জন্ম নিবন্ধন

নতুন জন্ম নিবন্ধন: অনলাইনে আবেদন, কাগজপত্র, ফি আর সনদ হাতে পাওয়া

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৮ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬everify.bdris.gov.bd

সংক্ষেপে

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন হয় রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের পোর্টাল bdris.gov.bd-তে, 'জন্ম নিবন্ধন আবেদন' মেনু থেকে। জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বেছে নিন, বিদেশে থাকলে বাংলাদেশ দূতাবাস। অনলাইনে জমা দিলে একটি আবেদনপত্র নম্বর আসে। তার প্রিন্ট আর মূল কাগজপত্র নিয়ে পর্দায় দেখানো তারিখের মধ্যে ওই নিবন্ধক কার্যালয়ে যেতে হয়।

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনে কোনো ফি নেই, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা, ৫ বছরের পরে ৫০ টাকা। কাগজ মূলত তিন রকম: জন্মের প্রমাণ (বয়স অনুযায়ী বদলায়), স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ আর বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য। এখনকার অনলাইন ফরমে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম হলে বাবা ও মা দুজনেরই ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হয়।

BDRIS পোর্টালে আবেদন করুন

প্রথম পাতার 'জন্ম নিবন্ধন' মেনুতে 'জন্ম নিবন্ধন আবেদন' থেকে ফরম শুরু হয়।

BDRIS খুলুন
এই লেখায়
  1. কোন কার্যালয়ে নিবন্ধন হবে, আবেদন করবেন কে
  2. বয়স অনুযায়ী কোন কাগজ লাগবে
  3. বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন আর NID নিয়ে নিয়ম
  4. সরকারি ফি কত
  5. অনলাইনে আবেদনের ধাপ
  6. কার্যালয়ে জমা থেকে সনদ হাতে পাওয়া
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. কোন কার্যালয়ে নিবন্ধন হবে, আবেদন করবেন কে

জন্ম নিবন্ধনের কাজ করে এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইনে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বলা হয় নিবন্ধক। অনলাইন ফরমের শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, আপনি জন্মস্থানের ঠিকানায় নিবন্ধন করবেন, স্থায়ী ঠিকানায়, নাকি বাংলাদেশ দূতাবাসে। যে ঠিকানা বেছে নেবেন, পরে কাগজ জমা দিতে সেই এলাকার কার্যালয়েই যেতে হবে। তাই যেখানে যাওয়া সহজ, সেটাই বেছে নিন।

এলাকানিবন্ধন হয় যেখানে
ইউনিয়নইউনিয়ন পরিষদ। চেয়ারম্যান বা সরকার যাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে তিনি নিবন্ধক, ইউপি সচিব বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহকারী নিবন্ধক হিসেবে আবেদন দেখেন।
পৌরসভাপৌরসভা কার্যালয়, মেয়র বা প্রশাসক যে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
সিটি করপোরেশনকরপোরেশনের নির্ধারিত কার্যালয়, এখন সাধারণত আঞ্চলিক (জোন) কার্যালয়। আপনার এলাকা কোন কার্যালয়ের অধীনে, করপোরেশনের হেল্পডেস্কে জেনে নিন।
ক্যান্টনমেন্টক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।
বিদেশযে দেশে থাকেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট।

যাঁর নিবন্ধন হচ্ছে তাঁর বয়স ১৮ বছরের কম হলে বাবা, মা বা আইনানুগ অভিভাবক আবেদন করেন। ফরমে দাদা-দাদি বা নানা-নানিকেও সম্পর্ক হিসেবে বেছে নেওয়া যায়। বাবা-মা ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করলে তাঁর নিজের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিতে হয়, আর আইনানুগ অভিভাবক হলে তার প্রমাণ জুড়তে হয়। বয়স ১৮ বা তার বেশি হলে আপনি নিজেই আবেদনকারী।

বিবাহিত নারী আগে কোথাও নিবন্ধন না করে থাকলে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায়, অথবা নিজের জন্মস্থানের ঠিকানায় নিবন্ধন করতে পারেন। তবে সনদে থাকবে বাবা ও মায়ের নাম, স্বামীর নাম লেখার সুযোগ নেই।

আগে নিবন্ধন হয়ে থাকলে নতুন করে নয়

ফরমে ঘোষণা দিতে হয় যে আগে কোথাও জন্ম নিবন্ধন হয়নি। হাতে লেখা পুরোনো সনদ বা ১০ থেকে ১৬ সংখ্যার নম্বর থাকলে নতুন আবেদন না করে যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে গিয়ে সেটি অনলাইনে তোলান। জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিলে আইনে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা দুটোই হতে পারে।

২. বয়স অনুযায়ী কোন কাগজ লাগবে

জন্ম তারিখ বসানোর সঙ্গে সঙ্গে ফরম আপনার ক্ষেত্রে কোন কাগজ লাগবে তার তালিকা দেখায়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ আর এখনকার অনলাইন ফরম মিলিয়ে তালিকাটা এরকম।

আবেদনের সময় বয়সজন্ম ও জন্ম তারিখের প্রমাণসঙ্গে যা লাগবে
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেহাসপাতাল বা ক্লিনিকের ছাড়পত্র, সেখান থেকে দেওয়া জন্মের সনদের সত্যায়িত কপি, জন্মের সময় থাকা ধাত্রী বা বার্থ অ্যাটেনডেন্টের প্রত্যয়ন, অথবা টিকা (EPI) কার্ডের সত্যায়িত কপি, এর যেকোনো একটিস্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, আর প্রযোজ্য হলে বাবা ও মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ
৪৫ দিন থেকে ৫ বছরটিকা (EPI) কার্ডের কপি বা ইপিআই কর্মীর প্রত্যয়ন; হাসপাতালের ছাড়পত্রও চলেস্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, আর প্রযোজ্য হলে বাবা ও মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ
৫ বছরের বেশিএমবিবিএস বা তার ওপরের ডিগ্রিধারী নিবন্ধিত চিকিৎসকের বয়স প্রত্যয়ন, অথবা পিইসি, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদস্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, আর প্রযোজ্য হলে বাবা ও মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ

স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে যেকোনো একটি

স্থায়ী ঠিকানা একেবারেই না থাকলে সেই ঘরে 'অপ্রাপ্য' লিখে জন্মস্থানের কার্যালয়ে নিবন্ধন করা যায়, তখন স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রত্যয়ন লাগে। বিধিমালা স্পষ্ট বলে, এতিম, পথশিশু, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বা বাবা-মায়ের পরিচয় না থাকা কারও নিবন্ধন তথ্যের ঘাটতির কারণে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। এমন ক্ষেত্রে সাধারণত সরাসরি নিবন্ধক কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করতে হয়।

৩. বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন আর NID নিয়ে নিয়ম

এই নিয়মটা কয়েকবার বদলেছে। ২০২১ সালে ২০০১ সালের পরে জন্ম নেওয়া সবার নিবন্ধনে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, ২০২২ সালের জুলাইয়ে সেই শর্ত তুলে নেওয়া হয়। এখন BDRIS-এর অনলাইন ফরমে যা দেখা যায়, তা হলো এরকম।

  • জন্ম তারিখ ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে হলে বাবা ও মা দুজনেরই ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্ম তারিখ দিয়ে Verify করতে হয়। তাঁদের রেকর্ড অনলাইনে না পাওয়া গেলে ফরম এগোয় না।
  • এর আগে জন্ম হলে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বরের ঘর বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাঁদের নাম বাংলা ও ইংরেজিতে আর জাতীয়তা দিতেই হয়।
  • বাবা-মায়ের NID নম্বর দেওয়ার ঘর আছে, আর তাঁদের NID স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবেও চলে। কিন্তু সন্তানের রেকর্ডের সঙ্গে বাবা-মায়ের অনলাইন সংযোগ তৈরি হয় জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে, NID দিয়ে নয়।
  • বাবা বা মা বিদেশি হলে তাঁর পাসপোর্টের কপি চাওয়া হয়। বাবা বা মা মারা গিয়ে থাকলে মৃত্যুর প্রমাণ জুড়তে বলা হতে পারে।
বাবা-মায়ের নিবন্ধন না থাকলে আগে সেটা সেরে নিন

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের পরামর্শ হলো, সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধনও করে ফেলা। সন্তানের জন্য যে কাগজ লাগে, তার সঙ্গে বাবা-মায়ের শুধু বয়সের প্রমাণ যোগ করলেই চলে, যেমন শিক্ষাগত সনদ, অথবা যাচাই সাপেক্ষে NID। তাঁদের নম্বর পাওয়ার পর সন্তানের আবেদন করুন।

৪. সরকারি ফি কত

ফির হার ঠিক করে দিয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালেও এই হারই দেওয়া আছে।

কখন আবেদনদেশেবিদেশে দূতাবাসে
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেফি নেইফি নেই
৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত২৫ টাকা১ মার্কিন ডলার
৫ বছর পরে৫০ টাকা১ মার্কিন ডলার
নিবন্ধনের পর প্রথম সনদ (বাংলা ও ইংরেজি)ফি নেইফি নেই
পরে সনদের নকল কপি৫০ টাকা১ মার্কিন ডলার

ফি কোথাও কার্যালয়ে হাতে হাতে নেওয়া হয়, কোথাও অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। যেভাবেই দিন, রসিদ নিন, কারণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত রসিদ ছাড়া কোনো ফি নেওয়া যায় না। ডিজিটাল সেন্টার বা দোকানে ফরম পূরণ ও প্রিন্ট করালে তারা সেবার জন্য আলাদা টাকা নেয়, সেটা নিবন্ধনের ফি নয়। নিবন্ধনের ফি ওপরের হারের বেশি হওয়ার কথা নয়।

হতদরিদ্র পরিবারের শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা ১৮ বছরের কম বয়সী এতিমের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন দেখালে নিবন্ধক পুরো বা আংশিক ফি মওকুফের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

৫. অনলাইনে আবেদনের ধাপ

শুরুর আগে কাগজগুলোর ছবি তুলে বা স্ক্যান করে রাখুন। ফরম শুধু ছবির ফাইল নেয় (JPG, JPEG বা PNG), প্রতিটি সর্বোচ্চ ২ মেগাবাইট। চালু একটি মোবাইল নম্বরও হাতের কাছে রাখুন।

  • ১
    কোথায় নিবন্ধন করবেন বেছে নিনbdris.gov.bd খুলে 'জন্ম নিবন্ধন' মেনু থেকে 'জন্ম নিবন্ধন আবেদন' চাপুন। জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা না বাংলাদেশ দূতাবাস, কোন ঠিকানায় নিবন্ধন করবেন বেছে নিন। দেশে হলে পরে যে ঠিকানা লিখবেন, সেই অনুযায়ী কার্যালয় ঠিক হয়; দূতাবাস বেছে নিলে দেশ, শহর আর অফিস বেছে দিতে হয়।
  • ২
    যাঁর নিবন্ধন, তাঁর তথ্য দিননামের প্রথম ও শেষ অংশ বাংলা আর ইংরেজিতে আলাদা ঘরে লিখুন। জন্ম তারিখ দিন/মাস/বছর আকারে বসান। তারপর লিঙ্গ আর বাবা-মায়ের কততম সন্তান (জীবিত ও মৃত সব সন্তান গুনে) বেছে নিন। জন্ম তারিখ দেওয়ার পর যে কাগজের তালিকা আসে, সেগুলো হাতে আছে কি না দেখে এগোন।
  • ৩
    জন্মস্থান, বাবা-মা আর ঠিকানাজন্মস্থানের ঠিকানা দিন, তারপর বাবা ও মায়ের তথ্য। তাঁদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্ম তারিখ দিয়ে Verify চাপলে রেকর্ড থেকে নাম চলে আসে। এরপর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা; আগের ঠিকানার সঙ্গে একই হলে টিক দিলেই হয়।
  • ৪
    আবেদনকারীর তথ্য আর কাগজ আপলোডআবেদনকারীর সঙ্গে সম্পর্ক বেছে নিন, যেমন পিতা, মাতা বা নিজ। তারপর তালিকা ধরে প্রতিটি কাগজের ছবি আপলোড করুন।
  • ৫
    প্রিভিউ দেখে OTP দিয়ে জমা দিনপ্রিভিউতে প্রতিটি বানান আর তারিখ মিলিয়ে নিন, কারণ জমা দেওয়ার পর আপনি নিজে আর কিছু বদলাতে পারবেন না। মোবাইল নম্বরে আসা OTP দিয়ে সাবমিট করুন। দূতাবাসে আবেদন করলে OTP যায় ইমেইলে।
  • ৬
    আবেদনপত্র নম্বর রাখুন, প্রিন্ট নিনজমা হলে পর্দায় আবেদনপত্র নম্বর আর একটি তারিখ দেখায়। ওই তারিখের মধ্যে প্রিন্ট কপি আর কাগজ নিয়ে নিবন্ধকের কাছে যেতে হবে। প্রিন্ট পরে লাগলে 'জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট' মেনুতে আবেদনপত্র নম্বর, জন্ম তারিখ আর আবেদনে দেওয়া কিছু তথ্য দিয়ে আবার বের করা যায়।
একটি মোবাইল নম্বরে বড়জোর ৫টি নিবন্ধন

নিজের, বাবা-মায়ের বা অভিভাবকের নম্বর দিন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, একটি নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জনের নিবন্ধনে ব্যবহার করা যায়, এর বেশি হলে পরে সেই নিবন্ধনগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। দোকান বা অফিসের কারও নম্বর দেবেন না।

৬. কার্যালয়ে জমা থেকে সনদ হাতে পাওয়া

  1. প্রিন্ট করা আবেদনপত্র আর সব কাগজের মূল কপি নিয়ে বেছে নেওয়া কার্যালয়ে যান। আবেদনপত্রে আবেদনকারীর সই বা টিপসই দিতে হয়।
  2. ফি থাকলে দিয়ে রসিদ নিন। কার্যালয় আবেদনকারীর অংশে সই করে সনদ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ লিখে দেয়।
  3. নিবন্ধক কাগজ যাচাই করেন। দরকার মনে করলে নিজে বা কাউকে দিয়ে তথ্যের সত্যতা তদন্ত করাতে পারেন।
  4. সব ঠিক থাকলে বিধিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করে বাংলা ও ইংরেজি সনদ দেওয়ার কথা।
  5. সনদ হাতে পেয়ে e-Verify পোর্টালে ১৭ সংখ্যার নম্বর আর জন্ম তারিখ দিয়ে মিলিয়ে নিন, নাম আর বাবা-মায়ের নামের বানানও দেখে নিন।

নাম, বাবার নাম আর মায়ের নাম অন্য কারও রেকর্ডের সঙ্গে হুবহু মিলে গেলে সিস্টেম আবেদনটিকে 'পসিবল ডুপ্লিকেট' দেখায়। তখন নিবন্ধন কার্যালয়, দরকার হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), খোঁজখবর নিয়ে নিষ্পত্তি করেন, তাই সময় বেশি লাগে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, জন্ম তারিখে ৮ থেকে ১০ বছর বা তার বেশি ফারাক থাকলে, কিংবা স্থায়ী ঠিকানা না মিললে, সেটি সাধারণত আসল ডুপ্লিকেট হয় না।

আবেদন নাকচ হলে

নিবন্ধকের সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা ক্যান্টনমেন্টের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, আর দূতাবাসের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে।

৭. অনেকে যা জানতে চান

শিশুর নাম এখনো ঠিক হয়নি, নিবন্ধন কি আটকে থাকবে?
আইন অনুযায়ী নাম ঠিক না হলেও জন্ম নিবন্ধন করা যায়, তবে নিবন্ধনের পরের ৪৫ দিনের মধ্যে নাম জানাতে হয়। অনলাইন ফরমে নামের ঘরগুলো বাধ্যতামূলক, তাই এমন হলে সরাসরি নিবন্ধক কার্যালয়ে কথা বলুন।
জমা দেওয়ার পর ফরমে ভুল চোখে পড়লে কী করব?
অনলাইনে আপনি নিজে আর সম্পাদনা করতে পারবেন না। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রিন্ট কপি নিয়ে কার্যালয়ে গিয়ে ভুলটা দেখান। নিবন্ধন হয়ে গেলে তখন সংশোধনের আলাদা আবেদন করতে হয়, যাতে ফি আর বাড়তি প্রমাণ লাগে।
যমজ সন্তানের নিবন্ধন কীভাবে করব?
দুজনের জন্য আলাদা আবেদন করুন এবং পরপর দুটিই অনলাইনে জমা দিন, তারপর একসঙ্গে কার্যালয়ে যান। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, একটির নিবন্ধন শেষ হয়ে যাওয়ার পর অন্যটি জমা দিতে গেলে সমস্যা হয়।
বিদেশে জন্ম হলে কোথায় নিবন্ধন করব?
যে দেশে আছেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে। BDRIS ফরমে 'বাংলাদেশ দূতাবাস' বেছে নিতে হয়, OTP যায় ইমেইলে। জন্মের প্রমাণের সঙ্গে বাবা বা মায়ের বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি লাগে, আর পাসপোর্টে লেখা স্থায়ী ঠিকানাই স্থায়ী ঠিকানা ধরা হয়। ৪৫ দিন পার হলে ফি ১ মার্কিন ডলার।

এরপর কী করবেন

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

জন্ম নিবন্ধন নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ
অনলাইন যাচাই

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই

আপনার ১৭ সংখ্যার নম্বরটি সরকারি ডাটাবেজে ঠিকঠাক উঠেছে কি না, ঘরে বসে নিজেই দেখে নিন। পড়তে ২ মিনিট
যাচাইয়ে সমস্যা

যাচাইয়ে No Record Found এলে

সার্ভারে রেকর্ড খুঁজে না পেলে সনদ ১৭ ডিজিটে রূপান্তর বা সংশোধনের জন্য কোন পথে এগোবেন। পড়তে ৩ মিনিট
সংশোধন

সনদে নাম বা জন্ম তারিখ ভুল থাকলে

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখ ঠিক করতে কোন কাগজ লাগবে আর আবেদনটা কীভাবে করবেন। পড়তে ৩ মিনিট
মৃত্যু নিবন্ধন

মৃত্যু নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদ

উত্তরাধিকার, পেনশন আর নামজারিতে লাগে মৃত্যু সনদ। কে আবেদন করবেন, কী কাগজ লাগে, ফি আর যাচাইয়ের উপায়। পড়তে ৬ মিনিট

অনেকে খোঁজেন