
সংক্ষেপে
নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে সোজা উত্তর দেওয়া আছে: এক তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিসংগত না হলে কোনো সংশোধনই গ্রহণ করা হয় না। স্বাক্ষর বদলানোর সুযোগও একবারই।
২০২৬ সালের ১৩ আগস্টের পরিপত্র এই নিয়মকে আরও কড়া করেছে। জন্মতারিখ, নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নাম পুরো বদলে ফেললে সেই ঘরে আর দ্বিতীয়বার সংশোধন হবে না। তাই এনআইডি সংশোধনের আবেদন একবারে ঠিকঠাক কাগজ দিয়ে করাই একমাত্র নিরাপদ পথ।
নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে আবেদন, ফি হিসাব আর আবেদনের অবস্থা দেখা যায়।
এই লেখায়
১. এনআইডি কতবার সংশোধন করা যায়: পোর্টালের নিয়ম
অনেকে ভাবেন, ভুল থাকলে যতবার খুশি আবেদন করা যাবে। আসলে তা নয়। NID পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় প্রশ্নটা হুবহু আছে, একটি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়। উত্তর হলো, এক তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যাবে।
এখানে তথ্য মানে কার্ডের এক একটি ঘর। যেমন আপনার নাম একটা তথ্য, বাবার নাম আরেকটা, জন্মতারিখ আরেকটা। নামের বানান একবার ঠিক করিয়ে নিলে পরে সেই নাম নিয়ে আবার আবেদন করলে তা টেকার সম্ভাবনা খুব কম। অন্য ঘরে ভুল থাকলে সেটা আলাদা তথ্য, তার জন্য প্রথম সুযোগ তখনো আছে।
- এক তথ্য একবার: পোর্টালের প্রশ্নোত্তরের নিয়ম।
- স্বাক্ষর: একবারই পরিবর্তন করা যায়, এটাও প্রশ্নোত্তরে আলাদা করে লেখা।
- যুক্তি ছাড়া কোনো সংশোধন নয়: প্রমাণ দুর্বল হলে প্রথম আবেদনও বাতিল হতে পারে।
- সব সংশোধনের রেকর্ড কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে থাকে, তাই আগের আবেদনের ইতিহাস কর্মকর্তারা দেখতে পান।
২. ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর পরিপত্র: দ্বিতীয়বার সংশোধন যেখানে বন্ধ
যুগান্তরের খবর অনুযায়ী জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, জন্মতারিখ, নিজের নাম আর বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার আর সংশোধন করা যাবে না।
| আবেদনের ধরন | কে নিষ্পত্তি করবেন |
|---|---|
| অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের সনদ দিয়ে জন্মতারিখ সংশোধন | মাঠপর্যায়: উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার, আর NID উইংয়ের সহকারী পরিচালক থেকে পরিচালক ('ক' ক্যাটাগরি) |
| উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দিয়ে জন্মতারিখ সংশোধন | শুধু মহাপরিচালক |
| জন্মতারিখের সঙ্গে নিজের নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন | শুধু মহাপরিচালক |
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, আবেদন অনুমোদন বা বাতিলের সময় কর্মকর্তাকে সিস্টেমে কারণ লিখে রাখতে হবে। এর মানে, আপনার আবেদন বাতিল হলে কেন বাতিল হলো, তার একটা লিখিত নোট থাকছে। পরের পদক্ষেপ ঠিক করতে সেটা কাজে লাগে।
ধরুন রহিমা খাতুন নিজের নাম পুরো বদলে রহিমা আক্তার করালেন। পরে পাসপোর্টের সঙ্গে মেলাতে আবার নাম বদলাতে চাইলে নতুন নিয়মে সেই সুযোগ নেই। তাই প্রথম আবেদনের আগেই সব কাগজে কোন নাম চলছে, তা মিলিয়ে নিন।
৩. প্রথম আবেদনেই যা ঠিক রাখবেন
যেহেতু দ্বিতীয় সুযোগ প্রায় নেই, তাই প্রথম আবেদনটা তাড়াহুড়ো করে করবেন না। NID পোর্টালের নির্দেশনায় কোন সংশোধনে কোন কাগজ লাগে, তা আলাদা করে লেখা আছে।
আবেদনের আগে হাতের কাছে রাখুন
- ১সব কাগজ পাশাপাশি রাখুনএসএসসি সনদ, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট আর NID-তে নাম ও জন্মতারিখ কীভাবে লেখা, এক পাতায় লিখে ফেলুন। কোথাও অমিল থাকলে কোনটা ঠিক, তার পক্ষে প্রমাণ জোগাড় করুন।
- ২কোন ঘর বদলাবেন, একবারে ঠিক করুনএকই আবেদনে যতগুলো ভুল আছে সব ধরুন। একটা ঠিক করে পরে আরেকটার জন্য আসার চেয়ে এটা নিরাপদ।
- ৩ফি হিসাব করে নিনNID পোর্টালের ফিস পাতায় নিজের NID নম্বর আর আবেদনের ধরন দিয়ে অঙ্কটা দেখে নিন। অঙ্কটা মিলিয়ে তবেই টাকা দিন।
- ৪স্পষ্ট কারণ লিখুনশুধু ভুল আছে না লিখে কোথায় কী ভুল আর কোন কাগজে সঠিক তথ্য আছে, তা লিখুন। পোর্টাল বলছে, যুক্তিসংগত না হলে সংশোধন গ্রহণ হয় না।
৪. nid সংশোধনের যে ভুলগুলো সুযোগটা নষ্ট করে
পোর্টালের প্রশ্নোত্তর পড়লে কয়েকটা সাধারণ ভুল চোখে পড়ে। এগুলো এড়ালে একমাত্র সুযোগটা কাজে লাগে।
- ভাতা পাওয়ার আশায় বয়স বাড়ানো: পোর্টাল পরিষ্কার বলেছে, প্রামাণিক দলিল ছাড়া বয়স বদলানো সম্ভব নয়, আর দলিল তদন্ত করে দেখা হয়।
- পাস না করেও শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি লিখে রাখা: এ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামা করে তার কপিসহ আবেদন করতে হয়।
- কার্ডে ছাপা হয় না এমন তথ্যের জন্য অফিসে দৌড়ানো: পেশার মতো তথ্য কার্ডে থাকে না, এগুলো অনলাইনেই সংশোধন করা যায়।
- পরিবারের সবার কার্ডে বাবা-মায়ের নাম আলাদা বানানে: সবার কার্ডের কপি আর সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে একসঙ্গে আবেদন করতে হয়, একজন একজন করে নয়।
৫. আবেদন বাতিল হলে বা কার্ড হারালে
বাতিল হওয়া মানেই সব শেষ, এমন নয়। তবে একই দুর্বল কাগজ দিয়ে নতুন করে আবেদন করলে আবার বাতিলের ঝুঁকি থাকে, ফিও যায়। আগে জেনে নিন কেন বাতিল হলো। এখন কর্মকর্তাকে সিস্টেমে কারণ লিখতে হয়, তাই উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে সেই কারণটা জিজ্ঞেস করুন। বাতিলের পর আপিল আর পুনরায় আবেদনের পথ নিয়ে আমাদের আলাদা গাইড আছে।
কার্ড হারিয়ে গেলে আগে হারানো কার্ড তুলতে হবে, তারপর সংশোধন। পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী দুটো একসঙ্গে করা যায় না।
NID পোর্টালের হেল্পলাইন ১০৫ আর +৮৮ ০১৭০৮-৫০১২৬১, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। ইমেইল info@nidw.gov.bd।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ভোটার আইডি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়?
এনআইডি দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যায় কি?
nid স্বাক্ষর কতবার পরিবর্তন করা যায়?
এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল হলে কি আবার করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।