
সংক্ষেপে
ঢাকায় বিদ্যুৎ দেয় দুই প্রতিষ্ঠান। ডিপিডিসির নতুন সংযোগের আবেদন হয় তাদের অনলাইন আবেদন পোর্টালে, ডেসকোর আবেদন হয় OCSMS পোর্টালে। আপনার এলাকা কোন প্রতিষ্ঠানের, তা পাশের বাড়ির বিদ্যুৎ বিলেই লেখা থাকে।
কাগজের মধ্যে NID, মালিকানার প্রমাণ, অনুমোদিত নকশা আর হোল্ডিং কর রসিদ লাগে। ডিপিডিসি জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা আর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সব নতুন সংযোগে TIN আর রিটার্ন জমার প্রমাণ বাধ্যতামূলক। মোট খরচ জানা যায় জরিপের পর ডিমান্ড নোটে।
নতুন সংযোগ, লোড বাড়ানো আর নাম বদলের আবেদন এই পোর্টালে, আবেদনের পর ট্র্যাকিং নম্বর আর পিন আসে।
এই লেখায়
১. আপনার এলাকা ডেসকো না ডিপিডিসি
একই শহরে দুই প্রতিষ্ঠান কাজ করে বলে ভুল জায়গায় আবেদন করে অনেকে সময় নষ্ট করেন। আশপাশের কোনো বাড়ির বিদ্যুৎ বিল বা প্রিপেইড মিটারের কার্ডে প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে নিন। নিশ্চিত না হলে কাছের অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
| প্রতিষ্ঠান | অনলাইন আবেদন | আবেদনের পর |
|---|---|---|
| ডিপিডিসি | onlineapplication.dpdc.org.bd পোর্টাল | এসএমএসে ট্র্যাকিং নম্বর ও পিন, ফরম প্রিন্ট করে সই দিয়ে এনওসিএস অফিসে জমা |
| ডেসকো | ocsms.desco.org.bd পোর্টাল (OCSMS) | অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন, ড্যাশবোর্ড থেকে ফি আর ডিমান্ড নোট পরিশোধ |
শিল্প সংযোগের আবেদন ডিপিডিসি নেয় বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে। এই লেখা বাসাবাড়ি আর দোকানের সাধারণ এলটি সংযোগ নিয়ে।
২. কোন কাগজ লাগে
ডিপিডিসির তালিকা অনুযায়ী এলটি সংযোগে
ডেভেলপারের ফ্ল্যাট হলে ডেভেলপার চুক্তি, যৌথ মালিকানায় অন্য মালিকদের অনুমতি, আর মূল মালিকের আমমোক্তারনামা থাকলে সেটিও প্রমাণ হিসেবে চলে। একই নাম, একই শ্রেণি আর একই জায়গায় আগে থেকে সংযোগ থাকলে ডিপিডিসি শুধু NID-র কপি আর সর্বশেষ পরিশোধিত বিল বা গ্রাহক নম্বর চায়।
ডিপিডিসির তালিকা অনুযায়ী ২ কিলোওয়াটের বেশি লোডে সোলার প্যানেল স্থাপনের সনদ লাগে। ডেসকোর OCSMS-এও সোলারের কাগজ জমার আলাদা ধাপ আছে।
ডেসকো তাদের পোর্টালে আলাদা কাগজের তালিকা প্রকাশ করেনি, আবেদনের সময় মিটারের তথ্যের সঙ্গে সংযুক্তি চায়। ডিপিডিসির তালিকার কাগজগুলো গুছিয়ে রাখলে ডেসকোর আবেদনেও কাজে লাগবে।
৩. ডিপিডিসিতে আবেদন থেকে মিটার
- ১অনলাইনে তথ্য দিনপোর্টালে প্রাথমিক তথ্য দিয়ে সেভ করুন। মোবাইলে ট্র্যাকিং নম্বর আর পিন আসবে। নিশ্চিত করার আগে পর্যন্ত তথ্য বদলানো যায়, পরে নয়।
- ২ফরম জমা দিনফরম প্রিন্ট করে সই দিন, কাগজসহ এলাকার এনওসিএস অফিসে জমা দিন। আবেদন অসম্পূর্ণ হলে সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয়।
- ৩জরিপ ও লোড বরাদ্দএলটি সংযোগে জরিপ এক দিনে আর লোড বরাদ্দ এক দিনে হওয়ার কথা। জায়গায় আগের বকেয়া বিল থাকলে তা শোধ করতে হয়।
- ৪খরচ আর জামানত জমাজরিপের পর প্রাক্কলিত খরচ আর জামানতের অঙ্ক জানানো হয়। ব্যাংকে জমা দিয়ে রসিদ এনওসিএস অফিসে দিন।
- ৫মিটার বসানোডিপিডিসির প্রক্রিয়ায় মিটার দেন গ্রাহক। মিটার পরীক্ষায় পাস করলে দুই দিনের মধ্যে বসানো হয়।
আবেদন কোন ধাপে আছে, তা ডিপিডিসির ওয়েবসাইটের নতুন সংযোগ ট্র্যাকিং পাতায় ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে দেখা যায়। ট্র্যাকিং নম্বর বা পিন হারালে পোর্টাল থেকেই উদ্ধার করা যায়।
৪. ডেসকোর OCSMS-এ আবেদন
- ডেসকোর ওয়েবসাইট থেকে OCSMS পোর্টালে যান, নিবন্ধন করুন। ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড আর অ্যাক্টিভেশন কোড এসএমএস ও ইমেইলে আসে।
- অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করে নতুন সংযোগের আবেদন বেছে নিন।
- ফরম পূরণ করে মিটার যোগ করুন, সংযুক্তি দিয়ে জমা দিন।
- আবেদন ফি দিন ড্যাশবোর্ড থেকে কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা তালিকাভুক্ত ব্যাংকে।
- ডিমান্ড নোট এলে একইভাবে পরিশোধ করুন। প্রযোজ্য হলে সোলার আর মিটারের তথ্য জমা দিন।
কত কিলোওয়াট লোড চাইবেন, তা আন্দাজ করতে OCSMS-এ একটি লোড ক্যালকুলেটর আছে। লোড ঠিকমতো না ধরলে পরে লোড বাড়ানোর আলাদা আবেদন করতে হয়।
৫. খরচ কত, কোথায় জানবেন
ডেসকো বা ডিপিডিসি কেউই নতুন সংযোগের আবেদন ফি, কিলোওয়াটপ্রতি জামানত বা মিটারের দামের একক তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি বলে আমরা দেখেছি। ডেসকোর ওয়েবসাইটের 'নতুন সংযোগের মূল্যহার' পাতায় আসলে বিদ্যুতের খুচরা দাম দেওয়া আছে, সংযোগ ফি নয়। আপনার সংযোগের মোট খরচ ঠিক হয় লোড আর জরিপের ভিত্তিতে, ডিমান্ড নোটে।
ফি আর জামানত দিন পোর্টাল বা ব্যাংকের মাধ্যমে, রসিদ রাখুন। দালাল বা কারও হাতে নগদ টাকা দিয়ে দ্রুত সংযোগের প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন, আর এমন কিছু ঘটলে প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ ব্যবস্থায় জানান।
বিল বা মিটার নিয়ে সমস্যায় ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬। শহরে সংযোগ চাইলে রিটার্ন জমার প্রমাণ আগে থেকে তৈরি রাখুন, এটা না থাকায় অনেক আবেদন আটকে যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ডিপিডিসির নতুন সংযোগ ফি কত?
ভাড়াটে হিসেবে কি নতুন সংযোগ নেওয়া যায়?
আবেদনের পর কত দিনে সংযোগ পাব?
পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।