
সংক্ষেপে
NID pending application বলতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বোঝায়, আপনি নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নতুন ভোটারের অনলাইন ফরম পূরণ করেছেন, কিন্তু উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ আর চোখের আইরিস দেননি। এই বায়োমেট্রিক ছাড়া নিবন্ধন শেষ হয় না, NID নম্বরও আসে না।
অক্টোবর ২০২৬-এ কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনলাইনে আবেদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন সিস্টেম থেকে নিজে নিজেই বাতিল হয়ে যাবে। কত দিনের সময়, তা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই আবেদন পেন্ডিং থাকলে দেরি না করে ফরমের প্রিন্ট আর কাগজ নিয়ে নির্বাচন অফিসে যান।
নতুন নিবন্ধনের ফরম, অ্যাকাউন্ট খোলা আর NID কপি নামানো এই পোর্টালেই হয়।
এই লেখায়
১. NID pending application মানে কী
নতুন ভোটার হওয়ার কাজ দুই ভাগে হয়। প্রথম ভাগ অনলাইনে: পোর্টালে ফরম পূরণ করে প্রিন্ট নেওয়া। দ্বিতীয় ভাগ অফিসে: কমিশনের পোর্টাল বলছে, অনলাইনে ফরম পূরণের পর সিডিউল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে হয়। দ্বিতীয় ভাগ বাকি থাকলে আবেদনটি অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে থাকে। লোকে একেই পেন্ডিং বলে।
| আপনার অবস্থা | এর মানে | এখন কী করবেন |
|---|---|---|
| অনলাইনে ফরম জমা, অফিসে যাননি | বায়োমেট্রিক বাকি, নিবন্ধন শুরুই হয়নি | প্রিন্ট আর কাগজ নিয়ে দ্রুত নির্বাচন অফিসে যান |
| অফিসে কাগজ জমা দিয়েছেন, ছবি তোলার দিন পাননি | অফিসের সিডিউলের অপেক্ষা | অফিস থেকে তারিখ জেনে নিন, সেদিন নিজে হাজির হন |
| ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়েছেন, নম্বর আসেনি | সার্ভারে যাচাই চলছে | ফরম নম্বর দিয়ে পোর্টালে রেজিস্টার করে দেখুন |
| পুরোনো NID-র সংশোধন আটকে আছে | এটা আলাদা বিষয়, সংশোধনের পেন্ডিং | সংশোধনের অবস্থা অ্যাকাউন্টে দেখুন |
শেষ সারির বিষয়টি গুলিয়ে ফেলবেন না। NID সংশোধনের আবেদন কত দিন আটকে থাকে আর কোন ক্যাটাগরি কে অনুমোদন করেন, তা আমাদের এনআইডি সংশোধনের সময় নিয়ে লেখায় আছে। এই লেখা শুধু নতুন ভোটারের আবেদন নিয়ে।
২. বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন বাতিল: কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত
ইত্তেফাক ২০ অক্টোবর ২০২৬ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে: নতুন ভোটার নিবন্ধন বা NID সংক্রান্ত অনলাইন আবেদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট অফিস বা বুথে গিয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ আর আইরিস না দিলে সময় পেরোনোর পর আবেদন সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
- ইসি সচিব আখতার আহমেদ সিস্টেম ম্যানেজারকে এই ব্যবস্থা চালুর লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আর এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালককেও নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
- উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অসম্পূর্ণ আবেদন সার্ভার থেকে কমানো।
- কত দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক দিতে হবে, খবরে তা বলা নেই। ব্যবস্থা কবে থেকে চালু হবে, সেটাও কমিশনের পরের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিতে হবে।
অনেকে ফরম জমা দিয়ে ভাবেন, অফিস থেকে ডাকা হবে। পোর্টালের নির্দেশনা উল্টো: সিডিউল অনুযায়ী আপনাকেই নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। সময়সীমা ঘোষণার আগেই কাজটা সেরে ফেলুন।
৩. পেন্ডিং আবেদন থাকলে এখন যা করবেন
- ১ফরমের প্রিন্ট বের করুনঅনলাইনে পূরণ করা ফরমের প্রিন্ট কপি হাতে নিন। প্রিভিউতে নাম, জন্মতারিখ আর ঠিকানা আবার মিলিয়ে দেখুন।
- ২কাগজ গুছিয়ে নিনপোর্টালের তালিকা অনুযায়ী বয়সের প্রমাণ হিসেবে এসএসসি সনদ, জন্ম নিবন্ধন, অথবা পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন। সঙ্গে ঠিকানার প্রমাণ আর বাবা, মা, স্বামী বা স্ত্রীর NID-র কপি।
- ৩নিজের এলাকার নির্বাচন অফিসে যানযে এলাকার ভোটার হতে চান, সেখানকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে প্রিন্ট আর কাগজ জমা দিন। ছবি তোলার দিন কবে, সেখানেই জেনে নিন।
- ৪নির্ধারিত দিনে নিজে হাজির হনছবি, দশ আঙুলের ছাপ, আইরিস আর স্বাক্ষর দিন। ফরম নম্বর লেখা যে কাগজ পাবেন, সেটি যত্ন করে রাখুন।
নির্বাচন অফিসে যা নিয়ে যাবেন
একটা উদাহরণ। রুমানা মার্চে অনলাইনে ফরম পূরণ করে প্রিন্ট রেখে দিয়েছিলেন, অফিসে যাননি। অক্টোবরে বাতিলের খবর দেখে তিনি প্রিন্ট আর এসএসসি সনদ নিয়ে থানা নির্বাচন অফিসে গেলেন। অফিস কাগজ দেখে ছবি তোলার তারিখ দিল। এই কাজটুকুই আবেদনকে পেন্ডিং থেকে বের করে আনে।
৪. বায়োমেট্রিক দিয়েছেন, তবু NID নম্বর আসেনি
ছবি আর আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর সার্ভারে সারা দেশের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, যাতে কেউ দুবার ভোটার না হন। এই ধাপে কত দিন লাগবে, কমিশন তার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়নি। নিবন্ধন শেষ হয়েছে কি না, নিজেই দেখতে পারেন।
- NID পোর্টালে 'রেজিস্টার' মেনুতে (Claim Account) যান।
- নির্বাচন অফিস থেকে পাওয়া ফরম নম্বর, জন্মতারিখ আর ক্যাপচা দিন।
- তথ্য মিললে অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করুন, ডাউনলোড মেনু থেকে পরিচয়পত্রের কপি নিন।
- তথ্য না মিললে কাজ সম্ভবত শেষ হয়নি। কয়েক দিন পর আবার চেষ্টা করুন।
অনেক দিন পেরিয়ে গেলে ফরম নম্বর নিয়ে যে অফিসে ছবি তুলেছিলেন সেখানে যান। অথবা কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে ফোন করুন। পোর্টালে দেওয়া সময় রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
৫. nid pending application download বা cancel করা যায় কি
- ডাউনলোড: অসম্পূর্ণ আবেদনের যে ফরম প্রিন্ট লাগে, সেটা পূরণের সময় প্রিভিউ থেকে PDF করে নেওয়া হয়। NID কার্ডের কপি কিন্তু নিবন্ধন শেষ না হলে নামানো যায় না।
- বাতিল: অসম্পূর্ণ নতুন নিবন্ধন নিজে বাতিল করার আলাদা পথ পোর্টালের নির্দেশনায় পাইনি। নতুন সিদ্ধান্ত চালু হলে সময় পেরোনো আবেদন সিস্টেম নিজেই বাতিল করবে।
- দ্বিতীয় আবেদন: একবার নিবন্ধিত হয়ে আবার নিবন্ধন করা দণ্ডনীয়, আঙুলের ছাপে তা ধরা পড়ে। পুরোনো আবেদন থাকা অবস্থায় নতুন ফরম পূরণের আগে নির্বাচন অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন।
নতুন ভোটার নিবন্ধনে কমিশন কোনো ফি নেয় না, ফরমও বিনা মূল্যে। পেন্ডিং আবেদন 'ছাড়িয়ে দিতে' কেউ টাকা চাইলে সরাসরি নির্বাচন অফিসে যান।
৬. অনেকে যা জানতে চান
nid card pending problem হলে কী করব?
বায়োমেট্রিক না দিলে NID আবেদন কত দিনে বাতিল হবে?
nid pending application status কোথায় দেখব?
নতুন ভোটার হতে কি টাকা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।