জাতীয় পরিচয়পত্র

NID সংশোধন বাতিল (Rejected) হলে কী করবেন

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৩ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd

সংক্ষেপে

আবেদন একবার বাতিল (Rejected) হলো মানেই কার্ডের ভুল আর কখনো ঠিক হবে না, ব্যাপারটা তা নয়। এরপর আপনার কাজ নিজের উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছ থেকে বাতিলের আসল কারণ জেনে নেওয়া। যে প্রমাণের ঘাটতি ছিল, সেটি পূরণ করুন (যেমন এসএসসি সনদ বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন), তারপর মূল কাগজসহ আপিল আবেদন জমা দিন।

আগে পোর্টালে স্ট্যাটাস দেখে নিন

নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালে লগইন করলে বাতিলের নোটিশটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

NID পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. আবেদন সাধারণত যে কারণে বাতিল হয়
  2. বাতিলের পর আপিল করবেন যেভাবে
  3. আপিলে যে কাগজগুলো লাগবে
  4. নতুন করে আবেদনের সময় যে ভুল আর করবেন না
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. আবেদন সাধারণত যে কারণে বাতিল হয়

আবেদন যাচাই করেন নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় (DG লেভেল) কর্মকর্তারাও। তথ্যে বা কাগজে গরমিল পেলে তাঁরা আবেদন বাতিল করেন। যে কারণগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়:

  1. প্রমাণ যথেষ্ট না হওয়া: নামে বড় পরিবর্তন চেয়ে শুধু এফিডেভিট বা জন্ম নিবন্ধন দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। হাতে এসএসসি বা সমমানের সনদ না থাকলে এই সমস্যা বেশি হয়।
  2. জাল বা এডিট করা কাগজ: ভুয়া সনদ, এডিট করা ছবি কিংবা অনলাইনে নেই এমন জন্ম নিবন্ধন আপলোড করলে আবেদন বাতিল হয়। সঙ্গে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
  3. আঙুলের ছাপ অন্য কার্ডে মিলে যাওয়া: আপনার ছাপ অন্য কারও NID-র ছাপের সঙ্গে মিললে (বায়োমেট্রিক ডুপ্লিকেশন) আবেদন আটকে যায়, অনেক সময় বাতিলও হয়।
  4. শুনানিতে না যাওয়া: শুনানির নোটিশ (Hearing Notification) আসার পর নির্ধারিত দিনে উপজেলা নির্বাচন অফিসে হাজির না হলে আবেদন সাধারণত বাতিল হয়ে যায়।

২. বাতিলের পর আপিল করবেন যেভাবে

স্ট্যাটাসে বাতিল দেখানোর পর এই তিনটি কাজ পরপর করুন:

  • ১
    বাতিলের কারণটি হাতে রাখুন NID পোর্টালে লগইন করে আবেদনের ট্র্যাকিং হিস্ট্রিতে যান। সেখানে 'Reject Reason' বা বাতিলের নোট পাবেন। নোটটি ডাউনলোড করুন, না হলে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
  • ২
    নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করুন এখন যে এলাকার ভোটার, সেখানকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নিজে যান। বাতিলের নোটটি দেখিয়ে জেনে নিন ঠিক কোন প্রমাণ কম পড়েছে।
  • ৩
    বাড়তি প্রমাণসহ লিখিত আপিল দিন কর্মকর্তা যে বাড়তি কাগজ দেখতে চান, সেগুলোর মূল কপির ফটোকপি গুছিয়ে নিন। সঙ্গে নির্বাচন অফিসার বরাবর লেখা একটি 'আপিল আবেদনপত্র' (Appeal Application) নিজে গিয়ে জমা দিন।

৩. আপিলে যে কাগজগুলো লাগবে

আপিলের আগে মিলিয়ে নিন:

৪. নতুন করে আবেদনের সময় যে ভুল আর করবেন না

সাবধান থাকুন
  • ফটোশপে এডিট করা বা ঝাপসা ছবি আপলোড করবেন না। এতে NID ব্লক পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
  • পোর্টালের বাইরে কাউকে টাকা দেবেন না। সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব পেলে নির্বাচন অফিসে গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।
  • শুনানিতে ডাক পেলে সব মূল কাগজ সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে হাজির হোন।

৫. অনেকে যা জানতে চান

আবেদন বাতিল হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, যায়। নতুন ও জোরালো প্রমাণ জোগাড় করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে বা অনলাইনে আপিল করতে পারেন। চাইলে পুরো আবেদন নতুন করেও জমা দিতে পারেন।
আবেদন বাতিল হলে জমা দেওয়া ফি কি ফেরত পাওয়া যায়?
না। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে আবেদন জমা হওয়ার পর বাতিল হলে চালানে দেওয়া ফি ফেরত দেওয়া হয় না। নতুন করে আবেদন করলে ফিও আবার দিতে হবে।

এরপর পড়তে পারেন

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা। নাগরিক সেবা নির্বাচন কমিশনের অংশ নয়, তাদের সঙ্গে যুক্তও নয়। NID সংশোধন বা আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট উইং নেয়।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন