দৈনন্দিন সেবা

ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ড আসতে দেরি: কোন ধাপে আছে দেখবেন যেভাবে

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬eticket.railway.gov.bd
ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ড আসতে দেরি: কোন ধাপে আছে দেখবেন যেভাবে

সংক্ষেপে

পরীক্ষায় পাস করে ফি দেওয়ার পর আপনার আবেদন কোন ধাপে আছে, তা BRTA সার্ভিস পোর্টালে (BSP) নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে দেখা যায়। BRTA-র টিউটোরিয়ালে আবেদনের সাতটি ধাপ দেখানো হয়েছে, শেষ দুটি হলো কার্ড ছাপা শেষ আর কার্ড পৌঁছানো।

কার্ড হাতে না আসা পর্যন্ত BSP থেকে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে বা ফোনে রেখে গাড়ি চালানো যায়। ২০২৪ সালের মার্চের সংশোধনে ই-লাইসেন্স আর কার্ডকে সমান গ্রহণযোগ্য ধরা হয়েছে।

BRTA সার্ভিস পোর্টালে লগইন করুন

আবেদনের ধাপ, ই-লাইসেন্স প্রিন্ট আর লাইসেন্স যাচাই এখান থেকেই।

BSP খুলুন
এই লেখায়
  1. BSP-তে আবেদনের ধাপ দেখবেন যেভাবে
  2. কোন ধাপে আটকে থাকলে কী করবেন
  3. কার্ড না আসা পর্যন্ত ই-লাইসেন্সই চালাবে
  4. কার্ড ছাপায় জট: সর্বশেষ যা জানা গেছে
  5. জরুরি হলে আর অভিযোগ জানাতে
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. BSP-তে আবেদনের ধাপ দেখবেন যেভাবে

  • ১
    নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুনযে অ্যাকাউন্ট থেকে লাইসেন্সের আবেদন করেছিলেন, BRTA সার্ভিস পোর্টালে সেটিতেই প্রবেশ করুন। অন্য কারও অ্যাকাউন্টে আপনার আবেদন দেখা যাবে না।
  • ২
    ড্যাশবোর্ডে আবেদনটি খুঁজুনহোম পাতার তালিকায় আপনার আবেদনের সার্ভিস আইডি নম্বর, আবেদনের তারিখ আর ধরন দেখাবে।
  • ৩
    ‘আবেদনপত্রের ধাপ’ দেখুনসারির শেষ দিকের ‘আবেদনপত্রের ধাপ’ ঘরে ‘দেখুন’ চাপলে একটি তালিকা খোলে। যে ধাপ শেষ হয়েছে তার পাশে টিক চিহ্ন আর তারিখ থাকে।
BSP-তে যেমন লেখামানে কী
DRAFT SAVEআবেদন খসড়া হিসেবে জমা আছে
LEARNER ISSUEDশিক্ষানবিশ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে
LEARNER EXAM PASSEDলিখিত, মৌখিক ও মাঠ পরীক্ষায় পাস
LICENSE FEE PAIDস্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের ফি জমা হয়েছে
BRTA APPROVAL COMPLETED & E-PAPER LICENSE GENERATEDঅনুমোদন হয়েছে, ই-লাইসেন্স তৈরি
LICENSE PRINTING COMPLETEDকার্ড ছাপা শেষ
LICENSE DELIVEREDকার্ড পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে

ধাপের নামগুলো BRTA-র ওয়েবসাইটে দেওয়া BSP-র সচিত্র টিউটোরিয়াল থেকে নেওয়া। পোর্টাল হালনাগাদ হলে লেখা কিছুটা বদলাতে পারে, তবে ক্রম সাধারণত এটাই।

২. কোন ধাপে আটকে থাকলে কী করবেন

  • ফি জমার ঘরে টিক নেই: টাকা কেটে থাকলে BSP-র হোম পাতার ‘পেমেন্ট যাচাইকরণ’ অংশে দেখুন জমা হয়েছে কি না। রসিদ বা লেনদেনের নম্বর হাতে রাখুন।
  • ফি জমা, কিন্তু অনুমোদন হয়নি: আপলোড করা কোনো কাগজে ঘাটতি থাকতে পারে। আবেদনটি যে সার্কেল অফিসের অধীনে, সেখানে সার্ভিস আইডি নিয়ে খোঁজ নিন।
  • অনুমোদন হয়েছে, ছাপা হয়নি: কার্ড ছাপার জটে পড়া আবেদনগুলো সাধারণত এই ধাপেই থাকে। ই-লাইসেন্স প্রিন্ট করে নিন, কার্ড ছাপার জট নিয়ে নিচের অংশ দেখুন।
  • ছাপা শেষ, কিন্তু হাতে আসেনি: BRTA-র নিয়মে কার্ড আবেদনে দেওয়া ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হয়, এ জন্যই ফির সঙ্গে ৬০ টাকা নেওয়া হয়। আগে নিজের এলাকার ডাকঘরে খোঁজ নিন, তারপর সার্কেল অফিসে।
  • ‘Delivered’ দেখাচ্ছে, অথচ পাননি: দেরি না করে সার্কেল অফিসে লিখিতভাবে জানান। কার্ড অন্য কারও হাতে গেলে পরে প্রমাণ দিতে কাজে লাগবে।

BSP সংক্রান্ত সমস্যায় পোর্টালের সাপোর্ট সেন্টারে ফোন করা যায়: ১৬১০৭ অথবা ০৯৬১০ ৯৯০ ৯৯৮। পোর্টালে লেখা আছে, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাপোর্ট পাওয়া যায়, ছুটির দিনে নয়।

BRTA-র ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া’ পাতায় অনুমোদনের পর ‘Temporary authorization’ নামে একটি স্লিপ প্রিন্টের কথাও আছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্মার্ট কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত স্লিপটি প্রিন্ট করে ল্যামিনেট করে নিজের কাছে রাখবেন আর গাড়ি চালানোর সময় ব্যবহার করবেন। আপনার অ্যাকাউন্টে এই স্লিপ বা ই-লাইসেন্স, যেটি আছে, দুটোই কাজে লাগবে।

৩. কার্ড না আসা পর্যন্ত ই-লাইসেন্সই চালাবে

অনুমোদনের ধাপ শেষ হলে BSP-তে ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি হয়। BRTA-র টিউটোরিয়ালে দেখানো নমুনায় লেখা আছে, এটি কার্ড আবেদনকারীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত অথবা লাইসেন্সের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বৈধ। এতে QR কোড থাকে, তা স্ক্যান করে তথ্য মেলানো যায়।

২০২৪ সালের মার্চে বিধিমালা সংশোধন করে ই-লাইসেন্স আর কার্ডকে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। সে বছরের এপ্রিলে BRTA চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ই-লাইসেন্সই মূল লাইসেন্স, ফোনে দেখিয়েও গাড়ি চালানো যাবে।

গাড়ি চালানোর সময় সঙ্গে রাখুন

  • ১
    যাচাইয়ের পাতা খুলুনBSP-র হোম পাতায় ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাইকরণ’ লেখায় চাপুন। এর জন্য লগইন লাগে না।
  • ২
    দুটি তথ্য দিনলাইসেন্সের রেফারেন্স নম্বর আর প্রথম ইস্যুর তারিখ (দিন/মাস/বছর) লিখুন, তারপর ছবিতে দেখানো সিকিউরিটি কোড দিয়ে ‘দেখুন’ চাপুন।
  • ৩
    তথ্য মিলিয়ে নিননাম, শ্রেণি আর মেয়াদ ঠিক আছে কি না দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়লে কার্ড ছাপার আগেই সার্কেল অফিসে জানান।

BSP-র বিজ্ঞপ্তিতে ‘BRTA DL Checker’ নামে একটি অ্যাপের কথাও বলা আছে, যাতে কার্ডের আবেদন আর ছাপার অবস্থা দেখা যায়। অ্যাপ নামাতে চাইলে শুধু BRTA-র ওয়েবসাইটে দেওয়া লিংক ব্যবহার করুন। অ্যাপটি না পেলে BSP অ্যাকাউন্টের ধাপের তালিকাই যথেষ্ট।

বিদেশে চাকরির জন্য কার্ড লাগলে

অনেক দেশের নিয়োগকর্তা বা দূতাবাস প্লাস্টিক কার্ডই দেখতে চায়। এমন হলে ভিসা বা নিয়োগপত্রের কপি নিয়ে সার্কেল অফিসে যান, নিচের অংশে অগ্রাধিকারের কথা দেখুন।

৪. কার্ড ছাপায় জট: সর্বশেষ যা জানা গেছে

BRTA-র কার্ড ছাপার দায়িত্ব ছিল ভারতের মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্সের, ২০২০ সালে করা চুক্তিতে। নিউ এজের ২০২৫ সালের আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ ২৮ জুলাই ২০২৫ শেষ হয়, তখন প্রায় সাড়ে সাত লাখ কার্ড ছাপার অপেক্ষায় ছিল।

  • ওই সময় BRTA জানায়, শিক্ষার্থী, প্রবাসী আর চাকরিপ্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
  • নতুন ছাপার প্রতিষ্ঠান নিয়োগে উন্মুক্ত দরপত্র ডাকার কথাও তখন বলেছিলেন BRTA চেয়ারম্যান।
  • একই প্রতিবেদনে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ২০২৪ সালের সংশোধন অনুযায়ী ই-লাইসেন্স কার্ডের সমান গ্রহণযোগ্য।

এরপর নতুন প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে কি না, আর জমে থাকা কার্ড কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে BRTA-র কোনো নোটিশ এই লেখা তৈরির সময় পাওয়া যায়নি। তাই নিজের কার্ডের খবর জানতে BSP-র ধাপ আর সার্কেল অফিসই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। BRTA-র ওয়েবসাইটের নোটিশ অংশেও নজর রাখুন।

৫. জরুরি হলে আর অভিযোগ জানাতে

  • ১
    কাগজ গুছিয়ে নিনসার্ভিস আইডি নম্বর, ফি জমার রসিদ, ই-লাইসেন্সের প্রিন্ট আর NID সঙ্গে নিন। বিদেশযাত্রা বা চাকরির জন্য দরকার হলে ভিসা, নিয়োগপত্র বা ভর্তির কাগজের কপিও নিন।
  • ২
    সার্কেল অফিসে লিখিত আবেদন দিনআবেদনটি যে সার্কেল অফিসের অধীনে, সেখানে কেন জরুরি তা লিখে আবেদন দিন। অগ্রাধিকারের সুযোগ এখন কারা পান, সেখানেই জেনে নিন।
  • ৩
    অভিযোগ দিনসমাধান না পেলে BSP-র ‘অভিযোগ/মতামত দিন’ ফরমে লিখুন। সরকারি সেবা নিয়ে অভিযোগের জাতীয় ব্যবস্থা GRS-এও অভিযোগ করা যায়, এর লিংক BRTA-র ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।
টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি কার্ডের প্রস্তাব

কার্ড দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে রাজি হবেন না। আবেদনের সব ধাপ নিজের BSP অ্যাকাউন্টেই দেখা যায়, সমস্যা হলে সরাসরি সার্কেল অফিসে লিখিত অভিযোগ দিন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

ই-লাইসেন্স দেখালে কি ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিতে পারে?
বিধিমালা অনুযায়ী ই-লাইসেন্স আর কার্ড সমান গ্রহণযোগ্য। তবু ঝামেলা এড়াতে প্রিন্ট করা কপি আর ফোনের কপি দুটোই রাখুন, QR কোড স্ক্যান করলেই তথ্য মিলবে।
আবেদনের পর ঠিকানা বদলেছি, কার্ড কোথায় যাবে?
BRTA-র নিয়মে কার্ড পাঠানো হয় আবেদনে দেওয়া ঠিকানায়। ঠিকানা বদলে থাকলে সার্কেল অফিসে জানিয়ে জেনে নিন কার্ড কোথা থেকে নেবেন, আর পুরোনো ঠিকানার ডাকঘরেও খোঁজ রাখুন।
কার্ড পেয়ে হারিয়ে ফেললে কী করব?
BRTA-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হারানো বা নষ্ট লাইসেন্সের প্রতিলিপির আবেদন BSP থেকেই করা যায়। অনুমোদন হলে ই-লাইসেন্স প্রিন্ট করা যায়। কী কাগজ লাগবে, সার্কেল অফিস বা BSP-র সাপোর্ট সেন্টার থেকে জেনে নিন।
অনুমোদনের পর কত দিনে কার্ড আসার কথা?
BRTA-র ওয়েবসাইটে কার্ড পৌঁছানোর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া নেই। ছাপা শেষ হলে ধাপের তালিকায় টিক পড়ে, সেটা দেখার পর ডাকঘর বা সার্কেল অফিসে খোঁজ নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন