জাতীয় পরিচয়পত্র

NID কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন যেভাবে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd

সংক্ষেপে

নির্বাচন কমিশনের NID পোর্টালে 'রেজিস্টার করুন' দিয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলুন। NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিলে মোবাইলে বা ইমেইলে অ্যাক্টিভেশন কোড আসে। এরপর মোবাইলে NID Wallet অ্যাপ দিয়ে মুখমণ্ডল যাচাই সেরে লগইন করলে ডাউনলোড অংশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের PDF কপি পাবেন।

প্রবাসী হিসেবে নিবন্ধিত হলে কোড আর বার্তা যায় শুধু ইমেইলে। কপিটি কোথায় গ্রহণ করা হবে, তা ঠিক করে যে প্রতিষ্ঠানে জমা দিচ্ছেন তারাই, তাই জরুরি কাজে আগে জেনে নিন। আটকে গেলে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫।

NID পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুন

প্রথম পাতার 'অ্যাকাউন্ট নেই?' অংশে 'রেজিস্টার করুন' থেকে শুরু হয়।

পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. কারা অনলাইন কপি নামাতে পারেন
  2. শুরুর আগে যা হাতে রাখবেন
  3. অ্যাকাউন্ট খুলে কপি নামানোর ধাপ
  4. বিদেশে থাকলে: কোড আসবে ইমেইলে
  5. ডাউনলোড করা কপি কোথায় কাজে লাগে
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. কারা অনলাইন কপি নামাতে পারেন

যাঁদের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে গেছে, তাঁরা সবাই নিজের অ্যাকাউন্ট খুলে কপি নামাতে পারেন। হাতে প্লাস্টিক বা স্মার্ট কার্ড থাকুক বা না থাকুক, কপি একই পোর্টাল থেকে আসে। কমিশনের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, বিদেশে চলে গেলেও কার্ড অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

আপনার অবস্থাঅ্যাকাউন্ট খুলবেন যেভাবে
NID নম্বর জানা আছে'রেজিস্টার করুন' বেছে NID নম্বর, জন্মতারিখ আর ঠিকানার তথ্য দিয়ে
নিবন্ধন হয়েছে, কিন্তু NID নম্বর পাননিনির্বাচন অফিস থেকে পাওয়া ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে
এখনো ভোটার হননিকপি নামানোর সুযোগ নেই, আগে নতুন নিবন্ধন করতে হবে

অ্যাকাউন্ট একবারই খুলতে হয়। পরের বার শুধু ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে আবার কপি নামানো যায়, তাই পাসওয়ার্ডটি নিজের কাছে নিরাপদে রাখুন।

২. শুরুর আগে যা হাতে রাখবেন

অ্যাকাউন্ট খোলার সময় লাগবে

পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট খুলতে বর্তমান কার্ড নম্বর, সক্রিয় মোবাইল বা ইমেইল, জন্মতারিখ আর ঠিকানা লাগে। ঠিকানার তথ্য ভোটার তালিকার সঙ্গে না মিললে অ্যাকাউন্ট খোলা আটকে যেতে পারে, তাই হাতের কার্ড বা আগের কপি দেখে ঘরগুলো পূরণ করুন।

অ্যাপটি কোথা থেকে নেবেন

NID Wallet অ্যাপের অ্যান্ড্রয়েড আর আইওএস লিংক NID পোর্টালের ডাউনলোড পাতার 'ডাউনলোড অ্যাপস' অংশে আছে। অন্য কোনো লিংক বা এপিকে ফাইল থেকে অ্যাপ নামাবেন না।

৩. অ্যাকাউন্ট খুলে কপি নামানোর ধাপ

  • ১
    'রেজিস্টার করুন' চাপুনNID পোর্টালের প্রথম পাতায় 'অ্যাকাউন্ট নেই?' অংশে 'রেজিস্টার করুন' বেছে নিন। NID নম্বর, জন্মতারিখ আর ছবিতে দেখানো কোড দিয়ে এগোন। ফরম নম্বর দিয়ে খুলতে চাইলে সেটিই লিখুন।
  • ২
    ঠিকানা মিলিয়ে দিনপর্দায় যে ঠিকানার ঘর আসে, সেখানে আপনার ভোটার এলাকার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বেছে দিন। তথ্য কমিশনের রেকর্ডের সঙ্গে মিললে পরের ধাপ খোলে।
  • ৩
    অ্যাক্টিভেশন কোড দিনমোবাইল নম্বর দিলে সেখানে কোড যায়। কমিশন জানিয়েছে, যাচাইকরণ কোড ও বার্তা এখন ইমেইলেও পাঠানো হয়। কোড এলে নির্দিষ্ট ঘরে বসিয়ে নিশ্চিত করুন।
  • ৪
    NID Wallet দিয়ে মুখমণ্ডল যাচাইমোবাইলে NID Wallet অ্যাপ খুলে পোর্টালের নির্দেশনা মেনে মুখমণ্ডল যাচাই (Face Verification) সেরে নিন। সাধারণত পোর্টালের পর্দায় একটি QR কোড দেখায়, অ্যাপ দিয়ে সেটি স্ক্যান করে সামনে তাকিয়ে আর মাথা ঘুরিয়ে মুখের ছবি দিতে হয়।
  • ৫
    পাসওয়ার্ড ঠিক করে লগইন করুনঅ্যাকাউন্ট খোলার সময় পোর্টাল ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড ঠিক করতে বলে, সেটি লিখে রাখুন। এরপর পোর্টালের লগইন পাতায় ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড আর ছবির কোড দিয়ে ঢুকুন।
  • ৬
    ডাউনলোড থেকে PDF নিনপ্রোফাইলের ডাউনলোড অংশে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি পাবেন। PDF ফাইলটি নিজের ফোন বা কম্পিউটারে রেখে দিন, দরকারে রঙিন প্রিন্ট নিন।

মুখমণ্ডল যাচাইয়ে বারবার ব্যর্থ হলে আলো ভালো এমন জায়গায় চশমা বা টুপি খুলে আবার চেষ্টা করুন। তবু না হলে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ বা ০১৭০৮-৫০১২৬১ নম্বরে ফোন করুন, রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।

৪. বিদেশে থাকলে: কোড আসবে ইমেইলে

NID পোর্টালের নোটিশে বলা আছে, যাঁরা প্রবাসী হিসেবে নিবন্ধন করছেন, তাঁদের যাচাইকরণ কোড আর বার্তা যায় শুধু ইমেইলে। তাই প্রবাসী হলে দেশের মোবাইল নম্বরের অপেক্ষায় না থেকে যে ইমেইল দিয়েছিলেন, তার ইনবক্স আর স্প্যাম ফোল্ডার দেখুন।

দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসীরা আবেদনের সময়ই ইমেইল, ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রোফাইল খোলেন। টরন্টোর বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ড তৈরি হলে সেই ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ডে লগইন করলে পোর্টাল NID Wallet অ্যাপে প্রোফাইল যাচাই করতে বলে, তারপর ডিজিটাল NID নামানো যায়।

লগইনের তথ্য হারাবেন না

বিদেশ থেকে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা ইমেইলে ঢুকতে না পারলে সমাধান পেতে সময় লাগে। আবেদনের সময় দেওয়া ইমেইল, ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড লিখে নিরাপদে রাখুন।

৫. ডাউনলোড করা কপি কোথায় কাজে লাগে

পোর্টাল থেকে নামানো PDF-এ আপনার ছবি, নাম, জন্মতারিখ আর NID নম্বরসহ কমিশনের রেকর্ডে থাকা তথ্য থাকে। কার্ড হাতে না এলে বা কার্ড হারালে অনেকে এই কপি দিয়েই কাজ চালান। অনেক প্রতিষ্ঠান কমিশনের যাচাই সেবার মাধ্যমে NID নম্বর মিলিয়ে নেয়, তাই তথ্য ঠিক থাকলে কপি দিয়ে অনেক কাজ এগোয়।

  • কোনো প্রতিষ্ঠান মূল কার্ড দেখতে চাইলে তাদের নিয়মই মানতে হবে, তাই জরুরি কাজে আগে জিজ্ঞেস করে নিন।
  • প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ড ছাপা ও বিতরণ হয় আলাদাভাবে, এলাকা ধরে। কার্ড এসেছে কি না দেখার নিয়ম স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাসের লেখায় আছে।
  • কার্ড হারালে রি-ইস্যুর আবেদন আলাদা কাজ, ফি দিতে হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হারানো NID তুলতে থানায় GD লাগে না।
  • কপিতে নাম বা জন্মতারিখ ভুল দেখলে সেটি সংশোধনের আবেদনে ঠিক করতে হয়, কপি নতুন করে নামালে ভুল যায় না।
'সার্ভার কপি' বিক্রির সাইট এড়িয়ে চলুন

অনেক ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেজ টাকা নিয়ে NID নম্বর দিয়ে 'সার্ভার কপি' বের করে দেওয়ার কথা বলে। এগুলো কমিশনের সেবা নয়, এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যায়। কপি নিন শুধু নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

NID-র কপি ডাউনলোড করতে কি টাকা লাগে?
নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে কপি নামাতে কমিশনকে আলাদা কোনো ফি দিতে হয় না। ফি লাগে হারানো কার্ড তোলা (রি-ইস্যু) বা তথ্য সংশোধনের আবেদনে, তার হার পোর্টালের ফি পাতায় আছে। দোকান থেকে নামালে তারা শুধু প্রিন্ট বা সেবার দাম নেয়।
দোকানের কম্পিউটার থেকে কপি নামানো কি নিরাপদ?
ঝুঁকি আছে। যদি নামাতেই হয়, পাসওয়ার্ড নিজে টাইপ করুন, কাজ শেষে লগআউট করুন আর PDF ফাইলটি সেখান থেকে মুছে দিতে বলুন। মোবাইলে আসা কোড বা মুখমণ্ডল যাচাইয়ের সুযোগ দোকানদারকে দেবেন না।
নিবন্ধনের সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলাম, সেটি এখন বন্ধ। কী করব?
কোড না এলে অ্যাকাউন্ট খোলা এগোবে না। নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে ফোন করে জেনে নিন কী করতে হবে, অথবা NID নিয়ে নিজের উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যান।
অন্য কারও NID কপি কি আমি নামাতে পারব?
কপি নামাতে হয় যাঁর NID, তাঁর নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে, আর মুখমণ্ডল যাচাইও তাঁকেই দিতে হয়। বয়স্ক বাবা-মাকে সাহায্য করতে চাইলে তাঁদের সামনে বসে তাঁদের ফোনে কাজটি করুন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

NID নিয়ে আরও লেখা

সব NID গাইড
NID সংশোধন

সংশোধনের আবেদন বাতিল হলে কী করবেন

বাতিলের কারণ কোথায় দেখবেন, আপিলে কোন কাগজ নিয়ে যাবেন, আর নতুন করে আবেদনের আগে কী মিলিয়ে নেবেন। পড়তে ৩ মিনিট
কাগজপত্র

নাম সংশোধনে কী কী কাগজ লাগে

বাংলা বা ইংরেজি নামের বানান ঠিক করতে এসএসসি সনদ, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আর কাবিননামা কখন কাজে লাগে। পড়তে ২ মিনিট
জন্ম তারিখ

জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধন

কোন সনদের তারিখ বেশি গুরুত্ব পায়, বয়সের ফারাক বড় হলে শুনানি আর মেডিকেল বোর্ডে কী হয়। পড়তে ৩ মিনিট
স্মার্ট কার্ড

স্মার্ট কার্ড এসেছে কি না দেখুন

আপনার এলাকায় কার্ড বিতরণের নোটিশ অনলাইনে কোথায় পাবেন, আর এসএমএসে কোন ফরম্যাটে জানতে হয়। পড়তে ২ মিনিট
নতুন ভোটার

নতুন ভোটার হয়ে প্রথম NID

কারা ভোটার হতে পারেন, কোন কাগজ লাগে, অনলাইন ফরম থেকে আঙুলের ছাপ, আর NID নম্বর এল কি না দেখার উপায়। পড়তে ৭ মিনিট

অনেকে খোঁজেন