
সংক্ষেপে
ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এখন আবার প্রতিটি কর মেয়াদ, অর্থাৎ প্রতি মাস শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে। ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরের কার্যদিবস। ২০২৬-২৭ বাজেটে তিন মাস পরপর রিটার্নের যে নিয়ম এসেছিল, সেপ্টেম্বরের শেষে অধ্যাদেশ করে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
যাঁরা জুলাই, আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের রিটার্ন এখনো দেননি, তাঁদের জন্য এনবিআর ১৫ অক্টোবরের আদেশে সুদ ও জরিমানা ছাড়া দাখিলের সময় ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অক্টোবরের রিটার্ন যাবে নভেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে।
নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এনবিআরের ই-ভ্যাট সিস্টেমে লগইন করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে।
এই লেখায়
১. ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এখন কবে
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি, কিংবা যাঁর নিবন্ধন নেওয়ার কথা, প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র বা রিটার্ন জমা দেবেন। ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরের কার্যদিবসে দিলেই চলে।
আইনের আরেকটি শর্তাংশে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা আর শূন্য রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য ২০ দিন পর্যন্ত সময়ের কথা ছিল। নতুন অধ্যাদেশের পরে এই শর্ত বহাল আছে কি না, এনবিআরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন।
| কর মেয়াদ | রিটার্নের শেষ সময় |
|---|---|
| জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সুদ ও জরিমানা ছাড়া (এনবিআরের বর্ধিত সময়) |
| অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ নভেম্বর ২০২৬ |
| নভেম্বর ২০২৬ | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| ডিসেম্বর ২০২৬ | ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ |
টেবিলের পরের তারিখগুলো আইনের ১৫ দিনের নিয়ম ধরে করা। কোনো মাসে ১৫ তারিখ ছুটির দিন হলে পরের কার্যদিবস, আর এনবিআর আলাদা আদেশে সময় বাড়ালে সেটিই প্রযোজ্য।
২. তিন মাসের রিটার্ন থেকে আবার মাসিকে: কী হয়েছিল
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বলে মাসের বদলে তিন মাস অন্তর রিটার্ন দাখিলের বিধান আনা হয়। এনবিআরের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতেও লেখা আছে, বাজেটে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের বিধান এসেছিল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসে মাসে রিটার্ন না আসায় প্রতি মাসে কত ভ্যাট আদায় হচ্ছে তার হিসাব মিলছিল না। এরপর সরকার মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে আবার প্রতি কর মেয়াদ শেষে রিটার্নের বিধান ফেরায়।
মাঝখানে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই আর আগস্টের রিটার্ন দেয়নি, কারণ তারা ভেবেছিল সেপ্টেম্বর শেষে একবারে দেবে। তাই এনবিআর প্রথমে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেয়, পরে ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই-সেপ্টেম্বরের অনলাইন রিটার্নের সময় ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ায়।
৩. ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দেওয়ার উপায়
- ১ই-ভ্যাট সিস্টেমে লগইন করুননিবন্ধনের সময় পাওয়া ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড দিয়ে এনবিআরের ই-ভ্যাট সিস্টেমে ঢুকুন। পাসওয়ার্ড মনে না থাকলে নিজের ভ্যাট সার্কেলে যোগাযোগ করুন।
- ২কর মেয়াদ বেছে নিনযে মাসের রিটার্ন দিচ্ছেন, সেটি ঠিকভাবে বাছুন। জুলাই, আগস্ট আর সেপ্টেম্বর বাকি থাকলে প্রতিটি মাসের রিটার্ন আলাদা করে দিন।
- ৩বিক্রি, কেনা আর রেয়াতের হিসাব দিনমাসের বিক্রয়, ক্রয়, উপকরণ কর রেয়াত আর উৎসে কাটা ভ্যাটের অঙ্ক চালান-বই আর ক্রয় রেজিস্টার দেখে বসান।
- ৪প্রদেয় ভ্যাট জমা দিনহিসাব শেষে যে ভ্যাট দিতে হবে, তা অনলাইনে বা ব্যাংকে চালানে জমা দিয়ে চালানের তথ্য রিটার্নে যুক্ত করুন।
- ৫জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার রাখুনসাবমিট করার পর প্রাপ্তিস্বীকার বা রসিদের পিডিএফ নামিয়ে রাখুন। পরে কোনো নোটিশ এলে এটিই প্রমাণ।
সেই মাসে বিক্রি না থাকলেও রিটার্ন দিতে হয়, তখন শূন্য রিটার্ন। অনেক ছোট ব্যবসায়ী এখানে ভুল করেন, ভাবেন বিক্রি নেই তো রিটার্নও নেই।
৪. ভ্যাট রিটার্ন দেরিতে দিলে কী হয়
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বাড়তি সময়টি দেওয়া হয়েছে 'সুদ ও জরিমানা ব্যতীত'। এর মানে সাধারণ নিয়মে দেরির জন্য সুদ আর জরিমানা দুটোই আসতে পারে। আইনের ১২৭ ধারায় প্রদেয় করের ওপর সুদ আরোপের বিধান আছে।
আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী আগে থেকে আবেদন করলে কমিশনার দেরিতে রিটার্ন দাখিলের অনুমতি দিতে পারেন। তবে সেই অনুমতি কর পরিশোধের আসল তারিখ এক মাসের বেশি পেছাবে না, আর সুদের দায়ও বদলাবে না।
রিটার্নের আগে যা মিলিয়ে নেবেন
শেষ দিনগুলোতে ই-ভ্যাট সিস্টেমে চাপ বাড়ে। ২৫ অক্টোবরের সময়সীমা ধরার জন্য আগের দিনই রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার নামিয়ে রাখুন।
৫. কাদের ভ্যাট রিটার্ন দিতে হয়
৬৪ ধারার ভাষায় রিটার্ন দেবেন প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি, আর যাঁদের নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তি নেওয়ার কথা। মানে ভ্যাট নিবন্ধন না নিয়ে বসে থাকলেও দায় থেকে মুক্তি নেই, যদি আপনার ব্যবসা নিবন্ধনের আওতায় পড়ে।
আয়কর রিটার্ন আর ভ্যাট রিটার্ন আলাদা জিনিস। আয়কর রিটার্ন বছরে একবার, ব্যক্তির আয়ের হিসাব। ভ্যাট রিটার্ন ব্যবসার প্রতি মাসের বিক্রি আর কেনার হিসাব। একটি দিলে অন্যটি দেওয়া হয়ে যায় না।
একটা উদাহরণ ধরা যাক। মিরপুরের একজন দোকানমালিক বাজেটের পর ভেবেছিলেন সেপ্টেম্বরের শেষে তিন মাসের রিটার্ন একসঙ্গে দেবেন, তাই জুলাই আর আগস্টে কিছু জমা দেননি। নিয়ম বদলে যাওয়ায় তাঁকে এখন জুলাই, আগস্ট আর সেপ্টেম্বরের তিনটি আলাদা মাসিক রিটার্ন দিতে হবে, আর সুদ-জরিমানা এড়াতে চাইলে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে। এরপর থেকে প্রতি মাসের হিসাব পরের মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে গুছিয়ে রাখলে আর এই চাপে পড়তে হয় না। হিসাব রাখার কাজটা মাসের শেষে না রেখে প্রতিদিনের চালান-বই হালনাগাদ রাখলে রিটার্নের দিন সময় অনেক কম লাগে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ কত?
ভ্যাট রিটার্ন কি এখনো তিন মাস পরপর দেওয়া যায়?
ভ্যাট রিটার্ন দেরিতে দিলে জরিমানা কত?
বিক্রি না থাকলে কি ভ্যাট রিটার্ন দিতে হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।