
সংক্ষেপে
নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় বলা আছে, কার্ডের ছবি অস্পষ্ট হলে ছবি বদলাতে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়। স্বাক্ষর বদলাতে লাগে নতুন স্বাক্ষরের নমুনা আর গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র, আর স্বাক্ষর বদলানো যায় মাত্র একবার। রক্তের গ্রুপ যোগ বা সংশোধনে লাগে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট।
পোর্টালে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুবিধাও আছে। ফি নির্ভর করে তথ্যটি কার্ডে ছাপা হয় কি না আর আগে কতবার আবেদন করেছেন তার ওপর, তাই আবেদনের আগে পোর্টালের ফিস পাতায় নিজের NID নম্বর দিয়ে অঙ্কটা দেখে নিন।
অ্যাকাউন্ট খোলা, সংশোধনের আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর ফি হিসাব হয় নির্বাচন কমিশনের এই পোর্টালে।
এই লেখায়
১. কোন পরিবর্তনে কী লাগে
তিনটি পরিবর্তন শুনতে কাছাকাছি হলেও নিয়ম আলাদা। নিচের ছকটি নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসা থেকে সাজানো।
| কী বদলাবেন | কী জমা দিতে হয় | বিশেষ শর্ত |
|---|---|---|
| ছবি | নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন | যুক্তিসংগত কারণ লাগে, যেমন ছবি অস্পষ্ট |
| স্বাক্ষর | নতুন স্বাক্ষরের নমুনা আর গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র | স্বাক্ষর বদলানো যায় একবারই |
| রক্তের গ্রুপ | রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট বা ডাক্তারি সনদ | নতুন যোগ বা ভুল সংশোধন দুটোই করা যায় |
| পেশা | পেশার প্রমাণের কাগজ | এই তথ্য কার্ডে ছাপা হয় না |
পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী এক তথ্য সাধারণত একবারই সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিসংগত না হলে কোনো সংশোধন গ্রহণ করা হয় না। তাই শুধু ছবি পছন্দ হচ্ছে না বলে আবেদন করলে তা টেকার সম্ভাবনা কম। ছবি অস্পষ্ট, চেনা যায় না, বা কার্ডে অন্য কারও ছবি বা তথ্য চলে এসেছে, এমন স্পষ্ট কারণ লিখুন। অন্য কারও তথ্য চলে এলে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পর সংশোধনের কথা পোর্টালে বলা আছে।
২. ছবি বদলানোর আবেদন যেভাবে করবেন
- ১পোর্টালে লগইন করুননির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে NID নম্বর, জন্মতারিখ, ঠিকানার তথ্য আর চালু মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিয়ে আগে রেজিস্টার করুন।
- ২অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিননিবন্ধিত ব্যবহারকারীর জন্য পোর্টালে ছবি, স্বাক্ষর ইত্যাদি পরিবর্তনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুবিধা আছে। পর্দায় যে তারিখ আর অফিস দেখায়, তা লিখে রাখুন।
- ৩কারণ আর কাগজ গুছিয়ে নিনকেন ছবি বদলাতে চান, তা স্পষ্ট করে লিখুন। মূল NID কার্ড বা তার কপি আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য সঙ্গে রাখুন।
- ৪নির্ধারিত দিনে নিজে যানপোর্টালের জিজ্ঞাসা-উত্তরে বলা আছে, ছবি অস্পষ্ট হলে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্টে যে অফিস দেওয়া আছে সেখানে যান। অন্য কাউকে পাঠিয়ে এই কাজ হয় না।
- ৫অবস্থা দেখুন, নতুন কপি নিনআবেদনের পর পোর্টালের অ্যাকাউন্টে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। অনুমোদন হলে নতুন ছবিসহ কপি নামিয়ে মিলিয়ে নিন।
ডেইলি স্টারের ২ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশোধনের খ ক্যাটাগরিতে পড়ে ছবি, স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন পরিবর্তন। তখন এই ক্যাটাগরির প্রায় ২৫ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল, তাই অনুমোদনে সময় লাগতে পারে।
৩. স্বাক্ষর পরিবর্তন: সুযোগ একবারই
অনেকে ভোটার হওয়ার সময় যে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন, পরে ব্যাংক, পাসপোর্ট বা চাকরির কাগজে আর সেভাবে সই করেন না। তখন এনআইডি স্বাক্ষর পরিবর্তনের প্রশ্ন আসে। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন স্বাক্ষরের নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিয়ে আবেদন করতে হয়, আর স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যায়।
অনুমোদন হলে পোর্টাল থেকে হালনাগাদ কপি নামিয়ে নতুন স্বাক্ষর উঠেছে কি না দেখে নিন। পাসপোর্ট, ব্যাংক বা অন্য কাগজে যেখানে NID-র স্বাক্ষর মেলানো হয়, সেখানে পরে নতুন স্বাক্ষরটিই ব্যবহার করুন।
- নতুন স্বাক্ষরটি এমন হোক, যা আপনি সব জায়গায় একইভাবে দিতে পারবেন।
- কোন প্রমাণ চলবে, পোর্টালে তার নির্দিষ্ট তালিকা নেই। নতুন স্বাক্ষর যে কাগজে আগে থেকে ব্যবহার করছেন, তেমন কাগজ সঙ্গে রাখলে অফিসে ব্যাখ্যা করা সহজ হয়। শেষ সিদ্ধান্ত অফিসের।
- একবার বদলানোর পর আবার বদলানোর সুযোগ নেই, তাই তাড়াহুড়া না করে সিদ্ধান্ত নিন।
- আবেদন আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের পথ ছবি বদলের মতোই, পোর্টালের একই অংশ থেকে।
৪. রক্তের গ্রুপ যোগ বা সংশোধন
ভোটার হওয়ার সময় অনেকেই রক্তের গ্রুপ জানতেন না, বা আন্দাজে লিখে দিয়েছিলেন। পরে পরীক্ষা করে অন্য গ্রুপ পেলে সংশোধন করা যায়, আর ঘর ফাঁকা থাকলে যোগ করা যায়। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী এ জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট দিতে হয়। তথ্য হালনাগাদের দলিলের তালিকায় একে ডাক্তারি সনদপত্র বলা হয়েছে।
রক্তের গ্রুপ সংশোধনে যা গুছিয়ে রাখবেন
৫. ফি কত, সময় কত
ফি নির্ভর করে তথ্যটি কার্ডে ছাপা হয় কি না, আর আগে কতবার আবেদন করেছেন তার ওপর। প্রথম আলোর হিসাবে কার্ডে ছাপা তথ্য, যেমন নাম সংশোধনে ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা আর অন্য তথ্য সংশোধনে ১১৫ টাকা লাগে। আগে আবেদন করে থাকলে পরের আবেদনে ফি বেশি হতে পারে। নিজের অঙ্ক নিশ্চিত হতে পোর্টালের ফিস পাতায় NID নম্বর, আবেদনের ধরন আর বিতরণের ধরন দিয়ে হিসাব করে নিন, সেখানে লগইন লাগে না।
সময়ের নির্দিষ্ট সীমা পোর্টালে দেওয়া নেই। বাসসের ৬ জুলাই ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ঘ ছাড়া বাকি ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করেন মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা, আর অনলাইনে করার মতো আবেদন কাগজে জমা নেওয়া হয় না। জমে থাকা আবেদনের সংখ্যা অনুযায়ী সময় কমবেশি হয়।
ছবি বা স্বাক্ষর দ্রুত বদলে দেওয়ার কথা বলে কেউ বাড়তি টাকা চাইলে দেবেন না। ফি জমা হয় নির্ধারিত পথে, আর ছবির জন্য আপনাকে নিজেই যেতে হবে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
এনআইডি কার্ডের ছবি কি পরিবর্তন করা যায়?
এনআইডির স্বাক্ষর কতবার বদলানো যায়?
ছবি বদলের পুরো কাজ কি অনলাইনে হয়?
পেশা বদলালে কি নতুন কার্ড লাগবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।