
সংক্ষেপে
নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালে সংশোধন আবেদন নিজে থেকে বাতিল করার কোনো অপশন বা আলাদা ফরম প্রকাশ করা নেই। পোর্টালের ডাউনলোড অংশে মোট চারটি ফরম আছে, তার কোনোটি বাতিলের নয়। তাই অনলাইনে যে বাতিল ফরম pdf বিক্রি হয়, সেটা সরকারি ফরম নয়।
তবু আবেদনকারীর অনুরোধে আবেদন বাতিল হওয়ার সুযোগ আছে। ২০২৫ সালে এনআইডি উইংয়ের নির্দেশনায় বাতিলের কারণগুলোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট এনআইডিধারীর আবেদনের কথাও লেখা ছিল। কাজটা হয় নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে। তবে বাতিলের আগে জেনে নিন, এতে পরের সংশোধনের সুযোগে কোনো প্রভাব পড়বে কি না।
নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে সংশোধন আবেদন কোন ধাপে আছে, তা আগে দেখে নিন।
এই লেখায়
১. এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল করা যায় কি
যায়, তবে অনলাইনে এক ক্লিকে নয়। ২০২৫ সালের আগস্টে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ মাঠ কর্মকর্তাদের একটি নির্দেশনা পাঠায়, যা ইত্তেফাকে ছাপা হয়। সেখানে ক্র্যাশ প্রোগ্রামে আবেদন বাতিলের পাঁচটি কারণ বলা হয়েছিল:
- চাওয়া কাগজ নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া
- ঠিকমতো আবেদন না করা বা অসম্পূর্ণ আবেদন
- যে সংশোধন চাওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজের অমিল
- সাক্ষাৎকারে ডাকার পর হাজির না হওয়া
- সংশ্লিষ্ট এনআইডিধারীর নিজের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাতিল
শেষ কারণটাই এখানে কাজের। অর্থাৎ আপনি নিজে চাইলে কর্মকর্তা আবেদন বাতিল করতে পারেন। কিন্তু এই অনুরোধ জানানোর জন্য কোনো অনলাইন বাটন বা ছাপানো ফরম কমিশন প্রকাশ করেনি। NID পোর্টালের ফরম ডাউনলোড পাতায় আছে শুধু চারটি ফরম: হারানো কার্ড তোলার আবেদন, উপজেলা অফিসে জমার জন্য তথ্য সংশোধনের ফরম, বিশেষ ফরম ২ আর বিশেষ এলাকার তালিকা।
পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে আরেকটি লাইন আছে: অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হয়। কাগজ জমা না দিয়ে ফেলে রাখলেও আবেদন একসময় বাতিল হতে পারে, তবে সেটা আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
২. কেন মানুষ পেন্ডিং আবেদন বাতিল করতে চান
কমিশনের হিসাবে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার সংশোধন আবেদন জমা পড়েছে। ডেইলি স্টারের ২ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী এর মধ্যে ১২ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি বাতিল হয়েছে, আর ১ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি তখনো নানা ধাপে আটকে ছিল। পেন্ডিংয়ের বড় অংশ ঘ ক্যাটাগরির, যেখানে জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নামের বড় পরিবর্তন থাকে।
যাঁরা বাতিল চান, তাঁদের কারণ সাধারণত এরকম:
- ভুল ঘর বেছে আবেদন করেছেন, যেমন নামের বানানের বদলে পুরো নাম বদলের আবেদন
- পরে দেখলেন আসলে অন্য তথ্য বদলানো দরকার ছিল
- কার্ড হারিয়ে গেছে, অথচ পোর্টাল বলছে হারানো আর সংশোধন একসঙ্গে সম্ভব নয়
- আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে আছে, তাই নতুন করে সঠিক কাগজ দিয়ে করতে চান
জরুরি দরকার, যেমন চাকরিতে যোগদান বা বিদেশ যাত্রা থাকলে কারণ জানিয়ে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করা যায় বলে ডেইলি স্টারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাতিল করে নতুন আবেদন করলে লাইন আবার শুরু থেকে হতে পারে।
৩. বাতিলের আগে এই নিয়মটা জানুন
NID পোর্টালের প্রশ্নোত্তর বলছে, এক তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়। আর যুগান্তরের খবর অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১৩ আগস্টের পরিপত্রে বলা হয়েছে, জন্মতারিখ, নিজের নাম আর বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনে একই ঘরে দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যাবে না।
নিজের অনুরোধে বাতিল হওয়া আবেদন সেই একবারের হিসাবে ধরা হবে কি না, তা কমিশন প্রকাশ্যে পরিষ্কার করেনি। একই পরিপত্রে অনুমোদন বা বাতিলের সময় কর্মকর্তাকে সিস্টেমে কারণ লিখে রাখতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ বাতিলের নোট থেকে যাবে। তাই বাতিলের অনুরোধ দেওয়ার আগে নির্বাচন অফিসে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, পরে একই ঘরে আবার আবেদন করা যাবে তো?
| আপনার অবস্থা | সম্ভাব্য পথ |
|---|---|
| আবেদনে কাগজ কম ছিল | বাতিল না করে অফিসে বাড়তি কাগজ জমার সুযোগ আছে কি না জানুন |
| ভুল ঘর বা ভুল ক্যাটাগরি বেছেছেন | অফিসে জানিয়ে বাতিলের লিখিত অনুরোধ, তারপর সঠিক আবেদন |
| শুনানির নোটিশ এসেছে | হাজির হোন; না গেলে আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ হয় |
| কার্ড হারিয়েছে | আগে হারানো কার্ড তোলার আবেদন, পরে সংশোধন |
৪. নিজে আবেদন বাতিল করাতে চাইলে যেভাবে এগোবেন
- ১আবেদনের অবস্থা আর নম্বর লিখে নিনservices.nidw.gov.bd-তে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে সংশোধন আবেদনের নম্বর, ক্যাটাগরি আর বর্তমান অবস্থা দেখুন। স্ক্রিনশট রাখুন।
- ২হেল্পলাইনে আগে জিজ্ঞেস করুন১০৫ নম্বরে বা +৮৮০১৭০৮৫০১২৬১ নম্বরে ফোন করে বা info@nidw.gov.bd ঠিকানায় লিখে জানতে চান, আপনার আবেদন কোন কর্মকর্তার কাছে আছে। সময় রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
- ৩লিখিত অনুরোধ তৈরি করুনসাদা কাগজে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসার বরাবর লিখুন। নাম, NID নম্বর, আবেদন নম্বর, কোন সংশোধন চেয়েছিলেন আর কেন বাতিল চান, তা সংক্ষেপে দিন। সই আর মোবাইল নম্বর দিন। সরকারি নমুনা না থাকায় এটুকুই যথেষ্ট হওয়ার কথা, তবে অফিস অন্য কিছু চাইলে সেভাবে দিন।
- ৪নিজের এলাকার নির্বাচন অফিসে জমা দিনযে এলাকার ভোটার, সেখানকার অফিসে NID কার্ড বা অনলাইন কপি আর আবেদনের প্রিন্টসহ যান। জমার প্রমাণ হিসেবে কপিতে রিসিভ সই নিন।
- ৫পোর্টালে অবস্থা বদলেছে কি না দেখুনকয়েক দিন পর অ্যাকাউন্টে দেখুন আবেদন বাতিল দেখাচ্ছে কি না। তারপরই নতুন আবেদন করুন, আগে নয়।
৫. বাতিলের পর নতুন আবেদন: কোন ক্যাটাগরিতে
২০২৫ সালের ওই নির্দেশনায় বাতিল হওয়া আবেদনকারীদের আবার আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, শর্ত ছিল আগের ক্যাটাগরিতেই করতে হবে, উঁচু ক্যাটাগরিতে নয়। সেই বিশেষ সুযোগের সময় ছিল ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত, যা পেরিয়ে গেছে। এখন নতুন আবেদন সাধারণ নিয়মে হয়, ফিও নতুন করে দিতে হয়।
নতুন আবেদনে এবার একবারেই সব ঠিক করুন। কোন ঘরে কী চান, কোন কাগজে সেটা আছে, তা মিলিয়ে নিন। জন্মতারিখের আবেদনে অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি বা এসএসসি সনদ থাকলে এখন মাঠ পর্যায়েই নিষ্পত্তি হওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দিয়ে বা নাম ও জন্মতারিখ একসঙ্গে পুরো বদলের আবেদন যায় মহাপরিচালকের কাছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল ফরম pdf কোথায় পাব?
nid pending application cancel কি অনলাইনে করা যায়?
আবেদন বাতিল করলে কি আবার একই তথ্য সংশোধন করা যাবে?
এনআইডি সংশোধন পেন্ডিং থাকলে কি নতুন আবেদন করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।