জাতীয় পরিচয়পত্র

ভোটার নম্বর আর ভোটকেন্দ্র জানবেন যেভাবে: SMS, হটলাইন, ওয়েবসাইট আর অ্যাপ

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd
ভোটার নম্বর আর ভোটকেন্দ্র জানবেন যেভাবে: SMS, হটলাইন, ওয়েবসাইট আর অ্যাপ

সংক্ষেপে

ভোটার নম্বর আর ভোটকেন্দ্র জানার সবচেয়ে সহজ পথ একটি SMS: মেসেজে PC লিখে একটি স্পেস দিয়ে আপনার NID নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠান। ফিরতি বার্তায় ভোটার নম্বর আর কেন্দ্রের তথ্য আসে। এ ছাড়া ১০৫-এ কল করে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে, বা স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপে NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে একই তথ্য পাওয়া যায়।

এই চারটি পথ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিশন জানিয়েছিল। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, তাই ভোটের আগে কমিশনের ঘোষণায় দেখে নিন কোন সেবা কখন চালু থাকছে।

NID পোর্টাল ও হেল্পলাইন ১০৫

নিজের NID নম্বর জানা না থাকলে আগে পোর্টাল থেকে কপি নামিয়ে নম্বরটা জেনে নিন।

পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. NID নম্বর আর ভোটার নম্বর এক নয়
  2. চার পথে ভোটার নম্বর আর কেন্দ্র খোঁজা
  3. অ্যাপে খুঁজবেন যেভাবে
  4. হটলাইন ১০৫ কখন খোলা
  5. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে যা মাথায় রাখবেন
  6. কেন্দ্র পুরোনো ঠিকানায়, বা কোনো তথ্যই আসছে না
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. NID নম্বর আর ভোটার নম্বর এক নয়

NID নম্বর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, সারা দেশে একটাই। ভোটার নম্বর হলো আপনার এলাকার ভোটার তালিকায় আপনার নম্বর, আর ক্রমিক নম্বর দেখায় কেন্দ্রের তালিকায় আপনি কত নম্বরে আছেন। কমিশনের অ্যাপে এই দুটোই আলাদা করে দেখায়, সঙ্গে কেন্দ্রের নাম আর ঠিকানা।

কেন্দ্রে গিয়ে ভোটকর্মীদের তালিকায় আপনাকে খুঁজে পেতে এই নম্বরগুলো কাজে আসে। তাই ভোটের আগের দিনই নম্বর আর কেন্দ্রের নাম লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।

NID পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী পুরোনো কার্ডে কারও নম্বর ১৩ সংখ্যার, কারও ১৭ সংখ্যার, কারণ ২০০৮ সালের পরে ছাপা বা নতুন করে তৈরি কার্ডের নম্বর ১৭ সংখ্যার। খোঁজার সময় নিজের কার্ডে যে নম্বর আছে, সেটাই দিন।

খোঁজার আগে হাতে রাখুন

২. চার পথে ভোটার নম্বর আর কেন্দ্র খোঁজা

পথকী করবেনকী লাগে
SMSPC লিখে স্পেস দিয়ে NID নম্বর, পাঠান ১০৫ নম্বরেশুধু NID নম্বর
হটলাইন১০৫-এ কল করে অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপুনNID নম্বর ও জন্মতারিখ
ওয়েবসাইটecs.gov.bd-র ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে NID নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে খুঁজুনNID নম্বর ও জন্মতারিখ
অ্যাপস্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’NID নম্বর ও জন্মতারিখ
  • ১
    SMS লিখুনফোনের মেসেজ অপশনে লিখুন PC, একটি স্পেস, তারপর আপনার NID নম্বর। উদাহরণ নয়, নিজের নম্বরটাই দিন।
  • ২
    ১০৫ নম্বরে পাঠানযেকোনো অপারেটরের নম্বর থেকে পাঠানো যায়। ফিরতি SMS-এ ভোটার নম্বর আর কেন্দ্রের তথ্য আসবে।
  • ৩
    উত্তর না এলে অন্য পথকিছুক্ষণ অপেক্ষা করে না এলে ওয়েবসাইট বা অ্যাপে NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে খুঁজুন, বা ১০৫-এ কল করুন।

ওয়েবসাইটে আরেকটা সুবিধা আছে। আসন বা উপজেলা বেছে নিলে পুরো এলাকার কেন্দ্রের তালিকা দেখা যায়, আর গুগল ম্যাপে কেন্দ্রের অবস্থান, দূরত্ব ও পথ দেখায়। ঘরের সবার কেন্দ্র এক কি না, এভাবে মিলিয়ে নিতে পারেন।

হটলাইনে কথা বলার সময় অপারেটর NID নম্বর আর জন্মতারিখ জানতে চাইবেন। SMS-এ শুধু NID নম্বর লাগে, তাই নিজের নম্বর দিয়ে খুঁজুন, আর অন্যের নম্বর দিয়ে তাঁর তথ্য খোঁজার আগে অনুমতি নিন।

৩. অ্যাপে খুঁজবেন যেভাবে

  • ১
    অ্যাপ নামানগুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি লিখে খুঁজুন। নির্বাচন কমিশনের নামে প্রকাশিত অ্যাপটিই নিন, একই রকম নামের অন্য অ্যাপ নয়।
  • ২
    নির্বাচন বেছে নিনড্যাশবোর্ডে যে নির্বাচনের তথ্য চান সেটি বাছুন। জাতীয় নির্বাচনের সময় এখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখাত।
  • ৩
    ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ চাপুনNID নম্বর আর জন্মতারিখ দিন। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, কেন্দ্রের নাম আর ঠিকানা দেখাবে।

অ্যাপটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় চলে। একই ফোনে পরিবারের কয়েকজনের তথ্য খোঁজা যায়, প্রত্যেকের NID নম্বর আর জন্মতারিখ আলাদা করে দিয়ে। খোঁজা শেষে ফলাফলের স্ক্রিনশট রাখুন, ভোটের দিন নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলেও কাজে আসবে।

NID নম্বর কাকে দেবেন, ভেবে দিন

কেন্দ্র খুঁজে দেওয়ার নামে অচেনা ফেসবুক পেজ, লিংক বা ব্যক্তিকে NID নম্বর আর জন্মতারিখ দেবেন না। কমিশনের ১০৫ নম্বর, ecs.gov.bd আর কমিশনের অ্যাপই যথেষ্ট।

৪. হটলাইন ১০৫ কখন খোলা

জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিশন জানিয়েছিল, ১০৫ হটলাইন প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। সাধারণ সময়ে NID পোর্টালে হেল্পলাইনের সময় দেওয়া আছে রবি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। বিদেশ থেকে ফোনের নম্বর +৮৮ ০১৭০৮-৫০১২৬১।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে কমিশন আলাদা সময় ঘোষণা করে কি না, ভোটের সপ্তাহখানেক আগে খবর বা কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।

৫. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে যা মাথায় রাখবেন

কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে করার ঘোষণা দিয়েছে, শুরু ২৭ জানুয়ারি। তার আগে ৫ নভেম্বর খসড়া আর ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। কেন্দ্রের তালিকা আর আপনার ক্রমিক নম্বর চূড়ান্ত হয় ভোটার তালিকা ধরেই, তাই ভোটার নম্বর আর কেন্দ্র খোঁজার আসল সময় ২৫ নভেম্বরের পর থেকে ভোটের আগ পর্যন্ত।

  1. খসড়া তালিকায় নিজের নাম আর ঠিকানা মিলিয়ে নিন, ভুল থাকলে ২০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করুন।
  2. চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর SMS, ওয়েবসাইট বা অ্যাপে আবার খুঁজে ভোটার নম্বর আর কেন্দ্র লিখে রাখুন।
  3. আপনার ইউনিয়নের ভোট কোন ধাপে, সেটা কমিশনের তফসিলে দেখে নিন।

৬. কেন্দ্র পুরোনো ঠিকানায়, বা কোনো তথ্যই আসছে না

  • কেন্দ্র দেখাচ্ছে পুরোনো এলাকায়: আপনি এখনো সেখানকার ভোটার। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদনের শেষ দিন ছিল ৩১ অক্টোবর ২০২৬। এর পরে আবেদন করে থাকলে এবারের তালিকায় তা আসবে কি না, নির্বাচন অফিসে জেনে নিন।
  • কোনো তথ্য আসছে না: NID নম্বর আর জন্মতারিখ আবার মিলিয়ে দেখুন। ঠিক থাকলে আপনার নাম সংশ্লিষ্ট তালিকায় আছে কি না, উপজেলা নির্বাচন অফিসে খসড়া বা চূড়ান্ত তালিকায় দেখুন।
  • নতুন ভোটার, তথ্য মিলছে না: ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর পরে নিবন্ধন হলে নাম পরের হালনাগাদে উঠবে, তাই এবারের ভোটে কেন্দ্র না-ও দেখাতে পারে।

এবারের খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে ৫ নভেম্বর, দাবি-আপত্তি চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। নাম না থাকলে এই সময়েই আবেদন করুন।

৭. অনেকে যা জানতে চান

ভোটার নম্বর দিয়ে কি NID কার্ড বের করা যায়?
না। NID পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলতে NID নম্বর বা নিবন্ধনের ফরম নম্বর লাগে, ভোটার নম্বর দিয়ে কপি নামানোর ব্যবস্থা নেই।
SMS-এ খরচ কত?
কমিশনের ঘোষণায় SMS-এর খরচের কথা বলা নেই। আপনার অপারেটরের সাধারণ নিয়মে কাটতে পারে, ব্যালান্সে সামান্য টাকা রাখুন।
পরিবারের সবার কেন্দ্র কি একই হবে?
ধরে নেবেন না। কেন্দ্র ঠিক হয় তালিকায় প্রত্যেকের এন্ট্রি অনুযায়ী, তাই প্রত্যেকের NID নম্বর দিয়ে আলাদা করে খুঁজে নিন আর নম্বরগুলো লিখে রাখুন।
NID নম্বর মনে নেই। কী করব?
কার্ড বা অনলাইন কপি থেকে নম্বরটা দেখুন। কপি না থাকলে পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে নামিয়ে নিন, অথবা হেল্পলাইন ১০৫-এ যোগাযোগ করুন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন