
সংক্ষেপে
ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম হলো ঢাকা মহানগর পুলিশের Citizen Information Management System বা CIMS এর নিবন্ধন ফরম। ডিএমপির সাইট অনুযায়ী ফরমটি মহানগরের প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে পাওয়া যায়, প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি ফরম পূরণ করে থানায় জমা দিতে হয়, আর জমার আগে একটি ফটোকপি নিজের কাছে রাখা ভালো।
বাসা বদলালে আগের থানাকে জানিয়ে নতুন ঠিকানার থানায় আবার ফরম পূরণ করতে হয়। বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া আর মেসের সদস্য, তিন ধরনের বাসিন্দাকেই ডিএমপি নিবন্ধন করতে বলেছে।
নিবন্ধনের নিয়ম, বিট অফিসারের ব্যবস্থা আর বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সুবিধা ডিএমপির নিজস্ব পাতায়।
এই লেখায়
১. ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কী, কেন চাওয়া হয়
ঢাকায় বাসা ভাড়া নিলে অনেক বাড়িওয়ালা প্রথম দিনেই একটি ফরম হাতে দেন, যাতে নিজের আর পরিবারের সদস্যদের তথ্য লিখতে হয়। এটাই ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় সফটওয়্যারভিত্তিক CIMS ডাটাবেজ চালু হয়, ২০১৭ সালে তা ঢাকার সব থানায় ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে নিবন্ধন সহজ করতে একটি মোবাইল অ্যাপও চালু হয় বলে জুলাই ২০২৬ সালে ইউএনবি জানিয়েছে।
ডিএমপির সাইটে বলা হয়েছে, প্রতিটি থানা এলাকা কয়েকটি বিটে ভাগ করা, আর প্রতিটি বিটে এসআই ও এএসআইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব থাকে। নিবন্ধনের তথ্য থাকলে বিট পুলিশ এলাকার বাসিন্দাদের চেনে, আর অপরাধ ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হয়। ইউএনবির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার পরিবারের নিবন্ধন হয়েছে।
২. ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কোথায় পাওয়া যায়
- ঢাকা মহানগরের যেকোনো থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে বিনা খরচে ফরম পাওয়া যায়।
- অনেক সময় বিট পুলিশ বা বাড়িওয়ালা নিজেই ফরম এনে দেন। এতে আপত্তির কিছু নেই, তবে পূরণ করা ফরম কোথায় জমা হলো, তা জেনে নিন।
- ইন্টারনেটে ‘ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম pdf’ নামে নানা কপি ঘোরে। ডিএমপির সাইটে আমরা ডাউনলোডযোগ্য ফরম পাইনি, তাই থানার ফরম ব্যবহার করাই নিরাপদ।
- চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটের মতো অন্য মহানগরে নিজ এলাকার থানায় জিজ্ঞেস করুন, সেখানে আলাদা ফরম বা নিয়ম থাকতে পারে।
ডিএমপির নির্দেশনায় এই নিবন্ধনের জন্য কোনো ফির কথা নেই। কেউ ফরম দেওয়া বা জমা নেওয়ার জন্য টাকা চাইলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান।
৩. ফরম পূরণ করে জমা দেবেন যেভাবে
- ১ফরম সংগ্রহ করুনযে এলাকায় থাকেন, সেই থানা বা ফাঁড়ি থেকে ফরম নিন। কর্মস্থল অন্য থানায় হলেও নিবন্ধন হবে বাসার থানায়, ডিএমপি সেটাই উত্তম বলেছে।
- ২পরিবারপ্রতি একটি ফরমডিএমপির নিয়মে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হয়। পরিবারের সবার নাম আর তথ্য একটিতেই লিখুন।
- ৩তথ্য মিলিয়ে লিখুননাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এনআইডি কার্ড দেখে লিখুন। মোবাইল নম্বর এমন দিন যা চালু থাকে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য পরে আপনার জন্যই ঝামেলা তৈরি করবে।
- ৪ফটোকপি রাখুনজমার আগে পূরণ করা ফরমের একটি ফটোকপি নিজের কাছে রাখুন, ডিএমপি নিজেই এই পরামর্শ দিয়েছে।
- ৫থানায় জমা দিনপূরণ করা ফরম থানায় জমা দিন, বা বাড়িওয়ালা একসঙ্গে জমা দিলে তাঁর কাছ থেকে জেনে নিন কবে জমা হলো।
পূরণের সময় হাতের কাছে রাখুন
৪. বাসা বদলালে কী করবেন
ঠিকানা বদলালে আগের থানাকে জানাতে হয়, তারপর নতুন বাসা যে থানা এলাকায়, সেখানে যোগাযোগ করে নতুন করে নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হয়। ডিএমপির পাতা আর ইউএনবির প্রতিবেদন, দুটিতেই এই নিয়মের কথা আছে। একই থানার ভেতরে বাসা বদলালেও নতুন ঠিকানা জানিয়ে রাখা ভালো, কারণ বিট বদলে যেতে পারে।
যারা মেসে থাকেন, তাঁদেরও নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। মেসে সদস্য বদলায় বেশি, তাই নতুন সদস্য এলে মেস ম্যানেজার বা বাড়িওয়ালার মাধ্যমে তাঁর তথ্যও জমা দিন।
নতুন বাসায় ওঠার প্রথম সপ্তাহেই কাজটা সেরে ফেলুন। বাড়িওয়ালা ফরম না দিলে নিজেই থানা থেকে এনে পূরণ করুন, এতে আপনার নিজের নিরাপত্তার রেকর্ডও হালনাগাদ থাকে। পুরোনো বাসার থানাকে জানানোর সময় নতুন ঠিকানাটাও বলে রাখুন।
৫. বাড়িওয়ালা হিসেবে যা করবেন
নতুন ভাড়াটিয়া ওঠার সময়ই ফরমটি পূরণ করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে সহজ। ডিএমপি নিজেই বলেছে, বাড়িওয়ালা সব তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে বললে অপরাধী হলে সাধারণত গড়িমসি করে, অনেক সময় পরের মাসেই চলে যায়। তাই কেউ তথ্য দিতে অহেতুক দেরি করলে সেটাকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখুন।
- ভাড়ার চুক্তির সময় ফরম দিন, এনআইডি কার্ড দেখে তথ্য মিলিয়ে নিন।
- নিজের তথ্যও বাড়িওয়ালা হিসেবে নিবন্ধন করুন, ডিএমপি বাড়িওয়ালাদেরও নিবন্ধন করতে বলেছে।
- পূরণ করা ফরম থানায় জমা দিন, ফটোকপি নিজের ফাইলে রাখুন।
- ভাড়াটিয়া চলে গেলে আর নতুন কেউ উঠলে আবার একই কাজ করুন, যাতে থানার তথ্য হালনাগাদ থাকে।
মনে রাখবেন, এই ফরম ভাড়ার চুক্তির বিকল্প নয়। ভাড়া, অগ্রিম আর বাসা ছাড়ার নোটিশের শর্ত আলাদা লিখিত চুক্তিতে রাখুন, সে নিয়মগুলো আমাদের বাড়ি ভাড়া আইনের লেখায় আছে।
৬. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার লাভ কী
| কার জন্য | ডিএমপির বলা সুবিধা |
|---|---|
| বাড়িওয়ালা | ভাড়াটিয়ার নিবন্ধন ফরম পুলিশের কাছে দেখাতে পারলে ভাড়াটিয়ার অপরাধের দায় বাড়িওয়ালার ওপর বর্তায় না, অহেতুক হয়রানিও কমে |
| বাড়িওয়ালা | বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচয় থাকায় আইনগত দরকারে যোগাযোগ সহজ |
| ভাড়াটিয়া | বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচয় থাকে, রাতে চলাফেরায় অহেতুক হয়রানি কমে |
| ভাড়াটিয়া | অন্য কোথাও মিথ্যা মামলা হলে ঢাকায় অবস্থানের তথ্য প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে |
প্রতিটি বিট অফিসারের একটি সরকারি মোবাইল নম্বর আছে বলে ডিএমপি জানিয়েছে। ফরম জমার সময় নিজের বিটের অফিসারের নম্বরটি চেয়ে রাখুন, পুলিশি সেবার দরকার হলে থানার পাশাপাশি সেখানেও ফোন করা যায়। জরুরি অবস্থায় অবশ্যই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম pdf কোথায় পাব?
ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম কি বাধ্যতামূলক?
bharatia tottho form কয়টা পূরণ করতে হয়?
বাসা বদলালে কি আবার ফরম দিতে হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।