
সংক্ষেপে
NID-তে জন্মস্থান ভুল থাকলে services.nidw.gov.bd পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে সংশোধনের আবেদন করা যায়, উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসেও করা যায়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় জন্মস্থানের জন্য আলাদা কাগজের তালিকা নেই। এটি পড়ে 'অন্যবিধ সংশোধন'-এ, যেখানে দাবির পক্ষে উপযুক্ত সনদ বা দলিলের সত্যায়িত কপি দিতে হয়।
সবচেয়ে কাজের কাগজ হলো এমন কোনো সরকারি দলিল, যেখানে সঠিক জন্মস্থান লেখা আছে, যেমন জন্ম নিবন্ধন সনদ। একই তথ্য সাধারণত একবারই সংশোধন করা যায়, তাই প্রথম আবেদনেই ঠিক কাগজ দিন।
নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে সংশোধনের আবেদন, ফি আর অবস্থা দেখা যায়।
এই লেখায়
১. ভোটার আইডি কার্ডে জন্মস্থান ভুল আসে কেন
বেশির ভাগ ভুল হয় নিবন্ধনের সময় তথ্য তোলায়। কেউ জন্মস্থানের ঘরে বর্তমান ঠিকানার জেলা লিখে দেন, কারও ক্ষেত্রে হাসপাতাল যে জেলায় সেটা না লিখে গ্রামের বাড়ির জেলা লেখা হয়। আবার কখনো ভুলটা সিস্টেমের।
একটা উদাহরণ ধরুন। সুমনের জন্ম চট্টগ্রামের এক হাসপাতালে, জন্ম সনদেও জন্মস্থান চট্টগ্রাম। কিন্তু নিবন্ধনের সময় গ্রামের বাড়ির জেলা নোয়াখালী লেখা হয়ে গেছে। পাসপোর্ট করতে গিয়ে দুই কাগজে অমিল ধরা পড়ল। এখানে জন্ম সনদই তাঁর সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ।
২০২২ সালের আগস্টে প্রথম আলো ইউএনবির বরাতে জানায়, মৌলভীবাজারের অন্তত ১২ জনের NID-তে জন্মস্থান হিসেবে ভেনেজুয়েলা লেখা এসেছিল। তাঁরা আগের ভুল সংশোধন করতে নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছিলেন, তার পরই এই ভুল। বড়লেখার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এর কারণ হিসেবে কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারের ত্রুটির কথা বলেছিলেন।
তাই অন্য কোনো তথ্য সংশোধনের পর নতুন কপি নামিয়ে জন্মস্থানসহ সব ঘর একবার মিলিয়ে দেখুন। ভুল চোখে পড়লে দেরি না করে আবেদন করুন।
২. NID জন্মস্থান সংশোধনে কোন কাগজ লাগে
NID পোর্টালের নির্দেশনায় নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ আর শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য আলাদা কাগজের কথা আছে। জন্মস্থান এর কোনোটিতে নেই। নবম দফায় বলা আছে, অন্যবিধ যেকোনো সংশোধনে সংশোধনের পক্ষে উপযুক্ত সনদ, দলিল ইত্যাদির সত্যায়িত কপি দিতে হবে।
যে কাগজগুলো হাতে রাখবেন
কপি সত্যায়ন করতে পারেন সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা অথবা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান। নির্দেশনায় আরও বলা আছে, অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩. অনলাইনে জন্মস্থান সংশোধনের ধাপ
- ১পোর্টালে লগইন করুনservices.nidw.gov.bd-তে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে আগে নিবন্ধন করে নিন।
- ২সংশোধনের আবেদন বেছে নিননিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে কার্ডের তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন বা হালনাগাদের আবেদনের সুবিধা আছে। সেখানে জন্মস্থানের ঘরটি বেছে সঠিক তথ্য লিখুন।
- ৩ফির ধরন মিলিয়ে নিনপোর্টালের ফি হিসাবের পাতায় আবেদনের চারটি ধরন: জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, অন্যান্য তথ্য সংশোধন, দুটো একসঙ্গে, আর রিইস্যু। নিজের কার্ডের পেছনে জন্মস্থান ছাপা আছে কি না দেখে ধরন বাছুন, তারপর অঙ্কটা দেখে নিন।
- ৪কাগজ আপলোড করে জমা দিনসত্যায়িত কপিগুলোর স্ক্যান আপলোড করুন, ফি দিন, তারপর আবেদন জমা দিন। আবেদনের নম্বর আর ফির রসিদ রেখে দিন।
- ৫অবস্থা দেখুন, মঞ্জুর হলে নতুন কপি নিনঅ্যাকাউন্টে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। মঞ্জুর হলে নতুন কপি নামিয়ে জন্মস্থান মিলিয়ে নিন।
পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী হারানো কার্ড তোলা আর সংশোধন একসঙ্গে হয় না। আগে হারানো কার্ড তুলুন, তারপর জন্মস্থান সংশোধনের আবেদন করুন।
আবেদন বাতিল হলে মন খারাপ না করে আগে কারণটা পড়ুন। বেশির ভাগ সময় সমস্যা থাকে কাগজে: সত্যায়ন নেই, ছবি অস্পষ্ট, অথবা জমা দেওয়া দলিলে জন্মস্থানই লেখা নেই। কারণ বুঝে ঠিক কাগজ জোগাড় করে তারপর নতুন আবেদন করুন। একই অসম্পূর্ণ কাগজ দিয়ে বারবার আবেদন করলে শুধু সময় নষ্ট হয়।
৪. জন্ম নিবন্ধন আর পাসপোর্টের জন্মস্থানের সঙ্গে মিল রাখুন
অনেকের সমস্যা একটা কাগজে নয়, তিনটায়। NID-তে এক জেলা, জন্ম সনদে আরেক, পাসপোর্টে তৃতীয়টা। এমন হলে কোন কাগজটা সঠিক, আগে সেটা ঠিক করুন। তারপর বাকিগুলো সেটার সঙ্গে মেলান।
| কোথায় ভুল | কী করবেন |
|---|---|
| শুধু NID-তে | জন্ম সনদের কপি দিয়ে NID পোর্টালে সংশোধনের আবেদন |
| জন্ম সনদেও ভুল | আগে নিবন্ধন কার্যালয়ে জন্ম সনদ সংশোধন, তারপর NID |
| পাসপোর্টে ভুল | NID ঠিক হওয়ার পর নতুন NID অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের আবেদন |
পাসপোর্টের অংশটি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তর থেকে নেওয়া। সেখানে বলা আছে, NID-র তথ্য সংশোধনের পর পাসপোর্টে তা আনতে নতুন NID অনুযায়ী নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হয়। জন্ম সনদের কাজ BDRIS-এ হয়, নোটিশ অনুযায়ী সেখানে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত সব কাজ বন্ধ।
৫. একবারেই ঠিক করুন: যে নিয়মগুলো মনে রাখবেন
- পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, এক তথ্য শুধু একবার সংশোধন করা যায়, আর যুক্তিযুক্ত না হলে কোনো সংশোধন গ্রহণ করা হয় না।
- সব সংশোধনের রেকর্ড কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে থেকে যায়।
- ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দিলে জেল, জরিমানা বা দুটোই হতে পারে।
আরেকটা কথা। জন্মস্থান ঠিক করতে গিয়ে একই আবেদনে অন্য কোনো ঘর বদলাতে চাইলে প্রতিটির পক্ষে আলাদা কাগজ দিন। একটি ঘরের কাগজ দুর্বল হলে পুরো আবেদন আটকে যেতে পারে। তাই জন্মস্থান আর নাম বা জন্মতারিখের মতো বড় পরিবর্তন এক আবেদনে মেশানোর আগে ভেবে নিন, দুটোর প্রমাণই হাতে আছে কি না।
জন্মস্থান বদলে দেওয়ার কোনো শর্টকাট নেই। প্রশ্ন থাকলে NID হেল্পলাইন ১০৫ বা +৮৮ ০১৭০৮-৫০১২৬১-এ রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ফোন করুন, অথবা info@nidw.gov.bd-তে লিখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
nid জন্মস্থান পরিবর্তন করা যায়?
ভোটার আইডি কার্ড জন্মস্থান সংশোধনে কত টাকা লাগে?
জন্মস্থান সংশোধনের জন্য কি অফিসে যেতে হবে?
আমার জন্ম সনদ নেই। কী দিয়ে প্রমাণ দেব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।