জন্ম নিবন্ধন

ঢাকা উত্তর সিটিতে জন্ম নিবন্ধন: কোন ওয়ার্ডের আবেদন কোন অঞ্চল অফিসে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬everify.bdris.gov.bd
ঢাকা উত্তর সিটিতে জন্ম নিবন্ধন: কোন ওয়ার্ডের আবেদন কোন অঞ্চল অফিসে

সংক্ষেপে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় জন্ম নিবন্ধনের আবেদন হয় কেন্দ্রীয় পোর্টাল bdris.gov.bd-তে, আর প্রিন্ট ও কাগজ জমা দিতে হয় আপনার ওয়ার্ড যে অঞ্চল কার্যালয়ের অধীনে, সেখানে। ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হালনাগাদ করা তালিকায় ৫৪টি ওয়ার্ডকে ১১টি দলে ভাগ করে প্রতিটির কার্যালয় আর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়া আছে।

নিবন্ধনের সরকারি ফি ৪৫ দিনের মধ্যে বিনা টাকায়, ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা, তার পরে ৫০ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টের সভায় ডিএনসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না।

জন্ম নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় পোর্টাল

ডিএনসিসি এলাকার আবেদন, সংশোধন আর পুনর্মুদ্রণ এখান থেকেই শুরু।

আবেদন করুন
এই লেখায়
  1. কাউন্সিলর অফিস নয়, এখন অঞ্চল কার্যালয়
  2. আবেদন থেকে সনদ: ধাপগুলো
  3. ডিএনসিসির আগস্ট ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত: আপনার জন্য কী বদলাল
  4. ফি, সংশোধন আর অন্য এলাকায় চলে গেলে
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. কাউন্সিলর অফিস নয়, এখন অঞ্চল কার্যালয়

অনেকে এখনো জন্ম নিবন্ধনের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় খোঁজেন। ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে ১৯ জুলাই ২০২৬-এ হালনাগাদ করা তালিকা অনুযায়ী এখন প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বসেন অঞ্চল কার্যালয়ে। নিচের টেবিলে নিজের ওয়ার্ড খুঁজে নিন।

ওয়ার্ড নম্বরকার্যালয় ও ঠিকানা
১ ও ১৭অঞ্চল ১: বাড়ি ২০, রোড ১৩/ডি, সেক্টর ৬, উত্তরা
২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ১৫অঞ্চল ২: চিড়িয়াখানা রোড, সেকশন ২, মিরপুর
১৮, ১৯, ২০, ২১ ও ২৪অঞ্চল ৩: বাড়ি ৪৫, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সড়ক, মহাখালী
২২, ২৩, ২৫, ৩৫ ও ৩৬মহাখালীর একই ঠিকানা (তালিকায় অঞ্চল ৩ লেখা)
৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৬অঞ্চল ৪: টাউন হল, ১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর
২৬ থেকে ৩৪অঞ্চল ৫: বাঁশবাড়ি রোড, শিয়া মসজিদ সংলগ্ন, মোহাম্মদপুর
৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪অঞ্চল ৬: বাড়ি ৫০, রোড ৬/সি, সেক্টর ১২, উত্তরা
৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০অঞ্চল ৭: বাড়ি ২০, রোড ১৩, সেক্টর ৬, উত্তরা
৪৪, ৪৫ ও ৪৬অঞ্চল ৮: কাঁচকুড়া, উত্তরখান
৩৯, ৪০ ও ৪৩অঞ্চল ৯: বাড়ি ৪৫, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সড়ক, মহাখালী
৩৭, ৩৮, ৪১ ও ৪২অঞ্চল ১০: সাতারকুল, বাড্ডা

ওই পাতায় প্রতিটি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরও আছে। ঠিকানা বা কর্মকর্তা বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার দিন সকালে পাতাটা একবার দেখে নিন।

২. আবেদন থেকে সনদ: ধাপগুলো

  • ১
    তিনটি ঠিকানা গুছিয়ে নিনরেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের আবেদন নির্দেশিকা অনুযায়ী জন্মস্থান, স্থায়ী আর বর্তমান, তিন ঠিকানারই সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড, ডাকঘর, এলাকা আর বাসা-রাস্তার নাম বাংলা ও ইংরেজিতে লাগবে।
  • ২
    পোর্টালে আবেদন করুনbdris.gov.bd-তে জন্ম নিবন্ধন আবেদন বেছে নিন। নির্দেশিকায় স্থায়ী ঠিকানা থেকে সনদ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ফরমে ডট, হাইফেন বা কোলন ব্যবহার করবেন না।
  • ৩
    বাবা-মায়ের তথ্য দিন২০১৩ সালের পরে জন্ম হলে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিতে হয়, নামের বানান তাঁদের অনলাইন সনদের মতো হুবহু।
  • ৪
    প্রিন্ট নিয়ে অঞ্চল কার্যালয়ে যানআবেদনপত্র প্রিন্ট করে মূল কাগজসহ ওপরের তালিকার কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিন।
  • ৫
    সনদ সংগ্রহ করুনযাচাই শেষে নিবন্ধন হলে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার সনদ বিনা ফিতে দেওয়ার কথা। হাতে পেয়ে everify.bdris.gov.bd-তে একবার যাচাই করে নিন।

যে কাগজ লাগতে পারে

কার মোবাইল নম্বর দেবেন

রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী আবেদনে নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি বা তাঁর বাবা, মা বা অভিভাবকের মোবাইল নম্বরই দিতে হবে। একটি নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জনের নিবন্ধনে ব্যবহার করা যায়। এর বেশি নিবন্ধনে একই নম্বর দিলে পরে সেই নিবন্ধনগুলোর খোঁজ পাওয়া যাবে না, তাই দোকানির নম্বর কখনো দেবেন না।

৩. ডিএনসিসির আগস্ট ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত: আপনার জন্য কী বদলাল

২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট ডিএনসিসির প্রশাসকের সভাপতিত্বে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে সভা হয়। কার্যবিবরণীতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত আছে, যা সেবা নিতে যাওয়ার আগে জেনে রাখা ভালো।

  • হয়রানি ছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু সনদ দিতে হবে।
  • সনদ দিতে নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না।
  • বাবা-মায়ের NID-র তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • নাগরিক সনদ দেওয়ার আগে আবেদনকারী সত্যিই ওই ঠিকানায় থাকেন কি না, তা ভাড়ার চুক্তি বা ভাড়ার রসিদ দেখে যাচাই হবে, দরকার হলে সরেজমিনে।
বাড়তি টাকা চাইলে

কার্যবিবরণীতে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আর সব অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে। কেউ নির্ধারিত ফির বেশি চাইলে আপনার অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান, তাঁর নম্বর ওয়ার্ড তালিকার পাতাতেই আছে।

৪. ফি, সংশোধন আর অন্য এলাকায় চলে গেলে

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের হার অনুযায়ী জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বিনা ফিতে, ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা, ৫ বছর পরে ৫০ টাকা। জন্মতারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা, নাম বা ঠিকানার মতো অন্য তথ্যে ৫০ টাকা, আর দুই ভাষার সনদের নকলে ৫০ টাকা।

ধরুন সনদ নিয়েছিলেন মিরপুরের অঞ্চল থেকে, এখন থাকেন উত্তরায়। রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী সংশোধন বা পুনর্মুদ্রণ করতে হয় যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখান থেকে, অন্য কার্যালয় থেকে আইনত সুযোগ নেই। তবে অনলাইনে মূল কার্যালয় বরাবর আবেদন করা যায়, তারপর কাগজ নিয়ে সেই কার্যালয়ে যেতে হয়।

কাজকোথায় করবেন
নতুন নিবন্ধনওয়ার্ড যে অঞ্চল কার্যালয়ের অধীনে
সংশোধনযে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল
হারানো সনদ আবার তোলাযে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল
সনদ সত্যি কি না দেখাঅনলাইনে everify.bdris.gov.bd

৫. অনেকে যা জানতে চান

ঢাকা উত্তরে ভাড়া থাকি, স্থায়ী ঠিকানা অন্য জেলায়। এখানে নিবন্ধন হবে?
জন্ম নিবন্ধন হয় জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা থেকে। সন্তানের জন্ম ঢাকা উত্তরের কোনো হাসপাতালে বা বাসায় হলে জন্মস্থান হিসেবে এখানে আবেদন করা যায়। নইলে স্থায়ী ঠিকানার কার্যালয়ে করুন।
ওয়ার্ড নম্বর জানি না। কীভাবে বুঝব কোন অফিসে যাব?
হোল্ডিং কর রসিদ বা বিদ্যুৎ বিলে অনেক সময় ওয়ার্ড নম্বর থাকে। না পেলে কাছের অঞ্চল কার্যালয়ে এলাকার নাম বললে জানিয়ে দেবেন, তারপর তালিকা মিলিয়ে ঠিক কার্যালয়ে যান।
অনলাইনে আবেদন করেছি, কিন্তু অফিসে জমা দিইনি। আবেদন কি থেকে যাবে?
অনলাইনে জমা দিলেই নিবন্ধন হয় না, প্রিন্ট আর কাগজ নিবন্ধকের কাছে জমা দিতে হয়। দেরি না করে প্রিন্টসহ নিজের অঞ্চল কার্যালয়ে যান।
জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে নাগরিক সনদও কি একই অফিসে পাব?
ডিএনসিসির আগস্ট ২০২৬-এর সভার সিদ্ধান্তে নাগরিক সনদের দায়িত্ব আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের দেওয়া আছে। ভাড়াটিয়া হলে ভাড়ার চুক্তি বা রসিদ সঙ্গে নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধনে নাম ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের কাগজ

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনে কোন প্রমাণ সবচেয়ে কাজে দেয়, আর স্ক্যান কপি তৈরির সময় কী খেয়াল রাখবেন।
জন্ম নিবন্ধন

জন্ম নিবন্ধন No Record Found: আগে যা মিলিয়ে দেখবেন

No Record Found দেখলেই অফিসে ছুটবেন না। আগে ১৭ ডিজিটের নম্বর, জন্ম তারিখের আকার আর পোর্টালের ঠিকানা মিলিয়ে নিন, তারপর ঠিক করুন পরের ধাপ।

অনেকে খোঁজেন