আয়কর ও ই-টিআইএন

রিটার্ন জমার সময়সীমা ২০২৬-২৭: দেরি হলে কত বাড়তি কর

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬এনবিআর কল সেন্টার ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১etaxnbr.gov.bd

সংক্ষেপে

এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২০২৭ অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতা এখন পুরো করবর্ষ জুড়ে, অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত রিটার্ন দিতে পারেন। আগের মতো ৩০ নভেম্বর একমাত্র সময়সীমা নয়; কোন তিন মাসে জমা দিচ্ছেন, তার ওপর ছাড় বা বাড়তি কর নির্ভর করে।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিলে ৫ শতাংশ ছাড় ছিল, সেই সময় পেরিয়ে গেছে। এখন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দিলে কোনো বাড়তি কর লাগবে না; জানুয়ারি থেকে বাড়তি কর শুরু।

এখনই ই-রিটার্ন দিন

৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিলে বাড়তি কর লাগে না।

ই-রিটার্ন খুলুন
এই লেখায়
  1. কোন সময়ে জমা দিলে কী হবে
  2. একটি উদাহরণ
  3. ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন শেষ করবেন যেভাবে
  4. করবর্ষ পেরিয়ে গেলে
  5. রিটার্ন না দিলে কী হতে পারে
  6. সময় বাড়ানো আর বিশেষ সুযোগ
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. কোন সময়ে জমা দিলে কী হবে

কখন জমা দিচ্ছেনফল
১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরপ্রদেয় করের ৫% অথবা ২৫,০০০ টাকা, যেটি কম, ততটা ছাড়
১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরছাড়ও নেই, বাড়তি করও নেই
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চপ্রদেয় করের ২% অথবা ৩,০০০ টাকা, যেটি বেশি, ততটা বাড়তি কর
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনপ্রদেয় করের ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি, ততটা বাড়তি কর
৩০ জুনের পর, নিজে থেকেপ্রদেয় করের ১০% অথবা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি, ততটা বাড়তি কর
৩০ জুনের পর, কর অফিসের নোটিশ পেয়েপ্রদেয় করের ১৫% অথবা ১০,০০০ টাকা, যেটি বেশি, ততটা বাড়তি কর

এখানে প্রদেয় কর মানে আয়কর আইনের ১৭৩ ধারা অনুযায়ী রিটার্নের সঙ্গে যে কর দিতে হয়, অর্থাৎ উৎসে কাটা কর ও অগ্রিম কর বাদ দিয়ে যা বাকি। ২০২৬-২৭ করবর্ষে তারিখগুলো ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। কোনো সময়ের শেষ দিন সরকারি ছুটি হলে পরের কর্মদিবসে জমা দেওয়া যায়।

২. একটি উদাহরণ

এনবিআরের নির্দেশিকার একটি উদাহরণে বেসরকারি চাকরিজীবী এক করদাতার রিটার্নের সঙ্গে প্রদেয় কর ২৫,৮০০ টাকা। কখন জমা দিচ্ছেন, তার ওপর মোট পরিশোধ যেভাবে বদলায়:

  • জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দিলে ৫% ছাড় ১,২৯০ টাকা, দিতে হতো ২৪,৫১০ টাকা।
  • অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে দিলে ২৫,৮০০ টাকাই।
  • জানুয়ারি থেকে মার্চে দিলে ২% হয় মাত্র ৫১৬ টাকা, তাই ৩,০০০ টাকা যোগ হয়ে মোট ২৮,৮০০ টাকা।
  • এপ্রিল থেকে জুনে দিলে ৫,০০০ টাকা যোগ হয়ে মোট ৩০,৮০০ টাকা।

৩. ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন শেষ করবেন যেভাবে

  • ১
    ই-রিটার্নে নিবন্ধন সেরে নিনTIN আর নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে etaxnbr.gov.bd-তে নিবন্ধন করুন। নম্বর নিয়ে জটিলতা থাকলে আগেভাগে মিটিয়ে নিন।
  • ২
    কাগজ জোগাড় করুনঅফিস, ব্যাংক আর সঞ্চয়পত্র থেকে উৎসে কর কাটার সনদ বা বিবরণী, বিমা ও ডিপিএসের রসিদ আর আগের বছরের রিটার্ন হাতের কাছে রাখুন।
  • ৩
    খসড়া করে তথ্য দিনএক বসায় শেষ করতে না পারলে Save Draft করে অল্প অল্প করে তথ্য দিন। কর বাকি থাকলে Pay Now দিয়ে পরিশোধ করুন।
  • ৪
    আগেভাগে জমা দিনএনবিআরের নির্দেশিকাও শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করতে বলে, তাড়াহুড়ায় ভুলের ঝুঁকি থাকে। জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নামিয়ে রাখুন।

৪. করবর্ষ পেরিয়ে গেলে

৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে ২০২৬-২৭ করবর্ষের রিটার্ন না দিলে পরে নিজে থেকে দেওয়া যায়, তবে সেটি স্বপ্রণোদিত বিলম্ব রিটার্ন হিসেবে গণ্য হয়। তখন ১৭৪ ধারায় কর নির্ধারণ হয় এবং উপ কর কমিশনার রিটার্নটি নিষ্পত্তি করেন।

  • বাড়তি কর দিতে হবে ১০% বা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি। কর অফিসের নোটিশ পাওয়ার পর দিলে ১৫% বা ১০,০০০ টাকা।
  • বেশির ভাগ কর অব্যাহতি আর মেলে না। নির্দেশিকার উদাহরণে দেরিতে রিটার্ন দেওয়ায় মাছের হ্যাচারির আয়ে ৫ লাখ টাকার ছাড় বাদ পড়েছে।
  • চাকরির আয়ের ছাড়, সরকারি পেনশন, ভবিষ্য তহবিলের আয়, বৈধ পথে আনা প্রবাস আয়সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড় দেরিতে রিটার্ন দিলেও বহাল থাকে।
  • এর বাইরে আইন অনুযায়ী সরল সুদ ও জরিমানাসহ অন্য ব্যবস্থাও নেওয়া যায়।

৫. রিটার্ন না দিলে কী হতে পারে

  • আয়কর আইনের ২৬৬ ধারায় জরিমানা। এনবিআরের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী সর্বশেষ নির্ধারিত আয়ের ওপর ধার্য করের ১০% হারে জরিমানা হতে পারে, যা অন্তত ১,০০০ টাকা; ব্যর্থতা চলতে থাকলে প্রতিদিন আরও ৫০ টাকা।
  • ১৭৪ ধারা অনুযায়ী বাড়তি কর।
  • গ্যাস, বিদ্যুতের মতো সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া।
  • বেতন-ভাতা পেতে জটিলতা।
পুরোনো তথ্যে ভুল করবেন না

এনবিআরের ওয়েবসাইটের সাধারণ প্রশ্নোত্তরে এখনো ৩০ নভেম্বরকে করদিবস বলা আছে, ইন্টারনেটেও পুরোনো লেখা প্রচুর। ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা আর ই-রিটার্ন প্রশ্নোত্তরে ওপরের তিন মাসভিত্তিক সময়সূচিই দেওয়া হয়েছে।

৬. সময় বাড়ানো আর বিশেষ সুযোগ

এনবিআরের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, রিটার্নের জন্য আলাদা করে সময়ের আবেদন করার দরকার নেই, কারণ বাড়তি কর দিয়ে বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন দেওয়া যায়। কয়েকটি ক্ষেত্রে আলাদা সুযোগ আছে:

  • উচ্চশিক্ষা, চাকরির প্রেষণ বা লিয়েন, কিংবা বৈধ ভিসা ও পারমিট নিয়ে আয়ের জন্য বিদেশে থাকলে দেশে ফেরার ৯০তম দিনের মধ্যে রিটার্ন দেওয়া যায়।
  • যাঁরা প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন, তাঁরা প্রযোজ্য হারে কর দিয়ে আয়বর্ষ শেষের পরের ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবেন বলে নির্দেশিকায় আলাদা করে বলা আছে। বাড়তি কর লাগবে কি না, কল সেন্টারে নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • ভুল ধরা পড়লে মূল রিটার্ন জমার ১৮০ দিনের মধ্যে একবার সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়।

৭. অনেকে যা জানতে চান

৩০ নভেম্বর কি এবারও রিটার্ন জমার শেষ দিন?
না। ২০২৬-২৭ করবর্ষে ব্যক্তি করদাতা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দিতে পারেন। তবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর পর দিলে বাড়তি কর লাগবে।
৫% ছাড় কি এখনো পাওয়া যাবে?
না। এ বছর ছাড় ছিল ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে। এনবিআর বলেছে নিয়মটি ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে চালু হলো, তাই পরের বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার চেষ্টা করুন।
ছাড় বা বাড়তি কর কি নিজেকে হিসাব করতে হয়?
ই-রিটার্নের Tax & Payment পাতায় মোট প্রদেয় করের হিসাব দেখায়, প্রথম তিন মাসে জমার প্রণোদনাও সেখানে আলাদা লাইনে আসে। জমা দেওয়ার আগে চূড়ান্ত অঙ্কটি মিলিয়ে নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

আয়কর নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ

অনেকে খোঁজেন