
সংক্ষেপে
উপকর কমিশনারের কর নির্ধারণী আদেশ, জরিমানা, সুদ বা ফেরতের অঙ্ক নিয়ে আপত্তি থাকলে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ২৮৬ ধারায় আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যায়। আপিল করতে হয় করদাবি নোটিশ জারির তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে, ফি ২০০ টাকা। রিটার্নে নিজের স্বীকার করা কর আগে পরিশোধ করা না থাকলে আপিল গ্রহণ হয় না।
আপিল দায়েরের মাসের পরের ১৫০ দিনের মধ্যে আদেশ না হলে আপিলটি মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়। এই রায়েও সন্তুষ্ট না হলে ৬০ দিনের মধ্যে ১,০০০ টাকা ফি দিয়ে কর আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়া যায়।
আপিলের ফরম, কর অঞ্চলের ঠিকানা আর প্রজ্ঞাপন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাইটে পাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. কোন আদেশের বিরুদ্ধে আয়কর আপিল করা যায়
২৮৬ ধারা অনুযায়ী আয়কর কর্তৃপক্ষের আদেশে সংক্ষুব্ধ করদাতা নিচের বিষয়গুলোতে আপিল করতে পারেন। কোম্পানির আপিল আর কিছু বিশেষ আদেশের আপিল শুধু কমিশনার (আপিল) এর কাছে যায়। ব্যক্তি করদাতার আপিল সাধারণত যায় অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর কাছে।
- আয় নির্ধারণ, যেমন উপকর কমিশনার আপনার দেখানো আয়ের চেয়ে বেশি আয় ধরেছেন
- পরিশোধ্য কর কত, তার হিসাব
- ক্ষতির সমন্বয় বা পরের বছরে টেনে নেওয়া
- দণ্ড বা সুদ আরোপ
- চার্জ, সারচার্জ বা অন্য কোনো অর্থের হিসাব
- ফেরতের পরিমাণ বা ফেরত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত
- উৎসে কাটা করের ক্রেডিট না দেওয়া
একটা উদাহরণ ধরুন। রাশেদ সাহেব রিটার্নে ব্যবসার খরচ দেখিয়েছিলেন, অডিটের পর উপকর কমিশনার কিছু খরচ বাদ দিয়ে কর ৮০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলেন। রাশেদ সাহেবের কাছে খরচের রসিদ আছে। করদাবি নোটিশ যেদিন জারি হয়েছে, সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে তিনি আপিল করতে পারেন।
২. আপিলের আগে যে কর দিতে হয়
আপিল করলেই পুরো দাবি স্থগিত থাকে না, আর কিছু ক্ষেত্রে আগে কর না দিলে আপিলই চলে না। ২৮৬ ধারার সারণি দুটি অবস্থা বলেছে।
| আপনার অবস্থা | আপিল চলবে না যদি |
|---|---|
| রিটার্ন দাখিল করেছেন | রিটার্নে স্বীকার করা কর পরিশোধ করা না থাকে |
| রিটার্ন দাখিল করেননি | উপকর কমিশনারের নির্ধারণ করা করের অন্তত ১০% পরিশোধ করা না থাকে |
আইনে একটি ছাড়ও আছে: আপিলের আগে রিটার্নের ভিত্তিতে কর দিয়ে থাকলে আর রিটার্ন জমার আগে কর দিতে না পারার সন্তোষজনক কারণ দেখাতে পারলে আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করতে পারেন।
৩. আয়কর আপিল দায়েরের ধাপ
- ১নোটিশের তারিখ লিখে রাখুনকরদাবি নোটিশ জারির তারিখ থেকে ৪৫ দিন গোনা শুরু হয়। জরিমানা বা অন্য আদেশের ক্ষেত্রে সময় গোনা হয় সেই আদেশ জারির তারিখ থেকে।
- ২স্বীকৃত কর পরিশোধ করুনরিটার্নে দেখানো কর বাকি থাকলে আগে তা দিন। রিটার্ন না দিয়ে থাকলে নির্ধারিত করের অন্তত ১০% দিন, চালান রাখুন।
- ৩নির্ধারিত ফরমে আপিল লিখুন২৮৭ ধারা অনুযায়ী আপিল করতে হয় বোর্ডের নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে। আপনার কর অঞ্চলের আপিল দপ্তর থেকে চলতি ফরম আর জমার পদ্ধতি জেনে নিন। কোন অংশে কেন আপত্তি, তা স্পষ্ট করে লিখুন।
- ৪২০০ টাকা ফি দিনআপিল দায়েরের তারিখে বা তার আগে ২০০ টাকা ফি দিতে হয়, ফি দেওয়ার প্রমাণ আপিলের সঙ্গে দিন।
- ৫শুনানিতে কাগজ নিয়ে যানআপিল কর্তৃপক্ষ শুনানির তারিখ ও স্থান জানিয়ে নোটিশ দেবেন। নিজে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে যেতে পারেন। রসিদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর হিসাবের কাগজ গুছিয়ে নিন।
২৮৮ ধারা বলছে, উপকর কমিশনারের কাছে সময়মতো যে কাগজ দেখানো হয়নি, আপিলে তা সাধারণত গ্রহণ করা হয় না, যদি না যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাতে পারেন। তাই অডিট বা শুনানির সময়েই সব কাগজ জমা দিন।
আপিলের সঙ্গে যা রাখবেন
আপিলের আবেদনে ঢালাও আপত্তি না লিখে প্রতিটি বিষয় আলাদা করে লিখুন: কোন খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে, কত টাকা, আর কোন কাগজে তার প্রমাণ। শুনানির সময় কর্তৃপক্ষ আবেদনের বাইরে নতুন কারণ যোগ করার অনুমতি দিতে পারেন, তবে সেটা নিশ্চিত নয়।
৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পথ পুরো বন্ধ নয়। সময়মতো আপিল করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ থাকলে আপিল কর্তৃপক্ষ দেরিতে করা আপিলও গ্রহণ করতে পারেন।
৪. শুনানি, রায় আর ১৫০ দিনের নিয়ম
২৮৯ ধারা অনুযায়ী আপিল কর্তৃপক্ষ কর নির্ধারণ বহাল রাখতে, কমাতে, বাড়াতে, নাকচ বা রদ করতে পারেন। তবে কর বা জরিমানা বাড়ানোর আগে আপনাকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হয়। রায় লিখিতভাবে, কারণসহ দিতে হয় আর আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে জানাতে হয়।
আপিল যে মাসে দায়ের হয়েছে, সেই মাস শেষের পরের ১৫০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষ কোনো আদেশ না দিলে আপিলটি মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়। আপিল জমার রসিদ আর তারিখের প্রমাণ তাই যত্ন করে রাখুন।
৫. আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল আর রিভিশনের পথ
| পথ | কখন | সময় | ফি ও শর্ত |
|---|---|---|---|
| কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ধারা ২৯১) | আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ে বা ২৭২ ধারার জরিমানায় সন্তুষ্ট নন | আদেশ জানার ৬০ দিনের মধ্যে | ১,০০০ টাকা; ধার্য কর আর স্বীকৃত করের পার্থক্যের ১০% পরিশোধ |
| কমিশনারের কাছে রিভিশন (ধারা ২৮৫) | অধস্তন কর্তৃপক্ষের আদেশ পুনর্বিবেচনা চান, আপিল করেননি | আদেশ জানার ৬০ দিনের মধ্যে | ২০০ টাকা; স্বীকৃত কর পরিশোধ |
ট্রাইব্যুনালে ১০% পরিশোধের বাধ্যবাধকতা কর কমিশনার আবেদন পেয়ে সন্তোষজনক কারণে শিথিল করতে পারেন। রিভিশনের আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে তা মঞ্জুর বলে গণ্য হয়, তবে আপিল চলমান থাকলে বা আপিলের সময় না ফুরালে রিভিশন চলে না। আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও আছে, অঙ্ক বড় হলে আয়কর আইনজীবীর সঙ্গে কোন পথ ভালো তা আলাপ করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
আয়কর আপিল কত দিনের মধ্যে করতে হয়?
আয়কর আপিলের ফি কত?
আয়কর আপিল ফরম কোথায় পাব?
আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে কখন যাবেন?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।