
সংক্ষেপে
কেউ জেনে বা না জেনে দুইবার ভোটার নিবন্ধন করলে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে আঙুলের ছাপ মিলে যায়, আর দুইটি NID-ই লক হয়ে যায়। লক থাকা অবস্থায় কোনো কার্ডেই নাগরিক সেবা পাওয়া যায় না। ২০২৫ সালের মে মাসে ইসি জানিয়েছে, এমন ক্ষেত্রে প্রথম NID সচল রেখে দ্বিতীয়টি বাতিল করা হয়, আর ভবিষ্যতেও একই নিয়ম চলবে।
তাই দুইটি কার্ড থাকলে নিজে থেকে কোনোটি ব্যবহার না করে যে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আপনি ভোটার, সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানান। প্রথম নিবন্ধনের তথ্যই আপনার আসল পরিচয় হিসেবে থাকবে, তাই সেই তথ্যে ভুল থাকলে পরে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।
হেল্পলাইন ১০৫ আর উপজেলা নির্বাচন অফিসের ঠিকানা এখান থেকে পাবেন।
এই লেখায়
১. দুইবার ভোটার হলে আসলে কী ঘটে
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের বরাত দিয়ে ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, কেউ ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, একাধিকবার ভোটার তালিকায় নিবন্ধনের আবেদন করলে তা বাতিল হয়। নিবন্ধনের সময় দশ আঙুলের ছাপ, ছবি আর চোখের আইরিস নেওয়া হয়। তাই নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা বদলে দ্বিতীয়বার নিবন্ধন করলেও সার্ভারে দুটি রেকর্ড একই মানুষের বলে ধরা পড়ে।
সাধারণত যেভাবে এটা ঘটে: বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির এলাকায় আবার ভোটার হওয়া, অনেক দিন আগে নিবন্ধন করে স্লিপ হারিয়ে ফেলে ভেবে নেওয়া যে নিবন্ধন হয়নি, বা প্রবাস থেকে ফিরে নতুন করে নিবন্ধন করা। স্থানান্তর দরকার হলে নতুন করে ভোটার না হয়ে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করতে হয়। ২০২৫ সালের হালনাগাদের পরিপত্রেও তথ্য সংগ্রহকারীদের বলা হয়েছিল, ফরম পূরণের আগে মানুষটি আগে ভোটার হয়েছেন কি না নিশ্চিত হতে।
ইসির সূত্রের বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, NID ব্লক হলে নাগরিকত্ব হারায় না। তবে ব্লক থাকা অবস্থায় কার্ডটি আর ব্যবহার করা যায় না, সিস্টেমে তথ্যও দেখা যায় না।
২. ইসির নিয়ম: প্রথমটি থাকে, দ্বিতীয়টি বাতিল
২০২৫ সালের ১৯ মে নির্বাচন ভবনে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক জানান, দুইটি পরিচয়পত্রধারী ৫৮৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। দুটি থাকায় তাঁদের NID লক ছিল, তাই তাঁরা কোনো নাগরিক সেবা নিতে পারছিলেন না। কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রথমটি রেখে দ্বিতীয়টি বাতিল করা হয়, এতে প্রথম NID আবার খুলে যায়।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কারও দুইটি NID বা ভোটার তালিকায় দুইটি তথ্য পাওয়া গেলে একই নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মানে, কোন কার্ডটি রাখবেন তা সাধারণত আপনি বেছে নিতে পারবেন না। প্রথম নিবন্ধনের NID নম্বরই আপনার নম্বর হিসেবে থাকবে।
| অবস্থা | কী হয় | আপনার করণীয় |
|---|---|---|
| দুইবার নিবন্ধন ধরা পড়েছে | দুইটি NID-ই লক | যে এলাকায় ভোটার, সেখানকার নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ |
| ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে | প্রথমটি সচল, দ্বিতীয়টি বাতিল | প্রথম NID দিয়ে সব সেবা নিন |
| প্রথম NID-র তথ্যে ভুল | ভুল তথ্য নিয়েই প্রথমটি সচল হয় | নিয়ম মেনে সংশোধনের আবেদন |
| দ্বিতীয় NID দিয়ে খোলা ব্যাংক হিসাব বা সিম | সেই NID আর যাচাই হবে না | প্রথম NID দিয়ে তথ্য হালনাগাদ |
৩. NID লক হলে যা করবেন
- ১কারণটা আগে জেনে নিনসব লকের কারণ দ্বৈত নিবন্ধন নয়। ইসির সচিব ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বলেছেন, অপব্যবহার ঠেকাতে নানা কারণে NID লক করা হয়। ইসির হেল্পলাইন ১০৫-এ (রবি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা) ফোন করে বা নির্বাচন অফিসে গিয়ে কারণ জানুন।
- ২যে অফিসে ভোটার, সেখানে যানআপনার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নিজে যান। দুই জায়গায় নিবন্ধন হয়ে থাকলে দুটি এলাকার কথাই খুলে বলুন।
- ৩হাতে যা আছে সব নিয়ে যানদুইটি কার্ড, নিবন্ধনের স্লিপ বা ফরম নম্বর, জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ, যা যা আছে। কোন রেকর্ডটি আগে হয়েছিল, তা মেলাতে এগুলো কাজে লাগে।
- ৪অফিস যা চায় তা জমা দিনকোনো লিখিত আবেদন বা অঙ্গীকারনামা চাইলে সেখানেই জেনে নিয়ে জমা দিন, আর জমার রসিদ বা প্রাপ্তিস্বীকার রেখে দিন।
- ৫প্রথম NID সচল হলো কি না দেখুনসিদ্ধান্তের পর NID পোর্টালে লগইন করে বা কোনো সেবা নিতে গিয়ে যাচাই করুন। এরপর দ্বিতীয় NID দিয়ে করা কাজগুলো, যেমন ব্যাংক বা সিম, প্রথম NID দিয়ে হালনাগাদ করুন।
লক বা বাতিল NID দিয়ে পাসপোর্ট, জমি বা ব্যাংকের কাজ শুরু করলে পরে আটকে যাবে। আর দালালের কথায় নতুন করে আবার নিবন্ধন করলে সমস্যা আরও জট পাকায়।
৪. শাস্তির ঝুঁকি আর অনলাইন অ্যাকাউন্টের লক আলাদা
মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়া শাস্তিযোগ্য। ২০২০ সালে দুইটি NID রাখার অভিযোগে ইসি একজনের বিরুদ্ধে মামলা করে, তখন ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছিল, ২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মিথ্যা তথ্যে ভোটার হলে এক বছর কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা বা দুটোই হতে পারে। আইনটি পরে বদলেছে, তাই আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য তা নির্বাচন অফিসে জেনে নিন। ভুল করে হয়ে থাকলে বিষয়টি নিজে গিয়ে জানানোই নিরাপদ পথ।
আরেকটা জিনিস গুলিয়ে ফেলবেন না। NID সেবার ওয়েবসাইটে বারবার ভুল পাসওয়ার্ড দিলে যে অ্যাকাউন্ট আটকে যায়, সেটা পরিচয়পত্র লক নয়। সেখানে সমস্যা শুধু লগইনের, কার্ড দিয়ে অন্য সেবা ঠিকই পাওয়া যায়।
নির্বাচন অফিসে যাওয়ার আগে
৫. অনেকে যা জানতে চান
আমি কোন NID রাখব, বেছে নিতে পারব?
দ্বিতীয় NID দিয়ে বিকাশ বা ব্যাংক হিসাব খুলেছিলাম, এখন কী হবে?
লক খুলতে কত দিন লাগে?
অনলাইনে কি দ্বৈত ভোটার বাতিলের আবেদন করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।