জাতীয় পরিচয়পত্র

জীবিত মানুষকে মৃত দেখাচ্ছে, বা মৃত ব্যক্তির NID সংশোধন: কোথায় আবেদন করবেন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd
জীবিত মানুষকে মৃত দেখাচ্ছে, বা মৃত ব্যক্তির NID সংশোধন: কোথায় আবেদন করবেন

সংক্ষেপে

মৃত ব্যক্তির NID-র তথ্য সংশোধনের আবেদন জমা হয় উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির অফিস আদেশের পর এসব আবেদন সরাসরি এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে যায়, তিনি শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেন। ইসি আগেই জানিয়েছিল, মৃত ব্যক্তির সব সংশোধন মঞ্জুর হয় না, যৌক্তিক কারণ আর যাচাই লাগে।

উল্টো ঘটনাও ঘটে: জীবিত মানুষকে ভোটার তালিকা বা NID সার্ভারে মৃত দেখায়। তখন যে উপজেলায় তাঁকে মৃত হিসেবে কাটা হয়েছে, সেখানকার নির্বাচন অফিসে নিজে গিয়ে লিখিত আবেদন করতে হয়। ঠিক হওয়ার পর NID আর ভোটার তালিকা, দুই জায়গাতেই মিলিয়ে দেখুন।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট

উপজেলা নির্বাচন অফিসের ঠিকানা আর হেল্পলাইন এখানে পাবেন।

ইসির সাইট খুলুন
এই লেখায়
  1. মৃত ব্যক্তির NID কেন ঠিক করতে হয়
  2. মৃত ব্যক্তির NID সংশোধনের ধাপ
  3. জীবিত মানুষকে মৃত দেখালে
  4. দেরি হলে কোথায় খোঁজ নেবেন
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. মৃত ব্যক্তির NID কেন ঠিক করতে হয়

মা বা বাবা মারা যাওয়ার পর পেনশন, জমির নামজারি, ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলতে গিয়ে অনেক পরিবার দেখে, NID-তে নাম, বয়স বা বাবার নাম অন্য কাগজের সঙ্গে মিলছে না। তখন ওয়ারিশদের মৃত মানুষটির NID সংশোধনের প্রয়োজন হয়।

২০১৭ সালে প্রথমবার এমন একটি আবেদনে সম্মতি দেয় ইসি। প্রয়াত বাবার চাকরির সুবিধা পেতে এক ছেলে সার্ভিস বুক আর সনদের ভিত্তিতে আবেদন করেছিলেন। তখনই ইসি জানায়, ঢালাওভাবে সবার জন্য এই সুযোগ নয়। যৌক্তিক কারণ থাকলে, সব দিক পর্যালোচনা করে, দরকার হলে তদন্ত করে সংশোধন হবে। কারণ বয়স কমিয়ে বা তথ্য বদলে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

কে সিদ্ধান্ত দেন

আগে উপজেলা থেকে জেলা, আঞ্চলিক অফিস হয়ে পাঁচ সদস্যের কমিশনে নথি যেত। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর অফিস আদেশে এই ক্ষমতা পান এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে নিষ্পত্তির সময় কমবে।

২. মৃত ব্যক্তির NID সংশোধনের ধাপ

  • ১
    মৃত্যু নিবন্ধন আগে সেরে নিনমৃত্যু সনদ না থাকলে আগে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে মৃত্যু নিবন্ধন করুন। মানুষটি যে মারা গেছেন, তার সরকারি প্রমাণ হাতে থাকলে আবেদনের যাচাই সহজ হয়, আর জমি বা পেনশনের কাজেও এই সনদ লাগবে।
  • ২
    ভুলের পক্ষে সরকারি কাগজ জোগাড় করুনযে তথ্য ঠিক করতে চান, তার পক্ষে পুরোনো সরকারি কাগজ রাখুন। যেমন সার্ভিস বুক, পেনশনের কাগজ, শিক্ষাগত সনদ বা পুরোনো জমির দলিল। ২০১৭ সালের মঞ্জুর হওয়া আবেদনটি ছিল সার্ভিস বুক আর সনদের ভিত্তিতে।
  • ৩
    উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদনমৃত মানুষটি যে এলাকার ভোটার ছিলেন, সেখানকার নির্বাচন অফিসে ওয়ারিশ হিসেবে আবেদন জমা দিন। কোন ফরম আর কোন কাগজের কপি দিতে হবে, অফিসেই জেনে নিন।
  • ৪
    শুনানির জন্য তৈরি থাকুনআবেদন মহাপরিচালকের কাছে যায়, তিনি নিজে শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেন। ডাকলে মূল কাগজ নিয়ে হাজির থাকুন।

যা হাতে রাখবেন

৩. জীবিত মানুষকে মৃত দেখালে

ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় মৃত ভোটারের নাম কাটতে একটি আলাদা ফরম (ফরম-১২) পূরণ হয়। ২০২৫ সালের হালনাগাদের পরিপত্রে ইসি তথ্য সংগ্রহকারীদের সতর্ক করেছিল, কোনোভাবেই যেন জীবিত ভোটারকে মৃত হিসেবে লেখা না হয়। তবু ভুল হয়, আর অনেক সময় মানুষ টের পান বয়স্ক ভাতা বন্ধ হলে বা ভোট দিতে গিয়ে।

যুগান্তরের ১১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে গাজীপুরের শ্রীপুরের এক বৃদ্ধের কথা আছে, যিনি নয় বছর ধরে নিজেকে জীবিত প্রমাণের চেষ্টা করছেন। নির্বাচন অফিস জানায়, তিনি ২০১৪ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জে ভোটার স্থানান্তর করেছিলেন, সেখানেই একজনের আবেদন আর ওয়ার্ড সদস্যের পত্রের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত দেখানো হয়। শ্রীপুরের নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, যে উপজেলায় মৃত দেখানো হয়েছে, সেখানে গিয়েই সংশোধন করতে হবে।

  • ১
    কোথায় মৃত দেখানো হয়েছে, খুঁজে বের করুননিজের উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন কোন এলাকার তালিকা থেকে, কার আবেদনে নাম কাটা হয়েছে। স্থানান্তর করে থাকলে সেটা অন্য উপজেলাও হতে পারে।
  • ২
    সেই অফিসে নিজে গিয়ে লিখিত আবেদনআপনি যে জীবিত, তা দেখাতে নিজে হাজির হন। NID বা তার কপি, ভোটার নিবন্ধনের স্লিপ আর অন্য পরিচয়ের কাগজ সঙ্গে নিন।
  • ৩
    দুই জায়গাতেই মিলিয়ে নিননাটোরের লালপুরে এক শিক্ষকের NID সার্ভারে ঠিক হলেও পরের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় আবার মৃত দেখিয়েছিল, প্রথম আলো এমন খবর দিয়েছিল। তাই সংশোধনের পর NID আর ভোটার তালিকা দুটোই দেখে নিন।
  • ৪
    বন্ধ হওয়া ভাতা আবার চালু করুনসমাজসেবা কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্ডে জীবিত দেখালে আবেদন করে আবার ভাতার আওতায় আসা যায়। NID ঠিক হওয়ার কাগজ নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যান।
অনেক বছর ঝুলিয়ে রাখবেন না

মৃত দেখানো NID দিয়ে পাসপোর্ট, ব্যাংক বা সিমের কাজ আটকে যায়। জানার সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করুন, আর জমার কপি ও তারিখ লিখে রাখুন, যাতে পরে জেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিতে পারেন।

৪. দেরি হলে কোথায় খোঁজ নেবেন

  • প্রথমে যে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন দিয়েছেন, সেখানে আবেদনের অবস্থা জানতে চান।
  • সাড়া না পেলে জেলা নির্বাচন অফিসে যান। শ্রীপুরের ঘটনায় গাজীপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ভুক্তভোগী এলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে, না পারলে দ্রুত সংশোধনের পথ দেখানো হবে।
  • মৃত ব্যক্তির সংশোধনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়, তাই উপজেলা অফিস থেকে আবেদনটি পাঠানো হয়েছে কি না, সেটাও জেনে নিন।

৫. অনেকে যা জানতে চান

মৃত বাবার NID-তে বয়স ভুল, এটা কি এখন ঠিক করা যাবে?
যৌক্তিক কারণ আর পক্ষে সরকারি কাগজ থাকলে আবেদন করা যায়, সিদ্ধান্ত দেন এনআইডির মহাপরিচালক। তবে ইসি জানিয়েছে, সব আবেদন মঞ্জুর হয় না, যাচাই আর দরকার হলে তদন্ত হয়।
আবেদন কি অনলাইনে করা যায়?
মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আবেদন উপজেলা পর্যায়ে জমা হয় বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিজের NID-র সংশোধনের মতো অনলাইন পথের কথা এখানে বলা হয়নি, তাই নির্বাচন অফিসে গিয়ে শুরু করুন।
আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমি অন্য উপজেলায় থাকি। কোথায় যাব?
যে উপজেলায় আপনাকে মৃত হিসেবে কাটা হয়েছে, সংশোধন সেখান থেকেই হয়। আগে নিজের এলাকার নির্বাচন অফিস থেকে জেনে নিন সেটা কোন উপজেলা।
ভুল করে মৃত দেখানোর জন্য কি কাউকে দায়ী করা যায়?
কার আবেদনে বা কোন কাগজে নাম কাটা হয়েছে, তা নির্বাচন অফিস থেকে জেনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। তবে আগে নিজের তথ্য ঠিক করার আবেদনটি জমা দিন, কারণ সেবা পেতে সেটাই সবচেয়ে জরুরি।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন