সংক্ষেপে
নতুন ভোটার হতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালে 'নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন' অংশে অনলাইন ফরম পূরণ করুন। ফরমের প্রিন্ট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, এসএসসি সনদ (পাস করে থাকলে), বাবা-মায়ের NID আর ঠিকানার প্রমাণ নিয়ে নিজের এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যান। যাচাইয়ের পর সেখানে ছবি, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ আর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ জন্য কমিশনকে কোনো ফি দিতে হয় না।
নিবন্ধন শেষ হলে মোবাইল বা ইমেইলে বার্তা আসে। তখন অফিস থেকে পাওয়া ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে NID-র কপি নামাতে পারবেন। কত দিনে নম্বর আসবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা কমিশন বেঁধে দেয়নি।
প্রথম পাতার 'নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন' অংশ থেকে অনলাইন ফরম শুরু হয়।
এই লেখায়
১. কারা নতুন ভোটার হতে পারেন
ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী মূল শর্তগুলো হলো: আপনি বাংলাদেশের নাগরিক, যোগ্যতার তারিখে বয়স অন্তত ১৮ বছর, কোনো আদালত আপনাকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করেনি, আর যে এলাকার ভোটার হবেন সেখানে আপনি সাধারণত থাকেন বা সেখানে আপনার বসতবাড়ি আছে।
যোগ্যতার তারিখ সাধারণত বছরের ১ জানুয়ারি। যে বছর তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে, সেই বছরের ১ জানুয়ারি বা তার আগে ১৮ পূর্ণ হলে আপনার নাম তালিকায় ওঠার কথা। ২০২৬ সালে সংসদে পাস হওয়া সংশোধনীর পর কমিশন অন্য কোনো তারিখও যোগ্যতার তারিখ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে, যাতে নির্বাচনের আগে সদ্য ১৮ হওয়া তরুণেরাও ভোটার হতে পারেন।
- প্রথমবার ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিক
- আগের হালনাগাদে বাদ পড়ে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্ক
- বিদেশে থাকার কারণে এতদিন ভোটার হতে পারেননি এমন প্রবাসী
একবার নিবন্ধিত হয়ে আবার আবেদন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আঙুলের ছাপ সারা দেশের তথ্যের সঙ্গে মেলানো হয়, তাই দ্বিতীয় নিবন্ধন ধরা পড়ে। অনেক বছর আগে ভোটার হয়ে কার্ড না নিয়ে থাকলে নতুন নিবন্ধন নয়, নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিন।
২. যে কাগজগুলো আগে গুছিয়ে রাখবেন
কাগজ দেখাতে হয় বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময়, নির্বাচন অফিসে। NID পোর্টালের নির্দেশনা আর কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশ মিলিয়ে সাধারণত এগুলো চাওয়া হয়। আপনার ক্ষেত্রে কোনটি লাগবে, অফিস বলে দেবে।
নির্বাচন অফিসে যা নিয়ে যাবেন
২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল কমিশন মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারী মাধ্যমিক বা তার ওপরে পাস করলে তাঁর এসএসসি সনদ ডাটাবেজে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এইচএসসি, স্নাতক বা তার বেশি পড়লেও এসএসসি সনদই লাগবে। ভোটার নিবন্ধনে নাম ও বয়স সাধারণত এসএসসি সনদ অনুযায়ী ধরা হয়। লেখাপড়া না থাকলে জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আবেদন করা যায়।
জন্ম নিবন্ধন, এসএসসি সনদ আর অনলাইন ফরমে আপনার নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ এক রকম আছে কি না দেখে নিন। পরে NID সংশোধন করাতে প্রমাণ, ফি আর সময় সবই বেশি লাগে।
দেশের কিছু ঘোষিত বিশেষ এলাকার বাসিন্দাদের নতুন নিবন্ধনে একটি বাড়তি বিশেষ ফরম পূরণ করতে হয়। ফরম আর এলাকার তালিকা NID পোর্টালের ডাউনলোড অংশে আছে।
৩. অনলাইন ফরম থেকে ছবি তোলা পর্যন্ত
- ১পোর্টালে নতুন নিবন্ধন শুরু করুনNID পোর্টালের প্রথম পাতায় 'নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন' অংশে 'আবেদন করুন' চাপুন। ইংরেজিতে পুরো নাম, জন্মতারিখ আর ছবিতে দেখানো কোড দিয়ে এগোন। যাচাইকরণ কোড সাধারণত মোবাইলে আসে, এখন ইমেইলেও পাঠানো হয়।
- ২তিন ভাগে ফরম পূরণ করুনফরমের তিনটি ধাপ: ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য, আর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। ইংরেজি পুরো নাম ছাড়া বাকি সব তথ্য বাংলায় (ইউনিকোডে) লিখতে হয়। অন্তত একটি ধাপ শেষ করে সংরক্ষণ করলে বাকিটা পরে পূরণ করা যায়।
- ৩প্রিভিউ দেখে প্রিন্ট নিনসব ধাপ শেষে প্রিভিউতে প্রতিটি ঘর আবার মিলিয়ে নিন। তারপর PDF তৈরি করে প্রিন্ট নিন।
- ৪নির্বাচন অফিসে জমা দিনপ্রিন্ট কপি আর কাগজগুলো নিয়ে যে এলাকার ভোটার হবেন, সেখানকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিন। অফিস আপনার তথ্য আর ঠিকানা যাচাই করে, তথ্য ঠিক পেলে নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়।
- ৫ছবি, আঙুলের ছাপ আর আইরিশ দিনঅফিসের দেওয়া দিনে নিজে হাজির হন। ছবি তোলা হয়, দশ আঙুলের ছাপ আর চোখের আইরিশ নেওয়া হয়, স্বাক্ষরও দিতে হয়। ফরম নম্বর লেখা যে স্লিপ বা কাগজ পাবেন, সেটি যত্ন করে রেখে দিন।
কোন অফিসে যাবেন, তা ঠিক হয় আপনি কোন এলাকার ভোটার হতে চান তার ওপর। যেখানে সাধারণত থাকেন, অথবা যেখানে আপনার বসতবাড়ি আছে, সেই এলাকার অফিসেই আবেদন করুন। বায়োমেট্রিক নেওয়ার দিন একেক অফিসে একেক রকম, তাই প্রিন্ট জমার সময় তারিখটা জেনে নিন।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা হালনাগাদের সময় তথ্য সংগ্রহকারীরাই ফরম পূরণ করেন, পরে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিতে হয়। ২০২৫ সালের হালনাগাদে কমিশন জানিয়েছিল, আগে অনলাইনে আবেদন করে থাকলে তার ডাউনলোড করা কপি তথ্য সংগ্রহকারীকে দেওয়া যাবে।
৪. NID নম্বর আসতে কত দিন লাগে
ছবি আর আঙুলের ছাপ সার্ভারে ওঠার পর সেগুলো দেশের সব নিবন্ধিত মানুষের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, যাতে কেউ দুবার ভোটার না হন। কোনো মিল না পাওয়া গেলে সফটওয়্যারেই NID নম্বর তৈরি হয়, তারপর আপনার মোবাইল নম্বর বা ইমেইলে বার্তা যায়।
কত দিনে বার্তা আসবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা কমিশন ঘোষণা করেনি। সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে, কারও দুই দিনে বার্তা এসেছে, কারও দশ দিন বা তার বেশি লেগেছে। তালিকা হালনাগাদের মৌসুমে চাপ বাড়লে এক মাস বা তার বেশিও লাগতে পারে।
যে অফিসে ছবি তুলেছিলেন, ফরম নম্বর নিয়ে সেখানে খোঁজ নিন। অথবা নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে ফোন করুন, রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
৫. নিবন্ধন হলো কি না দেখবেন, আর NID কপি নামাবেন যেভাবে
যাঁরা নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু NID নম্বর হাতে পাননি, তাঁদের জন্য কমিশন পোর্টালের 'রেজিস্টার করুন' পথটি রেখেছে। এখান থেকেই বোঝা যায় আপনার নিবন্ধন শেষ হয়েছে কি না।
- ১পোর্টালে 'রেজিস্টার করুন' বেছে নিনNID পোর্টালের প্রথম পাতায় 'অ্যাকাউন্ট নেই?' অংশে 'রেজিস্টার করুন' চাপুন।
- ২ফরম নম্বর ও জন্মতারিখ দিনঅফিস থেকে পাওয়া ফরম নম্বর, জন্মতারিখ আর ক্যাপচা দিন। তথ্য না মিললে কাজ হয়তো এখনো শেষ হয়নি, কয়েক দিন পর আবার চেষ্টা করুন।
- ৩কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করুনমোবাইল বা ইমেইলে আসা অ্যাক্টিভেশন কোড দিন। এরপর মোবাইলে NID Wallet অ্যাপ নামিয়ে মুখমণ্ডল যাচাই (Face Verification) শেষ করুন।
- ৪লগইন করে কপি নামানপোর্টালে ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ডাউনলোড অংশ থেকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিন।
এই অনলাইন কপি দিয়ে অনেক কাজ আপাতত চালানো যায়। প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ড ছাপা ও বিতরণ হয় আলাদাভাবে, এলাকা ধরে ধাপে ধাপে। আপনার কার্ড তৈরি হলো কি না, তা দেখার নিয়ম স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাসের লেখায় আছে।
৬. ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা: আপনার নাম কোনটিতে
NID নম্বর পাওয়া আর কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নাম ওঠা এক কথা নয়। প্রতিবার হালনাগাদের সময় কমিশন জন্মতারিখের একটি সীমা আর নিবন্ধনের শেষ তারিখ ঠিক করে দেয়, সেই অনুযায়ী নাম যুক্ত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে চূড়ান্ত হওয়া তালিকা দিয়ে। এরপর ২০২৬ সালে দুবার তালিকা হালনাগাদ হয়েছে:
| চূড়ান্ত তালিকা | যাঁদের নাম যুক্ত হয়েছে | উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| ১৪ মে ২০২৬ | জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৮ বা তার আগে, নিবন্ধন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে | ২০২৬ সালের বার্ষিক হালনাগাদ |
| ৩১ আগস্ট ২০২৬ | জন্ম ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে, নিবন্ধন ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে | সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন |
৩১ জুলাই ২০২৬-এর পরে নিবন্ধন করলে NID পাবেন, তবে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে পরের হালনাগাদে। আইনে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে তালিকা হালনাগাদের কথা বলা আছে, আর নির্বাচনের তফসিলের আগে কমিশন আলাদা সময়ও ঘোষণা করতে পারে। পরের হালনাগাদের তারিখ কমিশনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দাবি-আপত্তির সময় থাকে। তখন নিজের নাম না পেলে নির্ধারিত ফরমে (নাম যুক্ত করার দাবির জন্য ফরম ৬) রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে আবেদন করা যায়।
৭. অনেকে যা জানতে চান
অনেক আগে ভোটার হয়েছিলাম, কিন্তু কার্ড কখনো নিইনি। নতুন করে নিবন্ধন করব?
নতুন ভোটার হতে কি কোনো টাকা লাগে?
বয়স এখনো ১৮ হয়নি। আগেভাগে আবেদন করে রাখা যায়?
বিদেশে থাকি। কীভাবে ভোটার হব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।