জাতীয় পরিচয়পত্র

জন্ম নিবন্ধন ও NID-তে তথ্য না মিললে কোনটা আগে ঠিক করবেন

জন্ম নিবন্ধনে এক রকম লেখা, NID-তে আরেক রকম। কোনটা আগে ঠিক করাবেন, সেটা নির্ভর করে দুটি বিষয়ে: ভুলটা আসলে কোন কাগজে, আর আপনার হাতে কোন প্রমাণ বেশি জোরালো।

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দল৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd
জন্ম নিবন্ধন আর NID-র তথ্য না মিললে কী করবেন

সংক্ষেপে

ভুলটা যদি জন্ম নিবন্ধনে থাকে, আর সেটিকেই আপনি মূল প্রমাণ হিসেবে দেখাতে চান, তাহলে আগে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করান। জন্ম নিবন্ধন ঠিক আছে কিন্তু NID-তে ভুল, এমন হলে সরাসরি NID সংশোধনের আবেদন করুন।

এই লেখায়
  1. নাম দুই রকম হলে
  2. জন্মতারিখ আলাদা হলে ভেবেচিন্তে এগোন
  3. সামনে পাসপোর্টের আবেদন থাকলে
  4. আবেদনের আগে চারটি কাজ
  5. আরও কাজে লাগবে
  6. ক্রমটা কেন জরুরি: NID-র একটি তথ্য একবারই বদলায়
  7. বাবা-মায়ের নাম মেলাতে শুরু করুন তাঁদের কাগজ থেকে
  8. আবেদনের সময় আরও তিনটি কথা

নাম দুই রকম হলে

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা ইংরেজি বানানে গরমিল থাকলে সব কাগজ পাশাপাশি রাখুন। দেখুন কোন বানানটা সবচেয়ে বেশি কাগজে হুবহু একই আছে। শিক্ষা সনদ, জন্ম নিবন্ধন আর পাসপোর্টে বানান এক হলে NID সংশোধনে এগুলোই আপনার ভালো প্রমাণ।

জন্মতারিখ আলাদা হলে ভেবেচিন্তে এগোন

তারিখে বড় পরিবর্তন চাইলে আবেদন বেশি খুঁটিয়ে যাচাই হতে পারে। শিক্ষা সনদ থাকলে সেটিকে শক্ত প্রমাণ ধরা হয়। জন্ম নিবন্ধন আর শিক্ষা সনদে তারিখ এক, শুধু NID-তে আলাদা, এমন ক্ষেত্রে NID সংশোধন সাধারণত সহজে হয়।

সামনে পাসপোর্টের আবেদন থাকলে

পাসপোর্টের জন্য NID আর জন্ম নিবন্ধনের তথ্য মিলতে হবে। দুই কাগজে গরমিল থাকলে আগে সেটা মিটিয়ে নিন, তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন। না হলে আবেদন Rework-এ ফেরত আসতে পারে, কিংবা বাড়তি যাচাইয়ে আটকে যেতে পারে।

আবেদনের আগে চারটি কাজ

  • জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইনে verify হচ্ছে কি না দেখুন।
  • NID-র অনলাইন কপি বা স্মার্ট কার্ড থেকে তথ্যগুলো টুকে নিয়ে মেলান।
  • শিক্ষা সনদ থাকলে তাতে নাম আর জন্মতারিখ কী আছে, আলাদা করে মিলিয়ে দেখুন।
  • একই ভুল দুই কাগজেই থাকলে আগে মূল প্রমাণের কাগজটি সংশোধন করান।

আরও কাজে লাগবে

ক্রমটা কেন জরুরি: NID-র একটি তথ্য একবারই বদলায়

নির্বাচন কমিশনের NID সেবা পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় বলা আছে, একটি তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিসংগত না হলে কোনো সংশোধনই গ্রহণ করা হয় না। ধরুন, ভুল বানানের জন্ম নিবন্ধন দেখিয়ে আপনি NID-তে নাম বদলালেন। পরে জন্ম নিবন্ধন ঠিক করালেও NID-তে সেই নাম আবার বদলানোর সুযোগ সহজে পাবেন না। তাই কোন কাগজটা আপনার মূল প্রমাণ হবে, সেটা আগে ঠিক করুন।

নাম আর জন্মতারিখ সংশোধনে কমিশন কোন কাগজ দেখে, তার একটা ক্রম আছে। এই ক্রম থেকেই বোঝা যায় জন্ম নিবন্ধন আপনার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব পাবে।

আপনার অবস্থাNID সংশোধনে মূল প্রমাণকোনটা আগে ঠিক করবেন
এসএসসি বা সমমান পাসএসএসসি বা সমমান সনদNID সরাসরি সনদ দেখিয়ে সংশোধন করা যায়। জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে সেটাও সনদ অনুযায়ী ঠিক করান
এসএসসি নেই, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরি করেনচাকরি বই বা এমপিওচাকরির রেকর্ড যা বলে, সেটাই ধরে এগোন
এসএসসি নেই, চাকরির রেকর্ডও নেইপাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স বা কাবিননামাজন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে আগে সেটা সংশোধন করান

এসএসসি সনদ না থাকলে জন্মতারিখের আবেদন তদন্তে যায়, দরকার হলে ডাক্তারি পরীক্ষাও হয়। তখন সংশোধিত, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্ম নিবন্ধন হাতে থাকলে আপনার দাবি শক্ত হয়।

বাবা-মায়ের নাম মেলাতে শুরু করুন তাঁদের কাগজ থেকে

জন্ম নিবন্ধনে এখন সন্তানের রেকর্ডের সঙ্গে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বর জুড়ে একটি পারিবারিক কাঠামো তৈরি হয়, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় একে বলে ফ্যামিলি ট্রি। ফলে বাবা বা মায়ের নামের গরমিল সাধারণত তিনটি কাগজে ছড়িয়ে থাকে। সেগুলো এই ক্রমে ঠিক করলে একই কাজ দুবার করতে হয় না।

  • ১
    বাবা-মায়ের নিজের NID আর জন্ম নিবন্ধনতাঁদের কাগজে নামের বানান যেটা, আপনার কাগজেও সেটাই বসবে। তাঁদের কাগজে ভুল থাকলে আগে সেটা ঠিক করান।
  • ২
    আপনার জন্ম নিবন্ধনবাবা-মায়ের ঠিক করা কাগজ দেখিয়ে BDRIS-এ সংশোধনের আবেদন করুন। সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী জন্ম তারিখ ছাড়া অন্য তথ্য সংশোধনে ৫০ টাকা, জন্ম তারিখে ১০০ টাকা।
  • ৩
    আপনার NIDNID-তে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে কমিশন চায় আপনার এসএসসি বা এইচএসসি সনদ (তাতে নাম থাকলে) আর বাবা, মা, ভাই ও বোনের NID-র সত্যায়িত কপি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাইলে সরেজমিন তদন্তও করতে পারেন।

আবেদনের সময় আরও তিনটি কথা

  • NID কার্ড হারিয়ে থাকলে হারানো আর সংশোধন একসঙ্গে করা যায় না। কমিশনের নিয়মে আগে রিইস্যু করে কার্ড তুলতে হয়, তারপর সংশোধনের আবেদন।
  • নামের আমূল পরিবর্তন চাইলে প্রমাণের কাগজের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা হলফনামা আর জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপিও লাগে।
  • আবেদন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। পোর্টালে দেওয়া সময় রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।

দরকারি সরকারি লিংক

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

ফি, সময়সীমা আর নিয়ম বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে শেষবার মিলিয়ে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন