সংক্ষেপে
আপনার NID-তে নিবন্ধিত যেকোনো নম্বর থেকে *16001# ডায়াল করে NID নম্বরের শেষ ৪ অঙ্ক দিলে SMS-এ সব অপারেটর মিলিয়ে আপনার নামের নম্বরগুলোর তালিকা আসে। এটি BTRC-র NEIR পোর্টালে দেওয়া পদ্ধতি।
সর্বশেষ জানা তথ্যে এক NID-তে সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখা যায়। পাঁচটিতে নামানোর একটি সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের শুরুতে স্থগিত হয়। অচেনা বা অপ্রয়োজনীয় সিম সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বাতিল করাতে হয়।
সিমের তালিকা দেখার কোড আর হ্যান্ডসেটের IMEI যাচাইয়ের নিয়ম এখানে দেওয়া আছে।
এই লেখায়
১. নিজের নামে কয়টি সিম, দেখবেন যেভাবে
- ১কোড ডায়াল করুনআপনার NID দিয়ে নিবন্ধিত যেকোনো নম্বর থেকে *16001# ডায়াল করুন।
- ২NID-র শেষ ৪ অঙ্ক দিনজানতে চাইলে NID নম্বরের শেষ ৪টি অঙ্ক লিখে পাঠান। এখানে পুরো NID নম্বর লাগে না।
- ৩SMS-এর তালিকা মিলিয়ে দেখুনফিরতি SMS-এ গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক, টেলিটক মিলিয়ে আপনার NID-তে নিবন্ধিত সব নম্বর আসে। কোন নম্বর চেনেন না, খাতায় টুকে রাখুন।
পরিবারের বয়স্ক কারও নামে কয়টি সিম আছে দেখতে চাইলে তাঁর নামের কোনো নম্বর থেকে একইভাবে তাঁর NID-র শেষ ৪ অঙ্ক দিন।
২. এক NID-তে কয়টি সিম রাখা যায়
২০১৭ সাল থেকে এক NID-তে ১৫টি সিম রাখা যেত। BTRC ২০২৫ সালের মে মাসে সীমা কমিয়ে ১০টি করে, বাড়তি সিম ছাড়তে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত সময় দেয়, আর ১ নভেম্বর থেকে বাড়তি সিম ধাপে ধাপে বন্ধ শুরু হয়।
এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সীমা পাঁচে নামানোর ঘোষণা এসেছিল। জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির কারণে BTRC তা কার্যকর করা স্থগিত রাখে, আর ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয় প্রস্তাবটি থেকে কমিশন সরে এসেছে। তাই সর্বশেষ জানা তথ্যে সীমা ১০টি, নতুন বিজ্ঞপ্তি এলে বদলাতে পারে।
BTRC চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, সীমার বেশি সিম বন্ধের সময় অপারেটররা সবচেয়ে কম ব্যবহৃত সিমটি আগে বন্ধ করে। দরকারি নম্বর যেন না যায়, তাই বাড়তি সিম নিজেই বেছে বাতিল করে রাখুন।
৩. যে সিম লাগবে না, বাতিল করবেন যেভাবে
- ১কোন অপারেটরের, তা দেখুননম্বরের শুরু দেখে অপারেটর বোঝা যায়: ০১৭ ও ০১৩ গ্রামীণফোন, ০১৮ রবি, ০১৬ এয়ারটেল, ০১৯ ও ০১৪ বাংলালিংক, ০১৫ টেলিটক। নম্বর অন্য অপারেটরে পোর্ট করা থাকলে অবশ্য এটা মিলবে না।
- ২NID নিয়ে কাস্টমার কেয়ারে যানসেই অপারেটরের নিজস্ব কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে NID কার্ড নিয়ে নিজে যান। সাধারণত আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিবন্ধন বাতিল (ডি-রেজিস্ট্রেশন) করা হয়।
- ৩চাইলে মালিকানা বদলানসিমটি পরিবারের কেউ চালালে বাতিল না করে তাঁর নামে মালিকানা হস্তান্তর করা যায়। কী কাগজ লাগবে, কাস্টমার কেয়ারে জেনে নিন।
গ্রাহক মারা গেলে তাঁর NID, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশনামা আর বৈধ উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র দেখিয়ে সিমের মালিকানা উত্তরাধিকারীর নামে নেওয়া যায়। এটি BTRC-র ঠিক করা বিশেষ পদ্ধতি।
৪. আপনার নামে অন্য কেউ সিম চালালে
BTRC-র এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু অসাধু খুচরা বিক্রেতা গ্রাহকের আঙুলের ছাপ রেখে দিয়ে তাঁর নামে বাড়তি সিম নিবন্ধন করেন। সিম কেনার সময় দোকানি ‘ছাপ মেলেনি’ বলে বারবার আঙুল দিতে বললে সতর্ক হোন।
- ১নম্বরটি বাতিল করানতালিকায় অচেনা নম্বর পেলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বাতিল করান। নম্বরটি কবে, কোন বিক্রেতার মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছিল, জানতে চান।
- ২থানায় জিডি করুননম্বরটি দিয়ে প্রতারণা, হুমকি বা অন্য অপরাধ হয়ে থাকতে পারে মনে হলে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। জিডির কপি রেখে দিন, পরে কাজে লাগতে পারে।
- ৩BTRC-তে অভিযোগ দিনঅপারেটর সমাধান না দিলে টেলিযোগাযোগ সেবা সংক্রান্ত হটলাইন ১০০ নম্বরে ফোন করুন, অথবা BTRC-র ওয়েবসাইটের অভিযোগ অংশ থেকে অভিযোগ দিন। অভিযোগের ফরমে অপারেটরকে আগে জানিয়েছিলেন কি না আর টিকিট নম্বর পেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
কেউ অপারেটর বা BTRC-র লোক পরিচয় দিয়ে সিম যাচাইয়ের নামে OTP, PIN বা পুরো NID নম্বর চাইলে দেবেন না। নিজের সিমের খোঁজ নিজে *16001# দিয়েই নিতে পারেন।
৫. হ্যান্ডসেট বৈধ কি না, সেটাও দেখে নিন
BTRC-র NEIR ব্যবস্থায় মোবাইল ফোনের IMEI নিবন্ধিত থাকে। মেসেজ অপশনে KYD লিখে একটি স্পেস দিয়ে ১৫ অঙ্কের IMEI লিখুন, তারপর 16002 নম্বরে পাঠান। ফিরতি বার্তায় হ্যান্ডসেটটি বৈধ ও নিবন্ধিত কি না জানা যায়।
- IMEI জানতে ফোনে *#06# ডায়াল করুন, অথবা ফোনের বাক্স বা রসিদ দেখুন।
- দুই সিমের ফোনে দুটি IMEI থাকে, দুটোই আলাদা করে যাচাই করুন।
- নতুন ফোন ‘নিবন্ধিত নয়’ দেখালে NEIR পোর্টাল থেকে কাগজসহ নিবন্ধনের আবেদন করা যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সীমার বেশি সিম থাকলে কী হবে?
পাঁচ সিমের নিয়ম কি চালু হয়েছে?
বয়স্ক বাবা-মায়ের নামের অচেনা সিম বাতিল করব কীভাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।