দৈনন্দিন সেবা

এমআরটি পাস বা র‍্যাপিড পাস হারালে, নষ্ট হলে বা অনলাইন রিচার্জে ব্যালেন্স না এলে

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬rapidpass.com.bd
এমআরটি পাস বা র‍্যাপিড পাস হারালে, নষ্ট হলে বা অনলাইন রিচার্জে ব্যালেন্স না এলে

সংক্ষেপে

ঢাকা মেট্রোর দুই ধরনের কার্ড চলে: ডিএমটিসিএলের এমআরটি পাস আর ডিটিসিএর র‍্যাপিড পাস। এমআরটি পাস হারালে স্টেশনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অফিসে (EFO) ফরম পূরণ করে ২০০ টাকা জামানত আর ৫০ টাকা প্রসেসিং ফি দিয়ে নতুন পাস নেওয়া যায়। নিবন্ধিত র‍্যাপিড পাস হারালে লাগে ২০০ টাকা জামানত আর ২০০ টাকা পুনঃপ্রদান ফি, আগের ব্যালেন্স নতুন কার্ডে যায়।

অনলাইনে রিচার্জ করলে টাকা সঙ্গে সঙ্গে কার্ডে ঢোকে না। যেকোনো মেট্রো স্টেশনের Add Value Machine (AVM)-এ কার্ড ট্যাপ করলে তবেই ব্যালেন্স যুক্ত হয়। একবারে ১০০ থেকে ৫,০০০ টাকা রিচার্জ করা যায়।

র‍্যাপিড পাস ওয়েবসাইট

কার্ড নিবন্ধন, অনলাইন রিচার্জ আর রিচার্জের ইতিহাস এখানে।

র‍্যাপিড পাস খুলুন
এই লেখায়
  1. আপনার কার্ড কোনটি
  2. এমআরটি পাস হারালে বা নষ্ট হলে
  3. র‍্যাপিড পাস হারালে বা নষ্ট হলে
  4. অনলাইনে রিচার্জ করলাম, ব্যালেন্স দেখাচ্ছে না
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. আপনার কার্ড কোনটি

কার্ডের গায়ে দেখুন। এমআরটি পাস দেয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), স্টেশনের EFO থেকে ফরম পূরণ করে কিনতে হয়, আর এটি ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। র‍্যাপিড পাস চালায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), মেট্রোর পাশাপাশি হাতিরঝিল চক্রাকার বাসেও চলে, আর এর নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। দুই কার্ডেই প্রতি যাত্রায় ভাড়ায় ১০% ছাড় মেলে।

বিষয়এমআরটি পাসর‍্যাপিড পাস
কে দেয়ডিএমটিসিএলডিটিসিএ
কোথায় পাবেনমেট্রো স্টেশনের EFO, ফরম পূরণ করেস্টেশনের কাউন্টার, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ, হাতিরঝিল বাসের কাউন্টার
শুরুর দামস্টেশনে জেনে নিন৪০০ টাকা: ২০০ জামানত, ২০০ ব্যালেন্স
মেয়াদ১০ বছর পর্যন্তনির্দিষ্ট মেয়াদ নেই
হারালে নতুন কার্ড২০০ জামানত + ৫০ প্রসেসিং ফি২০০ জামানত + ২০০ পুনঃপ্রদান ফি

২. এমআরটি পাস হারালে বা নষ্ট হলে

ডিএমটিসিএলের MRT Pass Refund/Reissue ফরমে নাম (ইংরেজিতে), জন্মতারিখ, NID বা জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর আর পুরোনো পাসের নম্বর দিতে হয়। তারকা দেওয়া ঘরগুলো বাধ্যতামূলক। ফরমের নিচে অফিসের হিসাবগুলো লেখা আছে:

  • হারিয়ে গেলে নতুন পাস: জামানত ২০০ টাকা আর প্রসেসিং ফি ৫০ টাকা।
  • ক্ষতিগ্রস্ত পাস: ক্ষতিপূরণ ২০০ টাকা আর প্রসেসিং ফি ৫০ টাকা।
  • ক্ষতিগ্রস্ত নয়, কিন্তু মেশিন পড়তে পারে না: শুধু প্রসেসিং ফি ৫০ টাকা।
  • ব্যবহারযোগ্য পাস ফেরত দিলে: ৫০ টাকা কেটে বাকি টাকা ফেরত।
  • হারানো পাস পরে খুঁজে পেয়ে ফেরত দিলে: ৫০ টাকা কেটে জামানত ফেরত।
  • নতুন পাস ১৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই নিতে হবে।
পুরোনো খবরের অঙ্ক মিলিয়ে নিন

২০২২ সালের কিছু খবরে হারানো পাসের প্রসেসিং ফি ২০০ টাকা লেখা ছিল। ডিএমটিসিএলের ওয়েবসাইটে এখনকার ফরমে ৫০ টাকা লেখা। স্টেশনে যা নেওয়া হয়, রসিদে তা লিখিয়ে নিন।

৩. র‍্যাপিড পাস হারালে বা নষ্ট হলে

র‍্যাপিড পাসে নতুন কার্ড আর ব্যালেন্স ফেরতের সুবিধা পান শুধু নিবন্ধিত কার্ডের মালিক। ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিবন্ধনের আবেদন সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবস লাগতে পারে, তার আগে রি-ইস্যু বা রিফান্ডের দাবি নেওয়া হয় না। একজন সর্বোচ্চ ৫টি সক্রিয় কার্ড নিবন্ধন করতে পারেন। তাই কার্ড কেনার দিনই নিবন্ধন করে রাখুন।

  • ১
    সঙ্গে সঙ্গে হেল্পলাইনে জানানকার্ড হারালে দ্রুত র‍্যাপিড পাস হেল্পলাইন ০২২২৬৬০৩৭৪৫-এ (২৪ ঘণ্টা) জানান, যাতে অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে।
  • ২
    কাউন্টারে বা ওয়েবসাইটে আবেদননিকটস্থ মেট্রো স্টেশনের র‍্যাপিড পাস কাউন্টারে গিয়ে, অথবা ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করুন। কার্ড নম্বর, নাম আর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
  • ৩
    ফি দিন, ভাউচার রাখুনহারানো কার্ডে ২০০ টাকা জামানত আর ২০০ টাকা পুনঃপ্রদান ফি। নষ্ট কার্ড ফেরত দিলে শুধু ২০০ টাকা পুনঃপ্রদান ফি। স্মারক নম্বরসহ যে ভাউচার দেওয়া হবে, নতুন কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
  • ৪
    ১৫ দিনের মধ্যে নতুন কার্ড নিনভাউচার পাওয়ার পরের কার্যদিবস থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একই কাউন্টার থেকে নতুন কার্ড নিন। আগের ব্যালেন্স নতুন কার্ডে স্থানান্তর করে দেওয়ার কথা।
রিফান্ড আপাতত বন্ধ

র‍্যাপিড পাসের ওয়েবসাইটে নোটিশ আছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রিফান্ড কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কার্ড ফেরত দিয়ে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে কাউন্টারে জেনে নিন।

৪. অনলাইনে রিচার্জ করলাম, ব্যালেন্স দেখাচ্ছে না

২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে র‍্যাপিড পাস আর এমআরটি পাস অনলাইনে রিচার্জ করা যায়। সবচেয়ে বেশি যে ভুল হয়: পেমেন্ট সফল হলেও কার্ডে টাকা যোগ হয় না, যতক্ষণ না কার্ডটি স্টেশনের AVM-এ ট্যাপ করা হয়।

  1. প্রথমবার হলে ওয়েবসাইট বা অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে কার্ড নিবন্ধন করুন। নিবন্ধিত নয় এমন কার্ড অনলাইনে রিচার্জ হয় না।
  2. লগইন করে কার্ড বাছুন, ১০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে অঙ্ক দিন, মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক কার্ডে টাকা দিন।
  3. সফল হলে নিবন্ধিত মোবাইলে এসএমএস আসে। একবারে একটিই অনলাইন রিচার্জ ঝুলে থাকতে পারে, আগেরটি কার্ডে না ঢোকা পর্যন্ত নতুনটি হবে না।
  4. যেকোনো মেট্রো স্টেশনে গিয়ে AVM-এ কার্ড ট্যাপ করুন, তখন ব্যালেন্স যুক্ত হবে।
  5. রিচার্জ হিস্ট্রি পাতায় পরিমাণ, তারিখ, ট্রানজ্যাকশন আইডি আর স্ট্যাটাস দেখুন।

AVM-এ ট্যাপ করার আগে ৭ দিনের মধ্যে রিচার্জ বাতিলের অনুরোধ করা যায়, তাতে ৫% সার্ভিস চার্জ কাটা হয়। কার্ড ব্ল্যাকলিস্টেড, রিফান্ড করা বা অবৈধ হলে রিচার্জই হয় না। ব্ল্যাকলিস্টের কারণে ব্যালেন্স যোগ না হলে রিফান্ডের অনুরোধ করা যায়, সেখানেও ৫% চার্জ।

ঢুকে বের না হলে জরিমানা

র‍্যাপিড পাসের নিয়মে স্টেশনে ঢুকে প্রস্থান না করলে পরের দিন ২০০ টাকা জরিমানা। গেটে ঢোকা আর বের হওয়ার সময় ডিসপ্লেতে ব্যালেন্স দেখে নিন, আর বের হওয়ার মতো ব্যালেন্স না থাকলে বহির্গমন পথের পাশের সেবাকেন্দ্র থেকে রিচার্জ করুন।

৫. অনেকে যা জানতে চান

অনিবন্ধিত র‍্যাপিড পাস হারালে টাকা ফেরত পাব?
নির্দেশনা অনুযায়ী রি-ইস্যু আর ব্যালেন্স স্থানান্তরের সুবিধা শুধু নিবন্ধিত কার্ডের জন্য। অনিবন্ধিত কার্ডে কী করা যায়, হেল্পলাইনে জেনে নিন, আর নতুন কার্ড নিয়েই নিবন্ধন করুন।
এমআরটি পাস আর র‍্যাপিড পাস কি একই কাউন্টারে বদলানো যায়?
দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের কার্ড। এমআরটি পাসের রি-ইস্যু হয় স্টেশনের EFO-তে ডিএমটিসিএলের ফরমে, র‍্যাপিড পাসের হয় র‍্যাপিড পাস কাউন্টারে বা ওয়েবসাইটে।
অনলাইনে একবারে কত টাকা রিচার্জ করা যায়?
একবারে সর্বনিম্ন ১০০ আর সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা। স্টেশনের টিকিট মেশিন বা কাউন্টার থেকেও রিচার্জ আর ব্যালেন্স দেখা যায়।
কার্ড পাওয়া গেছে, কিন্তু নতুনটি নিয়ে ফেলেছি। কী করব?
এমআরটি পাসের ক্ষেত্রে ফরমে লেখা আছে, হারানো পাস পরে ফেরত দিলে ৫০ টাকা প্রসেসিং ফি কেটে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। স্টেশনের EFO-তে যোগাযোগ করুন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
দৈনন্দিন সেবা

অনলাইনে জিডি করার নিয়ম: মোবাইল, সিম বা কাগজ হারালে থানায় না গিয়ে যেভাবে করবেন

NID, সচল মোবাইল আর লাইভ ছবি দিয়ে নিবন্ধন, হারানো জিনিসের জিডি, কপি ডাউনলোড আর হারানো ফোনের IMEI।
দৈনন্দিন সেবা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: অনলাইনে আবেদন, ১,৫০০ টাকা ফি, কাগজ আর স্ট্যাটাস চেক

পাসপোর্টের মেয়াদ, ঠিকানার শর্ত, ১,৫০০ টাকার চালান, PCC S এসএমএসে স্ট্যাটাস আর সনদ তোলার নিয়ম।
দৈনন্দিন সেবা

গাড়ির ট্যাক্স টোকেন আর ফিটনেস নবায়ন: BRTA অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাগজ আর ফি দেখার নিয়ম

ফিটনেসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার চার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজ, ট্যাক্স টোকেন নবায়ন আর অনলাইনে ফি দেখা।

অনেকে খোঁজেন