
সংক্ষেপে
স্মার্ট কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচন কমিশন সারা দেশের একটি তারিখভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে না। কার্ড ছাপা হয়ে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে পৌঁছালে সেই অফিসই এলাকা ধরে বিতরণের দিন ঠিক করে। কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের হিসাবে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মাঠে পাঠানো ৮ কোটি ৭৫ লাখের বেশি কার্ডের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৩৬ লাখ বিতরণ হয়েছে, আর ১১৫টি উপজেলা বা নির্বাচনি থানায় বিতরণ তখনো শুরু হয়নি।
আপনার কার্ড তৈরি হয়েছে কি না, তা NID পোর্টালের কার্ড স্ট্যাটাস পাতায় বা ১০৫ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে দেখা যায়। কার্ড অফিসে এলে বক্স নম্বর দেখায়। ততদিন অনলাইন কপি দিয়ে বেশির ভাগ কাজ চালানো যায়।
NID নম্বর বা ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিলে কার্ড তৈরি হয়েছে কি না আর কোন বক্সে আছে, তা দেখায়।
এই লেখায়
১. ২০২৬ সালে বিতরণের সর্বশেষ চিত্র
২০২৬ সালের ১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা বিতরণের একটি হিসাব দেন, যা ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ হয়। সেটিই এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে নতুন সরকারি হিসাব।
| বিষয় | সংখ্যা (মে ২০২৬ পর্যন্ত) |
|---|---|
| আঞ্চলিক ও মাঠ অফিসে পাঠানো কার্ড | ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮টি |
| নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে | ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪১টি |
| অফিসে পড়ে আছে, বিতরণের অপেক্ষায় | ১ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার ৪৫৭টি |
| বিতরণের হার | ৮৪.০৪ শতাংশ |
| যেসব উপজেলা বা নির্বাচনি থানায় বিতরণ শুরু হয়নি | ৪০৪টির মধ্যে ১১৫টি |
একই হিসাবে বলা হয়, ১৫টি জেলার সব উপজেলায় বিতরণ শেষ: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর। অন্যদিকে কমিশনের সার্ভারে নিবন্ধিত প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ মানুষের মধ্যে সাড়ে ৫ কোটির মতো এখনো স্মার্ট কার্ডের আওতার বাইরে।
এলাকায় বিতরণ শেষ মানে সেখানে যাঁদের কার্ড ছাপা হয়েছিল, সেগুলো দেওয়ার পালা শেষ। তখনো কার্ড না পেলে বা পরে ভোটার হলে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে খোঁজ নিন, বক্সে আপনার কার্ড থেকে যেতে পারে।
২. নিজের এলাকার তারিখ জানবেন যেভাবে
বিতরণের দিন আর জায়গা ঠিক করে স্থানীয় নির্বাচন অফিস, তাই ফেসবুকে ঘোরা 'সারা দেশের সময়সূচী' দেখে বের হবেন না। নিচের ক্রমে খোঁজ নিলে সময় কম লাগে।
- ১আগে কার্ডের স্ট্যাটাস দেখুনNID পোর্টালের কার্ড স্ট্যাটাস পাতায় NID নম্বর বা ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিন। ইন্টারনেট না থাকলে SC লিখে স্পেস দিয়ে NID লিখুন, তারপর স্পেস দিয়ে NID নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠান।
- ২উত্তরটা মিলিয়ে নিননির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হলে আর বক্স ও কম্পার্টমেন্ট নম্বর দেখালে বুঝবেন কার্ড আপনার অফিসে পৌঁছেছে। নম্বর দুটি লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। তথ্য না পাওয়া গেলে কার্ড এখনো ছাপার তালিকায় ওঠেনি।
- ৩অফিসের নোটিশ বা হটলাইনে খোঁজবিতরণের দিন আর বুথের জায়গা জানায় আপনার ভোটার এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস, তাই সেখানে সরাসরি খোঁজ নিন। ফোনে জানতে চাইলে কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫, রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
- ৪নিজে গিয়ে কার্ড নিনকার্ড দেওয়ার সময় আঙুলের ছাপ আর চোখের আইরিস মেলানো হয়, তাই অন্য কেউ আপনার কার্ড তুলতে পারেন না। কমিশন ডাকে বা কুরিয়ারে কার্ড পাঠায় না।
বুথে যাওয়ার আগে গুছিয়ে নিন
৩. আপনার উপজেলায় এখনো বিতরণ শুরু না হলে
বিতরণ ধীর হওয়ার বড় কারণ ফাঁকা কার্ডের ঘাটতি। bdnews24-এর ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশন তখন ২ কোটি ৩৬ লাখের বেশি ফাঁকা কার্ড কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সব নাগরিক কবে কার্ড পাবেন, এমন প্রশ্নে কমিশন সচিব বলেছিলেন, এখনই তা বলার সময় আসেনি।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাপা হওয়া কার্ডের বেশির ভাগ উপজেলা ও থানা অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, বিতরণ হয় সেখান থেকেই। তাই আপনার কার্ড ছাপা হয়ে গেলেও অফিসে পৌঁছানো আর এলাকার বিতরণের দিন ঠিক হওয়া পর্যন্ত কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই ফাঁকে স্ট্যাটাস পাতায় বক্স নম্বর এসেছে কি না, সেটাই সবচেয়ে কাজের খবর।
- জুলাইয়ের হিসাবে বিতরণ শুরু না হওয়া ১১৫টি উপজেলার নাম আলাদা করে দেওয়া হয়নি। তাই নিজের উপজেলার অবস্থা জানতে স্থানীয় নির্বাচন অফিসই ভরসা।
- স্ট্যাটাস পাতায় তথ্য না এলে প্রতি মাসে একবার দেখলেই চলে। প্রতিদিন দেখে নতুন কিছু পাবেন না।
- কেউ টাকা নিয়ে 'আগে কার্ড এনে দেওয়ার' কথা বললে রাজি হবেন না। প্রথমবারের কার্ডে কোনো ফি নেই, আর কার্ড নিতে নিজেকেই উপস্থিত থাকতে হয়।
কমিশন এখন ১৬ বছর বয়স থেকে NID দিচ্ছে, তবে স্মার্ট কার্ড শুধু ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের জন্য। কম বয়সীরা নিবন্ধনের পর প্লাস্টিকের ল্যামিনেট কার্ড পান।
৪. কার্ড হাতে না আসা পর্যন্ত কাজ চালাবেন যেভাবে
স্মার্ট কার্ড না থাকলেও আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল নয়। NID পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলে NID Wallet অ্যাপে মুখ যাচাই করলে PDF কপি নামানো যায়, এতে ছবি, নাম, জন্মতারিখ আর NID নম্বর থাকে।
- অনেক প্রতিষ্ঠান কমিশনের যাচাই সেবায় NID নম্বর মিলিয়ে নেয়, তাই তথ্য ঠিক থাকলে অনলাইন কপি দিয়ে বেশির ভাগ কাজ এগোয়।
- কোনো প্রতিষ্ঠান মূল কার্ড দেখতে চাইলে আগে জিজ্ঞেস করে নিন, পুরোনো ল্যামিনেট কার্ড চলবে কি না।
- স্মার্ট কার্ড আসার আগেই তথ্যে ভুল ধরা পড়লে সংশোধন করিয়ে নিন। সংশোধনের পর ছাপা কার্ডে ভুল থাকবে না।
অনলাইন কপি নামাতে NID নম্বর বা ফরম নম্বর, জন্মতারিখ, চালু মোবাইল নম্বর আর একটি স্মার্টফোন লাগে। দোকানে টাকা দিয়ে 'সার্ভার কপি' নেওয়ার দরকার নেই, নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে কপি নেওয়াই নিরাপদ।
৫. অনেকে যা জানতে চান
স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময়সূচী ২০২৬ কি নির্বাচন কমিশনের সাইটে আছে?
স্ট্যাটাসে বক্স নম্বর দেখাচ্ছে, কিন্তু এলাকায় বিতরণ চলছে না। কী করব?
আমি অন্য জেলায় থাকি। সেখান থেকে কার্ড তোলা যাবে?
স্মার্ট কার্ড নিতে কি টাকা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।