দৈনন্দিন সেবা

ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে OTP, NID বা লগইনে আটকে গেলে

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬eticket.railway.gov.bd
ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে OTP, NID বা লগইনে আটকে গেলে

সংক্ষেপে

রেলের ই-টিকিট সাইট আর রেল সেবা অ্যাপে বেশির ভাগ ঝামেলা হয় চারটি জায়গায়: নিবন্ধনে NID যাচাই, OTP আসা, পাসওয়ার্ড আর কেনা টিকিটের কপি। নিবন্ধনে নাম লিখতে হয় ঠিক NID কার্ডে যেভাবে আছে, জন্মতারিখও কার্ডের সঙ্গে হুবহু মেলাতে হয়।

রেলের শর্তাবলিতেই বলা আছে, মোবাইল অপারেটর বা SMS গেটওয়েতে ভিড় থাকলে OTP দেরিতে আসতে পারে। কারিগরি যেকোনো সমস্যায় রেলের টেক সাপোর্টের ঠিকানা support@eticket.railway.gov.bd, আর রেলসেবার তথ্যের জন্য ১৩১।

রেলের ই-টিকিট সাইটে যান

নিবন্ধন, লগইন, পাসওয়ার্ড ফেরত আর Purchase History থেকে টিকিট নামানো, সবই এখানে।

ই-টিকিট সাইট খুলুন
এই লেখায়
  1. নিবন্ধনে NID যাচাই হচ্ছে না
  2. OTP আসছে না
  3. পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা লগইন হচ্ছে না
  4. অন্য কেউ আপনার NID দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে রেখেছে
  5. টিকিট কেটেছেন, কিন্তু কপি পাচ্ছেন না বা আর কাটতে দিচ্ছে না
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. নিবন্ধনে NID যাচাই হচ্ছে না

ই-টিকিট সাইটের Registration পাতায় চারটি তথ্য চাওয়া হয়: পুরো নাম, মোবাইল নম্বর, NID নম্বর আর জন্মতারিখ। পাতাতেই লেখা আছে, নাম দিতে হবে NID কার্ডে ঠিক যেভাবে লেখা আছে সেভাবে। একটা অক্ষর বা একটা দিন এদিক-সেদিক হলেই যাচাই আটকে যায়।

  • ১
    কার্ড হাতে নিয়ে নাম মেলাননামের বানান, ডট, স্পেস কার্ডে যেমন আছে তেমন লিখুন। নিজে থেকে নাম সংক্ষেপ করবেন না, আবার সংক্ষেপ করা অংশ পুরো লিখেও দেবেন না।
  • ২
    জন্মতারিখ আবার দেখুনসার্টিফিকেট বা অন্য কাগজের তারিখ নয়, NID কার্ডে যে জন্মতারিখ আছে সেটিই দিন। তারিখ বাছার সময় দিন আর মাস উল্টে গেল কি না খেয়াল করুন।
  • ৩
    মোবাইল নম্বর নিজের রাখুনযে নম্বর দেবেন, পরে লগইন, OTP আর পাসওয়ার্ড বদলানো সব ওই নম্বর দিয়েই হবে। তাই অন্যের সিম নয়, নিজের নামে নিবন্ধিত সচল নম্বর দিন।
  • ৪
    তবুও না মিললেআপনার NID-র তথ্যেই ভুল থাকলে রেলের সাইট তা ঠিক করতে পারবে না। তখন আগে নির্বাচন কমিশনের NID সেবা থেকে তথ্য সংশোধন করাতে হবে।

রেজিস্ট্রেশন পাতায় আরও একটি কথা লেখা আছে: আপনার NID আগে SMS-এর মাধ্যমে যাচাই হয়ে থাকলে সেই সময় যে তথ্য দিয়েছিলেন, এখানেও হুবহু সেটাই দিতে হবে। ২০২৩ সালে রেলওয়ে SMS-এ নিবন্ধনের সুযোগ চালু করেছিল, তখনকার খবরে BR লিখে স্পেস দিয়ে NID নম্বর আর জন্মতারিখ লিখে 26969 নম্বরে পাঠাতে বলা হয়েছিল। এই পদ্ধতি এখনও চালু আছে কি না, রেলের সাম্প্রতিক কোনো নোটিশে তা পাওয়া যায়নি। তাই আগে ওয়েবসাইট বা অ্যাপেই নিবন্ধনের চেষ্টা করুন।

২. OTP আসছে না

ই-টিকিট সাইটের শর্তাবলিতে স্পষ্ট লেখা আছে, টেলিকম অপারেটর বা SMS গেটওয়েতে ভিড় থাকলে OTP পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। ঈদের অগ্রিম টিকিট ছাড়ার দিনের মতো সময়ে লাখো মানুষ একসঙ্গে কোড চান, তখন এই দেরি বেশি হয়।

  • একবার কোড চাওয়ার পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন, ভিড়ের সময় দেরিতে আসাই স্বাভাবিক। একাধিক কোড এসে গেলে সবচেয়ে শেষে আসা কোডটি দিন।
  • যে নম্বরে কোড চাইছেন, সেটি ঠিকমতো লেখা হয়েছে কি না দেখুন। শুরুর ০ বাদ পড়ল কি না, একটা অঙ্ক বেশি বা কম হলো কি না মিলিয়ে নিন।
  • ফোনের মেসেজ ইনবক্স ভরা থাকলে বা কোনো স্প্যাম ব্লকার অ্যাপ চালু থাকলে নতুন SMS আটকে যেতে পারে। পুরোনো মেসেজ মুছে আবার চেষ্টা করুন।
  • নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে একবার ফ্লাইট মোড চালু করে বন্ধ করুন, অথবা যেখানে সিগন্যাল ভালো সেখানে গিয়ে কোড চান।
  • অনেকক্ষণ চেষ্টার পরও না এলে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। ভিড়ের সময় পেরোলে সাধারণত কোড ঠিকমতো আসে।
OTP কাউকে বলবেন না

রেলের শর্তাবলি অনুযায়ী রেলওয়ে যাত্রীর কার্ড বা ওয়ালেটের তথ্য, OTP বা PIN সংরক্ষণ করে না। কেউ রেলের লোক পরিচয়ে ফোন করে কোড চাইলে সেটি প্রতারণা।

৩. পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা লগইন হচ্ছে না

ই-টিকিট সাইটে লগইন হয় নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে। পাসওয়ার্ড মনে না থাকলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করবেন না, কারণ একই NID দিয়ে আরেকটি অ্যাকাউন্ট হবে না। আগের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডই বদলে নিন।

  • ১
    Forgot Password চাপুনই-টিকিট সাইটের Login পাতায় পাসওয়ার্ডের ঘরের নিচে Forgot Password? লেখা আছে, সেখানে চাপুন।
  • ২
    মোবাইল নম্বর দিনযে নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন সেটি লিখে NEXT চাপুন। এরপর স্ক্রিনের নির্দেশনা মেনে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করুন। সহজে ভুলবেন না, আবার অন্যে আন্দাজ করতে পারবে না, এমন পাসওয়ার্ড দিন।
  • ৩
    সমাধান না হলে ইমেইল করুনLogin পাতার Need Help? অংশে রেলের টেক সাপোর্ট টিমের ঠিকানা দেওয়া আছে: support@eticket.railway.gov.bd। ইমেইলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর আর কোন ধাপে আটকে যাচ্ছেন, তা পরিষ্কার করে লিখুন।

নিবন্ধিত নম্বরের সিমটি হারিয়ে গেলে আগে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার থেকে একই নম্বরের সিম তুলে নিন। কোড যেহেতু ওই নম্বরেই আসে, নম্বর ফিরে পেলে পাসওয়ার্ড বদলানো সহজ হয়।

৪. অন্য কেউ আপনার NID দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে রেখেছে

নিবন্ধন করতে গিয়ে যদি দেখেন আপনার NID আগেই অন্য কোনো মোবাইল নম্বরে ব্যবহার হয়ে গেছে, তাহলে এটাকে রেলওয়ে পরিচয় চুরি হিসেবে দেখে। ই-টিকিট সাইটের Contact Us পাতায় আসল NID-ধারীর জন্য পরিচয় ফিরে পাওয়ার নিয়ম দেওয়া আছে।

ইমেইলের সঙ্গে যা পাঠাবেন

ইমেইলটি পাঠাতে হবে support@eticket.railway.gov.bd ঠিকানায়। সিমটি আপনার নামে নিবন্ধিত কি না, *16001# ডায়াল করে আগে মিলিয়ে নিন। অন্যের নামে থাকা সিম দিয়ে মালিকানা প্রমাণ করা কঠিন হবে।

৫. টিকিট কেটেছেন, কিন্তু কপি পাচ্ছেন না বা আর কাটতে দিচ্ছে না

সফল পেমেন্টের পর টিকিটের PDF কপি ইমেইলেও পাঠানো হয়। রেলের শর্তাবলি বলছে, Gmail, Yahoo বা Outlook অনেক সময় এই মেইল স্প্যাম ফোল্ডারে ফেলে, কখনো আটকেও দেয়। তাই ইমেইল না আসা মানেই টিকিট হয়নি, এমন নয়।

যা ঘটছেযা করবেন
টিকিটের ইমেইল আসেনিআগে Spam বা Junk ফোল্ডার দেখুন। তারপর লগইন করে ওয়েবসাইটের Purchase History বা রেল সেবা অ্যাপের My Tickets থেকে কপি নামান।
আর টিকিট কাটতে দিচ্ছে নাএকজন দিনে সর্বোচ্চ ২টি লেনদেন করতে পারেন। দুই লেনদেনে ট্রেন নম্বর, যাত্রার স্টেশন আর গন্তব্য স্টেশন আলাদা হতে হয়।
টিকিটে ভুল ট্রেন বা তারিখশর্তাবলি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত আসন পাওয়া সাপেক্ষে ভুল টিকিট বদলানো যেতে পারে। দেরি না করে যাত্রা শুরুর স্টেশনের কাউন্টারে বা সাপোর্ট ইমেইলে যোগাযোগ করুন।
টিকিট নিয়ে অন্য কোনো অভিযোগঅনলাইনে কেনা টিকিট নিয়ে আপত্তি থাকলে টিকিটের বিবরণসহ ২ ঘণ্টার মধ্যে সাপোর্ট ঠিকানায় ইমেইল করতে বলা হয়েছে।

টাকা কেটেছে অথচ টিকিট হয়নি, বা টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা পাননি, এই দুই সমস্যার নিয়ম আলাদা। সেগুলো আমাদের অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার গাইডে বিস্তারিত দেওয়া আছে।

৬. অনেকে যা জানতে চান

রেল সেবা ছাড়া অন্য অ্যাপ থেকে টিকিট কাটলে সমস্যা কী?
ই-টিকিট সাইটে বলা আছে, গুগল প্লে থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশ করা রেল সেবা অ্যাপই নামাতে হবে। টিকিট বিক্রির দাবি করা অন্য অ্যাপ ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ কোনো দায় নেবে না।
ফেসবুক পেজে বাড়তি দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে, কিনব?
না। রেলওয়ের ওয়েবসাইটে মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালোবাজারি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করেছে। তা ছাড়া টিকিটে ছাপা নাম আপনার পরিচয়পত্রের সঙ্গে না মিললে ট্রেনে বিপদে পড়বেন।
ফোনে কোথায় যোগাযোগ করব?
রেলওয়ে সেবার তথ্যের জন্য রেলের ওয়েবসাইটে ১৩১ নম্বর দেওয়া আছে। ই-টিকিট সাইটের লগইন, নিবন্ধন বা অ্যাকাউন্টের কারিগরি সমস্যায় রেলের টেক সাপোর্ট ইমেইলে লিখুন।
নিবন্ধনে NID-র বাংলা নাম দেব, না ইংরেজি?
রেজিস্ট্রেশন পাতায় শুধু বলা আছে, NID কার্ডে নাম যেভাবে আছে হুবহু সেভাবে লিখতে হবে। এক রূপে না মিললে কার্ডে ছাপা অন্য রূপটিও হুবহু লিখে দেখুন, নিজে থেকে বানান বদলাবেন না।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন