সংক্ষেপে
২০২৬-২৭ করবর্ষে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আয়ের রিটার্নে, সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য সাড়ে ৪ লাখ, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সীমার পরের প্রথম ৩ লাখ টাকায় কর ১০ শতাংশ; আগের ৫ শতাংশের ধাপটি আর নেই।
এই হার এসেছে ২০২৬ সালের জুনে পাস হওয়া অর্থ আইন থেকে, এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২০২৭-এও একই হার দেওয়া আছে। আয় সীমা পার হলে কর অন্তত ৫ হাজার টাকা, নতুন করদাতার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা।
আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২০২৭ আর অর্থ আইন এনবিআরের সাইটে পাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. আয়বর্ষ আর করবর্ষ: কোন বছরের হার
আয়করে দুটি বছর আলাদা। আয়বর্ষ হলো যে ১২ মাসে আয় করেছেন, সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ৩০ জুন। করবর্ষ হলো ঠিক তার পরের ১২ মাস, যখন ওই আয়ের রিটার্ন দেন। এখন যে রিটার্ন জমা হচ্ছে, সেটি ২০২৬-২৭ করবর্ষের, আয় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী অর্থ আইন ২০২৬-এ ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮, দুই করবর্ষের জন্যই সাধারণ করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি আয়বর্ষে (জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭) যে আয় করছেন, পরের বছর তার রিটার্নেও সাধারণ সীমা ৪ লাখ টাকা থাকার কথা। ওই বছরের পুরো হার এনবিআরের পরের নির্দেশিকা প্রকাশ হলে মিলিয়ে নেবেন।
২. কার করমুক্ত সীমা কত
| করদাতা | করমুক্ত আয়সীমা (বছরে) |
|---|---|
| সাধারণ করদাতা | ৪,০০,০০০ টাকা |
| নারী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতা | ৪,৫০,০০০ টাকা |
| তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী করদাতা | ৫,২৫,০০০ টাকা |
| গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা | ৫,৫০,০০০ টাকা |
| প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবক | প্রতিটি সন্তান বা পোষ্যের জন্য নিজের সীমার চেয়ে ৫০,০০০ টাকা বেশি |
মা-বাবা দুজনেই করদাতা হলে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বাড়তি সীমার সুবিধা যেকোনো একজন নেবেন।
৩. করহারের ধাপ
| মোট আয়ের ধাপ (সাধারণ করদাতা) | করহার |
|---|---|
| প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা | শূন্য |
| পরের ৩,০০,০০০ টাকা | ১০% |
| পরের ৪,০০,০০০ টাকা | ১৫% |
| পরের ৫,০০,০০০ টাকা | ২০% |
| পরের ২০,০০,০০০ টাকা | ২৫% |
| বাকি আয় | ৩০% |
নারী বা প্রবীণ করদাতার ক্ষেত্রে শূন্য করের প্রথম ধাপটি সাড়ে ৪ লাখ টাকা, পরের ধাপগুলো একই। অন্য বিশেষ শ্রেণির ক্ষেত্রেও শুধু প্রথম ধাপটি তাঁদের সীমা অনুযায়ী বড় হয়।
জমি বা শেয়ার বিক্রির মূলধনি লাভের মতো কিছু আয়ে আলাদা হারে কর হয়, এই টেবিল সেখানে খাটে না। নিট সম্পদ ৪ কোটি টাকার বেশি হলে, কিংবা নিজের নামে একাধিক মোটরগাড়ি বা মোট ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি বাড়ি থাকলে আয়করের ওপর সারচার্জও দিতে হয়।
৪. উদাহরণ: মাসে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বেতন
এনবিআরের নির্দেশিকার একটি উদাহরণ অবলম্বনে ধরা যাক, একজন বেসরকারি চাকরিজীবীর বছরে মোট বেতন ১২,৬০,০০০ টাকা।
- ১করমুক্ত অংশ বাদ দিনচাকরির আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫ লাখ টাকা, যেটি কম, তা করমুক্ত। এখানে এক-তৃতীয়াংশ ৪,২০,০০০ টাকা, তাই করযোগ্য আয় ৮,৪০,০০০ টাকা।
- ২ধাপ ধরে কর হিসাব করুনপ্রথম ৪ লাখে কর নেই। পরের ৩ লাখে ১০% হারে ৩০,০০০ টাকা। বাকি ১,৪০,০০০ টাকায় ১৫% হারে ২১,০০০ টাকা। মোট কর ৫১,০০০ টাকা।
- ৩বিনিয়োগ রেয়াত বাদ দিনজীবনবিমা ৫০,০০০, ডিপিএস ১,৫০,০০০ (রেয়াতে ধরা যাবে ১,২০,০০০) আর সঞ্চয়পত্র ১,০০,০০০ টাকা মিলিয়ে রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ ২,৭০,০০০ টাকা। করযোগ্য আয়ের ৩% (২৫,২০০), বিনিয়োগের ১০% (২৭,০০০) আর ৭.৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম, সেই ২৫,২০০ টাকা রেয়াত।
- ৪প্রদেয় কর বের করুন৫১,০০০ থেকে ২৫,২০০ বাদ দিলে কর ২৫,৮০০ টাকা। বেতন থেকে আগে উৎসে কর কাটা থাকলে সেটুকু বাদ দিয়ে বাকিটা রিটার্নের সঙ্গে দেবেন।
সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস করযোগ্য, বেতন আদেশে থাকা অন্য ভাতাগুলো করমুক্ত। তাঁদের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ ছাড়ের এই নিয়ম খাটে না।
৫. ন্যূনতম কর ও বিনিয়োগ রেয়াত
- আয় করমুক্ত সীমা পার হলে কর অন্তত ৫,০০০ টাকা দিতে হবে, আপনি দেশের যেখানেই থাকুন। রেয়াত বাদ দেওয়ার পর কর ৫,০০০ টাকার কম, শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও ৫,০০০ টাকাই দিতে হবে।
- নতুন করদাতার ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা।
- বিনিয়োগ রেয়াত হবে তিনটির মধ্যে যেটি কম: করযোগ্য আয়ের ৩%, রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের ১০%, অথবা ৭.৫ লাখ টাকা।
- রেয়াতযোগ্য খাতের মধ্যে আছে জীবনবিমার প্রিমিয়াম, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা, ডিপিএসে বছরে সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা, সঞ্চয়পত্রসহ সরকারি সিকিউরিটিজে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, তালিকাভুক্ত শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন বিনিয়োগ, যাকাত তহবিলে দান আর সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চাঁদা।
- মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র বা এ ধরনের বিনিয়োগ ভাঙালে ওই বিনিয়োগে নেওয়া রেয়াতের অংশ বাড়তি কর হিসেবে দিতে হয়।
রেয়াত পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো আগে কর হতে হবে। আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে বিনিয়োগ থাকলেও রেয়াতের প্রশ্ন আসে না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সাড়ে ৩ লাখ টাকা কি এখনো করমুক্ত সীমা?
আমার বছরের আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। কর কত দিতে হবে?
ঢাকার বাইরে থাকি। ন্যূনতম কর কি কম?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।