
সংক্ষেপে
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা দেশে না এসেও নতুন NID করতে পারেন, তবে সব দেশে নয়। কাজটা দুই ভাগে হয়: আগে NID পোর্টালে অনলাইনে ফরম ২(ক) পূরণ, তারপর যে দেশে নিবন্ধন চালু আছে সেখানকার বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, চোখের মণির ছবি, ছবি আর স্বাক্ষর দেওয়া। এরপর দেশে আপনার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস তথ্য যাচাই করে।
এই সুযোগ শুধু নতুন আবেদনকারীদের জন্য। যাঁর আগে থেকেই NID আছে বা দেশে আবেদন করেছেন, তিনি মিশনে নতুন করে নিবন্ধন বা সংশোধন করতে পারবেন না। আবেদনের আগে নিজের মিশনের ওয়েবসাইটে দেখে নিন সেখানে NID সেবা চালু আছে কি না।
প্রবাসী হিসেবে আবেদন করলে যাচাই কোড আর বার্তা আসে শুধু ইমেইলে।
এই লেখায়
১. কোন দেশে চালু আছে, আর কারা আবেদন করতে পারবেন
নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তখন নয়টি দেশের ১৬টি কেন্দ্রে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন চলছিল: সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। জাপান যুক্ত হওয়ার কথা ছিল, আর যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান ও মালদ্বীপে কাজ শুরুর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিলেছিল। কমিশনের লক্ষ্য ৪০টি দেশ।
এরপর তালিকা বেড়েছে, যেমন ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এখন NID আবেদন নেয়। তাই কোনো তালিকার ওপর ভরসা না করে নিজের দেশের মিশনের ওয়েবসাইটে NID সেবার পাতা আছে কি না দেখুন। পাতা না থাকলে মিশনে ফোন বা ইমেইল করে জেনে নিন।
- শুধু নতুন আবেদনকারী: আগে NID পাননি এবং দেশে কখনো ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেননি।
- বয়সের শর্ত মিশনভেদে আলাদা হতে পারে। ওয়াশিংটনের দূতাবাস ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের আবেদন নেয়, অন্য মিশনের শর্ত তাদের পাতায় দেখে নিন।
- যাঁদের NID আছে, তাঁরা মিশন থেকে NID সংশোধন করাতে পারবেন না। ওয়াশিংটনের দূতাবাস এটা পরিষ্কার লিখেছে।
২. যে কাগজগুলো লাগবে
নিচের তালিকা ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের পাতা থেকে নেওয়া, অন্য মিশনে খুঁটিনাটি কিছুটা আলাদা হতে পারে। পাসপোর্ট আর জন্ম নিবন্ধনের তথ্য হুবহু মিলতে হবে, দূতাবাস আলাদা করে এটা বলেছে।
মিশনে যা নিয়ে যাবেন
দেশে যাচাইয়ের সময় উপজেলা নির্বাচন অফিস আরও কিছু কাগজ চাইতে পারে: এসএসসি, জেএসসি বা পিইসি সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা TIN, বিবাহিত হলে নিকাহনামা আর স্বামী বা স্ত্রীর NID, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি। এগুলোর স্ক্যান কপি আগেই গুছিয়ে রাখুন, দরকার হলে দেশে থাকা আত্মীয় জমা দিতে পারবেন কি না নির্বাচন অফিসে জেনে নিন।
৩. অনলাইন ফরম থেকে মিশনে আঙুলের ছাপ
- ১NID পোর্টালে ফরম ২(ক) পূরণservices.nidw.gov.bd-তে নতুন নিবন্ধনের আবেদন অংশে যান। কিছু ঘর বাংলায়, কিছু ইংরেজিতে লিখতে হয়, তাই কম্পিউটার বা ফোনে দুই ভাষায় টাইপ করার ব্যবস্থা রাখুন।
- ২যোগাযোগের তথ্য দিনপ্রবাসী আবেদনে যাচাই কোড আর বার্তা আসে শুধু ইমেইলে। ওয়াশিংটনের দূতাবাস একটি চালু বাংলাদেশি মোবাইল নম্বরও দিতে বলেছে, কারণ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা যাচাইয়ের সময় ফোন করতে পারেন।
- ৩অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিনঅনলাইন আবেদনের সময়েই মিশনে যাওয়ার তারিখ বাছতে হয়। ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড লিখে রাখুন, পরে এগুলো দিয়েই NID নামাবেন।
- ৪মিশনে নিজে উপস্থিত হননির্ধারিত দিনে কাগজ জমা দিন, তারপর আঙুলের ছাপ, চোখের মণি, ছবি আর স্বাক্ষর দিন। নিজে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক, অন্য কেউ গিয়ে কাজটা করে দিতে পারবেন না।
- ৫এনরোলমেন্ট স্লিপ রেখে দিনকাজ শেষে একটি এনরোলমেন্ট স্লিপ দেওয়া হয়। পরে স্মার্ট কার্ড তুলতে এটি লাগবে।
ওয়াশিংটনের দূতাবাস সতর্ক করেছে, ভুল তথ্য দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এতে আবেদন বাতিল হতে পারে। আগে কখনো দেশে ভোটার হয়ে থাকলে নতুন আবেদন করবেন না, আঙুলের ছাপে দুই নিবন্ধন ধরা পড়ে।
৪. NID নম্বর আর স্মার্ট কার্ড হাতে আসে যেভাবে
মিশনে বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর আবেদন যায় দেশে, আপনার ঠিকানার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে। সেখানে যাচাই শেষে নিবন্ধন অনুমোদন হয়। এই কারণে সময় নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, ওয়াশিংটনের দূতাবাসও লিখেছে যে উপজেলা নির্বাচন অফিসের যাচাইয়ের কারণে সময় কমবেশি হয়।
যাচাইয়ের সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফোন করতে পারেন, তাই আবেদনে দেওয়া বাংলাদেশি নম্বরটি চালু রাখুন, দরকারে দেশে থাকা পরিবারের কাউকে নম্বরটি দেখভাল করতে বলুন। আবেদন অনেক দিন ঝুলে থাকলে নিজের উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিন, বা কমিশনের হেল্পলাইনে ফোন করুন।
- NID নম্বর তৈরি হলে মোবাইল বা ইমেইলে বার্তা আসে।
- আবেদনের সময়ের ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে ঢুকে NID-র কপি নামান।
- স্মার্ট কার্ড নির্বাচন কমিশন থেকে মিশনে পৌঁছালে মিশন জানায়, তখন এনরোলমেন্ট স্লিপ নিয়ে তুলতে যান।
নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫, বিদেশ থেকে +৮৮ ০১৭০৮-৫০১২৬১। পোর্টালে দেওয়া সময় রবি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, বাংলাদেশ সময়।
৫. পোস্টাল ভোটের অ্যাপ আর প্রবাসীদের NID সংশোধন
অনেকে ‘প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন’ বলতে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের কথা বোঝেন। ওই অ্যাপ চালু হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা ইতিমধ্যে ভোটার তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার নিবন্ধনের জন্য। এটা নতুন NID পাওয়ার পথ নয়। NID না থাকলে আগে ওপরের নিয়মে ভোটার হতে হবে।
| আপনার অবস্থা | কোথা থেকে শুরু |
|---|---|
| NID নেই, যে দেশে আছেন সেখানে মিশনে সেবা চালু | অনলাইনে ফরম ২(ক), তারপর মিশনে বায়োমেট্রিক |
| NID নেই, আপনার দেশে সেবা চালু হয়নি | দেশে এলে নিজের এলাকার নির্বাচন অফিসে নতুন নিবন্ধন |
| NID আছে, কপি দরকার | পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে কপি নামান, কোড আসবে ইমেইলে |
| NID আছে, তথ্যে ভুল | পোর্টালের অনলাইন সংশোধন, মিশন থেকে নয় |
প্রবাসীদের সংশোধনের আবেদন আলাদা করে চেনার জন্য কমিশন একটি ‘প্রবাসী তথ্য ফরম’ চালুর প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বলে ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর সংবাদে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এতে দেশ, চাকরি, পাসপোর্ট নম্বর আর বিদেশের ঠিকানা দিতে হবে, সঙ্গে ভিসার কপি আর বিদেশে থাকার প্রমাণ। এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়, তাই কমিশনের ঘোষণা দেখে তবেই আবেদন করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
আমার দেশে মিশনে NID সেবা নেই। অনলাইনে ফরম পূরণ করে রাখলে কি হবে?
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ। তবু কি আবেদন করা যাবে?
দেশে থাকতে একবার ছবি তুলেছিলাম, কার্ড নিইনি। মিশনে আবার নিবন্ধন করব?
নিবন্ধনে কোনো ফি লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।