
সংক্ষেপে
NID করতে এখন ১৮ বছর লাগে না। নির্বাচন কমিশনের ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পরিপত্র অনুযায়ী আবেদনের দিন যাদের বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে বা হবে, তারাও নিবন্ধন করতে পারে এবং NID পাবে।
তবে ভোটার হওয়ার বয়স আগের মতোই ১৮। কমিশনের সচিবের কথায়, ১৮ হলে এদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় উঠবে। আবেদন করতে আপাতত নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নেওয়াই নিরাপদ।
নতুন নিবন্ধনের ফরম আর কাগজের তালিকা পোর্টালে আছে।
এই লেখায়
১. nid card করতে কত বয়স লাগে: ২০২৬ সালে যা বদলেছে
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। সই করেছেন পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানূর খান। ইত্তেফাক আর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর দুই পত্রিকাই সেদিন খবরটি প্রকাশ করে।
পরিপত্রের ভিত্তি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর ৫ ধারা। এতে বলা হয়েছে, আবেদনের তারিখে যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে বা হবে, তাদের নিবন্ধন করা হবে। আঞ্চলিক, জেলা আর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তা অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ তখন সাংবাদিকদের বলেন, যাদের বয়স ১৬ হয়েছে তারা নিবন্ধন করতে পারবে, কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়নি, আর তারা NID পাবে।
একটা উদাহরণ দিই। নবম শ্রেণির তানিয়ার জন্ম ২০১০ সালের মার্চে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তার বয়স ১৬ বছর ৭ মাস, তাই পরিপত্র অনুযায়ী সে এখন নিবন্ধনের যোগ্য। ভোট দিতে পারবে ১৮ পূর্ণ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২০২৮ সালের মার্চ থেকে।
২. ভোটার হওয়ার বয়স কত, আর NID পেলেই কি ভোটার
না। NID আর ভোটার হওয়া এখন দুটো আলাদা ধাপ। ভোটার হওয়ার বয়স ১৮ বছরই আছে। ১৬ বা ১৭ বছরে যারা নিবন্ধন করবে, ১৮ পূর্ণ হলে তাদের নাম আপনা থেকেই ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে বলে ইসি সচিব জানিয়েছেন।
| আবেদনের দিনে বয়স | কী হবে |
|---|---|
| ১৬ বছরের কম | এখনো নিবন্ধনের সুযোগ নেই |
| ১৬ বা ১৭ বছর | NID নিবন্ধন আর NID, ভোটার নয় |
| ১৮ পূর্ণ হলে | আগে নিবন্ধিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় |
| ১৮ বা তার বেশি, আগে নিবন্ধন হয়নি | সাধারণ নতুন ভোটার নিবন্ধন |
NID পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে স্পষ্ট বলা আছে, ১৮-র কম বয়সে বেশি বয়স দেখিয়ে কার্ড করার কোনো মানবিক বিবেচনা নেই। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দিলে জেল, জরিমানা বা দুটোই হতে পারে।
৩. ১৬ বছর বয়সে এনআইডির আবেদন করবেন কোথায়
প্রকাশিত খবরে অনলাইন না অফিসে, কোন পথে আবেদন, তার আলাদা বর্ণনা নেই। NID পোর্টালের নতুন নিবন্ধনের নির্দেশনায় এখনো লেখা, ১৮ বছরের বেশি বয়সী, প্রবাসী বা বাদ পড়া ভোটাররা এই প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করবেন। তাই ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে অনলাইনে আটকে গেলে অবাক হবেন না।
- ১উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুননিজের স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার অফিসে ফোন করে বা গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের নিবন্ধন কোন পথে নিচ্ছে।
- ২কাগজ গুছিয়ে নিননিচের তালিকা ধরে কাগজের মূল আর ফটোকপি সঙ্গে রাখুন। বাবা বা মাকে সঙ্গে নিলে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
- ৩ফরম পূরণ আর ছবি, আঙুলের ছাপঅফিস যে পথ বলবে, সেভাবে ফরম পূরণ করুন। নিবন্ধনের অংশ হিসেবে ছবি তোলা আর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়।
- ৪রসিদ রাখুন, পরে কপি নামানযে স্লিপ বা রসিদ দেবে, সেটা হারাবেন না। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে NID-র কপি নামাতে পারবেন।
৪. যে কাগজগুলো লাগতে পারে
১৬ বা ১৭ বছর বয়সীদের জন্য আলাদা তালিকা প্রকাশিত হয়নি। NID পোর্টালে নতুন ভোটারদের জন্য যে তালিকা আছে, সেটাই এখন ভরসা।
নতুন নিবন্ধনে পোর্টালের তালিকা
নাম আর বয়স কোন কাগজ থেকে নেওয়া হবে, পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে তারও উত্তর আছে: এসএসসি বা সমমানের সনদে যা লেখা। সেটা না থাকলে জন্ম সনদ, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আবেদন করা যায়। ১৬ বছর বয়সে বেশির ভাগের এসএসসি সনদ থাকে না, তাই জন্ম সনদের তথ্যই মূল হবে। নিবন্ধনের আগে জন্ম সনদের বানান ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
NID-তে নাম আর জন্মতারিখ যাবে জন্ম সনদ থেকে। সনদে ভুল থাকলে নিবন্ধন কার্যালয়ে আগে সংশোধন করুন। BDRIS-এর নোটিশ অনুযায়ী এর কাজ ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ, তাই এরপর আবেদন করুন।
৫. কেন ১৮ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই করে রাখবেন
ইসি সচিবের যুক্তি ছিল, বিদেশে পড়তে যাওয়া, ব্যাংক হিসাব খোলা বা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার মতো কাজে NID লাগে, আর তা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝামেলায় পড়ে।
- পাসপোর্ট: ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী বয়স ২০ পেরোলে NID অনুযায়ী পাসপোর্ট করতে হয়। আগে NID থাকলে পরে তথ্য মেলাতে ঝামেলা কম।
- নামের বানান: এসএসসির আগে NID হলে পরে সনদের সঙ্গে বানান না মিললে সংশোধন লাগতে পারে। তাই জন্ম সনদ আর স্কুলের খাতায় নাম এক রাখুন।
- ভোটার তালিকা: ১৮ হলে আলাদা করে নিবন্ধনের লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
অভিভাবকদের জন্য একটা পরামর্শ। সন্তানের জন্ম সনদ, স্কুলের রেজিস্ট্রেশন আর ভবিষ্যতের এসএসসি সনদে নাম ও জন্মতারিখ যেন এক থাকে, সেটা এখনই নিশ্চিত করুন। NID একবার হয়ে গেলে নাম বা জন্মতারিখ বদলানো সহজ নয়, পোর্টালের নিয়মে একই তথ্য সাধারণত একবারই সংশোধন করা যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
nid card করতে কত বয়স লাগে?
বাংলাদেশে ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
১৬ বছরে NID নিলে কি ১৮ হলে আবার নিবন্ধন করতে হবে?
১৫ বছর বয়সে কি আবেদন করা যাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।