
সংক্ষেপে
হ্যাঁ, জন্ম নিবন্ধনের সার্ভার এখন পরিকল্পিতভাবে বন্ধ। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী BDRIS আর এর অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সব কাজ বন্ধ থাকবে।
এ সময় নতুন আবেদন, সংশোধন, সনদ প্রিন্ট বা অনলাইনে যাচাই, কিছুই হবে না, ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনের অফিসেও না। কাগজ গুছিয়ে রাখুন, আর ২৫ তারিখের পর ধীরে ধীরে কাজ সারুন।
রক্ষণাবেক্ষণের নোটিশ আর চালু হওয়ার খবর এখানেই দেখাবে।
এই লেখায়
১. জন্ম নিবন্ধন সার্ভার কি বন্ধ: নোটিশে যা লেখা
এখন জন্ম নিবন্ধনের মূল সাইট বা যাচাইয়ের সাইট খুললে লোড হওয়ার বদলে একটি নোটিশ দেখায়। রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যালয় সেখানে জানিয়েছে, BDRIS আর এর Application Server রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিস্টেমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
| বিষয় | নোটিশে যা আছে |
|---|---|
| বন্ধ শুরু | ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা (ইংরেজি নোটিশে 6:00 PM) |
| চালু হওয়ার কথা | ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৬টা |
| কী বন্ধ | BDRIS-এ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সব কাজ |
| জরুরি দরকারে | ইমেইল: support@bdris.gov.bd |
বাংলা নোটিশে শুরুর সময় শুধু ০৬:০০ ঘটিকা লেখা, ইংরেজিতে স্পষ্ট করে সন্ধ্যা ৬টা। মোট প্রায় সাড়ে পাঁচ দিন। তাই জন্ম নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ কেন, এই প্রশ্নের উত্তর এবার সোজা: এটা কোনো হঠাৎ বিভ্রাট নয়, ঘোষণা দিয়ে করা কাজ।
সাইট না খুললে অনেকে ভাবেন নিজের ইন্টারনেট বা মোবাইলের সমস্যা। এবার তা নয়। পাতাটা খুললেই সবুজ মাথার নিচে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ লেখা নোটিশ আর একটি ঘড়ি দেখাবে, যেটা চালু হওয়ার সময় পর্যন্ত গুনে চলে। এই নোটিশ দেখলে বারবার রিফ্রেশ করে বা অন্য ব্রাউজারে গিয়ে লাভ নেই। আর পাতাটাই একেবারে না এলে তখন নিজের সংযোগ পরীক্ষা করুন।
২. এই কয়দিন কোন কাজ হবে না
সব নিবন্ধক কার্যালয় একই BDRIS সিস্টেমে কাজ করে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের অফিস বা দূতাবাস, সবাই। সিস্টেম বন্ধ মানে ওই অফিসগুলোতেও অনলাইনের কাজ আটকে থাকবে।
- নতুন জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন আবেদন জমা দেওয়া যাবে না।
- নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা সংশোধনের আবেদন জমা বা অনুমোদন হবে না।
- আবেদনের অবস্থা দেখা বা আবেদনপত্র প্রিন্ট করা যাবে না।
- অনলাইনে সনদ যাচাই হবে না, কারণ যাচাইয়ের সাইটেও একই নোটিশ।
- সনদ পুনর্মুদ্রণ বা ইংরেজি কপির আবেদনও অপেক্ষায় থাকবে।
মৃত্যু নিবন্ধনও একই সিস্টেমে হয়। পরিবারে কেউ মারা গেলে ওয়ারিশ সনদ, ব্যাংক বা পেনশনের কাজের জন্য মৃত্যু সনদ লাগলে সেটাও ২৫ অক্টোবরের পর আবেদন করতে হবে। হাসপাতালের মৃত্যুর প্রত্যয়ন বা কবরস্থান ও শ্মশানের কাগজ এখনই আলাদা করে রেখে দিন।
সার্ভার বন্ধের সময় কেউ টাকা নিয়ে সনদ বের করে দেবে বা সার্ভার কপি দেবে বললে বুঝবেন, সেটা সরকারি সিস্টেম থেকে আসছে না। জাল সনদে পরে স্কুলে ভর্তি বা পাসপোর্টের আবেদনে বড় ঝামেলা হয়।
৩. আগেও এমন হয়েছে, তখন কী হয়েছিল
জন্ম নিবন্ধনের সার্ভার এর আগেও লম্বা সময় বন্ধ ছিল। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর সাধারণ মানুষের নিজে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করা হয়। তখন সবাইকে নিকটস্থ নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর, ৩১ আগস্টের দিকে, অনলাইনের আবেদন আবার খুলে দেওয়া হয়।
এবারের বন্ধ তার চেয়ে আলাদা। এবার আগেই তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর বন্ধ থাকছে অফিসের কাজও। তবে অভিজ্ঞতা বলে, বড় রক্ষণাবেক্ষণের পর প্রথম কয়েক দিন সাইট ধীর চলতে পারে, ওটিপি দেরিতে আসতে পারে। নির্ধারিত সময়ে চালু না হলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নতুন নোটিশ দেখুন।
তাই একটা নিয়ম মনে রাখুন। সার্ভারের নোটিশ, চালু হওয়ার খবর বা সময় বাড়ানোর ঘোষণা, সব আসে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সাইট থেকে। ফেসবুক গ্রুপে কেউ লিখল সার্ভার খুলে গেছে বা আরও এক সপ্তাহ বন্ধ, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। নিজে সাইট খুলে দেখুন।
৪. বন্ধের দিনগুলোতে যা গুছিয়ে রাখতে পারেন
এই সময়টা নষ্ট না করে কাগজপত্র ঠিক করে রাখুন। চালু হলে একবারেই আবেদন জমা দিতে পারবেন।
যা তৈরি রাখবেন
আগেই আবেদন জমা দিয়ে থাকলে ভয় পাবেন না। নোটিশে আগের আবেদন বাতিলের কোনো কথা নেই। সার্ভার খুললে আবেদন নম্বর দিয়ে অবস্থা দেখে নিন। স্কুলে ভর্তি বা পাসপোর্টের জন্য সনদ জরুরি হলে প্রতিষ্ঠানকে নোটিশের কথা জানিয়ে সময় চেয়ে নিন।
৫. জন্ম নিবন্ধন সার্ভার কি চালু হয়েছে: খোলার পর যেভাবে এগোবেন
- ১২৫ অক্টোবর সকালের পর সাইট খুলুননোটিশের পাতা সরে গিয়ে স্বাভাবিক পাতা এলে বুঝবেন চালু হয়েছে। যাচাইয়ের সাইটও আলাদা করে খুলে দেখুন।
- ২পুরোনো আবেদনের অবস্থা দেখুনআবেদন নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে অবস্থা মিলিয়ে নিন। কোনো ধাপ বাকি থাকলে সেটাই আগে সারুন।
- ৩নতুন আবেদন ভিড় কমলে করুনপ্রথম এক-দুই দিন অনেকেই একসঙ্গে ঢুকবেন। জরুরি না হলে সকালে বা রাতে চেষ্টা করুন।
- ৪আবেদন প্রিন্ট করে অফিসে যানঅনলাইনে জমার পর প্রিন্ট কপি আর মূল কাগজ নিয়ে নিজের নিবন্ধক কার্যালয়ে যেতে হয়, নইলে আবেদন এগোয় না।
চালুর পরও সাইট না খুললে আগে অন্য ব্রাউজার বা কম্পিউটারে চেষ্টা করুন। ওটিপি না এলে বা প্রিন্ট না হলে আমাদের আলাদা লেখায় সমাধানগুলো দেওয়া আছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জন্ম নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ কেন?
এই সময় ইউনিয়ন পরিষদে গেলে কি আবেদন জমা নেবে?
সার্ভার বন্ধের সময় আমার জমা দেওয়া আবেদন কি বাতিল হবে?
জরুরি দরকারে কোথায় যোগাযোগ করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।