জাতীয় পরিচয়পত্র

ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়: ফরম নম্বর ছাড়া NID পাবেন যেভাবে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬NID হেল্পলাইন ১০৫services.nidw.gov.bd
ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়: ফরম নম্বর ছাড়া NID পাবেন যেভাবে

সংক্ষেপে

ভোটার স্লিপ হারালেও আপনার নিবন্ধন বাতিল হয় না, কারণ ছবি, আঙুলের ছাপ আর তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে থেকে যায়। স্লিপের আসল কাজ হলো ফরম নম্বর মনে রাখানো। ফরম নম্বর কোথাও লেখা থাকলে NID পোর্টালের 'রেজিস্টার করুন' অংশে ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে কার্ডের কপি নামাতে পারবেন।

ফরম নম্বরও জানা না থাকলে যে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে ছবি তুলেছিলেন, সেখানে নিজে যান। অনেক বছর আগে ভোটার হয়ে কার্ড না তুলে থাকলেও প্রথম ঠিকানা ওই অফিস। একটা কাজ কখনো করবেন না: স্লিপ নেই বলে নতুন করে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন। কমিশনের নির্দেশনায় এটাকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলা আছে।

NID পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুন

ফরম নম্বর বা NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধন করে কার্ডের কপি নামানো যায়।

পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. স্লিপে আসলে কী থাকে, আর হারালে কী হারায়
  2. ফরম নম্বর জানা থাকলে: অনলাইনে NID বের করুন
  3. ফরম নম্বরও জানা নেই: নির্বাচন অফিসে যান
  4. অনেক আগে ভোটার হয়েছিলেন, কার্ড কখনো তোলেননি
  5. বিদেশে থাকলে, আর সাহায্য কোথায় পাবেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. স্লিপে আসলে কী থাকে, আর হারালে কী হারায়

ভোটার নিবন্ধনের দিন ছবি আর আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর অফিস যে কাগজটা দেয়, সেটাই সবাই 'ভোটার স্লিপ' বা 'নিবন্ধন স্লিপ' বলে। এতে মূলত আপনার ফরম নম্বর লেখা থাকে। NID নম্বর তৈরি হওয়ার আগে এই নম্বর দিয়েই আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায়।

স্লিপ হারালে হারায় শুধু এই নম্বরটা মনে রাখার কাগজ। আপনার নিবন্ধন, ছবি বা আঙুলের ছাপ কোথাও যায় না। তাই প্রথম কাজ হলো ঘরে খোঁজা, স্লিপটা না পেলেও ফরম নম্বর অন্য কোথাও লেখা আছে কি না। অনেকে স্লিপের ছবি ফোনে তুলে রাখেন, কেউ কেউ স্কুল বা অফিসের কাগজে নম্বরটা লিখে দেন।

ফরম নম্বর কোথায় খুঁজবেন

২. ফরম নম্বর জানা থাকলে: অনলাইনে NID বের করুন

NID পোর্টালের সাধারণ জিজ্ঞাসায় পরিষ্কার লেখা আছে, যাঁরা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু NID নম্বর পাননি, তাঁরা রেজিস্টার মেনুতে (Claim Account) গিয়ে নিজের ফরম নম্বর, জন্মতারিখ আর ক্যাপচা দিয়ে অনলাইন অ্যাকাউন্ট খুলবেন। তারপর লগইন করে ডাউনলোড অংশ থেকে পরিচয়পত্রের কপি নামাবেন।

  • ১
    পোর্টালে 'রেজিস্টার করুন' বেছে নিনNID পোর্টালের প্রথম পাতায় অ্যাকাউন্ট নেই অংশে রেজিস্টার করুন চাপুন। যেখানে NID বা ফরম নম্বর চাওয়া হয়, সেখানে ফরম নম্বরটি লিখুন।
  • ২
    জন্মতারিখ আর কোড দিননিবন্ধনের সময় যে জন্মতারিখ দিয়েছিলেন, সেটিই দিন। ছবিতে দেখানো কোড লিখে পরের ধাপে যান।
  • ৩
    যাচাই কোড নিনমোবাইলে বা ইমেইলে আসা কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করুন। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী এরপর NID Wallet অ্যাপে মুখমণ্ডল যাচাই করতে হয়।
  • ৪
    কপি নামানলগইন করে ডাউনলোড অংশ থেকে PDF কপি নিন। এই কপি থেকেই আপনার NID নম্বর জেনে যাবেন, তাই নম্বরটা আলাদা করে লিখে রাখুন।
তথ্য না মিললে

ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ ঠিক দিয়েও তথ্য না মিললে হয়তো আপনার নিবন্ধনের কাজ এখনো শেষ হয়নি, বা তারিখ অন্যভাবে লেখা হয়েছে। তখন নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫-এ ফোন করুন, না হলে নিজের নির্বাচন অফিসে যান।

৩. ফরম নম্বরও জানা নেই: নির্বাচন অফিসে যান

ফরম নম্বর বা NID নম্বর ছাড়া পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খোলার কোনো পথ নেই। কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্লিপ বা ফরম নম্বর হারালে অনলাইনে নম্বর বের করার আলাদা ব্যবস্থার কথাও নেই। তাই এই অবস্থায় একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হলো যে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নিবন্ধন করেছিলেন, সেখানে নিজে যাওয়া।

অফিস কীভাবে আপনার রেকর্ড খুঁজবে, তার নির্দিষ্ট পদ্ধতি কমিশন প্রকাশ করেনি। তাই খালি হাতে না গিয়ে আপনাকে চেনা যায় এমন সব তথ্য আর কাগজ সঙ্গে নিন, যাতে কর্মকর্তার কাজটা সহজ হয়।

নির্বাচন অফিসে যা নিয়ে যাবেন

নতুন করে ভোটার হতে যাবেন না

স্লিপ নেই বলে অনেকে আবার নতুন নিবন্ধনের ফরম পূরণ করেন। NID পোর্টালের নির্দেশনায় বলা আছে, নিবন্ধিত ব্যক্তি আবার আবেদন করলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দ্বৈত নিবন্ধন ধরা পড়ে, আর তখন দুটো রেকর্ডই আটকে যেতে পারে।

৪. অনেক আগে ভোটার হয়েছিলেন, কার্ড কখনো তোলেননি

২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ছবি তোলা অনেকেই তখন কার্ড নেননি, স্লিপও আর নেই। NID পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে এই অবস্থার জন্য দুই ধাপের উত্তর আছে।

  1. যে এলাকায় ভোটার হয়েছিলেন, সেখানকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে কার্ড সংগ্রহ করুন।
  2. অফিসে কার্ড পাওয়া না গেলে অনলাইনে রিইস্যুর আবেদন করুন। অনুমোদনের পর মোবাইল বা ইমেইলে বার্তা আসবে, তখন অনলাইন থেকে কপি নামাতে পারবেন।

রিইস্যু মানে কার্ড আবার তোলার আবেদন, আর এর জন্য ফি দিতে হয়। পোর্টালের ফি হিসাব করুন পাতায় আবেদনের ধরন হিসেবে রিইস্যু আর বিতরণের ধরন বাছলে আপনার অঙ্কটা দেখায়। সেই অঙ্কই জমা দিন, কারও মুখে শোনা অঙ্ক নয়।

আপনার অবস্থাকোথা থেকে শুরু করবেন
স্লিপ নেই, কিন্তু ফরম নম্বর জানাপোর্টালে রেজিস্টার করুন, ফরম নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে
NID নম্বর জানা, শুধু কার্ড নেইপোর্টালে NID নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করে কপি নামান
ফরম নম্বর, NID নম্বর কিছুই জানা নেইযেখানে নিবন্ধন করেছিলেন, সেই উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস
পুরোনো নিবন্ধন, কার্ড কখনো তোলেননিআগে নির্বাচন অফিস, সেখানে না পেলে অনলাইনে রিইস্যু

৫. বিদেশে থাকলে, আর সাহায্য কোথায় পাবেন

NID পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, বিদেশে থাকলে কার্ড তোলার জন্য অন্য কাউকে পাঠানোর দরকার নেই, অনলাইন থেকেই কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। প্রবাসী হিসেবে নিবন্ধিত হলে যাচাই কোড যায় শুধু ইমেইলে। তবে ফরম নম্বর বা NID নম্বর ছাড়া প্রবাস থেকেও অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না, তাই দেশে থাকা পরিবারের কারও কাছে পুরোনো কাগজ খুঁজতে বলুন।

নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫, বিদেশ থেকে +৮৮ ০১৭০৮-৫০১২৬১। পোর্টালে দেওয়া সময় রবি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। ইমেইল info@nidw.gov.bd।

৬. অনেকে যা জানতে চান

ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে কি থানায় জিডি করতে হবে?
NID পোর্টালের নির্দেশনায় স্লিপ হারানোর জন্য জিডির কথা নেই। স্লিপ শুধু ফরম নম্বর জানার কাগজ। কার্ড হাতে পেয়ে সেটি হারালে আলাদা কথা, তখন রিইস্যুর নিয়ম চলে।
স্লিপ ছাড়া কি ভোট দেওয়া বা NID পাওয়া আটকে যাবে?
না। নিবন্ধন হয়ে থাকলে আপনার রেকর্ড কমিশনের ডাটাবেজে আছে। ফরম নম্বর বা NID নম্বর জানতে পারলেই অনলাইন কপি নামানো যায়, আর নির্বাচন অফিস থেকেও কার্ড তোলা যায়।
দোকানে নাম আর বাবার নাম দিলে নাকি NID বের করে দেয়, এটা কি ঠিক?
নাম দিয়ে খুঁজে NID বের করার কোনো সরকারি অনলাইন ব্যবস্থা কমিশনের পোর্টালে নেই। অপরিচিত দোকানে নিজের তথ্য দেওয়ার চেয়ে সরাসরি নির্বাচন অফিসে যাওয়া নিরাপদ।
অন্য জেলায় থাকি, নিবন্ধন করেছিলাম গ্রামের বাড়িতে। কোথায় যাব?
প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী কার্ড তোলা যায় যে এলাকায় ভোটার হয়েছেন সেখানকার নির্বাচন অফিস থেকে। যাওয়ার আগে হেল্পলাইন ১০৫-এ ফোন করে জেনে নিন, আপনার ক্ষেত্রে কাছের অফিস থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে কি না।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন