
সংক্ষেপে
আয়কর ২১২ ধারার নোটিশ আসে যখন উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে আপনি কোনো করবর্ষের প্রদেয় কর বা অন্য অঙ্ক পরিশোধ এড়িয়েছেন। নোটিশে বলা সময়ের মধ্যে ওই করবর্ষের রিটার্ন, বিবরণী আর দলিল জমা দিতে হয়, আর এড়ানো কর রিটার্ন দেওয়ার সময় বা আগে পরিশোধ করতে হয়।
ওই বছরের রিটার্ন একেবারে না দিলে নোটিশ যেকোনো সময় আসতে পারে, অন্য ক্ষেত্রে নোটিশের বছর থেকে পেছনের ষষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত। জবাব না দিলে আয়কর আইনের ২৬৬ ও ২৭০ ধারায় জরিমানা হতে পারে।
কর ও অন্যান্য অঙ্ক পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে পুরো ধারা, ২০২৬ সালের সংশোধনীসহ।
এই লেখায়
১. ২১২ ধারা কি, নোটিশ কেন আসে
সার্কেল অফিস থেকে খাম এসেছে, ভেতরে লেখা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারা। ধারাটির শিরোনাম কর ও অন্যান্য অঙ্ক পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়া। অডিট, কর নির্ধারণ, আইনের অন্য কোনো কার্যক্রম বা অন্য কোনো উৎস থেকে নির্দিষ্ট তথ্য পেলে উপকর কমিশনার এই নোটিশ দেন।
২১২ ধারার ৯ উপধারায় বলা আছে কোন কোন অবস্থাকে কর এড়ানো ধরা হয়:
- কোনো আয় বা তার অংশের কর নির্ধারণ এড়িয়ে যাওয়া
- আয় কম দেখানো
- রিটার্নে বাড়তি লোকসান, বিয়োজন, ভাতা বা ছাড় দাবি
- সম্পদ বিবরণী বা জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিবরণীতে সম্পদ, দায় বা ব্যয় গোপন বা ভুল অঙ্কে দেখানো
- করযোগ্য আয় কম নিরূপণ বা কম হারে কর ধরা
- করযোগ্য আয়কে করমুক্ত হিসেবে দেখানো
- ভিত্তি কম ধরায় কর কম পরিশোধ
২. ২১২ ধারার নোটিশ কত বছর আগের জন্য আসতে পারে
| অবস্থা | নোটিশের সময়সীমা |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট করবর্ষে রিটার্ন দাখিল ও কর নির্ধারণ কোনোটিই হয়নি | যেকোনো সময় |
| অন্যান্য ক্ষেত্রে | নোটিশ দেওয়ার করবর্ষ থেকে পেছনের ষষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত |
| ষষ্ঠ করবর্ষেরও আগে অর্জিত অপ্রদর্শিত আয়, ব্যয় বা সম্পদ | ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ষষ্ঠ করবর্ষে অর্জিত বা ব্যয়িত ধরা হবে |
রিটার্ন আগে দিয়ে থাকলে বা কর নির্ধারণ হয়ে গিয়ে থাকলে উপকর কমিশনারকে নোটিশের আগে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের লিখিত অনুমোদন নিতে হয়। আর আগে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে নতুন কর নির্ধারণ সাধারণত নোটিশে লেখা বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বাইরের অন্য নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অনুমোদন নিয়ে আপনাকে জানিয়ে সেটাও যোগ করা যায়।
৩. ২১২ ধারার নোটিশ পেলে করণীয়
- ১নোটিশের তারিখ আর সময়সীমা দেখুনধারায় কোনো নির্দিষ্ট দিন সংখ্যা নেই, সময় লেখা থাকে নোটিশেই। কোন করবর্ষের জন্য নোটিশ, কোন বিষয় উল্লেখ আছে, তা আলাদা করে লিখে নিন।
- ২সেই বছরের কাগজ জোগাড় করুনব্যাংক স্টেটমেন্ট, সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের কাগজ, জমি-ফ্ল্যাট কেনার দলিল, বেতন বা ব্যবসার হিসাব, উৎসে কাটা করের সনদ।
- ৩রিটার্ন আর বিবরণী তৈরি করুনযে বিষয়ে কর এড়ানোর কথা বলা হয়েছে, রিটার্নে তা স্পষ্টভাবে দেখান। ধারার ২ উপধারায় এটা শর্ত।
- ৪এড়ানো কর পরিশোধ করুনরিটার্ন জমার সময় বা তার আগে কর জমা দিন, চালান বা পেমেন্টের প্রমাণ রাখুন।
- ৫সময়ের মধ্যে জমা দিননোটিশে বলা সময়ের মধ্যে সার্কেলে জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার নিন।
তিনটি শর্ত পূরণ হলে উপকর কমিশনার রিটার্নের গ্রহণপত্র পাঠাবেন: সময়ের মধ্যে রিটার্ন, এড়ানো কর পরিশোধ, আর কোন বিষয়ে কর এড়ানো হয়েছিল তা রিটার্নে স্পষ্ট উল্লেখ। একটিও না মানলে তিনি ১৮৩ ধারায় শুনানির মাধ্যমে বা ১৮৪ ধারায় সর্বোত্তম বিচারে কর নির্ধারণে যাবেন।
নোটিশে যে আয় বা সম্পদের কথা বলা হয়েছে তা ভুল হলে, যেমন অন্য কারও লেনদেন আপনার নামে এসেছে, প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা দিন। কর নির্ধারণের আদেশে আপত্তি থাকলে পরে আপিলের পথ আছে, সেটা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।
৪. ২১২ ধারার নোটিশের জবাব না দিলে জরিমানা কত
এখানে দুটি ধারা কাজ করে। ২৬৬ ধারায় ২১২ ধারার অধীনে রিটার্ন দিতে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্য করের ১০ শতাংশ জরিমানা, ন্যূনতম ১,০০০ টাকা, আর ব্যর্থতা চললে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে বাড়তি জরিমানা হতে পারে।
| করদাতা | ২৬৬ ধারার জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা |
|---|---|
| আগে কখনো কর নির্ধারণ হয়নি এমন ব্যক্তি | ৫,০০০ টাকা |
| আগে কর নির্ধারণ হয়েছে এমন ব্যক্তি | সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের করের ৫০% বা ১,০০০ টাকা, যেটা বেশি |
এর বাইরে ২৭০ ধারায় যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ২১২ ধারার নোটিশ অমান্য করলে উপকর কমিশনার মোট আয়ের ওপর আরোপযোগ্য করের সমান পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। আর জরিমানার আগে আইনের ২৮০ ধারায় শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিধান আছে, তাই শুনানির নোটিশ এলে হাজির হোন।
ধরুন, গাজীপুরের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান কখনো রিটার্ন দেননি, তাঁর নামে কখনো কর নির্ধারণও হয়নি। ২১২ ধারার নোটিশ পেয়েও রিটার্ন না দিলে ২৬৬ ধারার জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা তাঁর ক্ষেত্রে ৫,০০০ টাকা। কিন্তু এর সঙ্গে এড়ানো কর তো দিতেই হবে, আর উপকর কমিশনার নিজেই কর নির্ধারণে যেতে পারেন।
৫. নোটিশ আসার আগেই যা করা ভালো
- টিআইএন থাকলে প্রতি বছর রিটার্ন দিন। আয়কর আইনের ১৬৬(১)(ঙ) অনুযায়ী টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
- আগের বছরের রিটার্নে ভুল নিজে ধরলে সংশোধিত রিটার্নের সুযোগ নিন, নোটিশ আসার আগে।
- ২০২৬ সালের সংশোধনীতে যোগ হয়েছে, ১৭৪ ধারায় নিজে থেকে দেরিতে দেওয়া রিটার্নে আয় শুধু বেতন আর আর্থিক পরিসম্পদ থেকে হলে এবং প্রদেয় কর পরিশোধ করলে উপকর কমিশনার রিটার্নের গ্রহণপত্র দেবেন।
- জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি বা বড় সঞ্চয়ের কাগজ বছরভিত্তিক গুছিয়ে রাখুন। নোটিশ এলে এই কাগজই কাজে লাগে।
নোটিশ জটিল মনে হলে কর আইনজীবী বা নিবন্ধিত আয়কর অনুশীলনকারীর সাহায্য নিন। নিজের সার্কেলের ঠিকানা আর কর্মকর্তার নাম নোটিশেই লেখা থাকে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
আয়কর ২১২ ধারা কি?
২১২ ধারার নোটিশ পেলে কত দিনের মধ্যে জবাব দিতে হয়?
212 dhara notice er jobab na dile ki hobe?
কত বছর আগের আয়ের জন্য ২১২ ধারার নোটিশ আসতে পারে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।