
সংক্ষেপে
অনলাইনে রিটার্ন জমার পর ভুল চোখে পড়লে জমার তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে অনলাইনেই সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়, তবে মাত্র একবার। মূল রিটার্ন অডিটের জন্য বাছাই হয়ে গেলে এই সুযোগ আর থাকে না। কেন সংশোধন করছেন, তা একটি লিখিত বিবৃতিতে জানাতে হয়।
অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নিয়ম কড়া হয়েছে: সংশোধিত রিটার্নে মূল রিটার্নের কর দায় কমানো যাবে না, আর আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয় বদলাতে হলে দালিলিক প্রমাণ লাগবে। বাড়তি কর থাকলে তা সংশোধিত রিটার্ন জমার সময় বা আগেই দিতে হবে।
মূল রিটার্ন অনলাইনে দিয়ে থাকলে সংশোধিত রিটার্নও অনলাইনে দিতে হয়।
এই লেখায়
১. কোন ভুলে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়
আয়কর আইনের ১৮০ ধারার (২) উপধারা বলছে, স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমার পর যদি দেখেন প্রদেয় কর ঠিকমতো হিসাব হয়নি, ঠিক অঙ্কে দেওয়া হয়নি, অথবা রিটার্নে কোনো তথ্য ঠিকভাবে আসেনি, তাহলে সংশোধিত রিটার্ন দিতে পারেন। কারণ হতে পারে:
- প্রদর্শিত আয়ে ভুল, যেমন কোনো আয় বাদ পড়েছে বা ভুল খাতে বসেছে।
- দাবি করা কর অব্যাহতি বা ক্রেডিটে ভুল, যেমন বিনিয়োগ রেয়াত বা উৎসে কাটা করের অঙ্ক।
- অন্য যেকোনো কারণে কর ভুল হিসাব হওয়া বা তথ্য ঠিকভাবে না আসা।
এর বাইরে কর অফিসের উদ্যোগেও সংশোধিত রিটার্ন চাওয়া হতে পারে: অডিটে আয়-সম্পদের তথ্য ঠিক না এলে উপকর কমিশনারের নোটিশে, ১৮৩ ধারায় শুনানির নোটিশের পর, কর এড়ানোর কারণে ২১২ ধারার নোটিশে, কিংবা আপিলে সেট-এসাইড আদেশের পর। এই লেখা মূলত প্রথম ক্ষেত্রটি নিয়ে, যেখানে ভুলটা আপনি নিজে ধরেছেন।
২. কখন আর সংশোধন করা যায় না
| অবস্থা | সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যাবে? |
|---|---|
| মূল রিটার্ন জমার ১৮০ দিনের মধ্যে, প্রথমবার | যাবে |
| জমার পর ১৮০ দিন পেরিয়ে গেছে | যাবে না |
| একবার সংশোধিত রিটার্ন দিয়ে ফেলেছেন | আবার যাবে না |
| মূল রিটার্ন ১৮২ ধারায় অডিটের জন্য বাছাই হয়েছে | যাবে না |
১৮০ দিন গোনা হয় মূল রিটার্ন জমার তারিখ থেকে, করবর্ষের শেষ থেকে নয়। ধরুন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ রিটার্ন দিয়েছেন। তাহলে শেষ সুযোগ মোটামুটি ১৩ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত। নিজের জমার তারিখ ধরে দিনটি গুনে ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন।
৩. ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন শর্ত
অর্থ আইন, ২০২৬ আয়কর আইনের ১৭৫ ধারা নতুন করে লিখেছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২০২৭-এও শর্তগুলো আছে।
সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার আগে মিলিয়ে নিন
শেষ শর্তটি সব আয়ে খাটে না। নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি পেনশন, সরকারি আনুতোষিক তহবিল থেকে অনধিক আড়াই কোটি টাকা, ভবিষ্য তহবিল থেকে আসা আয়, স্বেচ্ছা অবসরের সময় পাওয়া অর্থ, বৈধ পথে আসা প্রবাস আয়, দুই পক্ষের রিটার্নেই দেখানো স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাইবোন, মা-বাবা বা সন্তানের দান, আর চাকরির আয়ের কর অব্যাহতিতে এটি প্রযোজ্য নয়।
নতুন নিয়মে সংশোধিত রিটার্নে মূল রিটার্নের কর দায় কমানো যায় না। ভুল করে আয় বেশি দেখিয়ে থাকলে সংশোধনের ওপর ভরসা না করে আপনার কর অঞ্চলে কাগজসহ লিখিতভাবে পরামর্শ নিন। সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো জমার আগেই প্রতিটি অঙ্ক মিলিয়ে নেওয়া।
৪. সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার ধাপ
- ১জমার তারিখ আর অবস্থা দেখুনe-Return অ্যাকাউন্টে ঢুকে মূল রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র থেকে জমার তারিখ দেখুন। ১৮০ দিন পার হয়নি, আগে সংশোধিত রিটার্ন দেননি আর অডিটের নোটিশ আসেনি, তিনটিই নিশ্চিত করুন।
- ২ভুলের প্রমাণ জোগাড় করুনব্যাংক বিবরণী, সঞ্চয়পত্রের প্রত্যয়নপত্র, বেতন বিবরণী, দলিল বা ঋণের কাগজ, যে কাগজে সঠিক অঙ্কটি আছে সেটি হাতে রাখুন। নতুন নিয়মে প্রমাণ ছাড়া অঙ্ক বদলানো যায় না।
- ৩কারণ লিখে নিনকোন ঘরে কী ভুল ছিল আর ঠিক অঙ্ক কত, তা ছোট একটি লিখিত বিবৃতিতে গুছিয়ে নিন। আইনে কারণ উল্লেখ করে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার কথা বলা আছে।
- ৪বাড়তি কর আগে দিনসংশোধনে কর বাড়লে পার্থক্যটা ই-রিটার্নের Tax and payment অংশ থেকে বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে দিন, অথবা এ-চালানে পরিশোধ করুন।
- ৫অনলাইনে জমা দিয়ে কপি রাখুনসংশোধিত রিটার্ন অনলাইনে জমা দিন। নতুন প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, রিটার্নের কপি আর পরিশোধের প্রমাণ নামিয়ে রাখুন, কারণ এটাই ওই রিটার্নের শেষ সংশোধন।
জমার সময় সমস্যা হলে এনবিআরের কল সেন্টার ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১ নম্বরে ছুটির দিন বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোন করুন, অথবা eReturn Support টিকিট পোর্টালে সমস্যা লিখে পাঠান। প্রতিটি কর অঞ্চলেও ই-রিটার্ন নিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়।
৫. সব ভুলে সংশোধিত রিটার্ন লাগে না
| সমস্যা | কী করবেন |
|---|---|
| NID-তে নাম বা জন্মতারিখ বদলেছেন, কিন্তু ই-রিটার্নে পুরোনো তথ্য | সংশোধিত রিটার্ন নয়। টিআইএন সিস্টেমের Revalidate অপশনে বদলে নিয়ে ই-রিটার্নের Profile থেকে Sync with TIN করুন। |
| ব্যাংকের উৎসে কাটা কর নিয়ে Declared bank TDS ধরনের ত্রুটি | জমার আগেই Income আর Tax and payment অংশে একই তথ্য দিন, অথবা e-Return Ledger-এ Sync from Income ব্যবহার করুন। |
| টাকা কেটেছে, কিন্তু কর অপরিশোধিত দেখাচ্ছে | সেভ করে লগআউট করুন, আবার লগইন করে Tax and payment পাতা দেখুন। তখনো একই থাকলে কল সেন্টারে জানান। |
| এখনো রিটার্নই জমা দেননি | সংশোধনের প্রশ্ন নেই। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জমা দিলে রেয়াত নেই, বাড়তি করও নেই। এরপর দিলে বাড়তি কর লাগবে। |
৬. অনেকে যা জানতে চান
১৮০ দিন পার হয়ে গেছে, এখন ভুল ধরা পড়েছে। কী করব?
সংশোধিত রিটার্ন কি কাগজে জমা দেওয়া যায়?
সংশোধিত রিটার্নেও ভুল থেকে গেলে আবার সংশোধন করা যাবে?
সংশোধন করে কর কমানো যাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।