আয়কর ও ই-টিআইএন

জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম আসলে নেই: আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে যা করবেন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এনবিআর কল সেন্টার ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১etaxnbr.gov.bd
জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম আসলে নেই: আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে যা করবেন

সংক্ষেপে

জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম বলে আয়কর আইনে কিছু নেই। এনবিআর ১০ আগস্ট ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আয়, খরচ, সম্পদ আর দায়ের ঘরে শূন্য বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিটার্ন দেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। মানুষ যাকে জিরো রিটার্ন বলে, তার আসল রূপ হলো: আয় করমুক্ত সীমার নিচে, তাই প্রদেয় কর শূন্য, কিন্তু আয়-সম্পদের প্রকৃত হিসাবসহ সাধারণ রিটার্ন।

২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা, নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সাড়ে ৪ লাখ। আয় এর নিচে হলে কর লাগবে না, ন্যূনতম করও না। রিটার্ন অনলাইনে ই-রিটার্নে দেওয়া যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দিলে বাড়তি করের প্রশ্নও ওঠে না।

ই-রিটার্নে রিটার্ন দিন

TIN আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্যসহ রিটার্ন জমা দিন।

ই-রিটার্নে যান
এই লেখায়
  1. জিরো রিটার্ন কি, আর কেন এটি ঝুঁকির
  2. আপনাকে কি রিটার্ন দিতেই হবে
  3. জিরো রিটার্ন কত টাকা: কর আর খরচের হিসাব
  4. শূন্য রিটার্ন কিভাবে দাখিল করব: সঠিক পথে কর শূন্য দেখানো
  5. জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. জিরো রিটার্ন কি, আর কেন এটি ঝুঁকির

অনেক দোকান বা অনলাইন বিজ্ঞাপনে জিরো রিটার্ন মানে বোঝানো হয় সব ঘর শূন্য রেখে একটি রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নেওয়া। এনবিআর এটিকেই দণ্ডনীয় বলেছে। আয় থাকুক বা না থাকুক, রিটার্নে আপনার প্রকৃত আয়, জীবনযাপনের খরচ, সম্পদ আর দায় লিখতে হয়।

মিথ্যা বিবৃতির শাস্তি

আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩১৩ ধারায় জেনেশুনে মিথ্যা হিসাব বা বিবৃতি দিলে অর্থদণ্ডসহ অনধিক ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে, যা ৬ মাসের কম নয়।

সব ঘরে শূন্য দেওয়া রিটার্ন পরে সমস্যা তৈরি করে আরেকভাবেও। পরের বছর যখন সঞ্চয়, জমি বা গাড়ি দেখাবেন, তখন আগের বছরের শূন্য সম্পদের সঙ্গে হিসাব মিলবে না।

২. আপনাকে কি রিটার্ন দিতেই হবে

আয়কর আইনের ১৬৬ ধারায় বলা আছে কারা রিটার্ন দেবেন। এর যেকোনো একটি খাটলেই রিটার্ন দিতে হবে:

  • আয়বর্ষে আয় করমুক্ত সীমা পার হয়েছে।
  • আগের ৩ বছরের যেকোনো বছরে আপনার কর নির্ধারণ হয়েছে।
  • আপনি গণকর্মচারী, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী, ফার্মের অংশীদার, কিংবা ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপক পদের কর্মচারী।
  • আয়বর্ষে এমন আয় পেয়েছেন, যা কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত হারের সুবিধা পায়।
  • কোনো সেবা নিতে আপনাকে রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) দেখাতে হবে, যেমন ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনা বা ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ।

এগুলোর কোনোটিই না খাটলে আর আয় সীমার নিচে থাকলে আইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করে না। শুধু TIN আছে বলে আপনার ক্ষেত্রে রিটার্ন লাগবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে নিজের কর সার্কেল বা এনবিআরের কল সেন্টারে জেনে নিন।

অনেক কাজে এখন শুধু TIN সনদই চলে

নতুন ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া ও নবায়ন বা সমবায় সমিতি নিবন্ধনের মতো কিছু সেবায় এখন রিটার্নের প্রমাণের বদলে TIN সনদ দেখালেই চলে। তাই শুধু এসব কাজের জন্য সব ঘরে শূন্য লিখে রিটার্ন দেওয়ার দরকার নেই।

৩. জিরো রিটার্ন কত টাকা: কর আর খরচের হিসাব

আপনার অবস্থা২০২৬-২৭ করবর্ষে কর
আয় ৪ লাখ টাকার মধ্যে (নারী ও প্রবীণ সাড়ে ৪ লাখ)শূন্য, ন্যূনতম করও লাগে না
আয় সীমা পার, হিসাবে কর ৫,০০০ টাকার কমন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা, সারা দেশে একই
আয় সীমা পার, প্রথমবারের করদাতান্যূনতম কর ১,০০০ টাকা
বেতন বা ব্যাংক সুদ থেকে আগেই কর কাটা হয়েছেরিটার্নে দাবি করলে প্রদেয় কর থেকে বাদ যায়

রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সরকারের কোনো আলাদা ফি নেই। দোকান বা আইনজীবী যে টাকা নেন, সেটি তাঁদের সেবার মূল্য। কেউ টাকা নিয়ে শূন্য রিটার্ন করে দেওয়ার কথা বললে বুঝবেন সেটি আইনের বাইরে।

৪. শূন্য রিটার্ন কিভাবে দাখিল করব: সঠিক পথে কর শূন্য দেখানো

  • ১
    ই-রিটার্নে সাইন ইনetaxnbr.gov.bd-তে TIN আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকুন। নিবন্ধনে লাগবে আপনার নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, যা *16001# ডায়াল করে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
  • ২
    আয়ের প্রতিটি উৎস লিখুনসামান্য হলেও বেতন, টিউশনি, ব্যবসা, ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, সব লিখুন। আয় না থাকলে সেটিও সত্যিই শূন্য কি না নিশ্চিত হোন, যেমন ছাত্র বা গৃহিণী।
  • ৩
    খরচ আর সম্পদ দিনজীবনযাপনের খরচ কোথা থেকে আসছে, পরিবারের সহায়তা হলে সেটিও দেখানো যায়। ব্যাংক হিসাব, নগদ, স্বর্ণ, জমির মতো সম্পদ আর ঋণ লিখুন।
  • ৪
    কর মিলিয়ে জমা দিনআয় সীমার নিচে হলে Tax & Payment পাতায় প্রদেয় কর শূন্য দেখাবে। Submit করার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নামিয়ে রাখুন, PSR হিসেবে এটিই কাজে লাগে।

ছাত্র, গৃহিণী বা অবসরপ্রাপ্ত কেউ, যাঁর নিজের আয় খুব কম, তিনি আয়ের ঘরে প্রকৃত অঙ্কই লিখবেন। খরচ যদি পরিবার বহন করে, সেটি রিটার্নে দেখানো যায়। মূল কথা, যা লিখবেন তা যেন ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র বা জমির কাগজের সঙ্গে মেলে।

৫. জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ

২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তি করদাতা পুরো করবর্ষ জুড়ে রিটার্ন দিতে পারেন, তবে কখন দিচ্ছেন তার ওপর ছাড় বা বাড়তি কর ঠিক হয়:

জমার সময়যা হয়
১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ছাড়ও নেই, বাড়তি করও নেই
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭প্রদেয় করের ২% অথবা ৩,০০০ টাকা, যেটি বেশি
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২৭প্রদেয় করের ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি

যাঁর প্রদেয় কর শূন্য, দেরিতে দিলে এই ন্যূনতম অঙ্কের বাড়তি কর তাঁর ক্ষেত্রেও খাটে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে এনবিআরের কল সেন্টারে জিজ্ঞেস করুন। নিরাপদ পথ হলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া। আইনে আরও বলা আছে, যিনি আগে কখনো রিটার্ন দেননি, তিনি প্রযোজ্য হারে কর দিয়ে আয়বর্ষ শেষের পরের ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবেন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম কী?
আইনে জিরো রিটার্ন বলে কিছু নেই। আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কর শূন্য হবে, কিন্তু রিটার্নে প্রকৃত আয়, খরচ, সম্পদ ও দায় লিখতে হবে।
জিরো রিটার্ন কত টাকা লাগে?
রিটার্ন জমার জন্য সরকারি কোনো ফি নেই। আয় ৪ লাখ টাকার নিচে হলে কর শূন্য, সীমা পার হলে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা, প্রথমবারের করদাতার ১,০০০ টাকা।
zero return submit online কি করা যায়?
শূন্য তথ্যের রিটার্ন দেওয়া দণ্ডনীয়। তবে প্রকৃত তথ্যসহ যে রিটার্নে কর শূন্য আসে, সেটি ই-রিটার্নে অনলাইনে জমা দেওয়া যায়।
শুধু TIN সনদের জন্য কি রিটার্ন দিতে হয়?
এখন বেশ কিছু সেবায় রিটার্নের প্রমাণের বদলে TIN সনদই যথেষ্ট। রিটার্ন লাগবে কি না ঠিক হয় আয়কর আইনের ১৬৬ ধারার শর্ত আর আপনি কোন সেবা নিচ্ছেন তা দিয়ে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
আয়কর

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম: কখন করা যায়, কোথায় আবেদন, কী শর্ত

আয় না থাকা, মৃত্যু, দেশ ছাড়া বা ডুপ্লিকেট TIN: আইনের ২৬২ ধারায় যেসব কারণে বাতিল চাওয়া যায়, আর যে শর্তে কর অফিস রাজি হয়।
আয়কর

ই-রিটার্নে ওটিপি আসছে না, নিবন্ধন বা লগইন হচ্ছে না: যা করবেন

নম্বরটি নিজের NID-তে না থাকলে ওটিপি আসে না। নম্বর যাচাই, নম্বর বদল, পাসওয়ার্ড রিসেট আর শেষ উপায় হিসেবে কাগজের রিটার্ন।

অনেকে খোঁজেন