
সংক্ষেপে
ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনি আয় হলো কোনো সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করে কেনা দামের চেয়ে যা বেশি পেলেন। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ৫৭ থেকে ৬১ ধারায় এর হিসাব। জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট এর মধ্যে পড়ে। নিজের ব্যবহারের গাড়ি, কম্পিউটার বা আসবাব পড়ে না।
আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির তালিকাভুক্ত শেয়ার বা ইউনিট বিক্রির মুনাফা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ে ধরা হয় না, বাড়তি অংশে ১৫% কর। ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকারের মুনাফায় নির্দেশিকার উদাহরণে কর ৫%। ডেভেলপারের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটের মুনাফায় ১৫%, যা তিন কিস্তিতে দেওয়া যায়।
রিটার্নে মূলধনি আয় আলাদা খাতে লিখে করের হিসাব মিলিয়ে নিন।
এই লেখায়
১. ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কি: কোন সম্পদে লাগে
নির্দেশিকা মূলধনি পরিসম্পদের যে সংজ্ঞা দিয়েছে, তাতে করদাতার যেকোনো সম্পত্তি, কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ পুরোটা, আর শেয়ার বা স্টক ধরা হয়। দুটি জিনিস বাদ: ব্যবসার মজুদ পণ্য বা কাঁচামাল, আর নিজের বা পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যবহারের পোশাক, আসবাব, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন।
| সম্পদ | মূলধনি আয় ধরা হয় কি |
|---|---|
| জমি, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, কমার্শিয়াল স্পেস | হ্যাঁ |
| স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট | হ্যাঁ, তবে ৫০ লাখ পর্যন্ত ছাড় আছে |
| ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, রত্ন, চিত্রকর্ম, এন্টিকস, ক্লাবের মেম্বারশিপ | হ্যাঁ, মুনাফা মূলধনি মুনাফা |
| নিজের ব্যবহারের গাড়ি, কম্পিউটার, আসবাব | না |
| বিক্রি না করা শেয়ারের দাম বাড়া (Unrealized Gain) | না, আয় হিসেবেও ধরা হয় না |
যে সম্পদ আসলে হাতবদল হয়নি, তার কাল্পনিক লাভ মূলধনি আয় নয়। নির্দেশিকা স্পষ্ট করে বলেছে, বিক্রি না করা শেয়ারের মুনাফা আয় নয়, আবার সম্পদ বাড়ার উৎস হিসেবেও দেখানো যায় না।
২. মুনাফা কত ধরা হবে: বিক্রয়মূল্য আর অর্জনমূল্যের হিসাব
মূলধনি আয় = হস্তান্তর মূল্য থেকে অর্জন মূল্য বাদ। হস্তান্তর মূল্য হলো হাতে পাওয়া টাকা আর হস্তান্তরের দিনের ন্যায্য বাজারমূল্যের মধ্যে যেটি বেশি। অর্জন মূল্যের মধ্যে পড়ে কেনার দাম, হস্তান্তরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত খরচ আর সম্পদ উন্নয়নের খরচ।
দান, উইল বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ বিক্রি করলে অর্জন মূল্য ধরা হয় আপনি যেদিন মালিক হলেন, সেদিনের ন্যায্য বাজারমূল্য। তাই হেবা দলিল বা বণ্টননামায় লেখা মূল্যের কাগজ রেখে দিন।
জমি বা জমিসহ স্থাপনায় নিয়মটা আরেকটু আলাদা: কেনার পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রি করলে মুনাফা মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হয়ে সাধারণ হারে কর, পাঁচ বছর পর বিক্রি করলে ১৫%। রেজিস্ট্রির সময় কাটা উৎসে করের হিসাবসহ জমির বিষয়টি আমাদের জমি বিক্রির কর বিষয়ক লেখায় বিস্তারিত আছে।
৩. শেয়ার বাজারের মুনাফায় কর: ৫০ লাখের ছাড় কীভাবে কাজ করে
একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনি আয় মোট আয় থেকে বাদ দিতে পারেন, যদি তা তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা তহবিলের শেয়ার ও ইউনিট, অথবা বিএসইসি স্বীকৃত তহবিলের ইউনিট বিক্রি থেকে আসে। স্পন্সর, ডিরেক্টর বা প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মুনাফায় এই ছাড় নেই।
- ১বছরের মোট বাস্তবায়িত মুনাফা বের করুনব্রোকারেজ হাউসের বার্ষিক পোর্টফোলিও বিবরণী থেকে যে শেয়ার আসলে বিক্রি করেছেন, শুধু সেগুলোর মুনাফা যোগ করুন।
- ২৫০ লাখ টাকা বাদ দিনমুনাফা ৫০ লাখের কম হলে মূলধনি আয় খাতে কর শূন্য। বেশি হলে শুধু বাড়তি অংশটা করযোগ্য।
- ৩বাড়তি অংশে ১৫%নির্দেশিকার উদাহরণে বাড়তি অংশে সপ্তম তফসিলের বিশেষ হার ১৫% বসানো হয়েছে, যা ব্যবসা বা বেতনের আয়ের করের সঙ্গে যোগ হয়।
- ৪রিটার্নে দেখানছাড় পাওয়া অংশও রিটার্নে লিখুন, যাতে শেয়ার বিক্রির টাকা দিয়ে কেনা সম্পদের উৎস পরিষ্কার থাকে।
নির্দেশিকার উদাহরণ ১২-তে একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসার নিট আয় ১৫ লাখ টাকা আর শেয়ার বিক্রির বাস্তবায়িত মুনাফা ৬০ লাখ টাকা। ৫০ লাখ বাদ দিয়ে ১০ লাখ টাকা মূলধনি আয়, তার ওপর ১৫% হারে কর ১,৫০,০০০ টাকা। তাঁর বিক্রি না করা শেয়ারে আরও ৩০ লাখ টাকার মুনাফা ছিল, সেটি হিসাবেই আসেনি।
৪. স্বর্ণ আর ডেভেলপারের ফ্ল্যাট: আলাদা হার
ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকার বিক্রির মুনাফাও মূলধনি মুনাফা। নির্দেশিকার উদাহরণ ১৪-তে একজন ২০১২ সালে ৮ লাখ টাকায় কেনা স্বর্ণালংকার ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। মুনাফা ১২ লাখ টাকা, তার ওপর ৫% হারে কর ৬০,০০০ টাকা। কেনার রসিদ না থাকলে অর্জন মূল্য প্রমাণ করা কঠিন হয়, তাই সম্পদ বিবরণীতে আগের বছরগুলোয় স্বর্ণের মূল্য দেখানো থাকলে সুবিধা।
জমি ডেভেলপারকে দিয়ে বিনিময়ে ফ্ল্যাট, নগদ টাকা বা অন্য সুবিধা পেলে সেটিও মূলধনি প্রাপ্তি। পাওয়া সুবিধার মোট মূল্য থেকে জমির অর্জন মূল্য বাদ দিয়ে যা থাকে, তার ওপর ১৫% কর। একই উদাহরণে ১,৮০,০০,০০০ টাকা মূল্যের চারটি ফ্ল্যাট পাওয়া একজনের জমির ক্রয়মূল্য ছিল ৭০,০০,০০০ টাকা। মুনাফা ১,১০,০০,০০০ টাকা, কর ১৬,৫০,০০০ টাকা।
নির্দেশিকা অনুযায়ী এই কর ওই করবর্ষ আর পরের দুই করবর্ষে সমান তিন কিস্তিতে দেওয়া যায়। স্বর্ণ বা শেয়ারের করে এমন কিস্তির কথা নির্দেশিকায় নেই।
৫. রিটার্নে মূলধনি আয় দেখানোর আগে যা গুছিয়ে রাখবেন
মূলধনি আয়ের কর নিয়ে বেশির ভাগ ঝামেলা হয় কাগজের অভাবে। কেনার দাম প্রমাণ না থাকলে পুরো বিক্রয়মূল্যকেই মুনাফা বলে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই বিক্রির বছরের রিটার্ন জমার আগে কাগজগুলো এক ফাইলে রাখুন।
যে কাগজ লাগবে
রিটার্নে মূলধনি আয় আলাদা খাতে দেখান, ছাড় পাওয়া অংশও বাদ দেবেন না। তারপর সম্পদ বিবরণীতে বিক্রি হওয়া সম্পদ বাদ দিয়ে টাকাটা কোথায় রাখলেন, সেটা লিখুন। হিসাব জটিল মনে হলে, বিশেষ করে বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে, একজন নিবন্ধিত কর আইনজীবীর সাহায্য নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কি সবার দিতে হয়?
শেয়ার বাজারে লোকসান হলে কী হবে?
capital gain tax rate in bangladesh কি সব সম্পদে একই?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।