সংক্ষেপে
ই-টিআইএন নিতে কোনো ফি লাগে না, কর অফিসেও যেতে হয় না। এনবিআরের ই-টিআইএন সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে মোবাইলে আসা কোড দিয়ে সেটি চালু করুন, তারপর NID নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে আবেদন করুন। তথ্য NID-র সঙ্গে মিলে গেলে ১২ সংখ্যার TIN সনদ তখনই প্রিন্ট বা PDF করে রাখা যায়।
একবার TIN নিলে আর নতুন করে নিতে হয় না। ই-টিআইএন চালুর আগের পুরোনো TIN থাকলে নতুন আবেদন না করে পুনর্নিবন্ধন (Re-registration) করুন।
নতুন নিবন্ধন, পুনর্নিবন্ধন আর TIN সনদ প্রিন্ট এই সাইট থেকেই হয়।
এই লেখায়
১. TIN কার লাগে
এনবিআরের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী যিনি করদাতা, যাঁকে রিটার্ন দিতেই হবে, কিংবা কোনো সেবা নিতে গিয়ে যাঁকে রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) দেখাতে হবে, তিনি TIN-এর জন্য নিবন্ধন করবেন। নিজে থেকে কর দিতে বা রিটার্ন দিতে চাইলেও নিবন্ধন করা যায়।
- বছরের আয় করমুক্ত সীমা পার হলে। ২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ করদাতার সীমা ৪ লাখ টাকা।
- ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ, ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনা বা সিটি এলাকায় জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধনের মতো কাজে রিটার্ন জমার প্রমাণ লাগে, আর রিটার্ন দিতে আগে TIN লাগে।
- নতুন ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া ও নবায়ন বা সমবায় সমিতি নিবন্ধনের মতো কিছু সেবায় এখন রিটার্নের প্রমাণের বদলে শুধু TIN সনদ দেখালেই চলে।
- গণকর্মচারী হলে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাই TIN-ও লাগবে।
TIN হলো করদাতা হিসেবে আপনার শনাক্তকরণ নম্বর। কর দিতে হবে কি না, তা ঠিক হয় বছরের আয় দিয়ে।
২. শুরু করার আগে যা হাতের কাছে রাখবেন
যা লাগবে
পরে ই-রিটার্নে নিবন্ধনের সময় এমন মোবাইল নম্বর লাগবে, যেটি আপনার নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। নম্বরটি আপনার নামে কি না, তা জানতে ফোন থেকে *16001# ডায়াল করে NID নম্বরের শেষ চার অঙ্ক দিন।
৩. নিবন্ধনের ধাপ
- ১অ্যাকাউন্ট খুলুনsecure.incometax.gov.bd সাইটে Register-এ ক্লিক করুন। User ID (অন্তত ৬ অক্ষর), পাসওয়ার্ড (অন্তত ৮ অক্ষর), নিরাপত্তা প্রশ্ন ও উত্তর, দেশ, মোবাইল নম্বর আর ই-মেইল দিয়ে ছবির ক্যাপচা পূরণ করুন।
- ২অ্যাকাউন্ট চালু করুনমোবাইলে এসএমএসে একটি অ্যাক্টিভেশন কোড আসবে। অ্যাক্টিভেশন পাতায় কোডটি লিখে অ্যাকাউন্ট চালু করুন, তারপর User ID ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
- ৩নিবন্ধনের ধরন বাছুনকরদাতার ধরন হিসেবে Individual বাছাই করুন। আগে কখনো TIN না থাকলে নতুন নিবন্ধন, আর পুরোনো TIN থাকলে Re-registration বেছে আগের নম্বরটি দিন।
- ৪আয়ের উৎস ও ব্যক্তিগত তথ্য দিনআয়ের প্রধান উৎস ও এলাকা বাছাই করুন। এরপর নাম, ঠিকানা, NID নম্বর ও জন্মতারিখ দিন। তথ্যগুলো NID-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, তাই বানান হুবহু NID-র মতো রাখুন।
- ৫সনদ প্রিন্ট বা সেভ করুনতথ্য মিলে গেলে TIN সনদ তৈরি হয়। তখনই প্রিন্ট করুন বা PDF করে রাখুন। সনদে আপনার কর সার্কেল ও কর অঞ্চল লেখা থাকে, কাগজে রিটার্ন দিলে সেই সার্কেলেই দিতে হয়।
এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা আছে, TIN সনদের জন্য কোথাও কোনো ফি দিতে হয় না। কেউ টাকা চাইলে সেটি সরকারি খরচ নয়।
৪. সনদ হারালে বা তথ্য বদলালে
- সনদ হারালে নতুন আবেদন করবেন না। ই-টিআইএন সাইটে লগইন করে আবার প্রিন্ট করুন। ই-রিটার্নে অ্যাকাউন্ট থাকলে Tax Record মেনু থেকেও TIN সনদ নামানো যায়।
- NID-তে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন হলে TIN সিস্টেমের Revalidate অপশন থেকে তথ্য হালনাগাদ করুন, তারপর ই-রিটার্নের Profile থেকে Sync with TIN চাপুন।
- লিঙ্গ ভুল থাকলে TIN সিস্টেমের Edit/Correct/Update অপশন থেকে ঠিক করে একইভাবে Sync করুন। না হলে ই-রিটার্নে আপনার করমুক্ত সীমা ভুল ধরা হতে পারে।
- পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে ই-টিআইএন সাইটের Forgot Password অপশন ব্যবহার করুন।
আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে কারণ জানিয়ে নিজের কর সার্কেলের উপ কর কমিশনারের কাছে TIN বাতিলের আবেদন করা যায়। যাচাই বা শুনানির পর তিনি TIN স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন।
৫. অনেকে যা জানতে চান
TIN নিতে কি টাকা লাগে?
অনেক আগে TIN নিয়েছিলাম, কখনো রিটার্ন দিইনি। নতুন TIN লাগবে?
TIN নেওয়ার সময়ের মোবাইল নম্বরটি এখন নেই। ই-রিটার্ন করা যাবে?
অন্য কারও TIN আসল কি না যাচাই করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।