
সংক্ষেপে
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম আর পার্বত্য জেলার যেসব উপজেলা নির্বাচন কমিশন বিশেষ এলাকা ঘোষণা করেছে, সেখানে ভোটার হতে সাধারণ কাগজের পাশাপাশি একটি বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হয়। ফরমে দাদার নাম ও এনআইডি আর এনআইডি আছে এমন তিন নিকটাত্মীয়ের তথ্য দিতে হয়।
নির্বাচন কমিশনের ২০২৪ সালের পরিপত্রে আবেদনকারীদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এসএসসি সনদ থাকলে এ, না থাকলে বি ক্যাটাগরিতে কাগজ দিয়ে ভোটার হওয়া যায়, আর এ দুটির কোনোটিতে না পড়লে আবেদন যায় উপজেলার বিশেষ কমিটির কাছে।
বিশেষ তথ্য ফরম আর বিশেষ এলাকার উপজেলা-থানার তালিকা এনআইডি সেবার ডাউনলোড পাতায়।
এই লেখায়
১. বিশেষ এলাকা কোনগুলো
টেকনাফের মেয়ের বয়স ১৮ হলো, বন্ধুরা ঢাকায় শুধু জন্ম নিবন্ধন আর এসএসসি সনদ দিয়েই ভোটার হয়ে গেল, অথচ উপজেলা নির্বাচন অফিস তাকে আরও কাগজ চাইছে। এর কারণ, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন কিছু এলাকাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করে বাড়তি যাচাই করে।
এনআইডি পোর্টালে থাকা নির্বাচন কমিশনের ২০১৭ সালের তালিকায় চার জেলার ৩২টি উপজেলা-থানা বিশেষ এলাকা ছিল। পরে এলাকা বেড়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার ৫৬টি উপজেলা এখন বিশেষ এলাকা, ২০২৫ সালে একজন নির্বাচন কমিশনারও ৫৬ উপজেলার কথা বলেছেন। পূর্ণ নতুন তালিকা আমরা কমিশনের সাইটে পাইনি, তাই নিজের উপজেলা আছে কি না উপজেলা নির্বাচন অফিসে জেনে নিন।
| জেলা | ২০১৭ সালের তালিকায় থাকা উপজেলা |
|---|---|
| কক্সবাজার | কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া |
| বান্দরবান | বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি |
| রাঙামাটি | রাঙামাটি সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল |
| চট্টগ্রাম | বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, কর্ণফুলী |
২. কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ভোটার হতে কি কি লাগে: তিন ক্যাটাগরি
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের মতবিনিময় সভায় এর ব্যাখ্যা নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর যে প্রতিবেদন করে, সেখান থেকে তিন ক্যাটাগরির কাগজ:
| ক্যাটাগরি | কারা | যে কাগজ লাগে |
|---|---|---|
| এ | ন্যূনতম এসএসসি সনদ আছে, বা সরকারি চাকরিজীবীর সন্তান | শিক্ষাগত সনদ, কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি। চাকরিজীবীর সন্তান হলে বাবা বা মায়ের সার্ভিস বইয়ের সত্যায়িত কপি |
| বি | শিক্ষাগত সনদ নেই | কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ, বাবা-মায়ের আঙুলের ছাপ যাচাই। পার্বত্য তিন জেলায় রাজার সনদ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের স্থায়ী বাসিন্দা সনদ। ভূমিহীন হলে ভূমিহীন সনদ, থাকলে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স |
| সি | এ বা বি-র কোনোটিতে পড়েন না | উপজেলা বা থানার বিশেষ কমিটি আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেয় |
এই তালিকা ২০২৪ সালের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। নির্বাচন কমিশন পরে কোনো কাগজ যোগ বা বাদ দিয়েছে কি না, আবেদনের আগে উপজেলা নির্বাচন অফিসে সর্বশেষ তালিকা চেয়ে নিন।
৩. বিশেষ তথ্য ফরমে কী কী দিতে হয়
সাধারণ নিবন্ধন ফরম, মানে ফরম-২-এর সঙ্গে বিশেষ এলাকার আবেদনকারীকে আবেদনকারীর বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হয়। ফরমটি এনআইডি পোর্টালের ডাউনলোড পাতায় আছে। আগে থেকে তথ্যগুলো জোগাড় করে রাখলে ফরম পূরণের দিন দৌড়াতে হয় না।
ফরমের জন্য আগে জোগাড় করুন
ফরমের শেষে আবেদনকারী নিজে প্রত্যয়ন করেন যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক আর সব তথ্য সত্য। তথ্য সংগ্রহকারীর এনআইডি নম্বর আর বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তের ঘরও ফরমে আছে।
৪. আবেদন থেকে ছবি তোলা পর্যন্ত
- ১উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজআপনার উপজেলা বিশেষ এলাকা কি না আর কোন ক্যাটাগরিতে পড়বেন, অফিস থেকে জেনে নিন।
- ২অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ঠিক করুনজন্ম নিবন্ধন কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন সনদ হতে হবে। নাম বা জন্মতারিখ এসএসসি সনদের সঙ্গে না মিললে আগে সংশোধন করুন।
- ৩ফরম-২ আর বিশেষ তথ্য ফরমদুটো ফরম পূরণ করে কাগজের কপিসহ জমা দিন। তিন আত্মীয়ের এনআইডির তথ্য যেন নির্ভুল হয়।
- ৪যাচাই ও বায়োমেট্রিককাগজ যাচাইয়ের পর ছবি তোলা আর আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। বি ক্যাটাগরিতে বাবা-মায়ের আঙুলের ছাপও যাচাই হয়।
ধরুন, উখিয়ার রাশেদা আক্তার এ বছর এসএসসি পাস করেছে, বাবা-মা দুজনেরই এনআইডি আছে। সে এ ক্যাটাগরিতে পড়বে: এসএসসি সনদ, কিউআর কোডযুক্ত জন্ম নিবন্ধন, ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সনদ আর বাবা-মায়ের এনআইডির কপি নিয়ে যাবে। বিশেষ তথ্য ফরমে বড় ভাই, বোন আর চাচার এনআইডির তথ্য দেবে।
৫. বিশেষ কমিটি কী দেখে, আবেদন বাতিল হলে কী করবেন
সি ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি করে বিশেষ কমিটি। উপজেলায় এর প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাচন অফিসার; থানার ওসি বা পরিদর্শক, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আর পার্বত্য এলাকায় হেডম্যান বা কারবারি সদস্য থাকেন। সিটি করপোরেশন এলাকায় কমিটির প্রধান জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা।
কমিটি আবেদনকারীর ভাই-বোনের এনআইডিতে থাকা বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে আবেদনের নাম মেলায়, চাচা-ফুফুর তথ্য তথ্যভান্ডারে যাচাই করে। তাই তিন আত্মীয়ের নাম বা নম্বরে একটি ভুলও আবেদন আটকে দিতে পারে।
- কমিটির যাচাইয়ে আবেদন বাতিল হলে কমিটির সিদ্ধান্তের অনুলিপি নিয়ে সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়, পরিপত্রে এ কথা বলা আছে।
- সিদ্ধান্তের কপি লিখিতভাবে চেয়ে নিন, মুখের কথায় বাতিল মেনে নেবেন না।
- ভুল তথ্য থাকলে আগে সেটি ঠিক করুন, যেমন আত্মীয়ের এনআইডিতে বাবার নামের বানান, তারপর আবার আবেদন করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
কক্সবাজার জেলায় ভোটার হতে কি কি লাগবে?
এসএসসি পাস না করলে কি বিশেষ এলাকায় ভোটার হওয়া যায়?
bishesh elakar voter form kothay pabo?
চট্টগ্রাম শহরে ভোটার হতে কি বিশেষ ফরম লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।