
সংক্ষেপে
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাসে ৭০০ টাকা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যে এ বছর ৩০ লাখ নারীর জন্য মোট ২,৫৩৫.১২ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। আবেদন করতে বয়স ১৮ বছরের বেশি, NID আর বছরে গড় আয় ৪৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে হয়।
শুধু স্বামী মারা গেলেই নয়, তালাকপ্রাপ্তা বা অন্তত দুই বছর স্বামীর ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত নারীরাও এই ভাতার আওতায় পড়েন। আবেদন হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনলাইন পোর্টালে, স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী।
আবেদন চলার সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা পোর্টালে বিধবা ভাতার ফরম পাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. বিধবা ভাতা কত টাকা ২০২৬
১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে এই কর্মসূচি শুরু হয়, তখন ৪ লাখ ৩ হাজার ১১০ জনকে মাসে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। মাঝে কর্মসূচিটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল, ২০১০-১১ সালে আবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফেরে। তখন ভাতাভোগী ছিলেন ৯.২০ লাখ, মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা।
| অর্থবছর | উপকারভোগী | মাসিক ভাতা |
|---|---|---|
| ১৯৯৮-৯৯ (শুরু) | ৪.০৩ লাখ জন | ১০০ টাকা |
| ২০১০-১১ | ৯.২০ লাখ জন | ৩০০ টাকা |
| ২০২৬-২৭ | ৩০ লাখ জন | ৭০০ টাকা |
মাসে ৭০০ টাকা হিসাবে বছরে মোট ৮,৪০০ টাকা পাওয়ার কথা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হোম পেজ আর কর্মসূচি পাতা, দুই জায়গাতেই ২০২৬-২৭ সালের হার ৭০০ টাকা লেখা আছে।
২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট আসার আগে জানুয়ারিতে সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও বিধবা ভাতা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা করার সুপারিশ হয়েছিল বলে বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছিল। এখন অধিদপ্তরের পাতায় সেই ৭০০ টাকাই চূড়ান্ত হার হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
২. স্বামী নিগৃহীতা কারা, কে এই ভাতা পাবেন
কর্মসূচির সংজ্ঞায় ‘বিধবা’ মানে যাঁর স্বামী মারা গেছেন। আর ‘স্বামী নিগৃহীতা’ মানে যিনি স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্ত, অথবা অন্য যেকোনো কারণে অন্তত দুই বছর ধরে স্বামীর ভরণপোষণ পাচ্ছেন না বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
ধরুন, স্বামী তিন বছর আগে আরেকটি বিয়ে করে আলাদা থাকেন, সংসারের খরচ দেন না, যোগাযোগও নেই। কাগজে তালাক না হলেও কর্মসূচির সংজ্ঞায় এই নারী স্বামী নিগৃহীতা হিসেবে আবেদন করতে পারেন। যাচাইয়ের সময় বাছাই কমিটি স্থানীয়ভাবে তথ্যটি মিলিয়ে দেখে।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
- বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
- বছরে গড় আয় ৪৫,০০০ টাকার বেশি নয়।
- বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে।
বেশি বয়সী, কর্মক্ষমতাহীন, নিঃস্ব, উদ্বাস্তু, ভূমিহীন নারী আর যাঁদের ১৮ বছরের কম বয়সী দুটি সন্তান আছে, তাঁরা আগে সুযোগ পান। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা নিঃসন্তান নারীরাও অগ্রাধিকার পান।
৩. বিধবা ভাতা কারা পাবেন না
- সরকারি কর্মচারী হিসেবে পেনশন পেলে।
- দুঃস্থ মহিলা হিসেবে ভিজিডি কার্ড থাকলে।
- অন্য কোনো নিয়মিত সরকারি অনুদান বা ভাতা পেলে।
- কোনো বেসরকারি সংস্থা থেকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান পেলে।
- আবার বিয়ে করলে বা স্বামীর সঙ্গে আবার বসবাস শুরু করলে।
শেষ শর্তটি অনেকে জানেন না। স্বামী নিগৃহীতা হিসেবে ভাতা পাওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে আবার সংসার শুরু করলে ভাতা বন্ধ হওয়ার কথা। আর বিধবা ভাতাভোগীর বয়স যখন বয়স্ক ভাতার বয়সে পৌঁছায়, তখন তাঁকে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে স্থানান্তর করা যায়।
যাঁর ক্ষেত্রে এসব শর্তের কোনোটি খাটে, তিনি আবেদন করলে যাচাইয়ে বাদ পড়বেন, আর ভাতা পাওয়ার পর জানা গেলে ভাতা বন্ধ হতে পারে। তাই আবেদনের আগে নিজের অবস্থা সৎভাবে মিলিয়ে নিন।
৪. বিধবা ভাতা আবেদন অনলাইন: কি কি লাগবে, কীভাবে করবেন
২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন আবেদন নেওয়া হয়েছে আগস্ট ২০২৬-এ, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হয় স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে, আর আগের অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম থাকলে নতুন করে আবেদন লাগে না।
অনেক বিধবা নারীর NID-তে এখনো স্বামীর নাম বা পুরোনো ঠিকানা থাকে, আবার কারও নিজের নামে কোনো সিম নেই। আবেদনের আগে এগুলো ঠিক করে নিন। নিজের NID দিয়ে সিম তুলে সেই নম্বরে নিজের নামে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলুন, যাতে ভাতা সরাসরি আপনার হিসাবে আসে।
বিধবা ভাতা আবেদনে যা লাগবে
- ১আবেদনের সময় জেনে নিনসমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতি বছর আবেদনের সময় ঘোষণা করে। ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নোটিশ দেখুন।
- ২অনলাইনে ফরম পূরণ করুনdss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বেছে নিয়ে NID, ঠিকানা আর হিসাবের তথ্য দিন। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও করা যায়।
- ৩আবেদনের তথ্য রেখে দিনজমার পর আবেদন নম্বর বা কপি সংরক্ষণ করুন।
- ৪যাচাইয়ে উপস্থিত থাকুনবাছাই কমিটি যাচাইয়ের জন্য ডাকলে কাগজপত্র নিয়ে যান। নির্বাচিত হলে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতার যোগ্য গণ্য হবেন।
৫. বিধবা ভাতা ঢুকছে না কেন: আগে যা দেখবেন
অধিদপ্তরের তথ্যে বিধবা ভাতা এখন নগদ, বিকাশ, উপায়, এম ক্যাশ, ইউ ক্যাশ আর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। টাকা না এলে সাধারণত এই জায়গাগুলোতে সমস্যা থাকে।
- যে মোবাইল হিসাবে ভাতা আসার কথা, সেটি বন্ধ, লক বা অন্যের NID-তে নিবন্ধিত।
- সিম অনেক দিন বন্ধ থাকায় বাতিল হয়ে গেছে।
- পরিবারের কেউ ভাতার টাকা তুলে নিয়েছেন, অথচ আপনি জানেন না।
- টাকা ছাড়ের তারিখ এখনো আসেনি।
এমন হলে ভাতার বই, NID আর মোবাইল নিয়ে উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। হিসাব নম্বর বদলাতে হলে অফিসের নির্ধারিত আবেদন লাগতে পারে, কেউ টাকা চাইলে দেবেন না।
কেউ যদি বলে টাকা দিলে তালিকায় নাম তুলে দেবে বা আটকে থাকা ভাতা ছাড়িয়ে দেবে, তাতে রাজি হবেন না। বাছাই হয় কমিটির মাধ্যমে আর টাকা যায় সরকারি হিসাব থেকে সরাসরি আপনার হিসাবে। এমন প্রস্তাব পেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানান।
৬. অনেকে যা জানতে চান
বিধবা ভাতা কত টাকা করে দেয়?
তালাকপ্রাপ্ত নারী কি বিধবা ভাতা পাবেন?
বিধবা ভাতা কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?
আবার বিয়ে করলে কি বিধবা ভাতা চলবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।