জাতীয় পরিচয়পত্র

NID সার্ভার কপি কী: দোকান বা সাইট থেকে কেনা কেন ঝুঁকির, আর নিরাপদ পথ কোনটা

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd
NID সার্ভার কপি কী: দোকান বা সাইট থেকে কেনা কেন ঝুঁকির, আর নিরাপদ পথ কোনটা

সংক্ষেপে

যে দোকান বা সাইট টাকা নিয়ে NID সার্ভার কপি দেয়, তারা নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করে না। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের ২০২৬ সালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিক্রেতারা কমিশনের লোগোসহ একটি পিডিএফকে সার্ভার কপি বলে, যাতে একজন মানুষের বিস্তারিত তথ্য থাকে।

নিজের কার্ডের কপি চাইলে নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে নামানো যায়, অথবা উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে নেওয়া যায়। অন্যের NID নম্বর দিয়ে তার তথ্য বের করা তথ্য ফাঁসেরই অংশ।

নিজের NID-র অনলাইন কপি

নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নিজের মোবাইল যাচাই করে কপি নামান, কাউকে টাকা দিতে হয় না।

পোর্টালে যান
এই লেখায়
  1. সার্ভার কপি বলতে যা বোঝানো হয়
  2. তথ্যটা বাইরে আসে কোথা থেকে
  3. নিজের কপি নেওয়ার সরকারি পথ
  4. দোকানে কাজ করাতে হলে যা মানবেন
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. সার্ভার কপি বলতে যা বোঝানো হয়

ডিসমিসল্যাব ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি নিয়ে একটি অনুসন্ধান প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বিক্রেতাদের ভাষায় সার্ভার কপি মানে নির্বাচন কমিশনের লোগো বসানো একটি পিডিএফ, যাতে কারও NID-র বিস্তারিত তথ্য থাকে।

পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রতিবেদক দেখেন, একটি সাইটের পরিচালক ভোটার নম্বর আর জন্মতারিখ পেয়ে ১৫০ টাকায় পিডিএফ পাঠিয়ে দেন। টেলিগ্রামের আরেক বিক্রেতা ৫০০ টাকা অগ্রিম নিয়ে ১৭ মিনিটে কপি দেন। এই ব্যবসা অন্তত তিন বছর ধরে চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

আপনি কিনলেও তথ্যটা অন্যের হাতে যায়

নিজের কপি কিনতে গেলেও আপনার NID নম্বর, জন্মতারিখ আর ফোন নম্বর বিক্রেতার কাছে থেকে যায়। একই পথে অন্য কেউ আপনার তথ্যও কিনতে পারে।

২. তথ্যটা বাইরে আসে কোথা থেকে

ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা, হাসপাতালসহ বহু প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের পরিচয় মেলাতে নির্বাচন কমিশনের NID সার্ভার ব্যবহার করে। প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী এমন ১৮২টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কমিশনের চুক্তি আছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১০ ডিজিটের NID নম্বর দিলেই নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি চলে আসছিল। কমিশন তখন সন্দেহভাজন কিছু প্রতিষ্ঠানের সার্ভার সেবা সাময়িক বন্ধ করে আর তদন্ত কমিটি করে।

  • কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষকে তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মেলে বলে প্রথম আলো জানায়।
  • এদের মধ্যে ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইউসিবির উপায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস।
  • কমিশন তাদের কারণ দর্শাতে বলে এবং সার্ভারে প্রবেশ আরও সীমিত করার কথা জানায়।

৩. নিজের কপি নেওয়ার সরকারি পথ

NID উইংয়ের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, কার্ড অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যায়, অথবা যে এলাকায় ভোটার হয়েছেন সেখানকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়। অন্য কেউ আপনার হয়ে কার্ড তুলতে পারবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরেও কমিশন অনলাইন থেকে নামানোর কথাই বলেছে।

  • ১
    নিজের ফোনে পোর্টাল খুলুননির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালে NID বা ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধন করুন। এই কাজ দোকানের কম্পিউটারে না করাই ভালো।
  • ২
    মোবাইলে কোড নিননিবন্ধিত মোবাইলে আসা কোড শুধু নিজে বসান। কোড বা পাসওয়ার্ড কাউকে বলবেন না।
  • ৩
    মুখমণ্ডল যাচাই করুনপোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী NID Wallet অ্যাপে নিজের মুখ যাচাই শেষ করুন।
  • ৪
    কপি নামিয়ে রাখুনপিডিএফ কপি নিজের ফোনে বা ইমেইলে রাখুন। প্রিন্ট দরকার হলে ফাইলটা নিজে নিয়ে গিয়ে শুধু প্রিন্ট করিয়ে নিন।

মোবাইল নম্বর বদলে গেলে বা কোড না এলে কী করবেন, তা আমাদের পাসওয়ার্ড আর কোডের লেখায় আছে। NID হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরেও জানতে পারেন।

৪. দোকানে কাজ করাতে হলে যা মানবেন

নিজের তথ্য বাঁচাতে

তথ্য অপব্যবহারের সন্দেহ হলে

আপনার NID দিয়ে অচেনা সিম নিবন্ধন হয়েছে কি না দেখে নিন, আর থাকলে বন্ধ করুন। প্রতারণার শিকার হলে থানায় জিডি বা অভিযোগ করুন এবং নির্বাচন অফিসকে জানান।

৫. অনেকে যা জানতে চান

সার্ভার কপি আর অনলাইন কপি কি একই?
না। অনলাইন কপি আপনি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নামান। সার্ভার কপি নামে যা বিক্রি হয়, তা কমিশনের কোনো সেবা নয়, বিক্রেতারা অন্য পথে তথ্য জোগাড় করে।
অনলাইন কপি নামাতে কি টাকা লাগে?
নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইন কপি নামাতে নির্বাচন কমিশনকে কোনো ফি দিতে হয় না। কার্ড হারিয়ে নতুন কার্ড চাইলে আলাদা ফি আছে, সেটা পোর্টালের ফি হিসাবের পাতায় দেখা যায়।
কেউ আমার NID দিয়ে সার্ভার কপি বের করলে কী করব?
কোথায় অপব্যবহার হয়েছে তার প্রমাণ রাখুন, থানায় জিডি বা অভিযোগ করুন আর নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসকে জানান। নিজের নামে অচেনা সিম আছে কি না সেটাও দেখে নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন