
সংক্ষেপে
বাংলাদেশে NID নম্বর তিন রকম। ২০০৮ সালের প্রথম নিবন্ধনে প্রায় ৮ কোটি মানুষ পেয়েছিলেন ১৩ ডিজিটের নম্বর, পরের হালনাগাদে যুক্ত হওয়া মানুষ পেয়েছেন ১৭ ডিজিটের নম্বর, আর স্মার্ট কার্ডে ছাপা থাকে ১০ ডিজিটের নতুন নম্বর।
স্মার্ট কার্ড পেলে ১০ ডিজিটের নম্বরটিই আপনার NID নম্বর। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগের ১৩ বা ১৭ ডিজিটের নম্বর তখন পিন নম্বর হিসেবে থেকে যায়। পুরোনো নম্বর দিয়ে খোলা কোনো হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে সেই পিনটাই দরকার হতে পারে।
নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে কার্ডের তথ্য দেখা আর অনলাইন কপি নামানো যায় এখানে।
এই লেখায়
১. তিন ধরনের নম্বর এল কীভাবে
২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় যে কার্ড দেওয়া হয়, তাতে নম্বর ছিল ১৩ ডিজিটের। বিডিনিউজ২৪-এর ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত ৮ কোটি মানুষ এই নম্বর পান। পরের হালনাগাদে দেড় কোটির বেশি নতুন ভোটার পান ১৭ ডিজিটের নম্বর।
NID উইংয়ের প্রশ্নোত্তরেও বলা আছে, ২০০৮ সালের পরে যত কার্ড ছাপা হয়েছে বা নতুন করে তৈরি হয়েছে, সেগুলোর নম্বর ১৭ ডিজিটের। এরপর স্মার্ট কার্ডের জন্য কমিশন ১০ ডিজিটের ইউনিক নম্বর চালু করে।
| নম্বর | কাদের কার্ডে | এখন এর ভূমিকা |
|---|---|---|
| ১৩ ডিজিট | ২০০৮ সালের প্রথম নিবন্ধনের কাগজের লেমিনেটেড কার্ড | স্মার্ট কার্ড পেলে পিন হিসেবে থাকে |
| ১৭ ডিজিট | ২০০৮ সালের পরে ছাপা বা নতুন করে তৈরি কার্ড | স্মার্ট কার্ড পেলে পিন হিসেবে থাকে |
| ১০ ডিজিট | স্মার্ট কার্ড | স্মার্ট কার্ডধারীর মূল NID নম্বর |
২. ১০ ডিজিটের নম্বরটা কীভাবে তৈরি
২০১৫ সালে কমিশনের সভায় ১০ ডিজিটের নম্বর অনুমোদন হয়। বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ৯টি অঙ্ক এলোমেলোভাবে তৈরি হয়, শেষ অঙ্কটি যাচাইয়ের অঙ্ক বা চেকসাম।
- নম্বর শূন্য দিয়ে শুরু হয় না।
- একই অঙ্ক চার বা তার বেশি বার থাকে না।
- ১, ২, ৩, ৪ এর মতো ক্রমিক সারি তৈরি হয় না।
- কার্ড বিতরণের পর নম্বরটি সচল হয়।
নম্বরটি এলোমেলোভাবে তৈরি, তাই ১০ ডিজিটের নম্বর থেকে হিসাব কষে পুরোনো ১৭ ডিজিট বের করা যায় না। অনলাইনে যে সাইট বা অ্যাপ টাকা নিয়ে এই রূপান্তরের কথা বলে, সেগুলো কমিশনের সেবা নয়।
৩. ১৩ ডিজিটের আগে জন্মসাল বসানোর কথা
অনেক ওয়েবসাইটে লেখা থাকে, ১৩ ডিজিটের নম্বরের আগে জন্মসালের চার অঙ্ক বসালেই ১৭ ডিজিট হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত কোনো নির্দেশনায় আমরা এই নিয়ম পাইনি। তাই নিজে নম্বর বানিয়ে ব্যাংক, পাসপোর্ট বা অন্য কোনো ফরমে লিখবেন না।
ভুল নম্বর দিলে যাচাইয়ে তথ্য মিলবে না, আবেদন আটকে যাবে। যে নম্বর আপনার কোনো কার্ড বা সরকারি কাগজে ছাপা আছে, শুধু সেটিই ব্যবহার করুন।
৪. পুরোনো নম্বর লাগলে কোথায় পাবেন
২০১৬ সালে বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছিল, স্মার্ট কার্ড দেওয়ার সময় পুরোনো লেমিনেটেড কার্ড ফুটো করে অকার্যকর করা হয়। ফুটো কার্ডেও নম্বরটি পড়া যায়, তাই কার্ডটি ফেলে দেবেন না।
- ১পুরোনো কার্ড খুঁজুনফুটো করা লেমিনেটেড কার্ড বা তার কোনো ফটোকপি থাকলে সেখানে ১৩ বা ১৭ ডিজিটের নম্বর পাবেন।
- ২পুরোনো কাগজপত্র দেখুনব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা, পাসপোর্ট বা চাকরির আবেদন যে সময় করেছিলেন, তখন যে NID নম্বর দিয়েছিলেন, সেই কাগজের কপিতে নম্বরটা থাকতে পারে।
- ৩যে প্রতিষ্ঠানে হিসাব, তাদের জিজ্ঞেস করুনহিসাবটি পুরোনো নম্বরে খোলা হলে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডেই নম্বরটা আছে। নিজের পরিচয় প্রমাণ দিয়ে শাখা বা গ্রাহকসেবায় জানতে চান।
- ৪নির্বাচন অফিসে যানকোথাও না পেলে স্মার্ট কার্ড নিয়ে নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যান। আপনার রেকর্ড কমিশনের সার্ভারেই আছে।
নির্বাচন অফিসে যা নেবেন
৫. কোন কাজে কোন নম্বর দেবেন
স্মার্ট কার্ড হাতে থাকলে নতুন যেকোনো আবেদনে কার্ডে ছাপা ১০ ডিজিটের নম্বরই দিন। স্মার্ট কার্ড না পেলে আপনার লেমিনেটেড কার্ডের নম্বরটাই আপনার NID নম্বর।
২০১৬ সালে স্মার্ট কার্ড চালুর পর কিছু ব্যাংকে ১০ ডিজিটের নম্বর দিয়ে যাচাইয়ে সমস্যা হয়েছিল, তখন কমিশন একে সাময়িক বলেছিল। এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন নম্বর না নিলে তাদের লিখিতভাবে কারণ জানতে চান। পুরোনো নম্বরে খোলা হিসাবে তথ্য বদলাতে প্রতিষ্ঠান পুরোনো নম্বরটাও চাইতে পারে।
কার্ড হারিয়ে নম্বরও মনে না থাকলে আগে হারানো কার্ড তোলার পথে যান। আর নতুন ভোটার হয়ে নম্বর না পেলে ফরম নম্বর দিয়ে কপি নামানো যায়। দুটো বিষয়েই আমাদের আলাদা লেখা আছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পর পুরোনো ১৭ ডিজিটের নম্বর কি বাতিল?
১০ ডিজিট থেকে ১৭ ডিজিট অনলাইনে বের করা যায়?
আমার কার্ডে ১৩ ডিজিট, এটা কি অচল?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।