
সংক্ষেপে
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ২ হলো 'জাতীয় পরিচয়পত্র বা তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের আবেদন'। নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালের ফরম ডাউনলোড পাতায় New Correction Form নামে এর PDF বিনা মূল্যে পাওয়া যায়, দোকান থেকে কেনার দরকার নেই।
ফরমের তিনটি কলামে লিখতে হয়: এখন কার্ডে কী আছে, কী চান, আর কোন কাগজ দিচ্ছেন। সঙ্গে ফি জমার রসিদ আর মূল NID কার্ড জমা দিতে হয়। প্রতিটি তথ্যের জন্য কোন প্রমাণ লাগবে, ফরমের দ্বিতীয় পাতার নির্দেশনায় লেখা আছে, নিচে তা সহজ করে দিলাম।
NID পোর্টালের ডাউনলোড পাতায় সংশোধন, হারানো কার্ড আর বিশেষ এলাকার ফরম আছে।
এই লেখায়
১. ফরম ২ কখন লাগে, অনলাইন আবেদন থাকতে
কমিশনের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, ভুল তথ্য সংশোধনের আবেদন অনলাইনে, অথবা এনআইডি অনুবিভাগ, উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে করা যায়। কমিশন এখন অনলাইন আবেদনকেই আগে রাখে, আর বলে আবেদনের ধরন অনুযায়ী দরকারি ফরম অনলাইন থেকেই নেওয়া যায়, কোনো মূল্য লাগে না।
- মোবাইল নম্বর বা ইমেইল নেই, তাই পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন না।
- অনলাইনে কাগজ আপলোড করতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন। পোর্টাল প্রতিটি ফাইল সর্বোচ্চ ১ মেগাবাইট আর png, jpg বা pdf নেয়।
- ১৮ বছরের কম বয়সী বা আদালত অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করেছে এমন কারও হয়ে অভিভাবক আবেদন করছেন।
- নির্বাচন অফিস নিজেই কাগজে আবেদন চেয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে ফরম ২ কাজে আসে। ফরমটি নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়। অফিস আপনাকে প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ দেবে, যাতে বায়োমেট্রিক দেওয়ার স্থান, তারিখ আর সময় লেখা থাকে।
২. জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ২ পূরণের নিয়ম
- ১ফরম নামিয়ে প্রিন্ট করুনNID পোর্টালের ডাউনলোড পাতা থেকে সংশোধন ফরমের PDF নিন। দুই পাতা, দ্বিতীয় পাতায় আবেদনকারীর নির্দেশনা।
- ২১ নম্বর ঘর: নিজের নাম ও NID নম্বরকার্ডে যেভাবে আছে, সেভাবে লিখুন। অভিভাবক আবেদন করলে ২ নম্বর ঘরে তাঁর নাম আর NID নম্বর দিন।
- ৩৩ নম্বর টেবিল: কী বদলাবেননাম বাংলা, নাম ইংরেজি, পিতা, মাতা, স্বামী, জন্মতারিখ, ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ আর অন্যান্য, এই সারিগুলোর মধ্যে যেটা লাগবে না তা কেটে দিন। বাকি সারিতে এখনকার তথ্য, চাওয়া তথ্য আর সংযুক্ত কাগজের নাম লিখুন।
- ৪৪ থেকে ৬ নম্বর ঘর: ফি আর কাগজজমা দেওয়া ফির পরিমাণ, রসিদের তথ্য আর সঙ্গে দেওয়া কাগজের তালিকা লিখুন।
- ৫স্বাক্ষর দিনআপনার স্বাক্ষর কমিশনের তথ্যভান্ডারে থাকা স্বাক্ষরের মতো হতে হবে। নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর আর থাকলে ইমেইলও লিখুন।
ফরমের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি জমা দিতে হবে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হয়, তাই কোনো ঘর ফাঁকা রাখবেন না।
৩. কোন তথ্য সংশোধনে কোন কাগজ লাগে
ফরমের দ্বিতীয় পাতায় ১৬টি নির্দেশনা আছে। কাগজের অংশটা নিচের টেবিলে দিলাম। সব কাগজের সত্যায়িত অনুলিপি দিতে হয়।
| কী সংশোধন | ফরমে বলা কাগজ |
|---|---|
| নাম বা জন্মতারিখ, এসএসসি পাস হলে | এসএসসি বা সমমান সনদ |
| নাম বা জন্মতারিখ, এসএসসি নেই কিন্তু সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরি | চাকরি বই বা এমপিও |
| নাম বা জন্মতারিখ, অন্য সবার | পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স বা কাবিননামা |
| নামের আমূল পরিবর্তন | উপরের দলিলের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হলফনামা আর জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি |
| ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম বদল | হলফনামা, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি আর শিক্ষাসনদ, পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধনের মতো দলিল |
| নারীর নামে স্বামীর নামের অংশ যোগ বা বাদ | কাবিননামা, তালাকনামা, মৃত্যু সনদ, হলফনামা বা বিচ্ছেদের ডিক্রি |
| পিতা বা মাতার নাম | নিজের এসএসসি বা এইচএসসি সনদ, আর বাবা, মা, ভাই ও বোনের NID |
| ঠিকানা | বাড়ির দলিল, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল, বা বাড়িভাড়ার চুক্তি বা রসিদ |
| রক্তের গ্রুপ | ডাক্তারি সনদ |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ |
| টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট নম্বর | সংশ্লিষ্ট সনদ বা লাইসেন্সের কপি |
বাবা বা মায়ের নামের আগে 'মৃত' যোগ বা বাদ দিতে চাইলে তাঁর মৃত্যু সনদ, অথবা তিনি জীবিত হলে তাঁর NID আর এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন লাগে। নাম, পিতা-মাতার নাম আর স্বামীর নামের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দরকার হলে সরেজমিন তদন্ত করতে পারেন।
৪. কাগজ কে সত্যায়ন করবেন, আর ফি কত
ফরম অনুযায়ী যাঁরা সত্যায়ন করতে পারেন
ফি কত লাগবে, তা নির্ভর করে কোন তথ্য বদলাচ্ছেন আর কতবার আবেদন করছেন তার ওপর। ফরমে শুধু বলা আছে, প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে তার রসিদ জুড়তে হবে। নিজের ক্ষেত্রে অঙ্কটা NID পোর্টালের 'ফি হিসাব করুন' পাতায় দেখে নিন। ফরমের জন্য কোনো টাকা লাগে না।
কমিশনের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী একই তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিযুক্ত না হলে সংশোধন গ্রহণ করা হয় না। তাই প্রথমবারেই সব প্রমাণ দিয়ে আবেদন করুন।
৫. আবেদন নামঞ্জুর হলে ৪৫ কার্যদিবসে আপিল
ফরমের নির্দেশনায় বলা আছে, আবেদন জমার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার ব্যক্তিগত শুনানি নিতে পারেন। শুনানির পর সন্তুষ্ট না হয়ে আবেদন নামঞ্জুর করলে, আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে আপিল করা যায়।
- নামঞ্জুরের আদেশের কপি আর তারিখ সংরক্ষণ করুন।
- কেন নামঞ্জুর হলো, আদেশে দেখুন। প্রায়ই কারণ হয় প্রমাণের কাগজে তথ্যের গরমিল।
- নতুন প্রমাণ জোগাড় করে সময়ের মধ্যে আপিল করুন।
ফরম জমা দিলে কাগজের নিচের অংশ, অংশ-ক, প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ হিসেবে আপনার হাতে আসে। পরে নতুন কার্ড নেওয়ার সময় অংশ-খ পূরণ করে অফিস কার্ড বুঝিয়ে দেয়। দুটোই সংশোধন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম pdf কোথায় পাব?
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ২ কোথায় জমা দিতে হয়?
nid card নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?
ফরম ২ দিয়ে কি হারানো কার্ড তোলা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।