
সংক্ষেপে
গাড়ির আয়কর মানে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৫৩ ধারার অগ্রিম আয়কর, যা ফিটনেস নবায়ন বা নিবন্ধনের সময় দিতে হয়। ১৫০০ সিসি পর্যন্ত প্রাইভেটকার, জিপ বা গাড়িতে বছরে ২৫ হাজার টাকা, ১৫০০ থেকে ২০০০ সিসিতে ৫০ হাজার, আর মাইক্রোবাসে ৩০ হাজার টাকা। সিসি বাড়লে কর বাড়ে, ৩৫০০ সিসির বেশি হলে ২ লাখ টাকা।
একই মালিকের একাধিক গাড়ি থাকলে প্রথমটির পর প্রতিটির জন্য ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হয়। এই টাকা ফেরত পাওয়া যায় না, তবে রিটার্নে অগ্রিম কর হিসেবে সমন্বয় করা যায়। মোটরসাইকেলে এই কর নেই।
ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য বিআরটিএর সাইটে পাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. ১৫০০ সিসি গাড়ির আয়কর কত: সিসি অনুযায়ী পুরো তালিকা
আইনের সারণিতে গাড়ির ইঞ্জিনের সিসি ধরে কর ঠিক করা আছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে একই ধাপ কিলোওয়াটে লেখা। নিচের হার বিডিল'জে প্রকাশিত আয়কর আইনের ১৫৩ ধারা থেকে নেওয়া, যেখানে অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫ পর্যন্ত সংশোধন যুক্ত আছে।
| গাড়ির ধরন ও ইঞ্জিন | বছরে অগ্রিম কর |
|---|---|
| ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ২৫,০০০ টাকা |
| ১৫০০ সিসির বেশি, ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ৫০,০০০ টাকা |
| ২০০০ সিসির বেশি, ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ৭৫,০০০ টাকা |
| ২৫০০ সিসির বেশি, ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ১,২৫,০০০ টাকা |
| ৩০০০ সিসির বেশি, ৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত | ১,৫০,০০০ টাকা |
| ৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের বেশি | ২,০০,০০০ টাকা |
| মাইক্রোবাস, প্রতিটি | ৩০,০০০ টাকা |
ধরুন আপনার একটি ১৫০০ সিসির প্রাইভেটকার আছে, আর কোনো গাড়ি নেই। তাহলে প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম কর দেবেন। গাড়িটি ১৬০০ সিসি হলে পরের ধাপে পড়বে, অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা। তাই নিবন্ধন সনদে লেখা সিসি একবার মিলিয়ে নিন।
এই সারণি অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫ পর্যন্ত সংশোধিত আইনের। ২০২৬ সালের অর্থ আইনে এই ধারায় বদল এসেছে কি না, চালান করার আগে ব্যাংক বা বিআরটিএর কাউন্টারে হার মিলিয়ে নিন।
২. দ্বিতীয় গাড়ি থাকলে আয়কর কত বাড়ে
অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫ দিয়ে ১৫৩ ধারার শর্তাংশটি নতুন করে লেখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিজের নামে বা অন্য কারও সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক গাড়ির মালিক হলে, একের বেশি প্রতিটি গাড়ির জন্য ৫০ শতাংশ বেশি হারে কর দিতে হবে।
আইনের হিসাবে দাঁড়ায় এমন: প্রথম ১৫০০ সিসির গাড়িতে ২৫ হাজার টাকা। একই মাপের দ্বিতীয় গাড়িতে ২৫ হাজারের সঙ্গে আরও অর্ধেক, মোট সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা। স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামে যৌথ মালিকানার গাড়ি থাকলেও এই হিসাব আসতে পারে, কারণ আইনে যৌথ মালিকানার কথা আলাদা করে লেখা।
একাধিক গাড়ির মালিকদের জন্য আলাদা একটি পরিবেশ সারচার্জও আছে, যা অগ্রিম আয়কর থেকে ভিন্ন। ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের বাজেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় গাড়ির মালিকেরা এই সারচার্জ দেন, আর বৈদ্যুতিক গাড়িকে এর বাইরে রাখার প্রস্তাব ছিল। সারচার্জের অঙ্ক বিআরটিএ বা ব্যাংকের হিসাব থেকে জেনে নিন।
৩. গাড়ির অগ্রিম আয়কর কখন ও কোথায় দিতে হয়
আইন বলছে, নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ অগ্রিম করের চালান না দেখে গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করবে না। প্রথম আলোর জুলাই ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের ফি দেওয়ার সময় বিভিন্ন ব্যাংকে এই কর জমা দেওয়া যায়, আর ব্যাংকই রসিদ দেয়।
- ১গাড়ির সিসি আর মালিকানা মিলিয়ে নিননিবন্ধন সনদে সিসি কত লেখা, আর আপনার নামে আর কোনো গাড়ি আছে কি না দেখুন। এ দুটো থেকেই করের অঙ্ক ঠিক হয়।
- ২ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের ফির সঙ্গে কর জমা দিননির্ধারিত ব্যাংকে ফিটনেস ফি, ট্যাক্স টোকেন ফি আর অগ্রিম আয়কর একসঙ্গে জমা দিন। কাউন্টারে গাড়ির নম্বর আর টিআইএন জানাতে হতে পারে।
- ৩রসিদ আলাদা করে রেখে দিনঅগ্রিম আয়করের রসিদ বা চালানের কপি রিটার্নের জন্য লাগবে। ছবি তুলে আর কাগজে, দুভাবেই রাখুন।
- ৪রিটার্নে অগ্রিম কর হিসেবে দেখানবছর শেষে রিটার্নে এই টাকা উৎসে বা অগ্রিম পরিশোধিত কর হিসেবে লিখুন। তাতে মোট করদায় থেকে এটি বাদ যায়।
ফিটনেস যদি কয়েক বছরের জন্য একবারে নবায়ন হয়, তবু করটি বছরে বছরে দিতে হয়। আইনের ৩ উপধারা অনুযায়ী পরের প্রতিটি বছরের কর সেই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে আদায় করার কথা।
৪. কারা গাড়ির অগ্রিম আয়কর দেবেন না
অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ বদলানো ৫ উপধারায় ছাড়ের তালিকা আছে। নিচের কারও নামে গাড়ি হলে এই অগ্রিম কর নেওয়া হবে না।
- সরকার, আর সরকার বা স্থানীয় সরকারের অধীন প্রকল্প বা কর্মসূচি
- বিদেশি কূটনীতিক, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থার দপ্তর
- বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন ও তাদের সংযুক্ত দপ্তর
- আইনের ১৬৬ ধারার ২ উপধারায় রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পাওয়া করদাতা
- গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা
- অগ্রিম কর দিতে হবে না মর্মে বোর্ডের সনদ পাওয়া প্রতিষ্ঠান
আইনে মোটরযান বলতে জিপ ও মাইক্রোবাস ধরা হয়েছে, কিন্তু মোটরসাইকেল আর ১৩৮ ধারায় বলা বাণিজ্যিক যান এর বাইরে। ২০২৬-২৭ বাজেটের আগে মোটরসাইকেলে বছরে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম কর বসানোর প্রস্তাব উঠেছিল। প্রথম আলোর ৫ জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এনবিআর সেই প্রস্তাব বাদ দিয়েছে।
৫. গাড়ির আয়কর কি ফেরত পাওয়া যায়
না। ১৫৩ ধারার ৭ উপধারায় সোজা লেখা আছে, এই অগ্রিম কর ফেরতযোগ্য নয়। আর ৬ উপধারা বলছে, আপনার নিয়মিত আয়ের ওপর হিসাব করা কর যদি এই অগ্রিম করের চেয়ে কম হয়, তাহলে ধরা হবে আপনার এমন আয় ছিল যার কর এই অঙ্কের সমান।
সহজ কথায়, গাড়ি থাকলে অন্তত এই অঙ্কটুকু কর আপনার বছরের ন্যূনতম দায় হয়ে দাঁড়ায়। বেশি আয় হলে বাকি কর রিটার্নে হিসাব করে দেবেন, আর অগ্রিম করটুকু সেখান থেকে বাদ যাবে।
রিটার্নের সময় যা হাতে রাখবেন
গাড়ি বিক্রি করে নাম বদল না করলে কাগজে আপনি মালিক থেকে যান। তখন দ্বিতীয় গাড়ির ৫০% বাড়তি হার আপনার ঘাড়ে আসতে পারে। বিক্রির পরপরই বিআরটিএতে মালিকানা বদলের আবেদন করান।
৬. অনেকে যা জানতে চান
১৫০০ সিসি গাড়ির আয়কর কত?
গাড়ির অগ্রিম আয়কর কি প্রতিবছর দিতে হয়?
গাড়ির ট্যাক্স টোকেন আর অগ্রিম আয়কর কি একই জিনিস?
মোটরসাইকেলে কি অগ্রিম আয়কর লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।