সংক্ষেপে
আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেনা যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট ওয়েবসাইটে বা গুগল প্লে থেকে নামানো ‘রেল সেবা’ অ্যাপে। প্রথমবার মোবাইল নম্বর, NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। সাইটের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে টিকিট কেনা যায়, এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ৪টি আসন।
টিকিট ফেরত দিলে কত আগে দিচ্ছেন তার ওপর টাকা কাটে। যাত্রার ৬ ঘণ্টার কম আগে ফেরত দিলে কিছুই পাবেন না, আর ঈদের অগ্রিম টিকিট ফেরতযোগ্য নয়।
নিবন্ধন, টিকিট কেনা, টিকিট নামানো আর অনলাইনে ফেরত, সবই এই সাইট থেকে হয়।
এই লেখায়
১. প্রথমবার নিবন্ধন করবেন যেভাবে
নিবন্ধন একবারই করতে হয়, পরে মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন। যে NID দিয়ে নিবন্ধন করবেন, অ্যাকাউন্ট সেই নামেই থাকবে। ট্রেনে ওঠার সময় প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে NID বা ছবিসহ পরিচয়পত্র রাখা বাধ্যতামূলক।
- ১সাইট বা অ্যাপ খুলুনই-টিকিট ওয়েবসাইটে যান, অথবা গুগল প্লে থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশ করা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ নামান। টিকিট বিক্রির দাবি করা অন্য অ্যাপে কেনাকাটার দায় রেলওয়ে নেয় না।
- ২মোবাইল নম্বর ও NID দিনRegister অংশে মোবাইল নম্বর, NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিন। নাম লিখুন ঠিক NID কার্ডে যেভাবে আছে। মোবাইলে আসা ৬ অঙ্কের কোড (OTP) দিয়ে নম্বরটি যাচাই করুন।
- ৩পাসওয়ার্ড ঠিক করুনপাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন শেষ করুন। প্রোফাইলে ইমেইল যোগ করে যাচাই করলে টিকিটের PDF কপি ইমেইলেও আসবে।
১৮ বছরের কম বয়সী বা বিদেশি পাসপোর্টধারীরা জন্ম নিবন্ধন সনদ বা বিদেশি পাসপোর্টের প্রথম পাতার ছবি আপলোড করে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারেন। এই যাচাইয়ে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে, ফল SMS-এ জানানো হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে এভাবে যাচাই করা যায় না।
২. টিকিট কেনার ধাপ আর কয়টি আসন
- ১স্টেশন ও তারিখ বাছুনকোথা থেকে, কোথায়, কোন তারিখে আর কোন শ্রেণিতে যাবেন তা দিয়ে ট্রেন খুঁজুন। সাইটের নির্দেশনা বলছে, অনলাইনে টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে কেনা যায়।
- ২আসন বেছে যাত্রীর তথ্য দিনএক লেনদেনে সর্বোচ্চ ৪টি আসন নিতে পারবেন। একাধিক টিকিট নিলে সহযাত্রীদের নাম দিতে হয়। ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুর জন্য শিশু টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক।
- ৩দেরি না করে পেমেন্ট করুনযাত্রীর তথ্যের পাতায় নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকলে বাছাই করা আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। পেমেন্ট ব্যর্থ হলে আসনগুলো কিছুক্ষণ আটকে থাকতে পারে, একই আসন চাইলে একটু পরে আবার চেষ্টা করুন।
- ৪টিকিট সংরক্ষণ করুনপেমেন্টের পর টিকিটের PDF নামিয়ে রাখুন। ইমেইলে না এলে Spam ফোল্ডার দেখুন, অথবা সাইটের Purchase History বা অ্যাপের ‘আমার টিকিট’ থেকে নামান। কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করানোর দরকার নেই, মোবাইলে সফট কপি রাখলেই চলে।
সাইটের শর্তাবলিতে দিনে সর্বোচ্চ দুটি লেনদেনের কথাও বলা আছে, অর্থাৎ সাধারণ সময়ে একজন দিনে ৮টির বেশি আসন কিনতে পারেন না। সীমা পেরোলে সাইট পরদিন চেষ্টা করতে বলে।
৩. টাকা কেটেছে কিন্তু টিকিট আসেনি
সঙ্গে সঙ্গে আবার টাকা দেবেন না। রেলের শর্ত অনুযায়ী সফল পেমেন্টের ৩০ মিনিটের মধ্যে টিকিট নিজে থেকেই ইস্যু হয়, তাই কিছুক্ষণ পর Purchase History দেখুন। টিকিট না হলে কাটা টাকা আপনার ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ৮ কর্মদিবসের মধ্যে ফেরত দেয়।
| কোন মাধ্যমে দিয়েছিলেন | কোথায় যোগাযোগ করবেন |
|---|---|
| বিকাশ | ১৬২৪৭ |
| নগদ | ১৬১৬৭ |
| রকেট বা ডাচ্-বাংলা নেক্সাস কার্ড | ১৬২১৬ |
| উপায় | ১৬২৬৮ |
| ভিসা বা মাস্টারকার্ড | কার্ড দেওয়া ব্যাংক |
৮ কর্মদিবসেও টাকা না ফিরলে লেনদেনের বিবরণসহ support@eticket.railway.gov.bd ঠিকানায় অভিযোগ পাঠান। রেলের শর্তে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উত্তর দেওয়ার কথা বলা আছে।
৪. টিকিট ফেরত দিলে কত টাকা কাটে
অনলাইনে কেনা টিকিট অনলাইনেই ফেরত দিতে হয়। লগইন করে Purchase History থেকে টিকিটটি বেছে রিফান্ড চাপুন, মোবাইলে আসা OTP দিলে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। যাত্রার আগে টিকিট কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করিয়ে থাকলে অনলাইনে আর ফেরত হবে না, তখন যাত্রা শুরুর স্টেশনের কাউন্টারে যেতে হবে।
| কখন ফেরত দিচ্ছেন | কত টাকা কাটবে |
|---|---|
| যাত্রার ৪৮ ঘণ্টার বেশি আগে | ৪০ টাকা বা ভাড়ার ১০%, যেটি বেশি |
| ৪৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে | ৪০ টাকা বা ভাড়ার ২৫%, যেটি বেশি |
| ২৪ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে | ৪০ টাকা বা ভাড়ার ৫০%, যেটি বেশি |
| ১২ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে | ৪০ টাকা বা ভাড়ার ৭৫%, যেটি বেশি |
| ৬ ঘণ্টার কম আগে | কোনো টাকা ফেরত নেই |
হারগুলো দেশের ভেতরের টিকিটের জন্য, ই-টিকিট সাইটের রিফান্ড নীতি থেকে নেওয়া। অনলাইনে কেনার সার্ভিস চার্জ ফেরত হয় না। ফেরতের টাকা যে বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডে দিয়েছিলেন সেখানেই সাধারণত ৮ কর্মদিবসের মধ্যে আসে, কার্ডে কখনো বেশি সময় লাগে।
রেলের রিফান্ড নীতিতে লেখা আছে, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট ফেরতযোগ্য নয়। তারিখ, ট্রেন আর স্টেশন দুবার মিলিয়ে তবেই পেমেন্ট করুন।
৫. ঈদের অগ্রিম টিকিট সাধারণত যেভাবে বিক্রি হয়
প্রতি ঈদের আগে রেলওয়ে আলাদা সূচি ঘোষণা করে, তখন বছরের অন্য সময়ের নিয়ম পুরোপুরি খাটে না। ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় যেভাবে বিক্রি হয়েছিল, তা থেকে ধরনটা বোঝা যায়:
- যাত্রার ১০ দিন আগে সেই দিনের টিকিট ছাড়া হয়েছে, যেমন ১৩ মে বিক্রি হয়েছে ২৩ মে যাত্রার টিকিট।
- পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায়, পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টায় ছাড়া হয়েছে।
- সব টিকিট বিক্রি হয়েছে অনলাইনে, শুধু ই-টিকিট সাইট আর রেল সেবা অ্যাপে।
- একজন যাত্রী যাওয়ার জন্য একবার আর ফেরার জন্য একবার কিনতে পেরেছেন, প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট।
- যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টারে কিছু স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হয়েছে।
পরের ঈদে তারিখ, সময় বা সীমা বদলাতে পারে, তাই বিক্রি শুরুর আগে রেলের ঘোষণা দেখে নিন। বিক্রির দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই লগইন করে রাখুন, প্রথম কয়েক মিনিটে সাইটে প্রচণ্ড চাপ থাকে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
কেউ আমার NID দিয়ে ই-টিকিটের অ্যাকাউন্ট খুলে ফেললে কী করব?
টিকিট বা যাত্রা নিয়ে সমস্যায় কোথায় ফোন করব?
টিকিট কি অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।