে বললে রাজি হবেন না, কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবহার করুন।
২. এখন আবেদন করবেন যেভাবে
- ১কেন্দ্রীয় পোর্টালে ফরম পূরণ করুনbdris.gov.bd-তে জন্ম নিবন্ধন আবেদন বেছে নিন। নিবন্ধনের ঠিকানা হিসেবে জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা বেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আর নিজের ওয়ার্ড দিন।
- ২বাবা-মায়ের তথ্য মিলিয়ে দিনবাবা ও মায়ের NID নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর, যেকোনো একটি দিন, সঙ্গে তাঁদের জন্মতারিখ। নামের বানান তাঁদের কাগজে যেভাবে আছে, হুবহু সেভাবে লিখুন।
- ৩আবেদনপত্র প্রিন্ট করুনজমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর লিখে রাখুন আর আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন। মোবাইলে আসা বার্তাও মুছবেন না।
- ৪আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দিনপ্রিন্ট, মূল কাগজ আর ফির প্রমাণ নিয়ে নিজের অঞ্চলের নিবন্ধন সহকারীর কাছে যান। যাচাই শেষে নিবন্ধন হলে সনদ সেখান থেকেই নেবেন।
সঙ্গে যা নেবেন
৩. ডিএসসিসির ১০ অঞ্চলের নিবন্ধন কার্যালয়
ডিএসসিসির ওয়েবসাইটের জন্ম নিবন্ধন পাতায়, যা ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ হালনাগাদ হয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলের রেজিস্ট্রেশন সহকারী আর তাঁর বসার জায়গা দেওয়া আছে। নিচে জায়গাগুলো সাজানো হলো। সহকারীদের মোবাইল নম্বরও ওই পাতায় আছে।
| অঞ্চল | যেখানে যাবেন |
|---|---|
| অঞ্চল ১ | নগর ভবন, ৯ম তলা, কক্ষ ৮০১ |
| অঞ্চল ২ | খিলগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয়, ২য় তলা, কক্ষ ২০১ |
| অঞ্চল ৩ | আজিমপুর আঞ্চলিক কার্যালয় |
| অঞ্চল ৪ | নগর ভবন, ১২তম তলা, কক্ষ ১১২১ |
| অঞ্চল ৫ | সায়দাবাদ আঞ্চলিক কার্যালয়, ১ম তলা, কক্ষ ১০৯ |
| অঞ্চল ৬ থেকে ৯ | ধলপুর আঞ্চলিক কার্যালয় |
| অঞ্চল ১০ | ধলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়; অঞ্চল ৪-এর সহকারীও এই অঞ্চলের দায়িত্বে তালিকাভুক্ত |
পাতাটিতে ওয়ার্ড নম্বর ধরে অঞ্চলের তালিকা নেই। তাই আপনার ওয়ার্ড কোন অঞ্চলে পড়ে, তা না জানলে যাওয়ার আগে পাতায় দেওয়া কোনো সহকারীর নম্বরে ফোন করে জেনে নিন, অথবা নগর ভবনে অঞ্চল ১ বা ৪-এর কক্ষে জিজ্ঞেস করুন।
৪. পুরোনো DSCC সার্ভারের সনদ যাচাইয়ে না এলে
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিএসসিসি নিজস্ব সার্ভারে প্রায় সাড়ে দশ মাসে ৭৮,৯৫৬টি জন্ম আর ১,৪৭১টি মৃত্যু নিবন্ধন করেছিল। কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় এসব সনদ দিয়ে স্কুল-কলেজে ভর্তি, NID, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ হচ্ছিল না, অনেককে আবার আবেদন করতে হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, ৪০ হাজার নিবন্ধনের সমস্যা মিটেছে আর সেগুলো এখন অনলাইনে পাওয়া যায়, বাকিগুলোর কাজ চলছে।
- ১আগে কেন্দ্রীয় যাচাই করুনeverify.bdris.gov.bd-তে সনদের নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে দেখুন। তথ্য এলে সনদটি এখন কেন্দ্রীয় সার্ভারে আছে, আলাদা কিছু করার দরকার নেই।
- ২না এলে সনদের তারিখ দেখুনসনদ যদি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের আগস্টের মধ্যে ডিএসসিসি থেকে নেওয়া হয়, তাহলে সম্ভবত এটি নিজস্ব সার্ভারের সনদ, যার তথ্য এখনো স্থানান্তর হয়নি।
- ৩অঞ্চলের কার্যালয়ে যানসনদের মূল কপি, আবেদনপত্র থাকলে সেটি, বাবা-মায়ের NID আর নিজের পরিচয়ের কাগজ নিয়ে নিজের অঞ্চলের নিবন্ধন সহকারীর কাছে যান। আপনার রেকর্ড কেন্দ্রীয় সার্ভারে তোলার ব্যবস্থা হবে, নাকি নতুন আবেদন লাগবে, তা সেখান থেকেই জানবেন।
পুরোনো সনদ থাকা অবস্থায় নিজে থেকে অন্য কোথাও নতুন নিবন্ধন করলে একই মানুষের দুটি নিবন্ধন তৈরি হয়, যা পরে বাতিল করাতে হয়। নতুন আবেদন লাগলে নিবন্ধন কার্যালয়ের পরামর্শ নিয়েই করুন।
৫. সরকারি ফি
ডিএসসিসি এলাকাতেও ফি দেশের অন্য জায়গার মতোই, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্ধারিত হারে।
| সেবা | ফি |
|---|---|
| জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন | বিনা ফিতে |
| ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত | ২৫ টাকা |
| ৫ বছর পরে | ৫০ টাকা |
| জন্মতারিখ সংশোধন | ১০০ টাকা |
| নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সংশোধন | ৫০ টাকা |
| বাংলা ও ইংরেজিতে সনদের নকল | ৫০ টাকা |
৬. অনেকে যা জানতে চান
bdris.dscc.gov.bd সাইট খুলছে না। যাচাই করব কোথায়?
ঢাকা দক্ষিণে থাকি, কিন্তু জন্ম গ্রামের বাড়িতে। কোথায় নিবন্ধন করব?
ডিএসসিসির পুরোনো সনদ দিয়ে কি পাসপোর্ট হবে?
ডিএসসিসির পুরোনো সাইটে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু অফিসে জমা দিইনি। এখন কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।