জাতীয় পরিচয়পত্র

এনআইডি কার্ডের মেয়াদ কত বছর: আইনে ১৫ বছর, নবায়ন এখনো বাধ্যতামূলক নয়

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২১ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd
এনআইডি কার্ডের মেয়াদ কত বছর: আইনে ১৫ বছর, নবায়ন এখনো বাধ্যতামূলক নয়

সংক্ষেপে

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর ৭(১) ধারা অনুযায়ী এনআইডি কার্ডের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে নির্ধারিত ফি দিয়ে নবায়নের আবেদন করা যায়, তবে আইন ও বিধিমালায় নবায়ন এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

২০২৬ সালের জুনে ইত্তেফাকের প্রতিবেদন বলছে, ১৫ বছর পূর্ণ হলে নবায়ন বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, তা নির্বাচন কমিশনে পর্যালোচনায় আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই মেয়াদ পেরিয়েছে বলে কেউ টাকা চাইলে আগে কমিশনের নোটিশ মিলিয়ে নিন।

এনআইডি সেবা পোর্টাল

রিইস্যু, সংশোধন আর ফি হিসাব নির্বাচন কমিশনের এই পোর্টালে।

পোর্টালে যান
এই লেখায়
  1. এনআইডি কার্ডের মেয়াদ কত বছর: আইন যা বলে
  2. nid কার্ডের মেয়াদ শেষ হলে কী হয়
  3. এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার কথা কেন উঠছে
  4. নবায়ন করতে চাইলে: বিধিমালায় যে পথ বলা আছে
  5. কার্ড পুরোনো, নষ্ট বা হারিয়ে গেলে: রিইস্যু
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. এনআইডি কার্ডের মেয়াদ কত বছর: আইন যা বলে

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর ৭(১) ধারায় বলা আছে, পরিচয়পত্রের মেয়াদ হবে তা দেওয়ার তারিখ থেকে ১৫ বছর। মানে হিসাবটা জন্মতারিখ বা ভোটার হওয়ার দিন থেকে নয়, কার্ড ইস্যুর দিন থেকে।

একটা উদাহরণ দিই। আপনি ২০১০ সালের মার্চে প্রথম কার্ড পেয়েছিলেন। আইনের হিসাবে ২০২৫ সালের মার্চে তার ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। আবার ২০১৯ সালে নাম সংশোধনের পর নতুন কার্ড নিয়ে থাকলে হিসাব শুরু হবে সেই নতুন কার্ডের তারিখ থেকে।

অনেকে জানতে চান, স্মার্ট এনআইডি কার্ডের মেয়াদ কত বছর, লেমিনেটেড কার্ডের চেয়ে আলাদা কি না। স্মার্ট কার্ডের জন্য আলাদা কোনো মেয়াদের কথা আমরা কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে পাইনি। আইনের ১৫ বছরের ধারাটি জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েই বলা।

২. nid কার্ডের মেয়াদ শেষ হলে কী হয়

আইনে নবায়নের সুযোগ আছে, কিন্তু বাধ্যবাধকতা নেই। ইত্তেফাকের ২৭ জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনে কমিশনের সূত্র বলছে, আইন ও বিধিমালায় নবায়নের বিষয়টি থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন।

এর মানে, ১৫ বছর পেরোনো কার্ড অচল ঘোষণার কোনো সরকারি নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। আপনার তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে আগের মতোই আছে। কার্ডের তথ্য ঠিক থাকলে আর ছবি চেনা গেলে নতুন কিছু করার আইনি চাপ আপাতত নেই।

তবে কোনো অফিস বা প্রতিষ্ঠান পুরোনো, ঝাপসা কার্ড দেখে আপত্তি করলে হাতে বিকল্প রাখুন। পোর্টালে নিবন্ধিত থাকলে এনআইডির অনলাইন কপি নামিয়ে প্রিন্ট করে নিতে পারেন। আর কার্ডের লেখা বা ছবি পড়া না গেলে নিচের রিইস্যু অংশটি দেখুন, সমস্যাটা আসলে মেয়াদের নয়, কার্ডের অবস্থার।

নবায়নের নামে টাকা চাইলে সাবধান

মেয়াদ শেষ, এখনই নবায়ন না করলে কার্ড বন্ধ হবে, এমন কথা বলে দোকান বা ফেসবুক পেজ টাকা নিলে বিশ্বাস করবেন না। নিয়ম বদলালে নির্বাচন কমিশন নোটিশ দেবে, জাতীয় দৈনিকেও খবর আসবে।

৩. এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার কথা কেন উঠছে

কমিশনের কর্মকর্তাদের যুক্তি সোজা। পনেরো বছরে একজন মানুষের চেহারা বদলায়, আঙুলের ছাপের মানও কমতে পারে। পুরোনো ছবি আর ছাপ দিয়ে তখন পরিচয় মেলাতে সমস্যা হয়। ব্যাংক, সিম নিবন্ধন বা ভোটকেন্দ্রে আঙুলের ছাপ না মেলার অভিযোগের পেছনেও এই কারণ থাকতে পারে।

ইসি সচিব বলেছেন, নবায়নের বিষয়টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আছে। তবে কবে থেকে, কোন বয়সের মানুষের জন্য, কত ফিতে, এসব এখনো ঘোষণা হয়নি। তাই কোনো তারিখ ধরে আগেভাগে দৌড়ানোর দরকার নেই।

২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে ভোটার হয়ে যাঁরা আর কখনো নতুন কার্ড নেননি, তাঁদের কার্ডের বয়স এর মধ্যেই ১৫ বছর পেরিয়েছে। নিয়ম চালু হলে প্রশ্নটা আগে তাঁদের সামনেই আসবে। এই দলে থাকলে এখন থেকেই দেখে রাখুন, কার্ডের নাম, বাবা-মায়ের নাম আর জন্মতারিখ আপনার এসএসসি সনদ বা পাসপোর্টের সঙ্গে মেলে কি না। ভুল থাকলে আগে সংশোধন সেরে রাখা ভালো।

  • চেহারা অনেক বদলে গেলে বা ছবি অস্পষ্ট হলে ছবি পরিবর্তনের আবেদন আলাদা সেবা, এর জন্য নবায়নের অপেক্ষা করতে হয় না।
  • আঙুলের ছাপ বারবার না মিললে নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানান।
  • নাম বা জন্মতারিখে ভুল থাকলে সেটা সংশোধনের আবেদন, নবায়ন নয়।

৪. নবায়ন করতে চাইলে: বিধিমালায় যে পথ বলা আছে

বাধ্যতামূলক না হলেও কেউ চাইলে এখনো নবায়নের আবেদন করতে পারেন। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বিধিমালার যে ধাপগুলো উদ্ধৃত হয়েছে, তা মোটামুটি এমন।

  • ১
    আবেদনের ধরন ঠিক করুনবিধিমালার ৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী ফরম-৫ পূরণ করে সরাসরি, অথবা কমিশনের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করা যায়।
  • ২
    জরুরি না সাধারণ, বেছে নিনজরুরি আবেদন যায় কমিশনে, নিষ্পত্তির কথা ৭ দিনের মধ্যে। সাধারণ আবেদন যায় স্থানীয় অফিসে, সময় ৩০ দিন।
  • ৩
    ফি দিয়ে রসিদ জুড়ে দিনপ্রতিবেদন অনুযায়ী নবায়ন ফি সাধারণে ১০০ আর জরুরিতে ১৫০ টাকা। অনলাইনে আবেদন করলে রসিদের স্ক্যান কপি দিতে হয়।
  • ৪
    প্রাপ্তিস্বীকার রাখুনঅফিসে জমা দিলে কর্মকর্তা ফরমের ক অংশে সই করে ফেরত দেন। অনলাইনে হলে সেটি মোবাইল বা ইমেইলে আসে।

একটি বাস্তব কথা জেনে রাখুন। এনআইডি সেবা পোর্টালের ফি হিসাবের পাতায় আবেদনের ধরন হিসেবে সংশোধন, অন্যান্য তথ্য সংশোধন আর রিইস্যু আছে, আলাদা করে নবায়ন লেখা কোনো অপশন সেখানে দেখিনি। তাই কোন অপশনে আবেদন করবেন আর ফি এখন কত, তা ১০৫ হেল্পলাইনে বা উপজেলা নির্বাচন অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন।

৫. কার্ড পুরোনো, নষ্ট বা হারিয়ে গেলে: রিইস্যু

মেয়াদের চেয়ে বেশি মানুষের সমস্যা হয় কার্ড ভেঙে যাওয়া, লেখা মুছে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া নিয়ে। এর জন্য পোর্টালে রিইস্যু, মানে পুনর্মুদ্রণের আবেদন করতে হয়।

আপনার অবস্থাকী করবেন
কার্ড ঠিক আছে, শুধু ১৫ বছর পেরিয়েছেআপাতত কিছু করার বাধ্যবাধকতা নেই, কমিশনের নোটিশে নজর রাখুন
কার্ড হারিয়েছে বা নষ্টঅনলাইনে রিইস্যুর আবেদন, অনুমোদনের পর মোবাইল বা ইমেইলে বার্তা আসে
কার্ড হারিয়েছে, তথ্যেও ভুলআগে রিইস্যু, তারপর সংশোধন; দুটি একসঙ্গে করা যায় না
ছবি অস্পষ্টনিজে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে ছবি পরিবর্তনের আবেদন

শেষ দুটি সারির কথা পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় লেখা। রিইস্যুর ফি প্রথমবার, দ্বিতীয়বার আর তার পরে আলাদা হারে বাড়ে। টাকা দেওয়ার আগে পোর্টালের ফি হিসাব করুন পাতায় নিজের এনআইডি নম্বর দিয়ে অঙ্কটা দেখে নিন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

স্মার্ট এনআইডি কার্ডের মেয়াদ কতদিন?
স্মার্ট কার্ডের জন্য আলাদা মেয়াদের কথা কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে আমরা পাইনি। আইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর।
nid card expiry date check করব কীভাবে?
পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় মেয়াদ দেখার কোনো আলাদা নির্দেশনা নেই। কার্ড কবে ইস্যু হয়েছিল জানা থাকলে তার সঙ্গে ১৫ বছর যোগ করলেই আইনের হিসাব পাবেন। তারিখ মনে না থাকলে ১০৫ নম্বরে বা নিজের উপজেলা নির্বাচন অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
মেয়াদ শেষ হলে কি আবার নতুন করে ভোটার হতে হবে?
না। পোর্টালের নির্দেশনায় স্পষ্ট লেখা, একবার ভোটার হলে আবার নিবন্ধনের আবেদন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দরকার হলে নবায়ন বা রিইস্যুর আবেদন করবেন, নতুন নিবন্ধন নয়।
নবায়ন বাধ্যতামূলক হলে জানব কীভাবে?
নির্বাচন কমিশন নোটিশ দেবে, আর বড় জাতীয় দৈনিকে খবর আসবে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাবটি পর্যালোচনায় ছিল। ফেসবুকের পোস্ট দেখে টাকা দেবেন না।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন