
সংক্ষেপে
বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনলে, কিংবা বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হিসেবে মিটারের নাম পরিবর্তন করতে হয়। ডেসকোর সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী লাগে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি আর জমির মালিকানা দলিল, হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ বা নামজারির খতিয়ান। যৌথ মালিকানা হলে অন্য মালিকদের অনাপত্তিনামা।
ডেসকোতে আবেদন হয় অনলাইনে, OCSMS পোর্টালে। স্থাপনা পরিদর্শনের পর ডিমান্ড নোট আসে, সেই টাকা অনলাইনে দিলে পরের মাসের বিল থেকে নাম বদলে যায়। সেবার সময়সীমা ৫ কর্মদিবস। ফির অঙ্ক ডিমান্ড নোটেই লেখা থাকে। ডিপিডিসিতেও অনলাইনে আলাদা আবেদন আছে, আর পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহককে স্থানীয় অফিসে যেতে হয়।
নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নাম পরিবর্তনের আবেদন করুন।
এই লেখায়
১. নাম সংশোধন না নাম বা মালিকানা পরিবর্তন
আবেদনের আগে শুরুতেই ঠিক করে নিন আপনার আসলে কোন সেবা দরকার। বিলে নিজের নামের বানান ভুল হলে সেটা নাম সংশোধন। আর মিটার অন্য কারও নাম থেকে আপনার নামে আনতে চাইলে সেটা নাম বা মালিকানা পরিবর্তন। ডিপিডিসির অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় এ দুটির আলাদা ফরম আছে, ডেসকোর গ্রাহক সেবার তালিকাতেও নাম কারেকশন আর মালিকানা পরিবর্তন আলাদা।
এই লেখা মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে। সাধারণত দুই ক্ষেত্রে এটা লাগে: আপনি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন কিন্তু মিটার আগের মালিকের নামে, অথবা মিটার ছিল বাবা বা মায়ের নামে, তিনি মারা গেছেন।
২. মিটারের নাম পরিবর্তন করতে কি কি লাগে
ডেসকোর সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যমান হিসাবের নাম পরিবর্তনের জন্য এই কাগজগুলোর স্ক্যান কপি চাওয়া হয়েছে:
যে কাগজ লাগবে
বাসার সাধারণ মিটারের জন্য প্রথম তিনটিই মূল কাগজ। শেষের শর্তগুলো বড় ভবন বা শিল্পের জন্য। আবেদনের সময় হিসাব নম্বর উল্লেখ করতে হয়, তাই পুরোনো একটি বিলের কপি হাতে রাখুন।
ফ্ল্যাট কিনে থাকলে আপনার নামের রেজিস্ট্রি দলিল আর নামজারির খতিয়ান সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ। নামজারি এখনো না হয়ে থাকলে দলিলের সঙ্গে হালনাগাদ খাজনার রশিদ রাখুন। দলিল, খতিয়ান আর NID-তে আপনার নামের বানান এক রকম আছে কি না আগে মিলিয়ে নিন। তিন জায়গায় তিন রকম বানান থাকলে যাচাইয়ের সময় প্রশ্ন উঠতে পারে।
৩. ওয়ারিশ সূত্রে বাবার মিটার নিজের নামে
বাবা বা মায়ের নামের মিটার সন্তানের নামে আনতে বাড়তি কিছু কাগজ লাগে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এগুলো হলো:
- ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে নেওয়া মৃত্যু সনদ
- সব ওয়ারিশের নামসহ ওয়ারিশ সনদ
- অন্য ওয়ারিশদের, যেমন ভাই-বোন বা মায়ের, না-দাবি পত্র, যেখানে স্পষ্ট লেখা থাকবে তাঁরা আপনার নামে মিটার হস্তান্তরে রাজি
- না-দাবি পত্রে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিল ও সই
- আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি আর সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি
একটা উদাহরণ দিই। সেলিনার বাবা মারা গেছেন, বাসায় থাকেন তিনি আর মা, ভাই থাকেন বিদেশে। মিটার সেলিনার নামে আনতে মা আর ভাই দুজনেরই না-দাবি পত্র লাগবে। ভাই দেশে না থাকলে সময় নিয়ে আগেই তাঁর সই করা পত্র আনিয়ে রাখুন।
৪. ডেসকোতে অনলাইনে আবেদন, সময় আর ফি
- ১OCSMS-এ লগইননিবন্ধিত মোবাইল নম্বরকে ইউজার আইডি হিসেবে আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। আগে নিবন্ধন না থাকলে মোবাইল নম্বর আর NID নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে নিন।
- ২হিসাব নম্বর দিয়ে আবেদননাম পরিবর্তনের আবেদন বেছে হিসাব নম্বর লিখুন আর কাগজগুলোর স্ক্যান কপি আপলোড করে Submit করুন।
- ৩পরিদর্শন আর ডিমান্ড নোটডেসকো স্থাপনা পরিদর্শন করে তথ্য যাচাই করবে, তারপর OCSMS-এ ডিমান্ড নোট দেবে।
- ৪টাকা দিন, পরের মাসে নতুন নামডিমান্ড নোটের টাকা ই-পেমেন্টে দিলে পরের মাসের বিলে আপনার নাম আসবে।
| বিষয় | ডেসকোর চার্টারে যা আছে |
|---|---|
| আবেদনের পথ | OCSMS পোর্টালে অনলাইনে |
| সেবার সময়সীমা | ৫ কর্মদিবস |
| ফি | OCSMS-এ ইস্যু করা ডিমান্ড নোটে উল্লেখিত টাকা |
| টাকা দেওয়ার পদ্ধতি | ই-পেমেন্ট |
| নতুন নাম কবে | ডিমান্ড নোট পরিশোধের পরের মাসের বিলে |
মিটারের নাম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে, তার নির্দিষ্ট অঙ্ক চার্টারে নেই, ডিমান্ড নোটেই দেখাবে। কেউ বাড়তি টাকায় দ্রুত করিয়ে দেওয়ার কথা বললে রাজি হবেন না। সমস্যা হলে ডেসকোর হটলাইন ১৬১২০-এ ফোন করতে পারেন।
টাকা দেওয়ার পর পরের মাসের বিলটা হাতে পেয়ে নাম মিলিয়ে দেখুন। নাম না বদলালে ডিমান্ড নোট আর পেমেন্টের প্রমাণ নিয়ে অফিসে যোগাযোগ করুন। পেমেন্টের রসিদ বা স্ক্রিনশট কয়েক মাস সংরক্ষণ করে রাখা ভালো, পরে কোনো প্রশ্ন উঠলে এটাই আপনার প্রমাণ।
৫. ডিপিডিসি আর পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক হলে
ডিপিডিসি: অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় মেনুতে নাম বা মালিকানা পরিবর্তনের আলাদা ফরম আছে। শুরুতেই আপনার ৮ সংখ্যার গ্রাহক নম্বর দিয়ে গ্রাহকের তথ্য খুঁজতে হয়, তারপর আবেদন। গ্রাহক নম্বর বিলে লেখা থাকে।
পল্লী বিদ্যুৎ: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে কাগজসহ জমা দিতে হয়, নির্ধারিত ফি দিয়ে রসিদ রাখতে হয়। অফিস কাগজ যাচাই করে, দরকার হলে মিটারের জায়গা পরিদর্শন করে, তারপর নাম বদলে দেয়। ফির অঙ্ক সমিতিভেদে জেনে নিন।
পুরোনো মালিকের নামে বকেয়া বিল থাকলে নাম বদলের আগে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বাড়ি কেনার সময়ই সর্বশেষ পরিশোধিত বিল দেখে নিন, আর দলিলের সময় বকেয়ার দায় কার, লিখিত রাখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
মিটারের নাম পরিবর্তন করতে কি কি লাগে?
মিটারের নাম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?
নাম পরিবর্তনে কত দিন লাগে?
বাবার নামের মিটার কি ওয়ারিশ সনদ দিয়ে নিজের নামে করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।