
সংক্ষেপে
লিগ্যাল এইড মানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও বিচার পেতে অসমর্থ মানুষকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ পাওয়া যায়, আর মামলায় সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা যায়। ফোনে পরামর্শের জন্য টোল ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৬৯৯।
২০২৬ সালের এপ্রিলে পাস হওয়া আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইনে সংস্থাটির নাম এখন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। একই আইনে ৯ ধরনের বিরোধে মামলার আগে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে সেটি কার্যকর হবে সরকার যে এলাকা ও তারিখ প্রজ্ঞাপনে ঠিক করবে, সেখান থেকে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের ঠিকানা, ফরম আর অনলাইন আবেদনের সরকারি সাইট।
এই লেখায়
১. লিগ্যাল এইড কি, কারা পাবেন
স্বামী খোরপোশ দেন না, বাড়িওয়ালা জোর করে উঠিয়ে দিতে চান, বা ছেলে জামিন পাচ্ছে না অথচ আইনজীবীর টাকা নেই। এমন মানুষের জন্যই আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০। ২০২৬ সালের সংশোধনে আইনগত সহায়তার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন আর নানা আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়ের করা বা বিচারাধীন মামলায় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
বিচারপ্রার্থী বলতে আইনে দেওয়ানি, পারিবারিক, ফৌজদারি বা অন্য যেকোনো মামলার সম্ভাব্য বা প্রকৃত বাদী, বিবাদী, ফরিয়াদি বা আসামি সবাইকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আসামিও আবেদন করতে পারেন।
কোন আয় পর্যন্ত অসচ্ছল ধরা হবে, তা আইনের অধীন প্রবিধানমালায় ঠিক করা। অধিদপ্তরের জেলা অফিসের নাগরিক সনদে মামলার আবেদনে আয় বা বার্ষিক আয়সীমার প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হয়েছে, কিন্তু সীমার অঙ্ক সেখানে নেই। আপনার ক্ষেত্রে যোগ্যতা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে জেনে নিন।
২. লিগ্যাল এইড এর কাজ কি: কী কী সেবা পাবেন
| সেবা | কোথায় | সময় | খরচ |
|---|---|---|---|
| আইনি পরামর্শ | জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কার্যালয় | ১ থেকে ৩ দিন | বিনামূল্যে |
| মামলায় সরকারি খরচে আইনজীবী আর মামলার ব্যয় | জেলা লিগ্যাল এইড অফিস | ৭ থেকে ১৫ দিন | বিনামূল্যে |
| ফোনে তাৎক্ষণিক পরামর্শ | জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৬৯৯ | তাৎক্ষণিক | টোল ফ্রি |
| অনলাইনে পরামর্শ | অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেজ | নাগরিক সনদে উল্লেখ | বিনামূল্যে |
জেলা অফিসের নাগরিক সনদে আরও বলা আছে, লিগ্যাল এইড পাওয়া মামলায় আইনজীবীর ফি, ডিএনএ পরীক্ষা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আর মামলার প্রয়োজনীয় অন্য খরচ সরকারি লিগ্যাল এইড তহবিল থেকে দেওয়া হয়। মামলার আগে বা চলমান মামলায় আপসযোগ্য বিরোধ মেটানো আর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিও সেবার তালিকায় আছে।
৩. লিগ্যাল এইড আবেদন ফরম কোথায় পাবেন, আবেদনের ধাপ
নাগরিক সনদ অনুযায়ী আবেদন ফরম পাওয়া যায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ আর কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে, আর অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে। সাইটে অনলাইন আবেদনের লিংকও আছে।
- ১জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যাননিজের জেলার অফিসের ঠিকানা অধিদপ্তরের সাইটে আছে। অফিস সহকারীর কাছ থেকে সময় নিয়ে লিগ্যাল এইড অফিসারের সঙ্গে দেখা করুন।
- ২ফরম পূরণ করুনঅফিস সহকারীর কাছ থেকে ফরম নিন। লেখাপড়া না জানলে ফরম পূরণে অফিস সহকারীর সাহায্য নিতে নাগরিক সনদেই বলা আছে।
- ৩কাগজ জমা দিনপরামর্শের জন্য NID আর সমস্যার কাগজ। মামলায় সহায়তার জন্য আয়ের প্রত্যয়নপত্র, জন্ম সনদ বা NID, আর মামলার কাগজ ও দলিল।
- ৪ফলাফলের খোঁজ নিননির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল না জানালে লিগ্যাল এইড অফিসারকে জানান। প্যানেল আইনজীবীর সেবায় অভিযোগ থাকলেও সরাসরি অফিসারকে বলুন।
নাগরিক সনদে সতর্ক করা আছে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রতারিত হবেন না। পরামর্শ বিনামূল্যে।
৪. লিগ্যাল এইড আইন ২০২৬: মামলার আগে মধ্যস্থতা
আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাস হয় ১০ এপ্রিল ২০২৬। এতে আগের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা বিলুপ্ত হয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর হয়েছে, আর ২০২৫ ও ২০২৬ সালের দুটি অধ্যাদেশ রহিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাজে লাগার মতো বদলটা নতুন ২১খ ধারায়: মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা।
এই ধারা অনুযায়ী আইনের তফসিলের বিরোধে ক্ষুব্ধ পক্ষকে প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার আবেদন করতে হবে। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে আদালতে মামলা করা যাবে, তখন নির্ধারিত প্রতিবেদন আদালতে দিতে হবে, আর মধ্যস্থতায় যে সময় গেছে, তা তামাদির হিসাবে বাদ যাবে। সফল মধ্যস্থতা চুক্তি আদালতের ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশ হিসেবে গণ্য হবে।
- পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ ধারার বিষয়
- বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর বিরোধ
- সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনের বিরোধ
- রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারার অগ্রক্রয়
- অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারার অগ্রক্রয়
- পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৮ ধারার বিরোধ
- অনধিক ৩ লাখ টাকার চেক ডিসঅনারের অভিযোগ
- যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ ধারার অভিযোগ
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ
আইনের ১ ধারা অনুযায়ী ২১খ ধারা আর তফসিল কার্যকর হবে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনে যে তারিখ ও এলাকা ঠিক করবে, সেখান থেকে। আপনার জেলায় চালু হয়েছে কি না, মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা ১৬৬৯৯-এ জেনে নিন।
৫. একটি উদাহরণ
ধরুন, ময়মনসিংহের রাশেদা খাতুনের ছেলে বিদেশে থাকেন, বৃদ্ধ মাকে খরচ দেন না। রাশেদার আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই। তিনি আগে ১৬৬৯৯-এ ফোন করে পরামর্শ নিতে পারেন, তারপর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে গিয়ে NID আর আয়ের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে আবেদন করবেন। পিতামাতার ভরণপোষণের বিরোধ তফসিলে আছে, তাই তাঁর জেলায় ২১খ ধারা চালু হয়ে থাকলে আগে মধ্যস্থতা হবে, না মিটলে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়ে মামলার পথ।
ফোনে কথা বলার সময় বিরোধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, আগের কোনো মামলা থাকলে তার নম্বর আর নিজের জেলার নাম জানিয়ে দিন। এতে কোন অফিসে যেতে হবে, সেটা দ্রুত জানা যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
লিগ্যাল এইড কি?
লিগ্যাল এইড আবেদন ফরম কোথায় পাওয়া যায়?
সরকারি আইনগত সহায়তার হেল্পলাইন নম্বর কত?
legal aid ain 2026 e ki notun?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।