
সংক্ষেপে
প্রথম রিটার্নে সবচেয়ে বেশি সময় যায় কাগজ জোগাড়ে। অফিস থেকে জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ সময়ের বেতন বিবরণী আর বেতন থেকে কর কাটার সনদ বা চালানের নম্বর-তারিখ নিন। সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও সুদের সনদ, ডিপিএস আর জীবনবিমার রসিদ, আর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আপনার সম্পদ ও ঋণের হিসাব। ই-রিটার্নে কোনো কাগজ আপলোড করতে হয় না, তবে তথ্য দিতে হয় এগুলো দেখেই।
বেতন থেকে কাটা কর দাবি করবেন Tax & Payment পাতার Update Tax Payment Status থেকে, e-Return Ledger-এ। সরকারি কর্মচারী যাঁদের বেতন iBAS++ থেকে হয়, তাঁরা Salary (iBAS++) খুঁজলেই অঙ্ক পাবেন। বাকিরা Salary(others)-এ নিজে চালান বা সনদের তথ্য লিখবেন।
নিবন্ধন করে Submission মেনু থেকে Regular e-Return খুলুন।
এই লেখায়
১. আগে হিসাবটা বুঝে নিন
এখন যে রিটার্ন দেবেন, সেটি ২০২৬-২৭ করবর্ষের। আয় ধরা হবে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ ওই ১২ মাসে পাওয়া বেতন, বোনাস আর অন্য আয়। কয়েকটি নিয়ম শুরুতেই জেনে রাখুন:
- সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
- বেসরকারি চাকরিতে বেতনের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫ লাখ টাকা, যেটি কম, তা করমুক্ত।
- সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীর মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস করযোগ্য, বেতন আদেশের অন্য ভাতাগুলো করমুক্ত।
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ই-রিটার্নে বেসরকারি চাকরি হিসেবে ধরা হয়, এনবিআরের প্রশ্নোত্তরেই এটি বলা আছে।
- আয় সীমা পেরোলে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা, তবে নতুন করদাতার জন্য ১,০০০ টাকা।
অফিস প্রতি মাসে বেতন থেকে কর কেটে রাখলেও রিটার্ন দেওয়ার দায় থেকে যায়। রিটার্নে আপনি পুরো বছরের কর হিসাব করবেন, তারপর অফিসের কেটে রাখা কর বাদ দিয়ে দেখবেন আর কিছু দিতে হবে কি না।
২. অফিস থেকে যা চেয়ে নেবেন
হিসাব শাখা বা এইচআর থেকে নিন
কর দাবির ঘরে শুধু মোট অঙ্ক লিখলে চলে না। Salary(others)-এ কে কর কেটে জমা দিয়েছে তার নাম, চালান না সনদ, তার নম্বর আর তারিখ লিখতে হয়। তাই অফিস থেকে অন্তত চালান বা সনদের নম্বর ও তারিখ লিখিতভাবে নিয়ে নিন। দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে থাকলে Employment income অংশের Add Employment দিয়ে দুটি চাকরির আয়ই আলাদা করে দেওয়া যায়।
৩. ব্যাংক, বিনিয়োগ আর সম্পদের কাগজ
| কাগজ | রিটার্নের কোন অংশে লাগে | খেয়াল রাখুন |
|---|---|---|
| ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও সুদের সনদ | Income-এর আর্থিক পরিসম্পদ, পরে লেজারে Bank/FI Interest | সুদ থেকে কাটা কর আগে আয়ের পাতায় লিখুন, তারপর লেজারে Sync From Income |
| সঞ্চয়পত্র | Income from Financial Assets | অনলাইনে কেনা সঞ্চয়পত্র Import from NSD চাপলেই আসে, সনদ লাগে না; ১ জুলাই ২০১৯-এর আগের সঞ্চয়পত্র নিজে লিখতে হয় |
| ডিপিএস, জীবনবিমার প্রিমিয়াম, ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা | Rebate | ডিপিএসে বছরে সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা রেয়াতে ধরা যায় |
| জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, সোনা, নগদ আর ঋণের হিসাব | Assets & Liabilities | প্রথম রিটার্নে আগের বছরের তথ্য নেই, তাই নতুন সম্পদ দেখাবেন প্রকৃত ক্রয়মূল্যে, বাজারদরে নয় |
| গাড়ির অগ্রিম কর দেওয়ার ব্যাংক স্লিপ | লেজারের Claim AIT, AIT on Car | স্লিপের ওপরের দিকে ডানে থাকা ট্রানজেকশন আইডি লাগবে |
ই-রিটার্নে কাগজ আপলোড করতে হয় না, কিন্তু কাগজগুলো ফেলে দেবেন না। এনবিআরের ব্যবহারকারী নির্দেশিকা অনুযায়ী সিস্টেম নিজে যাচাই করতে পারে শুধু তিনটি দাবি: গাড়ির অগ্রিম কর, iBAS++ থেকে বেতনের উৎসে কর আর সঞ্চয়পত্র। বাকি দাবি কর কর্মকর্তা পরে যাচাই করবেন, তখন এই কাগজই আপনার প্রমাণ।
৪. বেতনের কাটা কর দাবি করবেন যেভাবে
- ১আগে আয়ের তথ্য শেষ করুনRegular e-Return-এ Assessment, Income, Rebate, Expenditure আর Assets & Liabilities পূরণ করে Tax & Payment পাতায় আসুন। এখানে মোট আয়, কর আর প্রদেয় করের অঙ্ক দেখাবে।
- ২লেজার খুলুনTotal Amount Payable-এর নিচে Update Tax Payment Status চাপলে e-Return Ledger খোলে। বাঁ পাশের মেনু থেকে Claim source tax বাছুন।
- ৩সরকারি কর্মচারী হলেযাঁদের বেতন iBAS++ থেকে হয়, তাঁরা Salary (iBAS++) বেছে Search চাপুন। কাটা করের অঙ্ক দেখাবে, অঙ্ক লিখে Save করুন।
- ৪অন্য সবাইSalary(others)-এ গিয়ে +Add চাপুন। যে প্রতিষ্ঠান কর কেটেছে তার নাম, চালান না সনদ, নম্বর আর তারিখ দিন। চালান বা সনদের মোট অঙ্ক লিখবেন Challan/Certificate amount ঘরে, আপনার নিজের অংশ Claimed amount ঘরে।
- ৫মূল রিটার্নে ফিরুনলেজারের বাঁ দিকের নিচে Go to Return চাপুন। Tax & Payment পাতায় এখন প্রদেয় কর থেকে কাটা কর বাদ পড়ে বাকি অঙ্ক দেখাবে।
চালানটি শুধু আপনার নামে হলে দুই ঘরে একই অঙ্ক বসবে। অফিস অনেক কর্মীর কর একসঙ্গে এক চালানে জমা দিলে প্রথম ঘরে পুরো চালানের অঙ্ক, দ্বিতীয় ঘরে শুধু আপনার অংশ। ধরা যাক বছরে আপনার কর দাঁড়াল ২৫,৮০০ টাকা আর অফিস কেটেছে ২০,০০০ টাকা। তখন বাকি ৫,৮০০ টাকা Pay Now দিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে দিয়ে রিটার্ন জমা দেবেন।
Declared bank TDS is not found in declared income ধরনের বার্তা আসে আয়ের পাতা আর লেজারে ভিন্ন অঙ্ক লিখলে। দুই জায়গায় একই প্রকৃত অঙ্ক দিন, অথবা লেজারে Sync from Income চেপে আগের লেখা তথ্য তুলে আনুন।
৫. জমার আগে শেষবার মিলিয়ে নিন
- চাকরির জায়গা বাছাইয়ে সন্দেহ থাকলে এনবিআরের উদাহরণটি দেখুন: ৮ মাস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আর ৪ মাস সাতক্ষীরায় চাকরি করলে বাছতে হবে ঢাকা উত্তর।
- Return View পাতায় পুরো রিটার্ন মিলিয়ে তবেই Submit Return চাপুন, তারপর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আর আয়কর সনদ নামিয়ে রাখুন।
- জমার পর ভুল ধরা পড়লে ১৮০ দিনের মধ্যে অনলাইনে একবার সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়।
- ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিলে বাড়তি কর লাগবে না, জানুয়ারি থেকে বাড়তি কর যোগ হয়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
অফিস তো কর কেটেই রাখে, তবু কি রিটার্ন দিতে হবে?
অফিস কর কাটার কোনো সনদ দেয়নি। কী করব?
বছরে দুই জায়গায় চাকরি করেছি। দুটো আয় কীভাবে দেখাব?
কাটা কর আমার মোট করের চেয়ে বেশি হলে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।