দৈনন্দিন সেবা

বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার নিয়ম: ব্যাংক, বিকাশ-নগদ বা এটিএমের সমস্যায় ১৬২৩৬, অনলাইন ফরম আর কোন কাগজ লাগে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬bb.org.bd
বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার নিয়ম: ব্যাংক, বিকাশ-নগদ বা এটিএমের সমস্যায় ১৬২৩৬, অনলাইন ফরম আর কোন কাগজ লাগে

সংক্ষেপে

বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার নিয়ম হলো আগে নিজের শাখায়, তারপর ব্যাংকের অভিযোগ সেলে জানানো, আর সেখানে সমাধান না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে (CIPC) যাওয়া। হটলাইন ১৬২৩৬, কর্মদিবসে অফিস সময়ে; ইমেইল bb.cipc@bb.org.bd।

একই পথ বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা আর ফাইন্যান্স কোম্পানির বেলাতেও। অভিযোগের সঙ্গে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত জবাবের কপি দিতে হয়, তাই আগের ধাপগুলোর প্রমাণ রেখে দিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ পদ্ধতি

সিআইপিসির ধাপ, ঠিকানা, ইমেইল আর অনলাইন অভিযোগ ফরমের লিংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইটে।

পদ্ধতি দেখুন
এই লেখায়
  1. বাংলাদেশ ব্যাংকে কিভাবে অভিযোগ করব: তিন ধাপ
  2. বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ নাম্বার, ইমেইল আর অনলাইন ফরম
  3. অভিযোগের সঙ্গে কী কাগজ দেবেন
  4. বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ পত্র লেখার নিয়ম
  5. কোন অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক নেয় না
  6. বিকাশ-নগদ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অভিযোগ
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. বাংলাদেশ ব্যাংকে কিভাবে অভিযোগ করব: তিন ধাপ

এটিএম থেকে টাকা বের হয়নি অথচ হিসাব থেকে কেটে গেছে, বা বিকাশে লেনদেন আটকে আছে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। শাখায় গেলে বলা হয় দেখছি। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি অভিযোগ নেয় ঠিকই, তবে আগে দুটি ধাপ পার হতে বলে।

  • ১
    শাখা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানে জানানযে শাখায় হিসাব, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে সমস্যাটি জানান। বিকাশ-নগদের মতো সেবার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব গ্রাহকসেবায় জানান।
  • ২
    প্রধান কার্যালয়ের অভিযোগ সেলে যানসমাধান না হলে ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অভিযোগ সেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিন। ঠিকানা শাখায় বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে থাকে।
  • ৩
    বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইপিসিতে অভিযোগতবুও সমাধান না হলে বা জবাবে সন্তুষ্ট না হলে হটলাইন, অনলাইন ফরম, ইমেইল বা ডাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ গ্রহণের কাজটি করে প্রযুক্তি ঝুঁকি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি বিভাগের অধীন গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র, সংক্ষেপে সিআইপিসি। পুরোনো লেখায় এফআইসিএসডির নাম পাবেন, বর্তমান পাতায় সিআইপিসি লেখা।

২. বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ নাম্বার, ইমেইল আর অনলাইন ফরম

পথবিবরণ
হটলাইন১৬২৩৬, কর্মদিবসে অফিস সময়ে
ইমেইলbb.cipc@bb.org.bd
অনলাইনবাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ পদ্ধতি পাতার Complaint Submission Form
ডাকপরিচালক, টিআরডিএস, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

হটলাইন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে না। ছুটির দিনে বা রাতে সমস্যা হলে ইমেইল বা অনলাইন ফরমে লিখে রাখুন, পরের কর্মদিবসে ফোন করুন।

ফোনে কথা বলার সময় কর্মকর্তা হয়তো লিখিত অভিযোগ পাঠাতে বলবেন। তাই কল করার আগেই হিসাব নম্বর, লেনদেনের তারিখ, প্রতিষ্ঠানের জবাবের চিঠি আর আগের অভিযোগের রসিদ সামনে রাখুন। কল শেষে কাকে কী বললেন আর কী পরামর্শ পেলেন, তারিখসহ এক লাইনে লিখে রাখুন।

৩. অভিযোগের সঙ্গে কী কাগজ দেবেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাতায় যা চাওয়া হয়েছে

ধরুন, ময়মনসিংহের তানভীর হাসান এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে টাকা পাননি, কিন্তু হিসাব থেকে কেটে গেছে। তিনি শাখায় লিখিত আবেদন দিলেন, পরে ব্যাংকের অভিযোগ সেলে গেলেন। সেল জানাল টাকা ফেরত হবে না, কারণ মেশিনের রেকর্ডে লেনদেন সফল। তানভীর এখন সেই চিঠি, এসএমএস আর এটিএমের স্লিপ নিয়ে ১৬২৩৬-এ বা অনলাইন ফরমে অভিযোগ করবেন।

ব্যাংক কত দিনে নিষ্পত্তি করবে

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংককে সব অভিযোগ গ্রহণ করে প্রাপ্তিস্বীকার দিতে হয়, সাধারণভাবে ১০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়, আর কোনো অবস্থায় ৪৫ দিনের বেশি নয়। সাম্প্রতিক কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, শাখায় জিজ্ঞেস করুন।

৪. বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ পত্র লেখার নিয়ম

ইমেইল বা ডাকে পাঠালে চিঠিটা গুছিয়ে লিখুন। কর্মকর্তা যেন প্রথম পড়াতেই বোঝেন কোন প্রতিষ্ঠান, কোন হিসাব, কী সমস্যা আর আপনি কী চান। সরকারি কোনো নির্ধারিত নমুনা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক যে তথ্য চায়, তা এই ক্রমে লিখলে পড়তে সহজ হয়।

  1. প্রাপক: পরিচালক, টিআরডিএস, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
  2. বিষয়: কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, এক লাইনে সমস্যাটি।
  3. আপনার পরিচয়: নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, হিসাব নম্বর বা ওয়ালেট নম্বর।
  4. ঘটনা: তারিখ, সময়, টাকার অঙ্ক, লেনদেন বা কার্ডের তথ্য।
  5. আগে কী করেছেন: শাখায় কবে জানিয়েছেন, অভিযোগ সেলে কবে, তাদের জবাব কী।
  6. কী চান: টাকা ফেরত, চার্জ বাতিল, হিসাব চালু, নাকি অন্য কিছু।
  7. সংযুক্তি: প্রতিষ্ঠানের জবাবের কপি, স্টেটমেন্ট, এসএমএস, রসিদ।
  8. শেষে তারিখসহ নিজের সই।

সইবিহীন বা ঠিকানা ছাড়া অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক নেয় না, তাই ইমেইলে পাঠালেও সই করা কপি স্ক্যান করে সংযুক্ত করুন।

৫. কোন অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক নেয় না

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারের বাইরের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
  • হিসাবধারীর লিখিত অনুমতি ছাড়া তৃতীয় কারও করা অভিযোগ।
  • যে বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে।
  • বেনামি বা সইবিহীন অভিযোগ।
  • অভিযোগকারীর ঠিকানা আর যোগাযোগের তথ্য ছাড়া অভিযোগ।

বাবা-মায়ের হিসাবের সমস্যা নিয়ে সন্তান অভিযোগ করতে চাইলে হিসাবধারীর সই করা অনুমতিপত্র সঙ্গে দিন। মামলা করে ফেললে একই বিষয়ে আর বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ চলবে না।

৬. বিকাশ-নগদ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাতায় স্পষ্ট বলা আছে, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই তিন ধাপ। আগে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা, তারপর তাদের অভিযোগ সেল, শেষে সিআইপিসি। ভুল নম্বরে টাকা পাঠালে কী করবেন, সেটা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে, সেখানে থানায় জিডির কথাও বলা হয়েছে।

এমএফএস হিসাব হঠাৎ বন্ধ বা লক হলে, বা কোনো লেনদেন আটকে থাকলে প্রতিষ্ঠানের জবাব লিখিতভাবে চেয়ে নিন। অ্যাপের চ্যাট বা ইমেইলের জবাবের স্ক্রিনশটও চলবে। এই জবাবই পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপনার অভিযোগের প্রধান সংযুক্তি হবে।

  • অভিযোগের সময় লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি, তারিখ, সময় আর টাকার অঙ্ক লিখুন।
  • প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে কথা বললে অভিযোগ বা টিকিট নম্বর চেয়ে নিন।
  • কেউ ফোন করে নিজেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিকাশের লোক বলে পিন বা ওটিপি চাইলে দেবেন না। পিন জানার দরকার কোনো অভিযোগ কর্মকর্তার নেই।

৭. অনেকে যা জানতে চান

বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ নাম্বার কত?
১৬২৩৬। এটি কর্মদিবসে অফিস সময়ে খোলা থাকে, ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি আর মোবাইল আর্থিক সেবার অভিযোগ নেয়। ইমেইলে লিখতে চাইলে bb.cipc@bb.org.bd।
সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করা যায় কি?
বাংলাদেশ ব্যাংক চায় আপনি আগে শাখায় আর পরে প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ সেলে যান। অভিযোগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত জবাবের কপি দিতে বলা হয়েছে।
bangladesh bank complaint online kivabe korbo?
বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ পদ্ধতি পাতায় Complaint Submission Form-এর লিংক আছে। নাম, ঠিকানা, ফোন, অভিযোগের বিবরণ আর প্রতিষ্ঠানের জবাবসহ প্রমাণ সংযুক্ত করে জমা দিন।
বাবার ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে আমি কি অভিযোগ করতে পারব?
হিসাবধারীর লিখিত অনুমতি থাকলে পারবেন। অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করে না।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
দৈনন্দিন সেবা

অনলাইনে জিডি করার নিয়ম: মোবাইল, সিম বা কাগজ হারালে থানায় না গিয়ে যেভাবে করবেন

NID, সচল মোবাইল আর লাইভ ছবি দিয়ে নিবন্ধন, হারানো জিনিসের জিডি, কপি ডাউনলোড আর হারানো ফোনের IMEI।
দৈনন্দিন সেবা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: অনলাইনে আবেদন, ১,৫০০ টাকা ফি, কাগজ আর স্ট্যাটাস চেক

পাসপোর্টের মেয়াদ, ঠিকানার শর্ত, ১,৫০০ টাকার চালান, PCC S এসএমএসে স্ট্যাটাস আর সনদ তোলার নিয়ম।
দৈনন্দিন সেবা

গাড়ির ট্যাক্স টোকেন আর ফিটনেস নবায়ন: BRTA অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাগজ আর ফি দেখার নিয়ম

ফিটনেসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার চার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজ, ট্যাক্স টোকেন নবায়ন আর অনলাইনে ফি দেখা।

অনেকে খোঁজেন