সংক্ষেপে
২০২৬-২৭ করবর্ষে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আয়ের রিটার্ন, প্রায় সব ব্যক্তি করদাতাকে etaxnbr.gov.bd সাইটে অনলাইনে দিতে হবে। এনবিআর ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে এ বছরের ই-রিটার্ন চালু করেছে। নিবন্ধনে লাগে TIN আর নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
কোনো কাগজ আপলোড করতে হয় না, তবে সব কাগজ সামনে রেখে তথ্য দিন। জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ পাওয়া যায়, আলাদা করে কর অফিসে কাগজ দিতে হয় না।
নিবন্ধন, রিটার্ন পূরণ, কর পরিশোধ আর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নামানো এখান থেকে।
এই লেখায়
১. কাদের অনলাইনে রিটার্ন দিতেই হবে
এনবিআরের ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের বিশেষ আদেশে সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু এই পাঁচ ধরনের করদাতা কাগজের রিটার্ন দিতে পারবেন, চাইলে তাঁরাও অনলাইনে দিতে পারেন:
- ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতা
- শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (সনদ জমা দেওয়া সাপেক্ষে)
- বিদেশে থাকা বাংলাদেশি করদাতা
- মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক
এর বাইরে কেউ ই-রিটার্নে নিবন্ধনের সমস্যায় আটকে গেলে কারণ জানিয়ে নিজের সার্কেলের উপ কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারেন। অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনার অনুমোদন দিলে তখন কাগজের রিটার্ন দেওয়া যায়।
২. ই-রিটার্নে নিবন্ধন
- ১মোবাইল নম্বর যাচাই করুননম্বরটি আপনার নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হতে হবে। ফোন থেকে *16001# ডায়াল করে NID-র শেষ চার অঙ্ক দিলে জানা যায় আপনার NID দিয়ে কোন কোন নম্বর নিবন্ধিত।
- ২TIN আর মোবাইল নম্বর দিনetaxnbr.gov.bd-তে eReturn অংশে ঢুকে সাইন ইন পাতার নিচের Register লিংকে ক্লিক করুন। TIN, মোবাইল নম্বর আর ক্যাপচা দিয়ে Verify চাপুন।
- ৩ওটিপি দিয়ে পাসওয়ার্ড ঠিক করুনমোবাইলে ৬ অঙ্কের ওটিপি আসবে। পাসওয়ার্ডে অন্তত ৮টি অক্ষর রাখুন, তার মধ্যে বড় হাতের ও ছোট হাতের ইংরেজি অক্ষর, একটি সংখ্যা আর @ বা # জাতীয় একটি চিহ্ন থাকতে হবে।
- ৪সাইন ইন করুনএরপর থেকে TIN আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করবেন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে Forgot Password চাপলে নিবন্ধিত মোবাইলে ওটিপি আসে।
বাংলাদেশি সিম না থাকলে ই-মেইল যাচাই করে Special Registration for NRB করা যায়। এর জন্য NID, পাসপোর্টের তথ্যপাতা, বসবাসের দেশের ভিসা আর দেশ ছাড়ার সিলের পাতার কপি আপলোড করতে হয়।
৩. রিটার্ন পূরণের সাতটি ধাপ
সাইন ইন করে Submission মেনু থেকে Regular e-Return খুলুন, ওপরে করবর্ষ ২০২৬-২০২৭ বাছাই আছে কি না দেখে নিন। ফোনে অনেক অপশন ঠিকমতো আসে না, তাই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ ব্যবহার করুন। মাঝপথে Save Draft করে পরে আবার শুরু করা যায়।
- Assessment: আয়বর্ষ, আবাসিক অবস্থা আর আপনার আয়ের খাতগুলো (চাকরি, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা বা পেশা, মূলধনি আয়, আর্থিক পরিসম্পদ, অন্যান্য) বাছাই করুন।
- Income: প্রতিটি খাতের আয়ের হিসাব দিন। অনলাইনে কেনা সঞ্চয়পত্রের আয় Import from NSD চাপলে নিজে থেকেই চলে আসে।
- Rebate: জীবনবিমা, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, জিপিএফ, তালিকাভুক্ত শেয়ারের মতো রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ লিখুন।
- Expenditure: বছরের খাওয়া-পরা, বাসাভাড়া, যাতায়াত, শিক্ষাসহ পারিবারিক খরচ দিন।
- Assets & Liabilities: সম্পদ ও দায়ের হিসাব দিন। আগের বছর অনলাইনে রিটার্ন দিয়ে থাকলে Import and Autofill চাপলে আগের তথ্য চলে আসে, শুধু হালনাগাদ করবেন।
- Tax & Payment: মোট আয়, কর আর আগে কাটা উৎসে কর ও অগ্রিম কর মিলিয়ে কত বাকি, তা দেখে নিন।
- Return View: পুরো রিটার্ন মিলিয়ে দেখুন, ভুল থাকলে Back চেপে ঠিক করুন, তারপর Submit Return চাপুন।
সামনে রাখবেন যেসব কাগজ
৪. উৎসে কাটা কর দাবি আর বাকি কর পরিশোধ
Tax & Payment পাতায় Update Tax Payment Status চাপলে e-Return Ledger খোলে। এখানে বেতন থেকে কাটা কর, ব্যাংক সুদ ও সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর, গাড়ির অগ্রিম কর আর আগের বছরের বাড়তি দেওয়া কর দাবি করা যায়। কাজ শেষে Go to Return চেপে মূল রিটার্নে ফিরে আসুন।
সব বাদ দিয়েও কর বাকি থাকলে Pay Now চাপুন। এ-চালান বা সোনালী ব্যাংকের গেটওয়ে দিয়ে বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে কর দেওয়া যায়। পরিশোধ শেষে আপনাকে আবার ই-রিটার্নে ফিরিয়ে আনা হয়।
সেভ করে লগআউট করুন, আবার লগইন করে Tax and payment পাতা দেখুন। তখনো বকেয়া দেখালে কল সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
৫. জমা দেওয়ার পর যা পাবেন
অনলাইনে জমা হলেই আপনার কর নির্ধারণ (অ্যাসেসমেন্ট) হয়ে যায়, সার্কেলে আবার কাগজের রিটার্ন দিতে হয় না। সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (Acknowledgement slip) আর আয়কর সনদ তৈরি হয়। Tax Record মেনু থেকে পরে যেকোনো সময় এগুলো, রিটার্নের কপি, চালান আর TIN সনদ নামানো ও প্রিন্ট করা যায়।
জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে জমার ১৮০ দিনের মধ্যে অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়, তবে মাত্র একবার।
এনবিআর জানিয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এ জিরো রিটার্নের কোনো বিধান নেই। আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কর লাগবে না, কিন্তু আয়, খরচ, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য দিতেই হবে; সব ঘরে শূন্য বা মিথ্যা তথ্য দিলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
মোবাইল ফোন থেকে কি ই-রিটার্ন দেওয়া যায়?
অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার পর কি কাগজের কপি জমা দিতে হয়?
ই-রিটার্নে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?
এবার কোন সময়ের মধ্যে রিটার্ন দেওয়া ভালো?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।